এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

রফিকুল ইসলাম আধার-এর অণুকাব্য

এক. নিষিদ্ধ ব্যাকরণ

কোন নিয়তির দাবার চালে এতটা

নির্বিকার হলে তুমি?

বৈশাখী আঁচলের সেই ওমে কি তবে

কোনো নিষিদ্ধ ব্যাকরণ লুকিয়ে ছিল,

যার অপরাধে আজ এতটা বিচ্ছেদ?

 

 

 

দুই. কুয়াশার তুলি

তোমার মননের ক্যানভাসে আমিই তো

ছিলাম একমাত্র রেখাপাত।

অথচ কোন রহস্যময় কুয়াশায় হঠাৎ স্তব্ধ

হয়ে গেল তোমার তুলি?

এই অসমাপ্তির উত্তর আজো অলিখিত।

 

 

 

তিন. মহাকালের নিয়ম

প্রতিশোধের আগুনে নিজেকে পোড়ানোর

কোনো প্রয়োজন নেই;

মহাকালের নিজস্ব এক নিয়ম আছে।

বৃন্তচ্যুত পচনশীল অহংকার একদিন

নিজেই ধূলিসাৎ হয়,

তাকে সজোরে আঘাত করতে হয় না।

 

 

 

চার. স্মৃতির উইপোকা

নিস্তরঙ্গ জলের বুকে একাকিত্বের যে দহন,

তা ফাল্গুনের চিতাভস্মে রূপ নিয়েছে।

ভালোবাসার নগ্ন পাটাতনে আজ

স্মৃতির উইপোকারা নিঃশব্দে কামড় বসায়;

ক্ষয় হতে থাকে একদা বেঁচে থাকার উৎসব।

 

 

 

পাঁচ. নক্ষত্রবীথি

স্তব্ধতা মানেই তো শূন্যতা নয়,

হৃদয়ের মরুকরণও নয়।

কিছু নীরবতা আসলে আসন্ন কোনো

প্লাবনের ইশারা,

যেখানে গোপনে বোনা হয় আগামীর

নক্ষত্রবীথি।

 

 

 

 

ছয়. মহাজাগতিক মিতালী

শৈলশিখরের সুউচ্চ অহংকার

আর মাটির অতল গভীরতার

আজন্ম বিনয়—

এই দুইয়ের মহাজাগতিক মিতালিতেই

জীবন তার প্রকৃত পূর্ণতার

ভাষা খুঁজে পায়।

 

 

সাত. চেতনার রোদ

চেতনার তীব্র রোদে কর্পূরের মতোই উবে

যায় সংশয় ও ভীতি।

যেখানে লড়াইটা খাঁটি আদর্শের,

সেখানে ক্ষয়িষ্ণু আঁধার শেষে আলোর

অধিকার নিশ্চিত।

 

 

আট. নির্বাক অভিমান

তোমার সান্নিধ্যের সীমানায় আমি এক শব্দহীন,

নির্বাক অভিমানের স্মারক।

আমার নৈঃশব্দ্য কি এতটাই ধূসর

আর বেসুরো যে তুমি তার পাঠোদ্ধার করতে পারলে না?

দিকভ্রান্ত বাউলের মতো নিয়তির পথে হাঁটলেও,

অস্তিত্বের এই বাসরে তোমার দিকে হাত বাড়ানোর

ফুরসতটুকু কি আজীবন অধরাই থেকে যাবে?

 

 

নয়. শব্দের শিরায়

হে সিঁদুরে সহেলী, বিস্মরণের অতলে

তোমাকে সঁপে দেওয়া এক দুঃসাধ্য দহন।

তুমি তো আমার শব্দের শিরায় শিরায়

বয়ে চলা অনন্ত প্রাণ;

অথচ তোমাকে ছাড়া আমি এক আলোহীন,

মৃতপ্রায় নক্ষত্রের মতো মহাকাশে জেগে আছি।

 

 

দশ. অধরা ঘুড়ি

স্বপ্ন এক অদ্ভুত মায়াবী পুতুল-

কখনো ডানাহীন আকাশে ওড়ার স্পর্ধা দেয়,

কখনো বা ভাটির টানে তলিয়ে দেয় অতল অবসাদে।

নীলিমার বুকে তুমি আমার তেমনি এক উড্ডীন,

অধরা ঘুড়ি;

যাকে ছোঁয়া যায় না, কেবল চেয়ে চেয়ে চেনা যায়।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে