এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

কবিতার আকাশ ( সেপ্টেম্বর ২০২৬ )

ছুঁড়বো না পাথর

মোহাম্মদ শামীম মিয়া

 

পাথর ছোঁড়া ভালো নয়

জানি তুমি আমি,

তবে কেনো ছুঁডে তা

হও বদনামী।

 

প্রাণ যায় কারো কারো

ক্ষতি হয় কতো,

পাথর ছুঁডে তারা যারা

অসুরের মতো।

 

বাস ট্রেন লঞ্চ আর

পাথর নয় গাড়িতে,

অসহায় ও প্রতিষ্ঠান

কারো বসত বাড়িতে।

 

অযথা পাথর ছোঁড়া

অভ্যাস যাদের,

শাস্তির আওতায়

আনা হোক তাদের।

 

মা-মাটি দেশ আর

ভালোবাসি পরিবার,

এই হোক পণ আজ

মানবসেবা করিবার।

 

=================

ডাঃ কল্যাণ বড়ুয়া’র দু’টি কবিতা

 

ঘুম ভাঙা কবিতা

 

হৃদ্িযক কাব্যে জীবন চলার পথে,

অজানা অন্ধকারে হারায় পথিক

গন্তব্যে পৌঁছনোর রথে।

 

অচেনা পথে চলতে চলতে

হৃদয়ের কথা বলতে বলতে

জীবনের পথ চলে এঁকেবেকে,

 

মনের যতো ভাবনার কথা বলি

কাব্যের ঢঙে নিজের পথ চলি

হারাই নদীর আঁকাবাঁকা পথে।

 

সময়ের স্রোতে হয় না ভাসানো গা

আটকে রাখা যায় না দুখানি পা,

ক্লান্তি শেষে বিশ্রামের কথা ভাবি

কবিতার বই সিওরে আগলে রাখি,

ছন্দে ছন্দে দোলায়িত হয় মন

বেলা বয়ে বয়ে কেটে যায় সারাক্ষণ।

হয় না পড়া নিয়ম পালন করে,

ঘুমের ঘোরে কবিতার কথা

বার বার মনে পড়ে।

 

কবিতাগুলো ঘুমিয়ে আছে বইয়ের পাতার ভাঁজে,

লেখা কথাগুলো বলে যায় মনের কথা

প্রাণের স্পন্দন ফিরে দূর হয়ে জটিলতা

তোমার কথা বারে বারে মনে জাগে ।

 

 

 

অপেক্ষার শেষ সময়

 

জীবন্ত লাশের পাশে দাঁড়িয়ে

অনিদ্দিষ্ট সময়। আপনজনদের ভীড়।

ডিব ডিব হার্টের শব্দ দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে

ফিরে আসা নাড়ি চলা এক নিথর দেহ

দু’দিন ধরে হাসপাতালের বেডে।

বন্ধ চোখে অতীতের স্মৃতি স্বপ্নজালের

বন্ধন ছিন্ন করার মানসে কতো সময় পার করবে কে জানে?

অস্থিরতায় দিন কাটে। অপেক্ষার দিন শেষে রাত জাগা।

ডাক্তার বাবু বলে দিয়েছেন, আশা নেই।

আশাহীন নিরাশায় ঈশ্বরের করুণা

কামনায় ব্যস্ত আপনজন।

কান্নার নদী চোখের জলে ভাসে।

ভেজা চোখে অস্থির সময় পেরিয়ে যায়

সময়ের নিয়মে।

হৃদয় খাঁ খাঁ করা শূন্যতার বেড়াজালে

অপেক্ষার প্রহর গুনে ক্লান্ত সবাই।

এখন শুধু অপেক্ষার শেষ সময়টুকুর অপেক্ষায়!

 

=======================================

পরিত্যক্ত সব পড়ে আছে অমরত্ব সমাধি করে

সু শা ন্ত  হা ল দা র

 

আমরা, আমাদের বাড়ি ভুলে গেছি,

জানালার ওপাশটায়

যেখানে বৃষ্টিতে ভিজে থাকতো

বর্ষার মালতী ঘেরা গন্ধ বকুল যুঁই চামেলি কিংবা বনফুল শেফালী

এদিকটায়…..

যেখানে সারমেয় ব্রুনো বাঁধা থাকে বারান্দায়

তারই সামনে বাবা ঘুমায় চিরনিদ্রায়

তারই হাত পাঁচ সামনে নারকেল গাছটা বেড়ে উঠলো অবলীলায়

অথচ বাবার নাতিদীর্ঘ পথটা ভুলে গেছি অকৃতজ্ঞতায়

যেখানে এখন বৃষ্টিতে বর্ষা নামে হামাগুড়ি কাদায়,

এমনই দিনে শ্রাবণের কথা খুব মনে পড়ে

চৈত্রের দমকা এলেই দৌড়ে পালাতো ভাদ্রমুখর আশ্বিনে

বৃষ্টিভেজা কদম জানতোই না

বৈশাখ তার তাণ্ডব চালাবে ক্ষ্যাপাটে চৈত্রের ফাল্গুনে

 

আমরা কি আমাদের পথ ভুলে গেছি কদম ভাসা বর্ষার জলে?

নাকি ডুবোচাঁদ জোছনার মিহি ছায়াতলে

যে নক্ষত্র জেগে আছে জীবনানন্দ বাসর করে

তারই আলোকোজ্জ্বল ছায়াপথ ধরে হেঁটে যাব সূর্য্য-অস্ত গোধুলিয়ার দিকে,

যেখানে ধূধূ মাঠ পরিত্যক্ত পড়ে আছে অবিনাশী সব অমরত্ব সমাধি করে!

 

 

 

=====================

 

 

 

কস্তুরি পুরুষ

এজাজ ইউসুফী

 

কস্তুরি পুরুষ আমি মৃগনাভিমূলে ধরে আছি

বুকের সুগন্ধি তোর, বের করে ক্যানাইন দাঁত,

নেপাল ভুটান ঘুরে হিমালয় থেকে নেমে এসে

যেন ঢুকে পড়ি সোজা দুধ-সাদা জলজপ্রপাত।

 

গহীন জঙ্গলে ঘুরে যৌনক্ষুধা খোঁজার প্রতীক

লাজুক স্বভাবে খুলে ফেলি তার নীল ব্রেসিয়ার,

উদাসীন নারী তুমি বোঝো নাতো পুরুষ উন্মাদ

তোমার ভূগোল জুড়ে মাখামাখি ঘন অন্ধকার।

 

অবহেলা কর যাকে ভুলে কাছে ডাক যদি তাকে

তোমার পায়ের নিচে পদ্মাবতী রচে উপাখ্যান,

কোথাও রেখো না তাকে ঘৃণাভরে গভীর মগ্নতা

তাহার বিকল্প বুকে লিখে দিও হৃদি-প্রত্যাখ্যান।

 

তোমার চুম্বন পেলে রতিদেব হবে খুব খুশি,

চুম্বনেই লিখে যাব কাব্য শত জনমের ঋষি।

আসিফ নূর এর দু’টি কবিতা

ছায়াবিশ্রাম

 

গ্রামতেমাথার বুড়ো বটগাছটির শীতল তলে,

রোদদুপুরে ছায়া পোহাচ্ছে ক্লান্ত রাখাল যুবক;

আর তার সাধনার ধন—আদুরে গরুর পাল।

 

বৌয়ের দেয়া কলাপাতায় মোড়ানো ভাতের মোচা

শেষ করে, আয়েশে পানের খিলি রসাচ্ছে রাখাল;

গরুরা জাবর কাটছে—নিশ্চিন্তে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে।

 

লক্ষ্যভ্রষ্ট আলপিন

 

অনিবার্য আকর্ষণে চুম্বকের বুকে

পলকে উড়াল দিল অস্থির আলপিন।

 

একটু পরে, প্রকাণ্ড এক লৌহখণ্ডের

তুমুল টানে ছুটে গেল সেই চুম্বক;

তবে একা নয়—সাথে নিয়ে আলপিনটিকেও।

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

কে যেনো নির্জন ডাকে

সোহরাব পাশা

 

জানালার অন্য পাশে তোমার গল্প

 

রৌদ্রবীজ মেঘের আস্তিনে

তীব্র আঁধারের বিরুদ্ধ বাতাস

অজস্র বর্ষার অশ্রুবৃষ্টি

বিরহের গান ওড়ে,

 

নির্জন সুন্দর

গতকাল

অসমাপ্ত প্রিয়গল্প ;

 

দুর্বোধ্য ভালোবাসার ভাষা

চোখের স্নিগ্ধ অক্ষর

কাফকার অর্ধেকটা

চাঁদের শাদা কুসুম

ভুল স্বপ্নঘুম ;

 

কে যেনো খুব  নির্জন ডাকে

নদীর ওপারে—।

 

=====================

 

 

 

 

অনিন্দিতা

শামসুল বারী উৎপল

 

এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়,

আঁধারের আঙুল ছুঁয়ে জেগে থাকে রাত

নিদ্রাবিহীন পরাবাস্তব কাল;

যদি স্বপ্নেও না আসো

সকালের অপেক্ষায় জেগে থাকি তাই

কেবল তোমাকে দেখবো বলে,

অথচ সকাল আসে একঝাক পথিকের উদভ্রান্ত ডানায়

প্রতীক্ষার কাঁটায় কাঁপে অস্থির প্রত্যূষ

শহরের যানজট ঠেলে-ঠুলে ছুটতে থাকি রুদ্ধশ্বাস

কেবল তোমাকে দেখব বলে।

 

শ্রমিকের ঘাম ঝরা শরীরে অফিসের ব্যস্ততা,

হাক-ডাক, নথির স্তুপ ঠেলে

হাজার কাজের উত্তপ্ত সিদ্ধান্তহীনতায়

ঝরতে থাকে অবিরাম ঝরতে থাকে

বুকের বামপাশে কেটে ফেলা রক্তের ঘ্রাণ

টপ টপ ভিজে যায় বেলেল্লা শরীর,

কেবল তুমিই দেখোনা বুকের জমিন চিরে

চেয়ে থাকা অনন্ত নক্ষত্রের অপেক্ষা,

হাজার ডেসিবল শব্দের পাল্লায় কর্কট ব্যস্ততায়

ঠিক ঠিক কানের ভেতর

বেজে চলে একটি নাম। প্লেটনিক দৃষ্টির একমাত্র

চাওয়ার বৃষ্টিতে ভেজে কেবল

তোমার চোখে চোখ রাখবার অনন্ত তৃষ্ণা

শুধু একটিবার,

এই আকাশ মাটি জ্েযাৎস্না, সাগর,গোলাপের দোহাই

 

ঝরনার উচ্ছসিত জলে একমুঠো জীবনের দোহাই

সৃষ্টি-ধ্বংস, বৃষ্টির অগোছালো স্বপ্নের  দোহাই,

মৃত্তিকার আঁধার ছেড়ে একদিন হারানোর দোহাই

আলোকিত রোদ্দুর মেখে আর কিছু চাওয়া নেই,

প্লেটনিক দৃষ্টির অনিন্দ্য জ্েযাৎস্নার ঝিম ধরা উঠোনে

আমি শুধু তোমাকেই চাই।

 

ঝড়, যুদ্ধ আর মহামারী অতিক্রম করে বন্যা খরা

আর ভূমিকম্প মাড়িয়ে যখন তোমার সামনে নত হই,

জীবনকে ভুল প্রমাণ করে অনিন্দিতা

তুমি হয়ে যাও অন্য আর এক কেউ!

