এখন সময়:রাত ২:৪১- আজ: রবিবার-২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ২:৪১- আজ: রবিবার
২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

সাহিত্যিক কাওয়াবাতার সঙ্গে বাঙালি সংযোগ

প্রবীর বিকাশ সরকার

“১৯৬৮ সালটি জাপানের ইতিহাসে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন জাপানের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি (১৮৯৯-১৯৭২)। প্রাচ্যে রবীন্দ্রনাথের পরেই কাওয়াবাতা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন তাঁর য়ুকিগুনি (বরফের দেশ) উপন্যাসটির জন্য। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কাওয়াবাতা বিশ্ববিখ্যত সাহিত্যিক হয়ে ওঠেন। তার আবির্ভাব জাপানের আধুনিক সাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। শোওয়া যুগ (১৯২৬-১৯৮৯) থেকেই জাপানে বামপন্থী সাহিত্যচর্চার অনুকূল হাওয়া বইতে শুরু করে। বামপন্থী লেখকরা “নয়া জাপানি সাহিত্য” নামক পত্রিকার ছত্রচ্ছায়ায় সমবেত হন। এর বিপরীতে ছিল “১৩ জনের ক্লাব” নামে একটি সংস্থা। এই ক্লাবের লেখকরা ছকেবাঁধা জীবনচেতনার বাইরে মানুষের জীবনের গহীন প্রদেশ নিয়ে ভাবতেন। এই গোষ্ঠীরই উল্লেখযোগ্য নাম কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি। গভীর জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ ছিলেন কাওয়াবাতা। তিনি য়ুকিগুনি লেখা শুরু করেন ১৯৩৪ সাল থেকে। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবং ইংরেজি অনুবাদ বের হয় ১৯৬৭ সালে। এই উপন্যাসে কাওয়াবাতা প্রাচীন হাইকু কাব্যরীতিই অনুসরণ করেছেন। তার গল্প বা উপন্যাসের বর্ণনা ও সংলাপ সংক্ষিপ্ত কিন্তু কাব্যধর্মী।”

উপর্যুক্ত কথাগুলো জড়তামুক্ত বাংলায় বলেছিলেন আমাকে জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক, বাংলা ভাষার পণ্ডিত এবং বাঙালিপ্রেমী অধ্যাপক কাজুও আজুমা। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তাঁর বাড়িতে একান্তে। তখন অধিকাংশ সময় তিনি কলকতা ও শান্তিনিকেতনে কাটাতেন একাধিক প্রকল্পের কাজে। কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি সম্পর্কে একটা কৌতূহল ছিল আমার ছাত্রজীবন থেকেই। আমি তাঁকে দুটি প্রশ্ন করেছিলাম, “সাহিত্যিক কাওয়াবাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে জানতেন কি না? দ্বিতীয়ত, কাওয়াবাতার কোনো রচনা বাংলায় অনুবাদ হয়েছিল কি না?”

অধ্যাপক আজুমা আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপূর্ব এবং যুদ্ধপরবর্তী এমন কোনো সাহিত্যিক নেই যিনি নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথের নাম শোনেননি! রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কম বেশি সবাই জানতেন। কাওয়াবাতাও ব্যতিক্রম নন।” এরপর তিনি পুরোনো প্রায় ঝুরঝুরে কলকাতার দেশ কাগজের একটি বান্ডিল বইয়ের তাক থেকে নামালেন। বান্ডিল খুলে বেশ কয়েকটি সংখ্যা আমার সামনে রাখলেন। একটি সংখ্যা খুলে দেখালেন, তাতে দেখতে পেলাম, অধ্যাপক কাজুও আজুমা কাওয়াবাতা ইয়াসুনারির ওপর একটি প্রবন্ধ কলকাতার সাপ্তাহিক দেশ ম্যাগাজিনে বিশ্বভারতীর স্বনামধন্য অধ্যাপক ও গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য্যরে সহযোগিতায় “প্রাচ্য ঔপন্যাসিক কাওয়াবাতা” নামে প্রকাশ করেছেন ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে। এটিই বাংলা ভাষায় এবং উভয় বাংলায় প্রকাশিত অধ্যাপক কাজুও আজুমার প্রথম রচনা। এই লেখাটির মাধ্যমেই অধ্যাপক আজুমার নামের সঙ্গে বাঙালি পাঠক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রথম পরিচয় ঘটে। এই লেখাটি তৎকালীন সাপ্তাহিক দেশ-এ প্রকাশের পর সম্পাদক সাগরময় ঘোষ অধ্যাপক আজুমাকে অনুরোধ করেন কাওয়াবাতার একটি উপন্যাস অনুবাদ করার জন্য। তবে উপন্যাসটি এমন হতে হবে যা পৃথিবীর আর অন্য কোনো ভাষায় অনূদিত হয়নি আজ পর্যন্ত। বাংলা ভাষাতেই প্রথম অনুবাদ হবে। অনুরোধ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাপক আজুমা যোগাযোগ করলেন কাওয়াবাতার সঙ্গে। কাওয়াবাতার অনুমোদন ও নির্দেশে অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য্যসহ যৌথভাবে অনুবাদ করতে লাগলেন কাওয়াবাতার বিখ্যাত উপন্যাস নিজি বা রংধনু। ১৯৬৯ সালের জুন মাস থেকে দেশ পত্রিকায় ইন্দ্রধনু নামে প্রকাশিত হতে লাগল। পরে এটি ১৯৯৯ সালে কাওয়াবাতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার মডেল পাবলিশিং হাউস কর্তৃপক্ষ গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন।

অবশ্য কাওয়াবাতার উপন্যাস বাংলায় অনুবাদের বিষয়টি অধ্যাপক কাজুও আজুমার প্রচেষ্টার আরও আগে একবার হয়েছিল বলে কাওয়াবাতার উক্তি থেকেই জানা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ষাট দশকে বেশ কিছু পশ্চিমবঙ্গবাসী বাঙালি জাপানে বসবাস করছিলেন নানা উপলক্ষে। তাদের মধ্যে কোনো একজন জাপানপ্রবাসী বাঙালি হবেন যিনি নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি সম্পর্কে জানতেন। তাদের মধ্যে জানাশেনাও ছিল বলে ধরে নেওয়া যায়। যার নাম অবশ্য কাওয়াবাতা উল্লেখ করেননি। তবে মৌখিকভাবে অনুবাদের অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে অধ্যাপক আজুমাকে লিখিত এক পত্র থেকে জানা যায়।

বাঙালির সঙ্গে সাহিত্যিক কাওয়াবাতা ইয়াসুনারির খুব একটা পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও শ্বেতাঙ্গ বলয়ের বাইরে এশিয়া মহাদেশে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম তিনি ভালো করেই জানতেন। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সাহিত্যে দ্বিতীয় যে সাহিত্যিক নোবেল অর্জন করেন তিনি জাপানের কাওয়াবাতা——দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর পর। অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই ১৯৪৯ সালে জাপানি পদার্থবিদ ড.ইউকাওয়া হিদেকি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপানে আশার আলো সঞ্চার করেন। যদিও যুদ্ধপরবর্তী অস্থির এশিয়ায় এই ঘটনা তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। কিন্তু উনিশ বছর পর যখন বহুলপঠিত এবং জনপ্রিয় কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি নোবেল পুরস্কার পেলেন তখন সাহিত্যপ্রিয় জাপানিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্বব্যাপী। যেমনটি হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে ১৯১৩ সালে। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারের সংবাদ জাপানে ব্যাপক ঝড় তুলেছিল বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যপ্রিয় নাগরিকদের মধ্যে। বিস্মিত হয়েছিলেন সচেতন জাপানিরা যে, অশ্বেতাঙ্গ ভারতীয় একজন কবি কীভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন! এশিয়ার প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্র হিসেবে জাপানের সাহিত্যপ্রিয় মানুষ ধরে নিয়েছিলেন জাপানের কোনো না কোনো সাহিত্যিক বা বিজ্ঞানী এশিয়ায় প্রথম নোবেল পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। যে-কারণে রবীন্দ্রনাথের প্রতি কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক তো বটেই, সাধারণ সাহিত্যপ্রিয় মানুষেরও আগ্রহ বা কৌতূহলের সীমা ছিল না তাকে দেখবার এবং তার সাহিত্য পড়ার জন্য। ১৯১৪ সাল থেকেই সাহিত্যবোদ্ধারা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, “গীতাঞ্জলি” ও অন্যান্য রচনা নিয়ে মেতে ওঠেন। ১৯১৫ সালে “গীতাঞ্জলি” জাপানে প্রথম জাপানি ভাষায় অনূদিত হয় ইংরেজি থেকে। অনুবাদ করেন তরুণ সাহিত্যিক মাশিনো সাবুরোও। ক্রমাগত কবিগুরুর কবিতা অন্যান্য রচনাও অনূদিত হতে থাকে।

রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান তখন কাওয়াবাতা চৌদ্দ বছরের কিশোর। অবাক হওয়ার মতো সংবাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির সংবাদও তার কানে পৌঁছেছিল অথবা চোখে দৃষ্ট হয়েছিল। ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জাপান ভ্রমণের সময় তার বক্তৃতা শোনার অভিজ্ঞতাও কাওয়াবাতার রয়েছে। ইনদোজিন তথা ভারতীয় হলেও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে জাতিতে বাঙালি ছিলেন তখন সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কিনা জানি না। তবে বড়ো হয়ে যখন সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হন বুঝতে পেরেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। ১৯২৯ সালে যখন কবিগুরু জাপানে শেষবার আগমন করেন, সেই খবরও নিশ্চয়ই তার কানে পৌঁছেছিল। তখন তিনি তিরিশ বছরের তরুণ। ১৯২১ সালেই তার প্রথম গল্প “শোওকোন সাই ইক্কেই” (শোওকোন উৎসবের একটি দৃশ্য) জনপ্রিয় শিন্শিচোও সাহিত্য কাগজে প্রকাশিত হয়। আকৃষ্ট করে বহু সাহিত্যবোদ্ধাকে। কাজেই পাঁচবার জাপানে আগত রবীন্দ্রনাথের ঘটনাবলি তিনি জানবেন না চিন্তাও করা যায় না। জানতেন। আর জানতেন বলেই তার জীবনস্মৃতিতে জীবন্ত ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রতিচ্ছবি। ১৯১৬ সালে দেখা রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির কথা জাপানি ভাষায় লিখিত তাঁর এক রচনা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে নোট করেছিলাম অধ্যাপক আজুমার বাড়িতে। রচনাটির কথা আজ আর মনে নেই। রবীন্দ্রনাথকে দেখে কাওয়াবাতার তাৎক্ষণিক অনুভূতি হয়েছিল তা নিম্নরূপ:

“সেই বছর আমি তখনও পুরনো স্কুল পদ্ধতিগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। কবির গোছা-গোছা দীর্ঘ চুল, দীর্ঘ গোঁফ, দীর্ঘ দাড়ি এবং ভারতীয় ঢিলেঢালা পোশাকে দীর্ঘদেহী, চোখের ঔজ্জ্বল্য প্রবল গভীর সাধুসদৃশ প্রতিচ্ছবি পত্রিকায় বড়ো করে প্রকাশিত হয়েছে যা এখনো স্মরণ করতে পারি।

শুভ্রচুল মুখের দুপাশে কোমলভাবে ছড়ানো, জুলফির লোম দাড়ির মতো দীর্ঘায়িত হয়ে কপোলের সঙ্গে যুক্ত, প্রাচ্যের প্রাচীন সন্ন্যাসীর মতো মুখমণ্ডল বালকবয়সী আমার মধ্যে এক গভীর ছাপ ফেলে গিয়েছিল। তারপর রবীন্দ্রনাথের কবিতাসমূহের মধ্যে কিশোরদেরও পড়ার মতো সহজ ইংরেজিতে লিখিত কবিতা ছিল, সে-সবের আমি কিছু পাঠ করেছি।”

