এখন সময়:রাত ৩:৫৮- আজ: শনিবার-১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ৩:৫৮- আজ: শনিবার
১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

চট্টগ্রামে সৃজনশীল বইয়ের দোকান: সোনালি অতীত, বিবর্ণ বর্তমান

আ.ম.ম মামুন

 

মধ্য আশিতে আমি চট্টগ্রাম শহরে আসি,অনেকটা স্থায়ীভাবে, অনার্স পড়ার সূত্রে। নবীন বয়স। নতুন সুখ। হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়া আর ভেসে চলা। ক্লাস,সিনেমা,নাটক শিল্পকলা আর বইয়ের দোকানগুলোতে বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত ঘুরে বেড়াই। আমার প্রিয় নগরী তখনো এতোটা ইটের জঙ্গল হয়ে ওঠেনি। রাস্তার পাশে,সারি সারি ভবনের মধ্যবর্তী তখনো কিছু খালি জায়গা, কিছুটা সবুজ অবশিষ্ট ছিলো। তীব্র যানজটে জান যাবার যোগাড় হয়নি। একটা নিবিড়,পরিচ্ছন্ন শহরের ভেতর একটা স্নিগ্ধ গ্রাম গ্রাম ভাব ছিলো। আর এর মাঝে আমি আমার দুই প্রিয় জায়গা এক – বই-বিপণি, দুই-সিনেমা হলে বুঁদ হয়ে থাকতাম। এই দুই জায়গায় আমি নিজেকে খুঁজে পেতাম নিজের মনের মতো করে। আমার প্রিয় এই দুটি স্থানই নগরীতে আজ  দুর্লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

আজ আমি হারিয়ে যাওয়া এই নগরীর অসম্ভব

সুন্দর সেই সোনালি বই-বিপণিগুলোর কথা বলতে এসেছি। একটা টানা স্মৃতিচারণ। যতটুকু মনে পড়ে, চোখের ভেসে ওঠে ততটুকু। তথ্যগত ভুল অথবা ছেদ পড়লে শুধরে দেবেন, যুক্ত করে দেবেন। তার আগে বলি,হঠাৎ এই অতীতচারিতা কেন? শুনুন।

কিছুদিন আগে ‘চাষা ভূষার কাব্য’ নামে একটা বই উল্টাচ্ছিলাম। বইয়ের ভেতর সিলযুক্ত ‘শুকতারা’ নামটি দেখে খুব নস্টালজিক হয়ে গেলাম। ছোট্ট এক চিলতে একটা লাইব্রেরি ছিলো। জলসা সিনেমা হলের পাশে। শুভ্র পাঞ্জাবি পরা এক ভদ্রলোক বসতেন। বইয়ের সাথে খাতাকলমও সাজিয়ে রাখতেন। নির্মলেন্দু গুণের আরও কিছু কবিতার বই কিনেছিলাম,মনে পড়ে। আজ কেবলই স্মৃতি। শুকতারা’ এখন দূরাকাশের তারা। মর্তে আজ তার কোনো কায়া নেই,ছায়া আছে আমাদের হৃদয়ে। তখনই স্মৃতির দরজায় একে একে টোকা দিতে থাকে এক একটি নাম,এক একটি প্রতিষ্ঠান। তখনই ভাবি,দেখি তো স্মরণশক্তির একটা পরীক্ষা নিই না কেন? চল্লিশের পর তো চালশে আর স্মৃতিচারণে দিন কাটে। আর আমি তো অবসরের দ্বারপ্রান্তে! যা বলছিলাম।

‘শুকতারা’র পাশেই ছিলো আদি ও অকৃত্রিম ‘কােেরন্ট বুক সেন্টার’। তৎকালীন চট্টগ্রামের একমাত্র অভিজাত বইবিপনী। আহ্! কারেন্ট বুক। আহ্!  আমিন চাচা। কালো ফ্রেমের ভারী চশমা পরিহিত রাশভারী মানুষ। মনে পড়ে, একদিন দুপুরে ১৯৮৭/৮৮ সালের কোনো একদিন  স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঢুকে পড়েছিলাম কারেন্ট বুকে। সেই যে ঢুকলাম আর বেরুতে পারলাম কই? এই কারেন্টেই  স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সেরা লেখক সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদের অনেককে প্রথম দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়েছিলাম। এই কারেন্টে কতো বই,কতো লিটল ম্যাগাজিন কিনেছি, পড়েছি হিসেব দেয়া মুশকিল। শাহিন,আমিন চাচার মেজ ছেলে, দুর্লভ সব বই থরে থরে সাজিয়ে রাখতো। শাহিন বাবার অবর্তমানে দোকানটি চালিয়ে আসছিলো, এখন অনেকটা ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সেই জলসা সিনেমা এখন কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। চিরচেনা কারেন্ট নিশ্চিহ্ন। সেখানে  গড়ে উঠেছে বাজারচালু, চোখধাঁধানো মোবাইল সেটের শোরুম। আর শাহিন? ছলনা জানে না বলে আর কোনো ব্যবসা শিখলো না। বর্তমানে ভিআইপি টাওয়ারের দোতলায় ‘কারেন্ট বুক সেন্টার’এর স্মৃতি নিয়ে বইয়ের পসরা সাজিয়েছে। কিন্তু,এখানেই কারেন্টের গল্প শেষ করা যাবে না। চট্টগ্রামের তো বটেই জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতনামা লেখক বুদ্ধিজীবীরা চট্টগ্রাম এলে কারেন্টে একবার ঘুরে যেতেন। সত্তুর,আশি ও নব্বই এর দশকে আবু হেনা মোস্তফা কামাল, প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম,ড.আবদুল করিম,সাহিত্যিক আবুল ফজল, বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ড.আহমদ শরীফ,কবি আল মাহমুদ,হুমায়ূন আহমদ এই কারেন্ট বুক সেন্টারে আনন্দময় সময় কাটাতেন।’ কারেন্ট’কে নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় উপর্যুক্ত ব্যক্তিবর্গ বহু নিবন্ধ লিখেছেন। কারেন্টের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. আমিন তালুকদার ঝালকাঠির মানুষ। ১৯৫১ সালে তরুণ মো.আমিন মুসলিম হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে ‘স্ক্রিন অ্যান্ড কালচার’ নামে একটি দোকানের মাধ্যমে বইবিক্রি শুরু করেন। ১৯৬২ সালে সিডিএ বিল্ডিংএ স্থানান্তর করেন। নাম রাখেন ‘সিডিএ বুক হাউজ’। ১৯৬৭ সালে জলসা সিনেমা হলের নিচে অর্থাৎ জলসা ভবনে ‘কারেন্ট বুক সেন্টার’ নাম দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তারপর ইতিহাস। এই চট্টগ্রামে কারেন্টই সৃজনশীল বইবিপণিতে পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বই ক্রয়বিক্রয় ও শিল্পচর্চার স্বর্ণযুগে কারেন্ট মিমি সুপার মার্কেট তাদের আরও একটি অভিজাত শাখা চালু করে। এই শাখাটি দেশিবিদেশি বই ও ম্যাগাজিন বিক্রিতে এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে,কারেন্টের দেখাদেখি ওই মার্কেটে আরও চার পাঁচটি বইয়ের দোকান চালু হয়। কালের বিবর্তনে সবগুলো এখন কেবলই স্মৃতি। একটি ছোট্ট দোকান এখনো মিমিতে টিকে আছে ‘লাইসিয়াম’। শুনেছি মিমির মালিকের বিশাল আকৃতির পোট্রেট স্থাপনের নির্দিষ্ট ওই জায়গাটিতে এক টুকরো ‘লাইসিয়াম’ গড়ে ওঠে। মধ্য আশি ও নব্বইয়ের শুরুতে আমরা ওখান থকে বেশকিছু বই ও বিদেশি ম্যাগাজিন সংগ্রহ করেছিলাম। ‘লাইসিয়াম’ এখন মূলত কিডস আইটেমের সাথে ইংরেজি বই ও নানা কমিকস নিয়ে  দোকান সাজিয়েছে। নিউমার্কেট। বিপণি-বিতান। আমাদের কালের অভিজাত শপিং মলই নয় শুধু,ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্পসাহিত্য ও রাজনীতির কেন্দ্রস্থল। শহীদ মিনার ঘুরে আমতলা, দারুল ফজল মার্কেট ফেলে কিংবা, লালদিঘি হয়ে কোতোয়ালী মোড় ঘুরে, জিপিও হয়ে কিংবা,সদরঘাট থেকে এসে বা পাশে সিটি কলেজ রেখে কিংবা স্টেশন রোড থেকে  আসা গণমিছিলের সবস্রোত এসে মিশতো নিউমার্কেট মোড়ে। আর আমরা সেই স্রোত এড়িয়ে ঢুকে পড়তাম নিউমার্কেটে। ডায়মন্ডে এককাপ শ্রান্তিহারক চা খেয়ে ঘুরে বেড়াতাম বইয়ের এক একটি  দোকানে। সাত সাতটি বইয়ের দোকান ছিলো নিউমার্কেটে। এই প্রজন্ম  তা ভাবতেও পারবে না।

