আলোর মিছিল
আলোর মিছিল দেখবে বলে
আঁধারে হেঁটেছে মানুষ বহুদূর
জানি,
প্রথম যে আগুনের ছোঁয়া সেও ছিল—
ক্ষুদ্র এক আলোক কণার পরশ
প্রথম যে উচ্চারণ, সেও ছিল—
আমাদের অস্পষ্ট স্বরের কম্পন
প্রথম যে রঙের আঁচড়— চিত্রকলা, সেও ছিল—
আমাদের কাঁপা হাতে আঁকা কোনো এক গুহাচিত্র
এসো সভ্যতার পথে,
আজো আঁকি—
অভ্যস্ত হাতে নকশা, বধ্যভূমি, লাখো শহীদের অবয়ব
আর, দু’হাতে সরাই
পথের সমূহ কাঁটা— প্রতিহিংসা
দ্বেষ-বিদ্বেষের কুৎসিত সব অবয়ব
ভাবি,
এই যে দৃশ্যমান আলো
কতদূর গেলে পরে আঁধার হবে,
আর আঁধার কতটা গভীরতা পেলে
অজস্র আলোর মিছিল হবে
এসো— প্রদীপ জ্বালাই
অসংখ্য ক্ষুদ্র আলোর— অবিরাম সংলাপে
এসো— আলো-আঁধারের দূরত্ব মাপতে মাপতে
নিজের ভেতর
কোনো এক আলোক কণা—
সূর্যের মুখোমুখি হই
এসো অন্ধকার পোড়াই
দৃশ্যত অদূরে থেমে আছে পথ
একটি উত্থিত তর্জনী-রেখায়—
আমরা পথিক পথ হয়ে
শুয়ে আছি সমগ্র মানচিত্রে
ভাবি,
ওরা কারা? পথে পথে পোড়াচ্ছে সময়—
সমূহ স্মৃতি-স্বাক্ষর— সব আয়োজন
ভাবি,
যদি অন্ধকার পোড়ানো যেত—
মন্দ কী হতো!
তবে এসো আলোর সন্ধানে—
আরো কিছুকাল নাহয় অন্ধকার পোড়াই
একই মুখোশে বিমূর্ত প্রতীক
সূর্যের আলোয় কিংবা আঁধারে
কোনো বিভাজনরেখা আজ স্পষ্ট নয়
তবু দিন গড়িয়ে যায় রাতের অচেনা স্বরে
সকাল বিকেল সব একাকার করে
চেনা রঙে বিস্মৃতির ধূসর আলপনায় ছড়িয়ে পড়ি—
যেখানে আনন্দ আর বিষাদ
একই মুখোশে বিমূর্ত প্রতীক— পাশাপাশি
আলোতে আঁধার
অতৃপ্ত বিরহে বেদনাচুম্বন
হিসেবে মেলে না সখী অলৌকিক বিশ্বাসে
এসো তবে অতলেই ডুবে যাই
ঘুরছি সময়চক্রে একই বৃত্তে— অবিরাম— অনিশ্চিত
দাঁড়িয়ে থাকি
পথে ঘাটে অন্ধকারে— গলির মুখে
তবুও হিসাব মিলে না
সোজা কিংবা বাঁকা
সব পথ এক ও অভিন্ন ঠেকে—
যেন প্রতিটি গন্তব্য আজ
একই অদৃশ্যে শূন্যতায় ধাবমান
পৃথিবী যখন হিরোশিমা নাগাসাকি
একদিন পৃথিবী হিরোশিমা নাগাসাকি হলে—
জীবনের সব গল্প, মাটি ও মানুষের সংসার
পাখিদের সব গান—
একটি স্থির বিন্দুতে
লাল রঙ রোদের সূর্য হয়ে জ্বলবে
সেদিন
পৃথিবীর সব নদী ঢেউয়ের স্মৃতি ভুলে
শুয়ে রবে মৃত লাশ— বেওয়ারিশ
আর শিশুরা খেলতো যে মাঠে—
ডাংগুলি, গোল্লাছুট হাডুডু
সেখানে পড়বে ছায়া—দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর—
পুড়ে যাওয়া সময় আর অস্তগামী সূর্যের
একদিন পৃথিবী হিরোশিমা নাগাসাকি হলে—
পুড়বে সবই—
পৃথিবীর সৃষ্টিকাল
সমুদ্রের প্রেম
নদীর বুনন
আকাশের দগদগে স্মৃতির গঙ্গায়
কেউ আর ভাসাবে না সখের পানসি নাও
তখন একটি প্রশ্ন হয়তোবা ইথারে ধ্বনিত হবে—
মানুষ ছিল কী সত্যি— পৃথিবীর আপন সন্তান?