এছাড়াও, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কাওয়াবাতা হাওয়াইই বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে একটি বক্তৃতা প্রদান করেন ১৯৫৯ সালে। সেই বক্তৃতাটি “বি নো সোনজাই তো হাক্কেন” (সৌন্দর্যের অস্তিত্ব এবং আবিষ্কার) নামে সুপরিচিত। তাতেও তিনি রবীন্দ্রনাথের আধাত্মিক চিন্তা ও সৌন্দর্যবোধ নিয়ে আলোচনা করেছেন, ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেইওগিজুকু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত ঞযব ঝঢ়রৎরঃ ড়ভ ঔধঢ়ধহ বক্তৃতার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার তিন বছরের মাথায় ১৯১৬ সালে প্রথম জাপানে আগমনের ফলে যে নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল তা গণমাধ্যমের কল্যাণে ব্যাপক আকারে জাপানব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। রবীন্দ্রনাথ তার এক বক্তৃতায় তৎকালীন জাপানের উগ্রজাতীয়তাবাদ এবং সমরতন্ত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এ কারণে অনেক জাতীয়তাবাদী কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গবেষক তীব্র বাদ-প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন, তারা রবীন্দ্রনাথ এবং তার সাহিত্যের কঠোর সমালোচনা করতে ছাড়েননি। জাপানের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিকদের কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাচ্ছিল্যকর প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন। এরকম ঘটনা রবীন্দ্রনাথের জীবনে একমাত্র জাপানেই ঘটেছিল বলে প্রতীয়মান হয়। অবশ্য খুব দ্রুত রবীন্দ্রনাথ অন্যতম শীর্ষ কেইওগিজুকু বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানের আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতিপ্রেম এবং স্বাতন্ত্রিক শিল্পকলার বিকাশ নিয়ে একটি সুদীর্ঘ জ্ঞানগর্ব বক্তৃতা ঞযব ঝঢ়রৎরঃ ড়ভ ঔধঢ়ধহ-এ জাপানিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন, এবং তাতে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে সেই সময় রবীন্দ্রনাথ, তার সাহিত্য ও নানাবিধ কর্মকাণ্ড নিয়ে জাপানিরা যেভাবে মেতে উঠেছিলেন তার নজির াার দ্বিতীয়টি নেই। জাপানিদের সেই রবীন্দ্রপ্রীতি আজও জাপানে মিলিয়ে যায়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নজিরবিহীন যে বিপুল পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল তার সংবাদও পরিণত বয়েসী এবং সাহিত্যজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি অবগত ছিলেন না, তা ভাবা যায় না। আরও যেমন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধচলাকালীন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জাপানে কর্মতৎপরতা, জাপানে আশ্রিত মহাবিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ভারতীয় স্বাধীনতাভিত্তিক কর্মকাণ্ড, যুদ্ধের পর টোকিওতে মিত্রশক্তি প্রধান আমেরিকা কর্তৃক আয়োজিত টোকিও মিলিটারি ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় বিচারপতি বাঙালি রাধাবিনোদ পালের জোরালো ভূমিকা জাপানের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিতাত্ত্বিক সমাজকে প্রচণ্ড তোলপাড় করেছে এবং করে চলেছে সুদীর্ঘ সময় ধরে। জাপানে বাঙালির এইসব ঘটনা সাহিত্যিক কাওয়াবাতা ইয়াসুনারিকে প্রভাবিত করেছিল বললে অতিরিক্ত বলা হবে না। বিশেষ করে টোকিও মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে কাওয়াবাতা দু’-দুটো নাতিদীর্ঘ নিবন্ধও লিখেছেন। সুতরাং বাঙালি সম্পর্কে তাঁর মননে একটি উচ্চধারণা জন্মেছিল বলাই বাহুল্য। তাই যখন জনৈক জাপান প্রবাসী বাঙালি তাঁর গ্রন্থের অনুবাদের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি সে অনুরোধ ফিরিয়ে দেননি।

অনুরূপ, ১৯৬৮ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও বেশ আলোড়ন তুলেছিল এই ঘটনা। স্বনামধন্য সাহিত্য সাময়িকী দেশ আগ্রহী হয়ে ওঠে কাওয়াবাতার কোনো শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বাংলায় অনুবাদ প্রকাশের, যা তেেখনা অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ হয়নি। সেই সময় অধ্যাপক কাজুও আজুমা তার শিক্ষাগুরু বিশ্ববিশ্রুত ভারততত্ত্ববিদ টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় দর্শনের অধ্যাপক ড.নাকামুরা হাজিমের অনুরোধে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানি বিভাগে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত। জাপানি ভাষা ও সাহিত্য শেখানোর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং রবীন্দ্রনাথ নিয়ে গবেষণা করছেন অক্লান্তচিত্তে। তখনই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশিষ্ট লেখক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্বে আবদ্ধ হন। তারই মাধ্যমে পরিচিত হন “দেশ” কাগজের সম্পাদক মহীরুহসম ব্যক্তিত্ব সাগরময় ঘোষের সঙ্গে। সাগরময় ঘোষ প্রস্তাব দেন কাওয়াবাতার একটি উপন্যাস অনুবাদ করে তার কাগজে প্রকাশ করার জন্য। অধ্যাপক আজুমা প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেন। এবং বন্ধু অমিত্রসূদনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজটি করার কথা ভাবেন। কারণ, জাপানি ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদটি যেন নির্ভুল ও যথার্থ হয় সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন। তিনি জানতেন বাংলা ভাষা এবং জাপানি ভাষা আদৌ সহজ ভাষা নয়, ব্যাকরণগত কারণে মিল থাকলেও শব্দার্থ, বাক্য ও অর্থ অনুবাদ করা অত্যন্ত দুরূহ।

প্রস্তাবটিকে বাস্তবায়িত করার জন্য অধ্যাপক আজুমা কাওয়াবাতাকে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিটি গ্রহণ করে কাওয়াবাতা সানন্দে রাজি হন এবং পত্রোত্তর দেন। এই পত্র নিয়ে দেশ কাগজে অনুবাদকদ্বয়ের ভূমিকায় যা লেখা হয়, তার কিছু অংশ নিম্নরূপ:

কাওয়াবাতা লিখেছেন, “আপনি ও অধ্যাপক ভট্টাচার্য্য আমার রচনা অনুবাদ করবেন——এটা আমার পরম আনন্দের কথা।”

অনুবাদকদ্বয় বলছেন, “কিন্তু কাওয়াবাতা একটু অসুবিধে বোধ করছেন এই কারণে যে, নোবেল পুরস্কার পাবার সময় গোলমালের মধ্যে বাংলা ভাষায় অনুবাদের জন্য কাউকে কোনো কপিরাইট দিয়েছেন কিনা——তিনি নিজেই এই মুহূর্তে ঠিক স্মরণ করতে পারছেন না! কাওয়াবাতা লিখেছেন, কয়েক বছর আগে জাপানবাসী একজন বাঙালী তাঁর কোনো কোনো রচনা বাংলায় অনুবাদ করবার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি তাঁকে মৌখিকভাবে সে কাজে সম্মতি জানিয়েছিলেন। হয়তো অনুবাদক কাজ করে চলেছেন, কিন্তু তাঁর কাজ কতদূর এগিয়েছে সে বিষয়ে কাওয়াবাতা কোনো খবর পাননি। তিনি লিখেছেন, খবর নিয়ে যদি জানা যায় অনুবাদের কাজ এখনো এগোয় নি “তাহলে য়ুকিগুনি” (বরফের দেশ) এবং “ইজু নো ওদোরিকো” (ইজু দ্বীপের নর্তকী) গ্রন্থ দুটি পরে কোনো সময়ে অনুবাদ করতে পারেন।”

অনুবাদকদ্বয়ের বক্তব্য, “কাওয়াবাতাকে লেখা চিঠিতে আমাদের প্রধান বক্তব্য ছিল——আজ পর্যন্ত বিদেশী কোনো ভাষায় অনূদিত হয়নি এমন কোনো শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বাংলা ভাষায় অনুবাদের জন্য আপনি নির্বাচন করে দিন। এরই উত্তরে তিনি তাঁর রচিত ‘নিজি’ (ইন্দ্রধনু) উপন্যাসটির নাম করেছেন। এই প্রসঙ্গে চিঠির শেষাংশে কাওয়াবাতার উক্তি, “আপনি এবং অধ্যাপক ভট্টাচার্য্য আমার লেখা নিজি উপন্যাসটিই প্রথমে অনুবাদ করুন, সব দিক দিয়ে ভালো হবে মনে করি।”

ফলত, কাওয়াবাতার জনপ্রিয় নিজি উপন্যাসটিই অনুবাদের জন্য নির্ধারিত হয়। কাওয়াবাতার উক্তি থেকে এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, শুধু “নিজি”ই নয়, তার অন্যান্য রচনাও বাংলা ভাষায় অনুবাদ হোক, এই আশাবাদ তিনি পরোক্ষে ব্যক্ত করছেন।

উল্লেখ্য যে, কাওয়াবাতা ইয়াসুনারির অধিকাংশ উপন্যাসই প্রভূত পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এবং তার জীবদ্দশাতেই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছিল। তার “নিজি” উপন্যাসটি লেখা হয় ১৯৫৫ সালে। তবে নামটি অসম্পূর্ণ লিখেছেন অনুবাদকদ্বয় বলে প্রতীয়মান হয়। মূল জাপানি ভাষায় রচিত গ্রন্থটির নাম “নিজি ইকুতাবি” অর্থাৎ “রংধনুভ্রমণ” বা “ইন্দ্রধনু বিহার” হবে বাংলা ভাষায়। কিন্তু কেন শুধু “ইন্দ্রধনু” নামকরণ করা হয়েছে খণ্ডিত করে তা জানা নেই। অধ্যাপক আজুমাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সঠিক উত্তর দিতেন বই কি, কিন্তু নব্বই দশকের মাঝামাঝি তখনও কাওয়াবাতার সাহিত্য সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না আমার। “য়ুকিগুনি” এবং “ইজু নো ওদোরিকো” উপন্যাস দুটি ছাড়া অন্য রচনা পড়ার সুযোগ হয়নি। বলাই বাহুল্য, অন্যান্য আরও উপন্যাসের মতো কাওয়াবাতার “নিজি ইকুতাবি” উপন্যাসটির কাহিনিও অসাধারণ! সেই সময়কার সাধারণ জাপানিদের জীবন থেকে নেয়া আখ্যান। এটাতেও অন্যান্য উপন্যাসের মতো একটি চরিত্র “নর্তকী” তথা “গেইশা” মানে বিনোদিনী রয়েছেন, নাম কিকুয়ে।

এদিকে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ দিয়েছেন জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র ঘঐক (নিপ্পন হোওসোও কিয়োকাই)-এর একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক কাওয়াই তেৎসুরোও। তিনি কাওয়াবাতা ইয়াসুনারির নোবেল পুরস্কার জয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে “নোওবেরু বুনগাকু শোও হি ওয়া” অর্থাৎ “নোবেল পুরস্কারের অজানা কথা” শীর্ষক এক সরেজমিন অনুসন্ধানকৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ষাটের দশকে চারজন জনপ্রিয় জাপানি সাহিত্যিকের নাম ছিল নোবেল কমিটির বিবেচনায়। জাপানব্যাপী গুঞ্জনও উঠেছিল কে পাবেন নোবেল পুরস্কার চারজনের মধ্যে! এই চারজন ছিলেন যথাক্রমে তানিজাকি জুনইচিরোও (১৮৮৬-১৯৬৫), নিশিওয়াকি জুনজাবুরোও (১৮৯৪-১৯৮২), কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি এবং মিশিমা য়ুকিও (১৯২৫-১৯৭০)। চারজনের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন মিশিমা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কারো চেয়ে কেউ কম ছিলেন না মেধা এবং জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে। তরুণ সাংবাদিক কাওয়াই তেৎসুরোও জানাচ্ছেন, রীতিমতো সুইডিস একাডেমির প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিবেদক জাপানি নাগরিকদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রিপোর্ট তৈরি করে প্রেরণ করেছিলেন একাডেমিকে। তাতে দুজন সাহিত্যিকের নামই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল, একজন কাওয়াবাতার থেকে তিন বছরের অগ্রজ তানিজাকি জুনইচিরোও এবং অন্যজন কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি। দুজনেই যোগ্য এবং একসঙ্গে দুজন পেলে আপত্তির কোনো কারণ নেই বলে সাধারণ জাপানিরা অভিমতও ব্যক্ত করেছিলেন। ফলত জরিপ, সাহিত্যমান এবং সাহিত্যে অবদানের প্রেক্ষিতে উক্ত দুজন সাহিত্যিককেই চূড়ান্ত মনোনীত করেছিল নোবেল কমিটি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তানিজাকি জুনইচিরোও নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগেই বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে এককভাবে পুরস্কার চলে যায় কাওয়াবাতা ইয়াসুনারি ভাগ্যে। ১৯৬৮ সালে তাকেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং তারই ঢেউ পশ্চিমবঙ্গেও এসে লাগে। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধগত অস্থির রাজনৈতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গ, পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানে এই সংবাদটি তেমন আলোচনায় আসেনি।

যদি উপর্যুক্ত দুজন সাহিত্যিকই যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হতেন তাহলে, বিশ্বসাহিত্যে অন্যরকম এক ঘটনা ঘটত। বাংলা সাহিত্যে কাওয়াবাতার পাশাপাশি তানিজাকি জুনইচিরোওর রচনারও অনুবাদ সংযুক্ত হতো বলে মনে করা যায়। ঋদ্ধ হতো বাংলা অনুবাদজগৎ বলে প্রতীয়মান হয়। নোবেল পুরস্কারের কারণে জাপানি সাহিত্যিক কাওয়াবাতার দু-একটি রচনা বাংলায় অনুবাদ হয়েছে, কিন্তু তানিজাকি জুনইচিরোওর নাম বাংলা অঞ্চলে এখনো অশ্রুতই বলা যায়।

এবার আসা যাক কেন কাওয়াবাতা নোবেল পুরস্কারের পর মাত্র চার বছরের মধ্যে আত্মহত্যা করেন? তার মৃত্যু কি আসলেই আত্মহনন   নাকি দুর্ঘটনাবশত মৃত্যুবরণ তা আজও রহস্যজনক, আদৌ

 

মীমাংসিত হয়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠজন এবং গবেষকরা নানা কারণ বা পটভূমি ব্যাখ্যা করেছেন। এইসব কারণের মধ্যে——

প্রথমত: দুর্ভাগ্যজনক গ্যাস দুর্ঘটনা। স্নানঘরের গ্যাস নির্গত হয়ে সারাঘরে ছড়িয়ে পড়ে অসুস্থ কাওয়াবাতা নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ত: উগ্রজাতীয়তাবাদী সাহিত্যিক মিশিমা য়ুকিওর সঙ্গে তাঁর ছিল গভীরতম বন্ধুত্ব। যদিও মিশিমা ছিলেন কাওয়াবাতার চেয়ে বয়সে তখন অনেক তরুণ। কাওয়াবাতার মৃত্যুর সময় মিশিমা ছিলেন ৪৭, আর কাওয়াবাতা ৭১ বছর বয়সী। ১৯৭২ সালে মিশিমা হারাকিরি রীতিতে উদর চিরে আত্মহত্যা করেন। যা কাওয়াবাতাকে শুধু নয়, সারাবিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেন প্রয়াত মিশিমার প্রভাবে কাওয়াবাতা আত্মহননের পথ বেছে নেন গভীর শোক, মানসিক চাপ এবং একাকিত্ব থেকে।

তৃতীয়ত: কোনো কোনো গবেষক মনে করেন তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকা এই দুরারোগ্য রোগের যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণ পেতে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

চতুর্থত: আবার কেউ কেউ মনে করেন কাওয়াবাতা পরকীয়া প্রেমের কারণে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু সেই নারীর পরিচয় নিয়ে আজও রহস্য বিদ্যমান।

এই চারটি কারণের মধ্যে কোনটি সঠিক বলা কঠিন। তবে অধ্যাপক কাজুও আজুমার সঙ্গে একবার জাপানের সামাজিক বৈষম্য বিশেষ করে, “বুরাকুমিন” এবং “দোওয়া চিকু” সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ২০০০ সালের দিকে তাঁর বাড়িতে। তখন আমি এই বৈষম্য সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ লেখার চেষ্টা করছি। অধ্যাপক আজুমাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “শোনা যায় কাওয়াবাতা পরকীয়া প্রেমের কারণে আত্মহত্যা করেছেন, বিষয়টি কতখানি সত্যি?” তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “কাওয়াবাতা পরকীয়া প্রেমে জড়িত ছিলেন বলে নানা উৎস থেকেই জানা যায়।

 

সেই নারী সামাজিক বৈষম্যের শিকার সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের অস্পৃশ্য “দোওয়াচিকু” এলাকার অধিবাসী বলে অনেকেই মনে করেন। এই ঘটনা জানাজানি হলে পরে মারাত্মক কেলেঙ্কারি হবে, এই আশঙ্কায় তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই কারণেও তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন বলে প্রতীয়মান হয়।”

জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক দেশিকোত্তম কাজুও আজুমা জাপানি সাহিত্য জগৎ সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। কাওয়াবাতার সঙ্গে সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল তাঁর উপন্যাস অনুবাদের সূত্র ধরে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অধ্যাপক আজুমার ধারণা থাকাই স্বাভাবিক। উল্লেখ্য যে, কাওয়াবাতার একটি চমৎকার ছোট্ট গল্প “ছাতা” নামে বীরভূম শান্তিনিকেতন থেকে প্রকাশিত ক্ষুদ্র সাহিত্য ম্যাগাজিন “পর্ণপুট”-এ জাপানি থেকে অনুবাদ করেছেন।

বিশ্বনন্দিত জাপানি সাহিত্যিক কাওয়াবাতার ইয়াসুনারির সঙ্গে বাঙালির গভীর যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে অধ্যাপক কাজুও আজুমার বদৌলতে মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোকেই। কবিগুরুর অন্বেষণে যদি তিনি শান্তিনিকেতনে না যেতেন তাহলে আর বন্ধুত্ব না হতো অধ্যাপক অমিতসূদন ভট্টাচার্য্যরে  সঙ্গে। জাপানি সাহিত্যিক কাওয়াবাতা বাংলা অনুবাদের জগতে অদৃশ্যই থেকে যেতেন।

 

প্রবীর বিকাশ সরকার : কথাসাহিত্যিক ও গবেষক, জাপান প্রবাসী

বাংলাদেশের জন্ম ও বঙ্গবন্ধু: কিছু অনুমান, কিছু প্রশ্ন কিছু অনস্বীকার্য সত্য

আবু মকসুদ   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বাংলাদেশ চাওয়া’ বা ‘স্বাধীনতা চাওয়া’ নিয়ে কখনোই কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু ইতিহাসকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার

মাহরাং বালুচ বেলুচিস্থানের শেখ মুজিব!

ফজলুল বারী   বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ডা: মাহরাং বালুচ আজ বঙ্গবন্ধুর মতোই পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিনী। মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন

গল্পটি রুনা আখতারকে নিয়ে

রুনা আখতার আমাদের কারখানায় অপারেটর থেকে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। পদোন্নতি একটি নিয়মিত বিষয়— অনেকেরই হয়। কিন্তু রুনার গল্পটি আলাদা।   এই পদোন্নতি তাকে এতটাই

আন্দরকিল্লা : আলোকিত জীবনের রূপরেখা

ধীমান বড়ুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের আন্তরিকতায় আপনার নিয়মিত প্রকাশনাগুলো আমার হাতে পৌঁছে যায়, আর আমি প্রতিবারই নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ পাঠক হিসেবে আবিষ্কার করি।

বিশ বছর পর বাংলায় ফিরছেন তসলিমা

রোখসানা ইয়াসমিন মণি সাহিত্যের ইতিহাসে বহু লেখকই সময়ের স্রোতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মান কেবল লেখার জন্য। তসলিমা নাসরিন সেই ধারারই এক সাহসী