এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

একাত্তরে আমেরিকায় দুই ডলারের এক সন্ধ্যায়

আন্দরকিল্লা ডেক্স \ ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ওয়াশিংটন ডিসি’র অদূরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র। সেখানকার কোল ফিল্ড হাউসে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান। পনেরো হাজার ছাত্র-দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো অপেক্ষায়। মঞ্চের উপরে জোরালো স্পট লাইটের আলোতে দেখা গেলো সাধাসিধে এলোকেশী এক তরুণীকে। হাতের গিটার নিয়ে তিনি শুরু করলেন। হাজারো প্রাণ যখন গানে মাতোয়ারা তখন হঠাৎ তিনি অন্যরকম একটি গান শুরু করলেন। তিনি গাইলেন- ‘হোয়েন দ্যা সান সেটস ইন দ্যা ওয়েস্ট; ডাই এ মিলিয়ন পিপল অব দ্যা বাংলাদেশ।’ মূহুর্তেই যেন শ্রোতারা থেমে গেলো। গানের কথার মতোই বিস্তীর্ণ গ্যালারির দর্শকদের নীরব চোখে-মুখে যেন ভেসে উঠলো সন্ধ্যে বেলায় দুঃখী বাঙলার ছোট্ট ঘরগুলোতে নিভুনিভু করে জ্বলতে থাকা সন্ধ্যেপ্রদীপগুলো। সেই স্বল্প আলোতে সেপ্টেম্বরের বর্ষায় অর্ধপচা সারি সারি লাশের মাঝে দ্বীপের মতো জেগে আছে কিছু অসহায় মানুষ-মৃত্যুর অপেক্ষায়। কেউ হয়তোবা বৃষ্টিতে ঘরে ফেরেনি। কেউ তাকে খুঁজতে বেরিয়েছে অনিশ্চয়তা নিয়ে। কেউ বা রওনা করেছে অজানা গন্তব্যে-বাঙলার সব পথ সেদিন ছিলো এক একটা যশোর রোড।

তারা জানতো এই লাশের কান্নার শব্দ যতদূর যায় সেই সীমানার বাইরের পৃথিবী এসব খবর জানেনা।

অথচ জানানোর কাজটিই করেছেন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী জোয়ান বাইজ (ঔড়ধহ ইধবু – ঢ়ৎড়হড়ঁহপব ষরশব ইধরু). জোয়ানের বিষাদমাখা গানের আবেগের ধোঁয়ায় চোখ ভিজে আসে কারো কারো। বাঙলা থেকে হাজার মাইল দূরের কোল ফিল্ড হাউস

 

ইনডোর স্টেডিয়ামের মার্কিন-বাতাস যেন সাড়ে সাত কোটির চিৎকারে ভারী হয়ে আসে জোয়ানের গানের সূরে।

 

ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জোন যে কনসার্টে করেছিলেন, তা ছিলো বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য একটি চ্যারিটি শো। যারা সেদিন দু”ডলার খরচ করে একেকটি টিকেট কিনেছিলেন তারা জোনের গান শুনে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন আমাদের বাধ্যতামূলক পরিণতি।

 

আমেরিকা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছিল তা ন্যাক্কারজনক। জোন যখন গাইছিলেন ছাত্ররা সব উঠে দাঁড়িয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল একযোগে। পনেরো হাজার দর্শক চিৎকার করে বলছিল ‘এনকোর’ ‘এনকোর’। বিশ্ববিখ্যাত গীতিকার ও সুরকাররা সেই সব গান রচনা ও সূর দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন-বব ডিলন, ক্রিস ক্রিস্টোফারসন এবং জন লেনন। জোন সব সময়ই শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে সূর ধরেছেন। একবার ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করায় জেলও খেটেছিলেন – তিনি বলেছিলেন আমার ট্যাক্সের টাকা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহার চলবেনা। গেয়েছেন ‘Take the ribbons from your hair’, ‘I am sailing; home again’ ,’Cry me a river ‘ অথবা ‘No women no cry’- এর মত বিখ্যাত গান।

দুঃসময়ের বন্ধুদের যেন আমরা ভুলে না যাই।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে