রফিকুর রশীদ
মাঠের চাষাকে বৈশাখ চেনাবে কে?
নেকাব্বর আলী আপদমস্তক মেঠো চাষি। মাঠে মাঠে চাষ করে, তাই তাকে চাষি বলাই ঠিক। বাংলাদেশের সবুজ শ্যামল মাঠের মতো নরম মন। মৃত মায়ের জন্য কাঁদে। রাতদুপুরে ঘুম ভেঙে যাবার পর নিজের ছেলেমেয়েদের বিছানা হাতড়ে বেড়ায়। আপন আপন বিছানায় যদি তাদের ঠিকঠাক পাওয়া যায় তারপর খুঁজে বেড়ায় গর্ভধারিণী মাকে। কোথায় মায়ের বিছানা? গোরস্থানে তাকে ঘুম পাড়িয়ে আসার পর এ বাড়িতে তার বিছানাটি বেশ কিছুদিন শূন্য পড়ে থেকেছে। পরে সেই বিছানার দখল নিয়েছে নেকাব্বরের দুই মেয়ে রোমেলা আর কমেলা। বিছানার দখল নিয়ে দুই বোনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে এমন নয়। বরং ঘটনা হয়েছে উল্টো। তিন ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাদির গা-ন্যাওটা ছিল যে রমেলা দাদির মৃত্যুর পর সেই রোমেলা কিছুতেই শূন্য বিছানায় যেতে চায় না। তাহলে ছোটবোন কমেলাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমাও। না, কমেলার আবার সাংঘাতিক গা ছমছম করে, চোখের পর্দা থেকে দাদির ছবি সরাতে পারে না। বেঁচে থাকাকালে কমেলাকে দুই হাতে ঠেলে সরিয়ে রমেলাকে বুকে টেনেছে যে দাদি, সেই মানুষটি যদি এখন মনের খেয়ালে কমেলার গলা জাপটে ধরে! না, কমেলা সইতে পারবে না। দাদির বিছানা নিয়ে রোমেলা-কমেলার ঠেলাঠেলি আর ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে বিছানাটা ওদের একমাত্র বড় ভাই ইনসান আলীর দখলে চলে যাবার উপক্রম হয়। উত্তরাধিকারসূত্রে এটা তারই প্রাপ্য বটে, কিন্তু কী এক দুর্বোধ্য কারণে দাদির সাংঘাতিক আপত্তি ছিল। কেন, আপত্তি কিসের? না সে ফাঁড়া কিছুতেই ভাঙবে না। মুখে বলবে না কিছুই।
এই বিছানাটার একটুখানি ইতিহাস আছে। বিছানার তলে যে তক্তপোষ আছে সেটার মাথার দিকে একটুখানি পালঙ্ক মতো উঁচু করা আছে এবং ময়ূরের লেজের মতো ছবি খোদাই করা আছে কাঠের উপরে। তা খাট-পালঙ্ক যা-ই হোক চার পুরুষ ধরে ঘুরতে ঘুরতে সেটা নেকাব্বরের হাতে এলে সেই বিছানায় নিজে না শুয়ে মাকে দিয়েছিল শুতে। এ সবই তার মায়ের জানা। তারপরে এ বিছানা যাবে ইনসানের দখলে সেটাই স্বাভাবিক এবং সর্বজনবিদিত। আপত্তি শুধু একজনের, নেকাব্বরের মায়ের। একবার নেকাব্বর খুব ভালো করে চেপে ধরে মাকে,
ইনসানের কী দোষ সিডা বুলবা তো?
অনেক অনুনয় অনুরোধের পর বৃদ্ধা মুখ খুলে যা জানায় তা বড়ই হাস্যকর এবং চমকপ্রদক। মা বলে,
ও হলু গিয়ি বৈশিখ মাসের জ্বিন। উর উপরে কুনু বিশ্বাস নি।
নেকাব্বর মনে করিয়ে দেয়,
জ্বিন নয় মা, আমার ছেইলের নাম ইনসান আলী।
ওই হইলু যা। বৈশিখ মাসের পয়লা তারিখে ওর জন্ম। সে কী ঝড়ঝাপটা সেদিন! সে কী বাজ পড়া! ম্যাগ চমকানির বাহার কত! জ্বিনের আছর না তো কী বোল দিনি!
নেকাব্বর হা হা করে প্রাণখোলা হাসি ছড়িয়ে বলে,
জ্বিনের আছর নয় মা, তুমার ওপরে ইনসানের আছর হয়িছে। আমার ইনসান আলীকে তুমি যে কত ভালোবাসো সিডা বেশ বুঝাই যাচ্ছে।
না, নেকাব্বর যেভাবেই বুঝাক, বুড়ি কিছুতেই মানতে রাজি নয়। তার সোজা কথা —
না রে বাপ, তোর জ্বিন-ইনসানকে আমার এই বিছিনের ভাগ আমি দেব না।
তা হলি কাকে দিবা মা?
ক্যানে রোমেলাকে।
এ উত্তর যেন তার জিভের ডগায় গুছানোই ছিল। নিজের বাম পাশে পানের পিক ফেলে সে আরো ব্যাখ্যা শোনায়,
মেয়ি-মাটি হচ্ছে ঠাণ্ডা পাথর বাটি, বুকের কাছে থাকলি জানডা জুড়ায়।
সুযোগ পেয়ে নেকাব্বর তার মাকে আরো খোঁচায়,
আচ্ছা মা, কমেলা কি তোমার শত্তুর! কই ওর কথা তো মুখি আনো না!
ওমা, তা হবে ক্যানে! ও দেখতি সুন্দর, তুমরা সবাই ওকে নিয়ি নাচানাচি করো। তাইতে আমি রোমেলাকেই কাছে টানি।
এতদিন পর এই ব্যাখ্যা শুনে নেকাব্বর আবার হা হা করে হাসে। হাসি শুনে তার বৃদ্ধা মা আবারও একটু কৃত্রিম ফুঁসে ওঠে,
এই দ্যাখো— তুমাদের আশকারা পায়িই তো ছোট ছুঁড়ির দ্যামাগ হয়িচে। গরবে তার মাটিতে পা পড়ে না।
এ অভিযোগ শুনে কমেলা এসে দাদির গলা জড়িয়ে ধরে। ভাব জমাতে চায়। দাদি দুর্বল হাতে নাতনির হাতের বাঁধন আলগা করতে করতে বলে,
অতো ঠ্যাকার করিস নি দিনি। যা।
এভাবেই সেদিনের খুনসুটি পর্ব শেষ হয়। হা হা করে হাসতে হাসতে নেকাব্বর নিজের স্ত্রীকে ডেকে বলে,
এই দ্যাখো ইনসানের মা, দুই সখির কী রকম ভাব হয়িচে দ্যাখো।
দুই.
নেকাব্বর আলী মানুষটাই এইরকম নরম কাদামাটির মতো। কিন্তু কোনো কারণে রাগলে রুক্ষচাষা। বৈশাখের গনগনে রোদ ধাঁ করে মাথার চাঁদিতে উঠে যায়। হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তখন স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশও ভুল হয়ে যায়। অনর্গল খিস্তি-খেউর মোটেই বাধে না মুখে। বড় মেয়ে রোমেলার বিয়ে হয়েছে দু’-তিন গ্রাম পরের গ্রাম কাঁঠালগাছিতে। জামাই বাবাজি আশপাশের হাটে হাটে কাপড়ের ব্যবসা করে। বিয়ের সময় স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে, ছোটলোকের মতো দাবি-দাওয়ার কথা কিছুই তোলেনি। কনেপক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে অবতারণার চেষ্টা করা হলে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলে দাঁতে জিভ কেটে একেবারে নাকচ করে দিয়েছে। অথচ ওয়েল্ডিং এর কাজ শিখে ইনসান
আলী সৌদি আরবে গিয়ে দু’ মাস পরে বাপের নামে টাকা পাঠিয়েছে শুনেই রোমেলার স্বামী ইবাদত আলী খোলস বদলে অন্য মানুষ হয়ে যায়। বাইসাইকেলে আর পোষাচ্ছে না তাঁর, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বার্থেই নাকি মোটরসাইকেল প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বেশ তো প্রয়োজন যখন জরুরি, তো বাপের টাকায় কিনলেই পারে। না, তিনি বউ পাঠিয়ে দেন বাপের বাড়ি। সেই চিরকেলে যৌতুকের চাপ। রমেলা কিছুতেই মুখ খুলতে চায় না। সে তখন গর্ভবতী, আসন্নপ্রসবা। গর্ভস্থ র্সন্তানের ভাবনায় উদ্বিগ্ন। জামাতার মুখ থেকে লোভের জিহ্বা বের হতে এবং লালা ঝরাতে দেখে নেকাব্বরের মাথায় আগুন। দিগি¦দিকের জ্ঞান হারিয়ে সে জামাইয়ের বাপদাদা চৌদ্দপুরুষের নামে গালিগালাজ আর শাপ-শাপান্ত দিতে থাকে। তার হুমকি-ধামকি আর আস্ফালন দেখে যে-কারো মনে হবে গুরুতর এই সংকটের একটা হেস্তনেস্ত সে এক্ষুনি করে ফেলবে। শুধু মনে হওয়া নয়, নেকাব্বর আলী হাওয়ায় তরবারি ঘুরানোর মতো স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে বসে —
গাছে কুনুদিন ফল ভারি হয়? আমার বাড়িতি থাকবে আমার মেয়ি। উদের ওই চামারবাড়ি আর পাঠাবো না। হ্যাঁ।
বাপের মুখে এ ঘোষণা শুনে রমেলা হেঁসেলে ঢুকে মায়ের পিঠে মুখ ঠেকিয়ে কাঁদতে বসে। রমেলার দাদি ন্যূব্জ দেহে তালের পাখা হাতে ছেলের কাছে এসে দাঁড়ায়, হাতপাখা নাড়িয়ে বাতাস করতে করতে বলে,
ও কথা বুলতি নেই বাপ। বিয়ি হওয়া মেয়ি মানেই পরের বাড়ির বউ। যা তা বুলা যায় না।
মায়ের মুখে এই যুক্তির কথা শোনার পরও নেকাব্বর আলী গজর গজর করতেই থাকে। যেনবা তার ভেতরের তড়পানি কিছুতেই নিবারিত হতে চায় না। ছোটলোকের ঘরে মেয়ে বিয়ে দিয়ে ভয়ানক ভুল হয়ে গেছে। সেই ভুল থেকে সে পরিত্রাণের পথ খুঁজছে — এই সব সাতকাহনের ক্ষোভ-জ্বালার উদগীরণ কিছুতেই থামে না। সহসা নেকাব্বরের মা এগিয়ে এসে ছেলের মুখে হাত দেয়, একটুখানি ধমকে ওঠে —
তুমি থামো দিনি বাপ! মুখি এখুন বিড়ি দ্যাও।
নেকাব্বর আলীর ভেতরের তড়পানি তখনো খই-ফোটার মতো ফুটতেই থাকে—
এঁহ্, বাপ-বেটা দুজনেই ভীষণ ইসলামের খাদেম হয়িচেন। ইসলামি দলের ওয়াজ কইরি ব্যাড়ায় গাঁয়ে গাঁয়ে। ইসলামে কি যৌতুক আছে?
এতক্ষণে নেকাব্বরের মা যথার্থই শায়েস্তা করে ছেলেকে—
থাম দিনি বাপ নেকাব্বর! থাম। দু’ দিন বাদে তোর নাতি-নাতনিরা আইসি যখন গলা জড়িয়ে ধরবে কি করবি তখন?
সত্যিই জব্দ হয় নেকাব্বর।
এরপর কবে কখন সৌদিপ্রবাসী পুত্র ইনসান আলীর সঙ্গে তার স্ত্রীর কী যে যুক্তি পরামর্শ হয় সে কথা কেউ জানে না। তবে অচিরেই প্রবাসী পুত্রের পাঠানো টাকায় জামাতার সাধপূরণের ব্যবস্থা হয়ে যায়, সেটা মুখে না বললেও সবার নজরে পড়ে ঠিকই।
তিন.
বহুদিন পর নেকাব্বরের সংসারে বৈশাখ আসে বাজপড়া স্তব্ধতা নিয়ে। অথচ এমনটি হবার সম্ভাবনার কথা পরিবারের কারো মাথায় মোটেই আসেনি। গতবছর নেকাব্বরের বৃদ্ধা মা ইহলোক ছেড়ে গেছে। তবু মায়ের কথা স্মরণ করে নেকাব্বর এই বৈশাখে তার সংসারে চাঁদের হাট বসানোর আয়োজন করে। তাদের এই সিঁদুরডোবা গ্রামে কাজলাপাড়ের বটতলায় প্রতি বছরই বৈশাখী মেলা বসে। চলে এক সপ্তাহ ধরে। এই এক সপ্তাহ ধরে সারাগ্রাম উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠে। ঘরে ঘরে মেয়ে-জামাই আত্মীয়-স্বজন আসে। বটতলার ঢাকের বাদ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রামে পাড়ায় পাড়ায়। শুধু সিঁদুরডোবা বলে তো নয়, বৈশাখী মেলাকে ঘিরে আশেপাশের সাত গ্রামে আনন্দের ঢেউ জাগে, প্রাণের জোয়ার জাগে। নেকাব্বরের মা বলতো, পহেলা বৈশাখে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরতে হয়। বীজ বপন করে চাষী যেভাবে রুক্ষ মাটিকে শাসনে-বাঁধনে আনে, ছেলেমেয়েকেও সেই রকম বাঁধতে হয় ঘরের বাঁধনে। নেকাব্বর আলী সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে বেশ কিছুদিন থেকে। ছেলে বাড়ি এলে ছেলের বিয়ে-থা দিয়ে সংসারী করবে। কিন্তু ইনসান আলির ইচ্ছে আগে ছোট বোন কমেলার বিয়ে হোক, তারপর সে বিয়ে করবে। সেই অনুযায়ী দু’-চারটি পাত্রের খোঁজখবরও নেওয়া হয়েছে। কথাবার্তা এগিয়ে রেখেছে। ইনসান বাড়ি ফিরলেই সব ফাইনাল করবে। সত্যি বলতে কি ইনসানের জন্য ফুলপরির মতো একটা পাত্রীও গোপনে নির্বাচন করে রেখেছে।
নেকাব্বরের বিশ্বাস এই মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে পারলে সে ঠিকই ইনসানের পায়ে শেকল পরাতে পারবে। পাঁচ বছর তো হলো বিদেশ-খাটা, টাকা-পয়সা যা কামিয়েছে, তা কম কিছু নয়। ঘরবাড়ি, জমিজিরেত যা হয়েছে ঢের হয়েছে। এবার পায়ের পাতায় ভর দিয়ে দাঁড়ালেই হলো। কিন্তু ইনসান সে-কথা মানতে চায় না। সে চায় ছোট বোন কমেলাকে আগে পাত্রস্থ করতে। নেকাব্বর সে প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। সে আগে আসুক বাড়ি, তারপর দেখা যাবে সব কিছু।
মনে মনে অনেক রকম নকশা সাজিয়ে নিয়ে মেলা শুরু হবার আগেই নেকাব্বর নিজে উদ্যোগী হয়ে কাঁঠালগাছি থেকে বড় মেয়ে জামাই এবং সুন্দরী নাতনিকে বাড়ি নিয়ে এসেছে। কিন্তু গত পরশু দিনের আগের দিন ইনসান হঠাৎ ফোন করে জানিয়েছে তাদের কারখানায় আকস্মিক দুর্ঘটনার জন্য শেষ মুহূর্তে ছুটি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে বাড়ি আসা হচ্ছে না তার। এই খবরে বাড়ির সবার মন খারাপ, অথচ উল্টো ঘটেছে কমেলার বেলা। তার নাকি আনন্দ হয়েছে। সে ধরেই নিয়েছে — ভাই বাড়ি ফিরলেই তার বিয়ে হয়ে যাবে। বাপ-মাকে ছেড়ে যেতে হবে। বড় বোন রমেলা শুধায়,
তাহলে আবার কাঁদছিস কেন?
রহস্যময় উত্তর দেয় কমেলা,
কি জানি!
আবার ফ্যাচ করে কেঁদে ফ্যালে। রমেলার মেয়ে খালার চোখ মুছিয়ে দেয়।
রমেলা মমতাভরা চোখে তাকায় ছোটবোনের দিকে। এরই মাঝে কমেলা যথেষ্ট ডাগর হয়ে উঠেছে। দেখতে মোটামুটি সুন্দর। বিয়ে হয়ে যেতে পারে যে-কোনো দিন। এসময়ে কি দুলাভাইয়ের মোটর বাইকের পেছনে উঠে বৈশাখী মেলায় যাওয়া চলে! মানা করলেও শুনবে না। বেলা অবেলা নেই, ময়ূরপঙ্খি চড়েই হাওয়া। এ সব দৃশ্য চোখে সবারই বাধে, মুখ ফুটে বাধা দিতে পারে না কেউ। অবশেষে রমেলাই তার গোপন গরজে সহসা বলে ওঠে—
আজ বাদে কাল যার বিয়ি, এমন বেলেল্লা হলি তার চলে?
কমেলার সঙ্গে বিয়ের কথা চলছে যেসব পাত্রের তার মধ্যে সবচেয়ে গুণধর পাত্র জামালের নাম করে একদিন ব্যাখ্যা দেয় রমলার স্বামী — সেই জামাল একবার মেলার মধ্যে দেখতে চেয়েছে কমেলাকে। সেই জন্যেই তাকে নিয়ে মেলায় যাওয়া। নেকাব্বর আলী এগিয়ে এসে বলে,
জামালকে এইখানে ডাইকি আনতি পারলিই তো ভালো হতু বাপ!
জামাতা উত্তর দেয়,
আসবে। সে পরে আসবে আমার সঙ্গে।
এরপর আর কারো কোনো কথা নেই। মোটরসাইকেলের ধোঁয়া উড়িয়ে বাড়িয়ে ছেড়ে বেরিয়ে যায় তারা দু’ জনে। বাতাসে মিশে যায় মোটরসাইকেলের ধোঁয়া, কিন্তু প্রশ্নটি জেগেই থাকে কোথায় যায় তারা? দিন শেষে রাত আসে, মেলা ভাঙার সময় হয়। তালপাতার বাঁশি থেমে যায়। তবু তারা কেন ফিরে আসে না?
বৈশাখের প্রথম দিনে কালবৈশাখী বাড়ায় ছোবল, বজ্রপাতের আলোকধারায় কেঁপে ওঠে অন্ধকার, তবু তাদের দেখা যায় না কোথাও। কেবল মধ্যরাত পেরিয়ে যাবার পর রমেলা বিদঘুটে এক স্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ওঠে। অথচ তার গলার স্বর স্ফূট হয় না। দুই কানে আঙুল চেপে সে বধির হতে চেষ্টা করে। তবু স্বামীর কণ্ঠ আছড়ে পড়ে তার কানের দরজায়—
তোমাকে তালাক দিয়ে আমি কমেলাকে বিয়ে করেছি। কমেলা এখন আমার বউ।
প্রকৃত বজ্রপাত ঘটে তখনই \
রফিকুর রশীদ, কথাসাহিত্যিক, গাংনী, মেহেরপুর




