এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩০- আজ: বুধবার-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩০- আজ: বুধবার
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

শ্রেষ্ঠ উপহার

সৈয়দা মাসুদা বনি

 

কুয়াশায় দুহাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছে না এমনই অবস্থা| বাসটা যে কিভাবে আগাচ্ছে!! একটা স্টপেজে বাসটা থামবার পর একজন লোক উঠল বাসে| কাঁধে একটা ঝোলা ব্যাগ, তার মাঝ থেকে উঁকি দিচ্ছে বাচ্চাদের ছবির বই| শুধু বাচ্চাদেরই বই|এধরনের বইগুলো ছোট বাচ্চাদের পড়া শুরুর জন্য খুবই কাজের| রফিক আগ্রহ নিয়ে তাকায়,তার একটা বই কেনা দরকার|লোকটিকে খেয়াল করতে গিয়ে সে মোটামুটি একটা ধাক্কা খায়| লোকটির একটি হাত নেই|জীবিকার তাগিদে মানুষকে কত কিছুই না করতে হয়|এবারে রফিক বাসের মাঝে একবার দেখে নেয়, কেউ মোবাইলে ব্যস্ত, কেউবা ঘুমে| এই লোকের বই বিক্রি হবার সম্ভাবনা কতটুকু সেটা ভেবে রফিকের মনটা খারাপ হয়ে যায়| সে লোকটিকে ডেকে বইগুলো দেখতে চায়|সে একসাথে তিনটি বই কিনে নিলে লোকটি কৃতজ্ঞতার হাসি হাসে|

রফিক হঠাৎ আনমনা হয়ে ভাবতে থাকে আজ বাচ্চাদের এই বইগুলো সে কিনতে পারছে অথচ বছর কয়েক আগে সে এটা ভাবতেও পারত না| সেই সময়েই আসলে তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছিল| রফিক গ্রামের ছেলে|

 

 

গ্রামেই তাদের তিন পুরুষের বসবাস|বাবা মারা যাওয়ার পর মা আর তাদের তিন ভাই বোনের সংসারটি চালিয়ে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল| সহায় সম্পত্তি কিছুই তাদের তেমন ছিল না| বাবা অন্যের জমিতে কাজ করত, সে নিজেও সেই সাথে হাত লাগাত| যদিও পড়ালেখাটাও সেই সাথে একটু একটু করে চালিয়ে নিচ্ছিল| এমনিভাবে যে পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত চলে সেভাবেই তাদের পরিবারও চলছিল| কিন্তু বাবার মৃত্যুতে এই পরিবারটি স্থবির হয়ে পরে| উপায়ান্তর না দেখে রফিক ঢাকায় পারি জমায়|ছোট ভাই বোন দুটির লেখাপড়া আর সংসারটি চালিয়ে নেবার দায়িত্ব তার কাঁধেই এসে পরে| গ্রাম থেকে জীবিকার তাগিদে যারা শহরে আসে তাদেরকে যে কি পরিমাণ ভয়ংকর সংগ্রামের ভিতর দিয়ে যেতে হয় তা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারে|একবেলা, আধপেটা, কখনোবা শুধু পানি খেয়ে  দিন পার করতে হয়েছে রফিককে| থাকবার জায়গার কথা ভাবতেও পারত না সংগতির অভাবে| পথে ঘাটে রাত পার করেছে| যখন যে কাজ পেয়েছে করেছে| হোটেলের বয় হিসেবে কাজ পাবার  পর তার একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়, তিনবেলার ভরপেট খাবারটাও নিশ্চিত হয়| অন্ধকারের হাতছানি যে আসেনি কখনো তা নয়, এসেছে| টাকার লোভও ছিল| তবে রফিক মন শক্ত রেখেই সেগুলো উপেক্ষা করেছে|মন দিয়ে পরিশ্রম করেছে এবং তার ফলও পেয়েছে|

 

রফিকের ভাগ্য পরিবর্তনের শুরুটা হয় মূলত কাঠের ফার্নিচারের দোকানে কাজ পাবার পর থেকে| তাদের হোটেল মালিক ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে  যাবার আগে কর্মচারীদের বিভিন্ন পরিচিত জায়গায় কাজের সুযোগ করে দিয়ে যায়| রফিক খুব আগ্রহ নিয়ে কারিগরদের কাজ দেখত, ছোটখাটো কাজ করতে করতে একসময় সেও টুকটাক কাজে হাত লাগাতে থাকে| একদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে রফিক ফেলে দেয়া কাঠের টুকরো দিয়ে বানিয়ে ফেলে একটি চমৎকার ফুলের টব রাখার স্ট্যান্ড| এরপর থেকে প্রায়ই সে এধরনের কাজ করার সুযোগ পায় ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী| একটা সময় ক্রেতার চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে তার মালিক তাকে আলাদা ব্যবসা শুরু করতে বলেন|রফিক তার জীবনে এমনই কিছু ভাল মানুষের দেখা পেয়েছে যারা তার ভাগ্য পরিবর্তনে রেখেছে বিরাট ভূমিকা| তার এই মালিকও তেমনই একজন| রফিকও ছোট করে নিজের একটা ব্যবসা শুরু করে| মোটামুটি ভালোই কাজ পাচ্ছিল| আয় ইনকামও ভালোই হচ্ছিল তাই তার মা বলে গ্রাম থেকে এবারে বউটাকে নিজের কাছে শহরে  নিয়ে যেতে| দুজনে সুখেই ছিল ছোট্ট সংসারে ছোট্ট ছোট্ট চাওয়া পাওয়া নিয়ে| কিন্তু চাইলেই কি আর এই জগতে সব পাওয়া পূরণ হয়!!তাদের ছোট্ট সংসারে একজন ছোট্ট অতিথির অভাব তাদের পোড়াতে থাকে| কি করেনি তারা একজন সন্তানের জন্য! কিন্তু সৃষ্টিকর্তার হিসাব বোধহয় মানুষের পক্ষে বোঝা কখনোই সম্ভব না| তাই এই দম্পতির জীবনের খুশিগুলোর রঙও বদলাতে থাকে| দীর্ঘশ^াস যেন তাদের নিত্যসঙ্গী|রফিক প্রায়ই তার স্ত্রী মায়াকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার চেষ্টা করত তার মনটা একটু ভালো করবার আশায়| অথচ সেসব জায়গায় যখনই তারা কোন বাবা মাকে তাদের বাচ্চার সাথে খেলতে, আনন্দ করতে দেখত তখন মন ভালো হবার বদলে আরও খারাপ হয়ে যেত| নিঃসন্তান এই দম্পতির মতো এই পৃথিবীতে না জানি আরও কত হাজারো বাবা মা সন্তানের হাহাকার বুকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেয়| তারাও ব্যস্ততাকে নিত্যসঙ্গী বানিয়ে জীবনটাকে একপ্রকার টেনে নিয়ে চলছিল| তবে তাদের জগতে কোনোদিনই অভাব হয়নি একটি জিনিসের সেটি হল ভালোবাসা| একে অপরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, আস্থা আর মমতা তাদেরকে কখনোই পুরোপুরি দুখী হতে দেয়নি|

শান্তি জিনিসটা এই পৃথিবীতে আসলেই খুবই বিরল| পৃথিবীরও তাই শান্তিতে থাকা হয়না| রফিকের ছোট্ট ভালোবাসার জগতও থেমে যায়| সমস্ত পৃথিবীটাই যেন গুটিয়ে নিতে শুরু করে নিজেকে কোভিড মহামারির কারণে| একটা সময় শুরু হয়ে যায় লকডাউন| চারিদিকে মৃত্যুভীতি, থেমে যায় জীবন জীবিকা| ক্ষুদ্র আয়ের মানুষগুলো যে কি পরিমাণ মানবেতর জীবনযাপন করেছে সে সময়টায়| দুই তিনদিন বা সপ্তাহখানেক চলার মতন সঞ্চয় কি তাদের আদৌ থাকে! রফিকের জীবনটাও থেমে যায় সেসময়| কি যে কষ্টের ছিল প্রথমদিকের দিনগুলো| তবে একটা সময় জাদুমন্ত্রের মতনই যেন একটা উপায় চলে আসে তার সামনে| আসলে সৃষ্টিজগতে সকল প্রতিকূলতার মধ্যেই

টিকে থাকবার ক্ষমতা বোধহয় সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবেই থাকে| নিজের চারপাশের প্রতিকূল পরিবেশকে তাই অনুকূল বানিয়ে নিতেও সময় লাগে না| কোভিডের সেই সময়টায় অনলাইনের দ্বারস্থ হয় মানবজাতি| অবশ্য এছাড়া উপায়ও ছিল না খুব একটা| লকডাউনের সময়ে ঘরবন্দি কোনো কাজ না থাকায় রফিক একদিন তার কাজের

কিছু ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে| এরপরই তার একজন পুরনো কাসটোমার সেটা দেখে যোগাযোগ করেন এবং অনলাইনে বিজনেস শুরু করতে উৎসাহ দেন| রফিকও আশার আলো দেখতে পায়| তিনজনের বেশি সহকারী রফিকের কখনোই ছিল না, তাও আর্জেন্ট অর্ডারের সময়| বেশির ভাগ সময়ই দুজন থাকত, ওদের মাঝে মাসুদ বয়সে ছোটই যে শুধু তাই নয় ছেলেটা এতিম কেউ নেই তিন কুলে| এই দুঃসময়ে কি খাচ্ছে কোথায় কীভাবে আছে এসব ভেবে রফিক তার খোঁজ করে| ছেলেটাকে রফিক আপন ভাইয়ের মতো স্নেহ করে| দু’একদিন পর থেকে দেখা যায় তারা দুজন মিলে নাক মুখ গুঁজে কাজ করে চলেছে রফিকের ছোট্ট কারখানায়| মাঝেমধ্যেই অনেক রাতও হয়ে যাচ্ছে আর্জেন্ট অর্ডার শেষ করতে| এমনই একদিন সারাদিন প্রচন্ড কাজের শেষে রফিক সবকিছু গোছগাছ করতে করতে কেমন একটা দীর্ঘশ^াস মেশানো হাসি হাসে|সেটা দেখে মাসুদ জিজ্ঞেস করে কি হইছে ওস্তাদ? কিছু না, এই আরকি রফিক উত্তর দেয়|

-আসলে আইজকা তোর ভাবি আর আমার বিয়ের দিন| চিন্তা কর এই দিন না থাকলে তার সাথে আমার জীবনে দেখাই হইত না| কত একটা আনন্দের দিন অথচ তারে দেওনের মতো কোনো উপহারই জোগাড় করতে পারলাম না|

-মন খারাপ কইরো না ওস্তাদ| নেও জলদি কইরা বাড়িত যাওগা| তাতেই ভাবি খুশি হইয়া যাইব| এমনেতেই রাইত মেলা হইছে|

– হ ঠিকই কইছস| যাইগা তাইলে| তুই  সবদিক ঠিকমতো লাগাইয়া সাবধানে থাকিস|

নিজেকে যতদূর সম্ভব ঢেকেঢ়ুকে খুব সাবধানে বের হয় রফিক| সাবধানতার জন্য সে খুবই ভোরে বেরোয় এবং অনেক রাতে ফেরে| নিজের কাজের জায়গা থেকে খুব একটা বেশি দূর এগিয়েছে কিনা এমন সময় সে ধুপ করে কোনকিছু ছুঁড়ে ফেলার শব্দ পায়| কয়েক হাত দূরের আবছা অন্ধকার থেকে একজন কাপড়ে মুখ মাথা জড়ানো মানুষ ড্রেনে কিছু একটা ফেলে দৌড়ে পালায়|রফিক চিৎকার করে ঐ কেডারে? সে নিশ্চিত ওটা চুরির মালই হবে| তাই সে কোন আগ্রহ দেখায় না কিন্তু ড্রেনের ঐ জায়গাটা পার হতে গিয়েই সে দেখে লোকটা যে জিনিসটা ফেলে গেছে সেটা ভয়ংকর নড়ছে| রফিক চমকে উঠে দ্রুত ছুটে যায়,বুঝতে পারে জীবন্ত কিছু|তার বুক ধড়ফড় করে| এই প্রথম সে সেইসব মানুষকে ধন্যবাদ দেয় যারা ড্রেনগুলোকে ডাস্টবিন ভেবে যাবতীয় আবর্জনা ফেলে| পানি খুব কম থাকায় কাপড়ের পোটলাটা আবর্জনার উপরেই ছিল নয়ত কখন ডুবে যেত! রফিক চেষ্টা করে পোটলাটা হাতে নিতে পারে এবং  জিনিসটা হাত দিয়ে অনুভব করে তার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে| কয়েক মুহূর্ত তার মাথার ভেতর ফাঁকা হয়ে যায় আর পাদুটো হয়ে যায় অবশ| হাতের পোটলায় নড়াচড়া বেড়ে যাওয়াতে সংবিৎ ফিরে পায় রফিক এবং নিজের করনীয় ঠিক করে নিতেও দেরি হয় না| সে একছুটে নিজের কারখানায় ফিরে যায় এবং মাসুদকে ডাকতে থাকে| মাসুদ কেবলই ঘুমোবার তোড়জোড় করছিল, সে দরজা খুলে অবাক হয়ে বলে কি ব্যাপার ওস্তাদ এই গেলেন আবার ফিরা আসলেন যে! কোন বিপদ হয় নাই তো|

 

– জানি না সামনে থিকা সর| তাড়াতাড়ি ভিতরে চল|

– এইডা কি ওস্তাদ? এতক্ষণে যেন দেখে মাসুদ|ও আল্লাহ এইডা নড়ে ক্যা? কী এর ভিতরে?

-সেইডাই দেখন লাগব| চুপচাপ থাক আস্তে কথা ক|

একথা বলেই রফিক দ্রুত হাতে পোটলাটা খুলতে থাকে, সেটি খুবই বাজেভাবে বাঁধা ছিল| সময় লাগছিল খুলতে| শেষ পর্যন্ত রফিক  খুলতে পারে এবং ভয়ানক ভাবে আশ্চর্য হয়ে যায়| তার পরপরই প্রচণ্ড রাগ, দুঃশ্চিন্তা ঘৃণা এবং সবশেষে তীব্র অভিমানে তার অন্তরটা ছেয়ে যায়| তীব্র লজ্জাজনক হলেও সত্যি সেই পোটলার ভেতরে ছিল ফুটফুটে, নিষ্পাপ এক মানব শিশু!! রফিকের সমস্ত সত্তা যেন অবশ হয়ে থাকে| পাশ থেকে মাসুদ বলে ওঠে হায় হায় এইডা কি ও আল্লাহ&! ভাই এই গেন্দা কান্দে না ক্যান, বাঁইচা নাই নাকি? হায় আল্লাহ কোন জানোয়ার ফালায়া গেল?

 

মাসুদের কথায় চমকে উঠে রফিক বলে মোবাইলের টর্চটা জ্বালায়া বাচ্চাটার মুখের উপর ধর দেখি| মুখের উপর পড়া তীব্র আলোয় বাচ্চাটি চোখ পিটপিট করে,তার ছোট্ট কোমল শরীরটি কেঁপে কেঁপে ওঠে| চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে পরে অভিমান ভরা অশ্রু| কিন্তু তবুও সে শব্দ করে কাঁদে না|রফিক আর মাসুদের মনে এমন বিতৃষ্ণা মিশ্রিত রাগ জীবনে হয়ত আর কোনোদিনই আসবে না| কারণ তারা দুজনে হতভ¤^ হয়ে আবিষ্কার করে পিশাচের দল এরকম একটা সদ্য জন্মানো নিষ্পাপ শিশুর মুখ স্কচ টেপ দিয়ে আটকে দিয়েছে যাতে তার কান্নার আওয়াজ কারও কানে না পৌঁছে| প্রচণ্ড রাগে মাসুদ মুখ খারাপ করে গালাগাল করতে থাকে আর এই হতভাগ্য বাচ্চাটির জন্য অজানা ভালোবাসা আর মমতায় রফিকের চোখ বেয়ে ঝরঝর করে অশ্রু ঝরতে থাকে| পৃথিবীর এসব অমানুষের হাত থেকে কখনো নিস্তার নেই| শুধু দুইপায়ে দাঁড়াতে শিখলেই তো আর মানুষ হওয়া যায় না!!

রফিক মাসুদকে তাড়া দেয়, তোর গোসলের তেলের শিশিটা আমাকে দে টেপটা আস্তে আস্তে খোলার চেষ্টা করি আর তুই এক দৌড়ে নিবারন ডাক্তারকে নিয়ে আয়| কেউ যেন কিছু জানতে না পারে| কাকাকে বলবি আমার অবস্থা খুব খারাপ তাইলেই উনি চলে আসবেন|

আরও এক দেড় ঘণ্টা পরের কথা উৎকণ্ঠিত মায়া ¯^ামীর দেরি দেখে ঘরের মাঝে পায়চারি করছে এদিক থেকে ওদিক যেন অস্থির হয়ে দৌড়চ্ছে| নানারকম দুর্ভাবনায় চোখ ফেটে কান্না আসছে তার| রফিক কখনোই এত দেরি করে না| হঠাৎই সদর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে মায়া ছুটে যায়| দেখে রফিক হাসিমুখে দাঁড়িয়ে| বুকের মাঝে খুব যত্ন করে কিছু ধরে রাখা আর হাত ভর্তি হাসনাহেনা ফুল, মায়ার খুব পছন্দের ফুল| মায়া কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই রফিক বলে ওঠে,

-আমার দেরি দেখে খুব চিন্তা হচ্ছিল না বউ!

-চারপাশে রোগশোক কত বিপদের দিন, চিন্তা হইব না!

-হ তাতো ঠিকই আছে| তয় এই দেখো আমার কোন বিপদ হয় নাই| খালি মনটা খুব খারাপ ছিল এবছর এই বিশেষ দিনে তোমাকে কিছু দিতে পারব না খালি হাতেই আসতেছিলাম| কিন্তু দেখো আল্লাহ তায়া’লা আমার খালি হাত ভইরা দিছেন|

এই বলে রফিক বুকের মাঝে সযতনে আগলে রাখা বাচ্চাটিকে মায়ার দিকে এগিয়ে দেয়| হাত বাড়িয়ে বাচ্চাটিকে কোলে নেয়া  মায়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘুমন্ত শিশুটি তার ছোট্ট একটি হাত বাড়িয়ে মায়ার মুখ স্পর্শ করে| এই এতটুকু স্নেহের স্পর্শে মায়ার ভেতরে জমে থাকা বহুদিনের কষ্টগুলি চোখের জলে ভেসে যায়| তার জিজ্ঞেস করতে না পারা অসংখ্য প্রশ্নগুলোর উত্তর রফিক নিজের মত করে দিতে থাকে| কীভাবে বাচ্চাটিকে পেল, নিবারন কাকা সব দেখে বললেন কোন ভয় নেই| তবে তিনদিন দেখে রাখতে হবে| শুধু বাচ্চাটির মুখে টেপ লাগানোর কথাটি রফিক মায়াকে বলতে পারে না| তার মনে হয় মায়া হয়ত এটা সহ্য করতে পারবে না| তিনদিন পর রাতে নিবারন কাকা আসেন,যদিও এর মাঝে ফোনে রফিক তাকে সবকিছুই জানাচ্ছিল| বাচ্চাটি হাত পা নেড়ে নড়াচড়া করছিল,আর বড়বড় চোখ মেলে চারিদিকে দেখছিল| যেন সে খুবই নিশ্চিন্ত, কোন ভয় নেই| নিবারন ডাক্তার সব পরীক্ষা করে দেখে হাসিমুখে বলেন, সবকিছু ঠিক আছে| রফিক আমি তোমাকে অনেক স্নেহ করি তাই একটা কথা বলি, কথাটা রাখবে আশা করি| এই বাচ্চাটি আসলে ভগবানের আশীর্বাদ হয়ে এসেছে তোমাদের জীবনে|তোমরা এই শহর ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাও| মানুষকে তো জানোই!!

-কাকা আমার মাও এই কথাই বলেছেন| আমি তাই করব ভাবতেছি|

বছর কয়েক পরের কথা নির্দিষ্ট স্টপেজ এসে গেলে রফিক নেমে যায়,হাতে বাসে কেনা বাচ্চাদের ছবির বইগুলো| সে গ্রামে গিয়েছিল

মার সাথে দেখা করতে|বাড়ি পৌঁছলে তার মেয়েটি কিভাবে বাবা বলে ছুটে এসে কোলে উঠে পরবে এটা ভেবেই রফিকের বুকের ভেতরে অদ্ভুত আনন্দ হতে থাকে মুখে ফুটে ওঠে হাসি| এ ভালোবাসার কোন তুলনা নেই| তার মেয়েটি যখন দুই ঝুটি দুলিয়ে বাবার হাত ধরে নাচতে নাচতে স্কুলে যায় তখন শুধু আনন্দেই নয় গর্বেও তার বুকটা ভরে ওঠে| এখন তার জীবনে ঘরে বাইরে সবজায়গাতেই সুখ আর আনন্দ| ছুটির দিনে যখন তারা বেড়াতে যায়, তাদের মেয়েটির আনন্দময় ছোটাছুটি দেখে মায়া এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে রফিকের দিকে তাকায় যেন চোখের ভাসায় বলে সেই কথাটি| সেই প্রথম যেদিন বাচ্চাটিকে রফিক তার হাতে তুলে দিয়েছিল তখন সে বলেছিল এটিই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার|

 

সৈয়দা মাসুদা বনি, গল্পকার

বাঙালির বর্ষবরণ—কবিতায়-গানে

সুমন বনিক দিনপঞ্জিকায় প্রতিটি মাসের পাতা জুড়ে ৩০/৩১ টি সংখ্যা থাকে| সংখ্যাগুলো একএকটি তারিখ বা দিনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে| আমরা সেই তারিখমতো আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাই

আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ

গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলনে আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা প্রদান করেন| আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এই সম্মাননা

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন ২০২৬ উপজেলা  পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়| সাহিত্য সংসদের

সুখ কিনতে কত লাগবে

সাফিয়া নুর মোকাররমা “সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন