ফজলুল বারী
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ডা: মাহরাং বালুচ আজ বঙ্গবন্ধুর মতোই পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিনী। মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পাকিস্তানের কোয়েটা কারাগারে।
তাঁর বয়স মাত্র ৩৩ বছর। ডা: বালুচ পেশায় চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মী। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদ শোষণের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘ এক দশক ধরে অহিংস প্রতিবাদ ও লংমার্চে তাঁর জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
মাহরাং এর বাবা আব্দুল গাফফার লাঙ্গোভকে ২০০৯ সালে পাকিস্তানি সৈন্যরা গুম করে। তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় ২০১১ সালে। মাহরাং এর ভাইকে খুনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ৩ মাস আটকে রেখেছিল। এমন সব পারিবারিক ট্রাজেডি থেকে মানবাধিকার কর্মী হয়ে উঠেন মাহরাং বালুচ।
২০২৩ সালে “দীর্ঘ বালুচ লংমার্চে” নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান মাহরাং। খুনি পাকিস্তানিরা ২০২৪ সালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতায় উস্কানি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও হত্যা মামলায়
একটি সামরিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ উদীয়মান নেতার তালিকায় ও বিবিসির ১০০ জন সেরা নারীর তালিকায় নাম ছাপা হয় ২০২৪ সালে। ২০২৫ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু এই পুরস্কারতো শুধুই আমেরিকার গোলামদের দেয়া হয়।
বাংলাদেশের হৃদয় হতে আমরা খু/নি পাকিস্তানের বন্দিশালায় বন্দিনী ডা: মাহরাং বালুচের মুক্তি চাই। বেলুচিস্তানের জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতি বাঙালিদের পূর্ণ সমর্থন এর মাঝে বিপুলভাবে প্রকাশিত। বেলুচিস্তানের জয় হোক।
ফজলুল বারী : অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক




