ক্ষেত ও ফসল
বৃষ্টিতে নিষ্ফল হলো শস্যের আবাদ
আগাছা মারতে হবে, ক্ষেতের অসুখ
কৃষাণি আজ প্রস্তুত ছিলো না মোটেও
কৃষক নামলো ক্ষেতে, আগাছা সুদূর
কার ভুলে এই ভুল, মাথার উপর
পাঁচজন বালকের মুঠোবন্দি ক্ষেত
আগাছা রঙিন পাখি, পেয়েছে ক্ষমতা
ঝড় ও বৃষ্টিতে নত আউশ, আমন
আায়নায় মুখ দেখা কৃষাণির শখ
শখ গেল, বক গেল প্রতিবেশী ক্ষেতে
মহাজন হাত পাতে, বছরান্তে সুদ
তার সাথে টাকা গোনে অবুঝ বালক
আমার দলিল নেই, মালিকের দয়া
রোদ্দুরে পুড়ছি আমি, ক্ষেত ও ফসল
অসহ্য সময়
আগুন্যা বাতাসে পুইড়া যায়তাছে মাটি ও মানুষ
মরণপথে যায়তাছে মানচিত্রডা
হে কান্দতাছে নিজের নিয়মে
ফইসলার খেতে আগুনের বাড়াবাড়ি আইতাছে
খুনখারাবির খেলা এহনও চলতাছে
মাস্টারের মুখে ছাত্রের থাপ্পইড়
ভাইঙ্গা পইড়া যায়তাছে আকাশ
উইড়া যায়তাছে সাদা ম্যাঘ
বালকের কথায় ঘুইরা বেড়ায় সুদখোর, মহাজন
বর্ণঘৃণায় পুইড়া যায়তাছে আইনের ধারাপাত
অসহ্য এই সময়
বাড়িতে আগুন
ছাইয়ের স্তুপ
গোলাপি প্রহর
কোথাও ফুটেছে ফুল। কোথাও ডুবেছে ক্ষেত। ফসলের পিতৃভূমি লাঙলের ফলায় চৌচির হয়ে যায়।
ফুল ও ফসল জানে জলের ঠিকানা
কোথাও সকাল হয়। কোথাও দুপুর নামে উত্তপ্ত রোদ্দুরে, শৌখিন ডানায়। বিকাল ফুরিয়ে গেলে সন্ধ্যার শালুক উঠে আসে জল থেকে।
কোথাও যাবো না। বিস্তৃত মাটিতে শুয়ে, জোছনায় আলোকিত অন্ধকার দেখে ফিরে যাবো নিষিক্ত বিহারে।
রেণুবাজ প্রজাপতি আমার ঠিকানা
কোথাও থাকে না কেউ। সকালে ফুলের গন্ধ ফিরে এলে, হেসে ওঠে পিতৃভূমি।
অনুভব
অশ্রুত জীবন লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। আহত শালিক এসে তার স্বরে কাঁদে। মর্মাহত খালে-বিলে সূর্যের উত্তাপ। আমরা তো সুখগ্রস্ত আউশ, আমন। ক্ষেত থেকে চুরি গেছে প্রত্যাশার ধান।
আলোতে জীবন নেই। আঁধারেও তাই।
আমাদের ক্ষেতগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। চোরগুলো বিষণ্ন শ্মশানে, গোরস্তানে। তাদের হাতে বিষ ছিলো কিছু। আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে হাতের কাহিনি।




