সাফিয়া নুর মোকাররমা
“সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন কোনো বস্তু—টাকা দিয়ে কেনা যায়, অর্জন দিয়ে পাওয়া যায়, বা অন্য কারো হাতে জমা রাখা যায়| অথচ বাস্তবতা ভিন্ন|
দুঃখিনীর মতো অসংখ্য মানুষ নিজেদের ভেতরটা নরম জলরাশির মতো ধরে রাখে—অন্যদের তৃষ্ণা মেটাতে, ভালো থাকার অভিনয়ে পাশে থাকতে| কিন্তু দিনশেষে সেই মানুষগুলোই বুঝতে পারে, নিজের দুঃখ কেউ বহন করে না| অন্যের কাছে গিয়ে তা ¯^চ্ছ হয় না, বরং আরও ভারী হয়ে ফিরে আসে|
জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে আমরা পাহাড়ের মতো দৃঢ় হতে চাই, আবার ভেতরে ভেতরে গলতে থাকি| কখনো আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলি, কিন্তু সেই আগুনের কাছে কেউ আসে না| কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি—সুখ কি দূরে কোথাও, আমাদের নাগালের বাইরে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের ভেতরেই| ˆধর্য, বিশ্বাস এবং আত্মোপলব্ধিই মানুষের প্রকৃত শক্তি| প্রতিকূলতা, দুঃখ ও
অনিশ্চয়তা—এসবই জীবনের পরীক্ষা| যে মানুষ এই পরীক্ষার মধ্যেও নিজেকে ধরে রাখতে পারে, তার কাছেই ধরা দেয় শান্তি|
সুখ কোনো বিলাসিতা নয়, কোনো ক্রয়যোগ্য জিনিসও নয়| এটি এক ধরনের প্রশান্তি, যা আসে আত্মিক স্থিতি থেকে—বিশ্বাস থেকে, সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভরতা থেকে| বাহ্যিক জগতের আকর্ষণ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু অন্তরের শান্তি দীর্ঘস্থায়ী|
অতএব, সুখ খুঁজতে হলে বাইরে নয়, ফিরে তাকাতে হবে নিজের ভেতরে| সময়কে মূল্য দিতে হবে, ভালো কাজের বীজ বুনতে হবে, আর অন্তরের গভীরে স্রষ্টার সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে হবে| তখনই বোঝা যাবে—সুখ কিনতে হয় না, সুখ অর্জিত হয়|
সাফিয়া নূর মোকাররমা, ঢাবি মেডিসিন অনুষদ, ফিজিওথেরাপি বিভাগ