পশ্চিম দিকে নিচতলায় ছিলো সুসজ্জিত ‘নিউজ ফ্রন্ট’। দৈনিক পূর্বকোণের মালিক ইউসুফ সাহেব জড়িত ছিলেন এর সাথে। সৃজনশীল বইয়ের পাশাপাশি বিদেশি ম্যাগাজিনের জন্য বিখ্যাত ছিলো। এখনো চোখে ভাসছে,পূর্বকোণের প্রথম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন বেরুতো ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’ এর চলতি সংখ্যার। পরদিন ‘নিউজ ফ্রন্টে’ গিয়ে দেখতাম কালারফুল রিডার্স ডাইজেস্ট দেয়ালে ঝুলছে। তাছাড়া ফিল্ম ফেয়ার-সহ আরও কিছু বিদেশি ম্যাগাজিন ওখানে নিয়মিত থাকতো।

মার্কেটের উত্তরে আলকরণের দিকটায় ছিলো ‘উজালা বুক স্টল’। বইয়ের সাথে সাজিয়ে রাখা বিচিত্র ডায়েরি ও শিক্ষাসামগ্রী নজর কাটতো। দেশীয় ও কোলকাতার প্রখ্যাত লেখকদের বই সারিসারি সাজানো থাকতো। দোতলায় ছিলো সবচে’ ‘শিল্পিত’ বইঘর। হালকাপাতলা সফেদ পাঞ্জাবির ভদ্রলোকটির সাথে খুব সখ্য ছিলো। মৃদুকণ্ঠে সাহিত্য নিয়ে আলাপ করতেন। জানাতেন শামসুর রাহমান,আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, এখলাস উদ্দীন,পূর্ণেন্দু পত্রীর প্রথম দিককার বইগুলোর প্রকাশক এই বইঘর। আমি এখান থেকেই শামসুর রাহমানের ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’,আল মাহমুদের ‘লোক লোকান্তর’ সৈয়দ শামসুল হকের ‘ বেজান শহরের জন্য কোরাস’, আ.ন,ম. গোলাম মোস্তার ‘অন্তরঙ্গ আলোকে’ সংগ্রহ করি। ১৯৬০ সালের দিকে সৈয়দ মোহাম্মদ শফি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বইঘর’ প্রকাশিত বইগুলো দেশে তো বটেই কোলকাতায়ও সাড়া ফেলতো। ‘ বইঘর’ এখন নিশ্চিহ্ন। ওখানে গড়ে উঠেছে স্বর্ণের দোকান। একটু সামনে গেলে বামে গুলিস্তান, ডানে বুক অরবিট। এখনো স্পষ্ট মনে করে উঠি,’বুক অরবিট’ চালু হলে ওই সপ্তাহে কিনেছিলাম মারজুরি সাইকস এর ‘রবীন্দ্রনাথ’ বইটি। ‘গুলিস্তান’ থেকে কিনতাম রেফারেন্স বুক। মনে আছে শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের ওপর ড. নীলিমা ইব্রাহীমের একটি রেফারেন্স বই কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গুলিস্তানেই মিলেছিলো। আর একটু এগিয়ে গেলে ছিলো মনীষা। খুব সম্ভব তারা রাশিয়ান বইয়ের এজেন্ট ছিলো। এখান থেকে কিনেছিলাম ‘আন্না কারিনিনা’র বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন। ‘পুনরুজ্জীবন’,’মা’,’পৃথিবীর পথে’,’ইস্পাত’-সহ আরও কিছু বই। চারতলায়ও ছিলো ছোট্ট একটি দোকান। নিউ বুক সেন্টার। ওখান থেকে কিনেছিলাম তৎকালীন সদ্যপ্রকাশিত হেলাল হাফিজের বিস্ফোরক কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’-সহ কিছু কবিতার বই। আমাদের সেই জমজমাট নিউমার্কেট এখন সবদিক দিয়েই জৌলুশ হারানো এক হতশ্রী শপিং মল।

নিউ মার্কেটের উত্তর দিকে দোস্ত বিল্ডিং এর পাশে বহু পরে প্রমা নামে একটা সুন্দর লাইব্রেরি চালু হয়েছিলো। অধ্যাপকদের আড্ডা বসতো ওখানটায়। অধুনা বিলুপ্ত।’প্রমা’র আয়োজকরা এখন হয়তো প্রমাপ্রসঙ্গে প্রমাদ গুণছেন। জিপিও’র বিপরীতে আলকরণ মসজিদ ঘেঁষে ছোট্ট একটি দোকানও ছিলো বুক সেলার নামে। সিঁড়ি ডিঙিয়ে প্রায়ান্ধকার ছোট্ট সেই দোকানটিতে একজন বয়স্ক লোক বসতেন,মনে পড়ে। তার সাজানো বইগুলো ঝাপসা আলোয় জোনাকপোকার মতো জ্বলতো।

এখন অস্তিত্বহীন।

 

মিউনিসিপাল হাইস্কুল ফেলে সামনে গেলে জহুর হকার মার্কেটে ঢুকতে বাম পাশে ছিলো কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি’। মনে পড়ে পাশে ছিলো,সিগনেট প্রেস ও দৈনিক পূর্বকোণ’ অফিস। এক ঢিলে দুই পাখি মারতাম। পূর্বকোণের কাজ সেরে বুক সোসাইটিতে গিয়ে বই দেখতাম। বেশ কিছু ভালো প্রকাশনা ছিলো তাদের। এখন লাপাত্তা।

আমদানিকৃত পুরনো জামাকাপড়ের ধুলোবালিতে সেই বুক সোসাইটি এখন বিলুপ্ত,নিশ্চিহ্ন।

 

আমাদের সময় নূপুর-মেলোডি সিনেমা হল দুটি ছিলো বেশ জমজমাট।আমরা নূপুরে গেলে ঢু মারতাম অন্য একটি স্থানে। ‘অমর’ বই ঘরে। আমাদের বেকার দিনগুলোতে এই দোকানটি ছিলো স্বপ্নের মতো। কতো কতো দুর্লভ বই সংগ্রহ করেছি এখান থেকে, ভাবতেই আনন্দে উজ্জীবিত হই। এমনো দিন গেছে,পকেটে আছে ১০ টাকা। কিন্তু বই পছন্দ করে বসে আছি ডজন খানেক।বিমর্ষ চেহারা দেখে মালিক ভদ্রলোক বুঝে যেতেন। সস্নেহে কাছে ডেকে জিগ্যেস করতেন,কতো আছে? জবাব শুনে বলতেন,’অসুবিধা নাই।’ তারপর সবগুলো বই বেঁধে টোকেন মানি নিয়ে টেবিলের নিচে রেখে দিয়ে বলতেন,’আগামী সপ্তাহে পরিশোধ করে নিয়ে যেও।’ এমনো বহু দিন গেছে,বই কিনে আর টাকা নেই।পাঁচ টাকা ধার নিয়ে বাসায় ফিরতাম কখনো বা পায়ে হেঁটে।

ছোট্ট একটা বইয়ের দোকান ছিলো ‘বিবরণী’ নামে,মনে পড়ে।’মাসুদ রানা’ ‘বনহুর’ সিরিজের বইগুলো ধার দিতো। পাঠকেরা পড়ে ফেরত দিয়ে পরবর্তী সংখ্যা নিয়ে যেতো। এর বাইরেও শিল্পসাহিত্যের কিছু বই সাজানো থাকতো সিনে ম্যাগাজিনের সাথে। এখন নূপুর মার্কেটের বিশাল এলাকাজুড়ে পঞ্চাশের অধিক পুরনো বইয়ের দোকান গড়ে উঠেছে। স্কুল কলেজ ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তাদের টেক্সট ও রেফারেন্স বইগুলো সুলভ মূল্যে সংগ্রহ করতে পারে। পাশাপাশি শিল্পসাহিত্যের কিছু দুর্লভ বইয়ের সন্ধান আজও এখানে মেলে।

রেলওয়ে স্টেশন ছিলো আমাদের ভার্সিটি আশাযাওয়ার নিত্য স্থান। শাটল থেকে নেমে বা ওঠার আগে কিছু সময় কাটাতাম স্টেশনে থাকা দুটি বইয়ের দোকানে। একটির নাম কি ‘চলন্তিকা’ ছিলো? ঠিক মনে পড়ছে না।তবে বেশ ভালো কালেকশন ছিলো। দোকান দুটি আজও আছে।তবে চরিত্র পাল্টেছে। ‘বারোয়ারি মালে’ ঠাসা। দু’একটা বই আছে বটে। খোঁজ নিতে গেলে আগে জানতে চায় নিবো কি না? নতুবা সময় নষ্ট করার মানে হয় না। বড়ো বেশি অসহিষ্ণু সেলসম্যান। স্টেশনের বিপরীতে হোটেল ড্রিমের নিচে বড়ো আয়োজন করে অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলো, পিপলস বুক এজেন্সি’। তারপর কোথায় হারিয়ে গেলো!

 

স্টেশন রোডের ওই সারিতে সৃজনী নামে একটা বইয়ের দোকান ছিলো। সমমনাদের আড্ডা হোতো সেখানে। ওটাও এখন কেবলই স্মৃতি।

আন্দরকিল্লা’ চট্টগ্রামের ‘নলেজ কর্নার’ খ্যাত। সারি সারি বাংলা ইংরেজি আরবি বইয়ের দোকান। কিন্তু আমাদের মন পড়ে থাকতো ‘তাজ’ লাইব্রেরিতে। ঐতিহ্যবাহী একটি লাইব্রেরি।দুর্লভ বই-সহ সর্বশেষ প্রকাশিত বইয়ের খোঁজ মিলতো এখানে। মইন নামের সুদর্শন সমবয়সী ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো। ঘণ্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতাম।সেই তাজ এখন ‘তাজ সায়েন্টিফিক নামে মসুর। মইন এখনো আছে,দেখা হলে মলিন মুখে হাত বাড়িয়ে দিয়ে স্মৃতিচারণ করে। মসজিদ মার্কেটে ছিলো সুপ্রিম লাইব্রেরি। প্রচুর কালেকশন। বাংলা সাহিত্যের বহু প্রাচীন প্রকাশনী কিনেছিলাম। সুপ্রিম এখনো আছে,তবে পাঠ্য আর নোট বুকে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছে।’ পাঠক বন্ধু’ দু’টুকরা হয়েছে। দি পাঠক ‘ নামে। দুটোতেই টেক্সট আর নোট বই।

আমরা মোমিন রোডে যেতাম মূলত  কথাকলিতে যাবার জন্য। আমাদের সময়ের জনপ্রিয় সৃজনশীল বইয়ের দোকান। ড.মহবুবল হক স্যার আর ‘কথাকলি’ প্রায় সমার্থক ছিলো। তপন নামের সেলসম্যান ভাইটির সাথে খুব বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো।।’কথাকলি’ নামটি যেমন ছিলো আধুনিক, স্মার্ট তেমনি ছিলো সমসাময়িক লেখকপাঠকের মিলনস্থলও। বিভিন্ন সংগঠনের ভর্তি ফরম, নানা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার নানা ফরম, চারিটি শো’ ও শিল্পকলার নাটকের টিকিট-সহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিলো কথাকলি। শুনেছি, বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক মাহবুবুল হক স্যার তাঁর দোকানটি উদ্বোধন করিয়েছিলেন অধ্যাপনা শিল্পের বরপুত্র কবি ও কথক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে দিয়ে। এটাও তখনকার দিনে অভিনব ও আলোচিত ঘটনার একটা  ছিলো। বইয়ের দোকানগুলো যখন দিন দিন ক্রেতা ও পাঠকশূন্য হয়ে আসছিলো তখন ‘কথাকলি’ও নিজেকে গুটিয়ে নিলো। মনে আছে,ব্যবসা বদলের ঘোষণা দিয়ে মাহবুব স্যার যখন বইশূন্য করছিলেন, তখনো প্রায় ১০টা বই কিনে এনেছিলাম। ‘কথাকলি’ পার হতে গেলে এখনো  অভ্যাসবশত চোখ চলে যায়। আর তখনই আহত হয়ে দেখি াঁচের ভেতর শোভা পাচ্ছে নানা রঙ ডিজাইনের রেডিমেড স্ট্যাম্প ও ক্রেস্ট। চেরাগির মোড়ে একটু ভেতরে  নন্দন  নামের দোকানটিতেও বেশ ভালো কালেকশন ছিলো।বর্তমানে এটি আরো সংকুচিত হয়েছে। তবে একটি নতুন শাখা খুলেছে দোস্ত বিল্ডিং এর পাশে।

চেরাগির ওই মোড়ে,জামালখানে বেশ আয়োজন করে যাত্রা শুরু করেছিলো প্রথমা-বইয়ের দুনিয়া। প্রথমার নিজস্ব প্রকাশনী ছাড়াও দেশিবিদেশি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের বিপুল আয়োজন ছিলো। ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অনুজপ্রতীম সোহেলের সাথে বেশ সখ্য হয়ে গিয়েছিলো। একদিন শুনলাম দোকান গুটিয়ে তারা চলে যাবে। এবং গেলোও।

 

যাবার আগে সোহেল জানিয়েছিলো জিইসি কিংবা সুবিধাজনক কোনো একটি জায়গায় তারা নতুন করে শোরুম ও বিক্রয়কেন্দ্র খুলবে,অনেকটা বাতিঘরের আদলে। তাদের প্রকাশনার বিপুল আয়োজন ও সামর্থের কথা ভেবে খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সেই অপেক্ষা উপেক্ষায় পর্যবসিত হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে দিনকে দিন প্রথমা বইপ্রকাশনা ও বিপননে তার জৌলুসই হারাতে বসেছে।

প্রথমা’র পাশে একই ভবনে আরো একটি সমৃদ্ধ বইয়ের দোকান ছিলো গ্রন্থনীলয়’ নামে। রাশভারী সৌম্যকান্তির এক ভদ্রলোক- সুভাষ দে ছিলেন স্বত্তাধিকারী। দেশি-বিদেশি বহু বইয়ের সংগ্রহ ছিলো দেকানটিতে। বেশ কয়েকবার ওখান থেকে বই কিনেছি। জামালখান আলোকিত করে রখেছে বাতিঘর। ২০০৫ সালে চেরাগীর মোড়ে ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাতিঘর। স্বত্ত্বাধিকারী বন্ধুপ্রতীম দীপঙ্কর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কর্ণধার আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়েছিলো। পাঠকের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের যোগান দেয়া এবং সৃজনশীল কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ‘বাতিঘর’ অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় স্থাপন করতে সক্ষম হয়। পাঠকচাহিদার জোগান দিতে হিমশিম খাওয়া কর্তৃপক্ষ চেরাগি মোড় ছেড়ে প্রেসক্লাব ভবনের নিচ তলায় বিশাল জায়গাজুড়ে স্থাপন করে।বাতিঘর শুধু বই বিক্রিতে নিজেকে সীমিত রাখেনি। বন্দরনগরীর ঐতিহ্যকে ধারণ করে শিল্পী শাহীনুর রহমান বাতিঘরকে সাজিয়েছেন শৈল্পিক ছোঁয়ায়। বাতিঘর আজ বইকেনা,বইপড়া,লেখকপাঠকের সম্মিলন সাথে কফি পানসমেত আড্ডা দেয়া, সব মিলিয়ে লেখকপাঠকক্রেতা আর দর্শনার্থীর মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চারটি বিভাগীয় শহরে আজ বাতিঘরের দৃষ্টিনন্দন আউটলেট রয়েছে।

ডিসি হিল। পাহাড় আর বৃক্ষছায়ায় ঘেরা এটি চট্টগ্রামের এক অনিন্দ্যসুন্দর জায়গা। এর সৌন্দর্যকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলো পশ্চিম দিকে ফুলকি’র সারিতে গড়ে ওঠা ‘ডিরোজিও’ নামের একটি আধুনিক বইয়ের দোকান। লেখকসাংবাদিক ও পাঠকদের আনাগোনাও ছিলো আশাব্যঞ্জক। কিন্তু,কিছু দিন না-যেতেই গুটিয়ে গেলো সম্ভাবনাময় দোকানটি। ডিরোজিওর পাশে ছিলো পারিজাত’ নামের একটি দোকান। সংগীতসামগ্রী আর কিছু সৃজনশীল বই বড়ো যত্ন করে সাজানো ছিলো। এখন ওখানে স্থাপিত হয়েছে ফাস্ট ফুডের দোকান- দোসা ডিসি হিল ফেলে নন্দন কাননের দিকে এগোলে পুরনো গ্র্যান্ড হোটেল এর পাশে গলির মুখেও এক চিলতে জায়গায় একটি ছোট্ট বইয়ের দোকান ছিলো। সাহিত্যের রেফারেন্স বইয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা সিরিজের বই ভাড়া দিতেন। এখন ওখানে গ্র্যান্ডও নেই,এক চিলতে দোকানটিও নেই। আছে আকাশছোঁয়া সব বাণিজ্যিক ভবন।

ওয়াসার বিপরীত দিকে ইউপিএল- ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড এর একটা শোরুম ও বিক্রয়কেন্দ্র ছিলো দীর্ঘদিন। মাঝে মাঝে যেতাম। আলাপ হোতো। কিছু বইও কিনেছিলাম। পরবর্তীকালে তারা স্থানান্তরিত হয়ে আন্দরকিল্লা মসজিদ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় চলে গেলো। বর্তমানে তাদের আরও একটি শাখা চালু হয়েছে জামালখান, চেরাগির মোড়ে স্যানমার টাওয়ারের নিচে।ইউপিএল প্রকাশনায় তাদের ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনা ও তদারকির মাধ্যমে তাঁরা বই প্রকাশ ও বিপণন করেন,ফলে তাদের গুণগত মান এখনো অক্ষুণ্ন আছে। মসজিদ মার্কেট শাখার ব্যবস্থাপক রাজু,খুবই সজ্জন,সদালাপী। শুরুতে ‘প্রথমা’তে থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে ইউপিএল-এ আছেন। মাঝে মাঝে ওর কাছে যাই,গল্প করি। পছন্দের বই নিয়ে ফিরে আসি। ধীরে ধীরে এই জায়গাগুলো শূন্যের কোটায় নেমে আসছে,আফসোস।

ওয়াসা পেরিয়ে লালখানবাজারের দিকে ওয়ার্ল্ড বুক সেন্টার নামে একটা বড়োসড়ো দোকান ছিলো। ঢাকার মানুষ গোলাম আলী সাহেব ছিলেন এর স্বত্বাধিকারী। ইংরেজি বইয়ের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের বেশ কিছু বই সাজানো থাকতো। মনে পড়ছে, সত্যেন্দ্রনাথ  ও মধুসূদন এই দুই দত্তের দুটি আলাদা রচনাসমগ্র কিনেছিলাম। আজ তার কোনো চিহ্নই নেই।

আগ্রাবাদ জেক্স মার্কেটেও একটি সুন্দর বইয়ের দোকান ছিলো। সাউথ ল্যান্ড মার্কেটের মালিকপক্ষও শখ করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে, খুব সম্ভব,সাউথ ল্যান্ড’ নামে একটি দোকান চালু করেছিলেন। বছর দুয়েক পরে তারা রণে ভঙ্গ দেন।

জিইসির দিকে হোটেল পেনিনসুলার পাশে কয়েক বছর আগে থেকে, বেশ বড়োসড়ো একটা আউটলেট খুলেছে ‘অমর বইঘর। পুরনো ও নতুন বইয়ের বেশ ভালো আয়োজন রয়েছে। তাদের আরও একটা শাখা রয়েছে চকবাজার। আদি অমর বই ঘরের মালিক আবুল হোসেন সাহেব দেশ স্বাধীনের আগে স্টেশন রোডে ফুটপাতে শুরু করেছিলো। স্বাধীনতার পর স্টেশন রোডে দোকান নেন। তারপর ইতিহাস। বর্তমানে তাঁর ছেলে মো. শাহজাহান বসেন জিইসি শাখায়। জিইসি সেন্ট্রাল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় একটা দোকান-বুক ল্যন্ড দীর্ঘদিন থেকে টিকে আছে সৃজনশীল, পাঠ্যবই, রেফারেন্স বুক ও শিক্ষাসামগ্রীর মিশেল নিয়ে। মার্কেটের পূর্বভাগে আরও একটি দোকান- কে ওয়ার্ল্ড বেশ আয়োজন করে শুরু করেছিলো।বেশিদিন টিকেনি। এখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে গুলজার টাওয়ারে একটা শাখা খুলেছিলো। মনে আছে, সৈয়দ হকের আলোচিত ও সমালোচিত উপন্যাস ‘খেলারাম খেলে যা’র ইংরেজি অনুবাদ- Keep it up,Kill Roy কিনেছিলাম। এখন সেখানে রেডিমেড গার্মেন্টস বিক্রি হয়। গুলজার টাওয়ারের  দক্ষিণ পাশে রাস্তা পার হলে নতুন পুরনো বইয়ের বেশ কিছু বইয়ের দোকান গড়ে উঠেছে মার্কেটটিতে। প্রায় ওখানে ঢু মারি। মাঝে মাঝে কিছু দুর্লভ বইয়ের খোঁজ মেলে। খসড়া, জননী, বইবিতান, চাঁদের হাট-সহ বেশ কিছু দোকান রয়েছে। দোকানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। গুলজার টাওয়ারের বিপরীতে শাহেনশাহ মার্কেটে বই, কম্পিউটার ও শিক্ষাসমগ্রীর বেশ কিছু দোকান রয়েছে। এরমাঝে ‘অজন্তা’ ও ‘গ্রন্থকমল’ নামের দোকান দুটিতে সৃজনশীল বইয়ের বিপুল সংগ্রহ ছিলো। আল মাহমুদ, রফিক আজাদ, মহাদেব সাহার  শুরুর দিকের

 

বেশ কিছু কবিতার বই কিনেছিলাম। এখন সেই সুনাম ও জৌলুস কমে আসলেও স্বস্তি খবর,এখনো টিকে আছে।

এই অসম্ভব সুন্দর দোকানগুলোতে আমার ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিলো যে সকল বন্ধু,তাদের অনেকেই জীবন ও জীবিকার টানে এ শহর ছেড়েছে বহু আগে। আমার বিশ্বাস,এ লেখা যদি তাদের চোখে পড়ে নিশ্চয়ই তারা হাহাকার করে উঠবে। এই ভেবে বিচলিত ও দুঃখিত হবে যে,তাদের একদার এই স্বপ্নের শহরটি এখন সৃজনশীল বইয়ের দোকানশূন্য। এখানে পথের ধারে সারি সারি ফাস্ট ফুডের দোকান আছে,কয়েক মিটার দূরে দূরে আকাশ ছোঁয়া ভবন আছে, চোখধাঁধানো শপিংমল আছে,নেই শুধু বইয়ের দোকান।

এই বই এর দোকান নিয়ে জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক,জ্ঞানতাপস বলে যিনি খ্যাত,একবার তাঁর শিষ্য আহমদ ছফাকে বলেছিলেন,- একটা কথা খেয়াল রাখন খুব দরকার। যখন কোনো নতুন জায়গায় যাইবেন,দুইটা বিষয় পয়লা জানার চেষ্টা করবেন। ওই জায়গার মানুষ কী খায়। আর পড়ালেখা কী করে। কাঁচাবাজারে যাইবেন,কী খায় এইডা দেখনের লাইগ্যা। আর বইয়ের দোকানে যাইবেন পড়াশুনা কী করে হেইডা দেখনের লাইগ্যা। আমি একবার তুরস্কের বইয়ের দোকানে যাইয়া দেখলাম,বামপন্থী বই আর ধর্মীয় বইপত্র সব দোকানে সাজাইয়া রাখছে। বইয়ের দোকান পরখ করলেই বেবাক সমাজটা কোনদিকে যাইতাছে,হেইডা টের পাওন যায়। আরেকবার কায়রো গিয়া দেখলাম,নীলনদের পাড়ে মজুরশ্রেণির মানুষেরা বড় বড় গামলা ভরতি কইর‌্যা বরবটি জাতীয় ভেজিট্যাবল আরাম কইরা খাইতাছে। মোটাসোটা মানুষ খাওনের পরিমাণটাও তেমন। কী খায়,কী পড়ে এই দুইডা না জানলে একটা জাতির কোনো কিছু জানন যায় না।” (যদ্যপি আমার গুরু,পৃ.২২)

এখন আমার প্রশ্ন,বাইরের কোনো মানুষ যদি আমাদের শহরে এসে যদি কোনো বইয়ের দোকান না দেখে কিংবা যে কয়টি দোকান রয়েছে তার মধ্যে সারি সারি গাইড বইয়ের স্তূপ, তাহলে বাঙালি জাতি সম্পর্কে তারা কী ভাববে?

 

আ.ম.ম মামুন, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, হাটহাজারি সরকারি কলেজ

আলোকচিত্রশিল্পী রঘু রাই: ক্যামেরার ভেতর দিয়ে একাত্তরের রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষ্য

শাহেদ কায়েস বিশ্বখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রশিল্পী রঘু রাই আর আমাদের মাঝে নেই। ৮৫ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তের পথে। কিন্তু তাঁর কাজ বেঁচে থাকবে আমাদের

লেখালেখি করে কয় টাকা পাও?

মাহফুজা অনন্যা   “লেখালেখি করে কয় টাকা পাও”? এরকম প্রশ্ন লেখক কবির জন্য নতুন নয়! সেদিন আমার এক শিক্ষিত বন্ধুও আমাকে একইভাবে প্রশ্ন করেছিল খুব

মায়ের কোলে শেষ আশ্রয়

প্রজ্ঞাজ্যোতি ভিক্ষু   ‘মা’ আমার — এক অবিরাম ভালোবাসার গল্প মা—এই ছোট্ট শব্দটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক বিশাল পৃথিবী, অফুরন্ত ভালোবাসা আর অসীম ত্যাগের গল্প।

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দুই বিভাগে বৈশাখী উৎসব উদযাপিত

পাবলিক হেলথ বিভাগ: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে পাবলিক হেলথ বিভাগের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী ও পিঠা উৎসব-১৪৩৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল ৩টায়

লিমন- বৃষ্টি : পরকালের শান্তি যেন তোমাদেরকে আলিঙ্গন করে

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয় একক হৃদস্পন্দন দিয়ে কান্না করেছে বাংলাদেশি মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর জন্য । এ যেন এক বিরল ঘটনা । বিশ্বের এমন