আচ্ছাদিত শয়তান
মূল : জর্জ এলিয়টি ক্লার্ক
ভাবানুবাদ ও ভাষান্তর : ফারজানা নাজ শম্পা
বাগানের নিসর্গ-প্রাঙ্গণ
সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল হয়;
কফির কাপে ভেসে ওঠে
আমারই মুখের ছায়া।
আমি যতই গভীরে তলিয়ে যাই,
রাতের অতিরিক্ত ভোজনের মতো—
ঘন ও তিক্ততার স্বাদে ভরা
এক স্বতন্ত্র অনুভূতি লাভ করি।
আমার ভাবমূর্তি তখন
এক নকল ও কৃত্রিম আকার নেয়;
রক্তাভ, বেগুনি আর কালোর মিশ্রণে
গায়ের বর্ণে—
রোমান প্রেমের দেবতা কিউপিডের মতো
আমি এক সুদর্শন কৃষ্ণাঙ্গ।
আমি গোঙাই, আকুল চিৎকার তুলি
কোনো এক কৃষ্ণাঙ্গ বংশধরের মতো;
নির্বোধ মাতাল হয়ে বুঁদ হয়ে থাকি মদের নেশায়।
আমি জানি আমি জয় করব,
আমার এই হাতেই তো ক্যাফের সব পানীয়!
খুব ভোরে মদের ঘোরে সৃষ্ট যন্ত্রণায়
আমার মুখের অভিব্যক্তি
বিকৃতপ্রায় মস্তিষ্কে এক শূন্য, গভীর
বশ্যতা-জাগানো কালো গুহা রচনা করে
এই কালো আমাকেই কিন্তু
সম্বোধন করা যায় গ্রিক ‘জিউ’ নামে— (জর্জ এলিয়ট)
কঠোরভাবে তিরস্কৃত সাদা কাগজগুলো
আহ্বান জানায় কালির প্রহারকে।
কফি আর ক্রিমের মেলবন্ধনে আমি নিজেকে
আনমনে উপহার দিই সামান্য অট্টহাসি;
আমার পীত-বাদামি রঙের
নতুন সত্তার প্রশংসায় ঘটে ক্ষণিক প্রচারণা,
আর দীপ্তিময় হয়ে ওঠে আমার সত্তা।
———————
মূল : জ্ঞানের দরজা হজরত আলি (ক.)
অনুবাদ: সৌপর্ণ মাছুম
বিতরণে বাড়ে জ্ঞান
ধনদৌলত দানে কমে, শুধু বিতরণে বাড়ে জ্ঞান
নিবিষ্ট মনে জ্ঞানচর্চায়, জ্ঞানব্রতে কর ধ্যান ।
কেবল জ্ঞানই
দুর্লভ হলেই যে কোনো জিনিস দামি সে জগৎময়
কেবল জ্ঞানই প্রচার-সুলভে মহামূল্যবান হয় ।
জ্ঞানপোশাক
জ্ঞান-পোশাকে আবরিত যে, ধরায় সে অমর সিদ্ধ
নুয়ে পড়া দেহে বলি জাগলেও, তবুও না-সে বৃদ্ধ !
আমি জানি না
‘না-জানা প্রশ্ন’ আপনার কাছে সমুত্থাপন হলে
নিঃসংকোচে “আমি জানি না” বলিও লজ্জা ভুলে !
জ্ঞানসন্ধানে
জ্ঞানসন্ধানে ব্যাপৃত হও, জ্ঞানে পাও পরিচিতি ব্যাবহারিকে জ্ঞান প্রয়োগেই স্বদীপ্ত পণ্ডিতি !
প্রায়োগিক জ্ঞান
যে জ্ঞান কেবলি জিহ্বার আগায়, নিছক খেলো সে ভান
প্রায়োগিক জ্ঞান অগভীর হলেও জানিবে মূল্যবান ।
অর্জিত জ্ঞান
আন্তরিকতার অভাব হলেই শ্রম ব্যর্থ হয়
ব্যবহার বিনা অর্জিত জ্ঞান বিনাশ সুনিশ্চয়।
বিনম্র সুশিক্ষায়
নীচ বংশও ঢাকা পড়ে যায় বিনম্র সুশিক্ষায়
জ্ঞান বৃদ্ধিতে সব ইন্দ্রিয়ের লোলুপতা হ্রাস পায় ।
দর্শনতরু
আপন হৃদয়ই জ্ঞানের উৎস, দু’কান প্রবেশপথ
হৃদয়ে জন্মে দর্শনতরু, ফল যার রসনারথ !
সুহৃদ-সঙ্গনাশী
যে হয় যত বিজ্ঞতর, সে হয় স্বল্পভাষী
বিরক্তিকর প্রগলভতা সুহৃদ-সঙ্গনাশী!
=====================
একটা তীর আর একটি গান
সৈয়দা সামিরা আহমেদ
(ঐবহৎু ডধফংড়িৎঃয খড়হমভবষষড়ি ঞযব অৎৎড়ি ধহফ
ঞযব ঝড়হম কবিতা অবলম্বনে রচিত)
একটা তীর ছুড়েছি, যদিও বা নই তীরন্দাজ,
কোথায় যে তা হারালো, করতে পারিনি আন্দাজ।
এত দ্রুত ছুটে গেল, ছাড়িয়ে গেল আলোর গতি,
কৃষ্ণবিবরে হারায় যদি, জগতের কী-বা ক্ষতি?
স্বপ্নে শোনা সেই সুর, নদীর তীরে স্নিগ্ধ বাতাসে,
হঠাৎ করেই পেল বাণী, উড়তে থাকে মনাকাশে
গুনগুনিয়ে সে গানটি ভেসে চলে গেল চিরতরে,
ধরতেও চাইনি তারে, ছিল বিস্মৃতির গুপ্ত ঘরে।
অনেক অনেক দিন, হায়রে! কত বসন্ত গত,
শতবর্ষী এক বটগাছে তীরটা বিদ্ধ অক্ষত।
বহুকাল কেটে গেল, খেলে গেল বহু ছিনিমিনি,
সেই গান গাইছে কেউ, মনে হলো যেন তাকে চিনি।