 

 

 

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

বন্ধু

রোকন জহুর

 

ইচ্ছে করে নতুন করেই শুরু করি

নতুন ঘটি-বাটি লেপ- তোষক

নতুন চাদরে গোলাপের গন্ধ ভেসে আসুক

ক্ষণিকেই উজ্জীবিত হতে থাকে মনের লাগামহীন ঘোরা…

 

কখনই মনে হয় না ভাটিতে গা ভাসিয়েছি

চঞ্চলা চঞ্চু খুঁজে ফেরে কামুক অধর

ষোড়শী তরুণী দেখলেই রক্তস্লায়ুতে ওঠে ঝড়

ফেলে আসা দিন ডেকে বলে কতটা নির্বোধ ছিলাম…

 

মাঝে মাঝে আকাশের রঙে নিজেকে সাজাই

কেউ এসে মনের দুয়ারে কড়া নাড়ুক

দ্বিধাহীন বের হবো অসীম সবুজে

পাহাড়ি ঝর্নার মতো বয়ে যাবই অমৃত স্বাদে…

 

নিজেকে কখনই মনে হয় না পুরাতন অচল পয়সা

কারো চোখে চোখ পরলেই ভেতরের খুঁটিনাটি

সহজে পড়তে পারি

চঞ্চলাতায় কেঁপে ওঠে সকল স্লায়ু

আহারে সময় তুমি কি আমাকে বোঝ না…

 

একা একাই হেঁসে উঠি ফাগুনের রঙে

সময় তুমি বলে দাও

কোন স্বপ্নের আরাধনায় কেঁদে ওঠে স্বপ্নবাঁশি…

 

 

=====================

 

 

 

 

 

বনসাই

আ ন ম ইলিয়াছ

 

উর্বর পলিমাটির পিতামহের যে বাগান

তার আয়তন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল।

 

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে বপন করা বৃক্ষ

উর্ধ্বে উঠে হয়নি এখনো মহিরুহ,

পরিচর্যায় মালি যায় মালি আসে, তবু

বৃক্ষের অবয়বে বৃক্ষ হয় বনসাই।

 

কারণ,

সকল মালি- ই ছিল মীরজাফরের বংশধর।

 

 

=====================

 

 

 

 

স্বপ্নগুলো বেঁচে থাক

এম এ ওয়াজেদ

 

বিপরীতধর্মী উত্তরীয় পরে দাঁড়িয়ে আছে-

অদ্ভুত ভাগ্যবিড়ম্বনার দ্বিধাগ্রস্ত নির্বাক নিঃসাড় মৃতদেহ

লজ্জাবতী বসন্তোৎসবে বিমর্ষ দোলনচাঁপা ফুলগুলো

পড়ে আছে বৃন্তহীন পাপড়িহীন যেনো স্বর্গলোকচ্যুত

অবিনয়ের স্রাবিত দ্রোহগুলো-

কৌণিক দূরত্বের পরিমাপে গন্তব্যহীন শুভ্রহীন অসুন্দরী

পৃথিবীর উপরিভাগে অন্ধকারগুলো দুর্বিনীত রক্তবিলাসী

অসুরের গ্ফেতারি অভিযানে-

সভ্যতার নিষিক্ত ডিম্বানু ভুলে যায় পুনর্বাসনের দুঃখচাদর

কপটতার খোলসে বন্দি থাকে ভাগ্যপিলারের ডায়াপার

 

সুরভিত সুষমার সুশোভিত পুষ্পোদ্যান-

ভেঙে পড়ে আকাশচারী অবাধ্যতার নিঃস্রোতা সরোবরে

জাতিসত্তার চেতনা খামচে ধরে স্বপ্নহীন ঘৃণিত ঘোরনিদ্রা

যন্ত্রণার জীবননদী প্রসব করেনা আমিষদায়ী মৎস্যরেণু

তাকবীরে তাহরিমা ভুলে গেছে আতঙ্কিত পেশ-ইমাম

বিপন্ন মুয়াজ্জিন ভুলে গেছে ” হাইয়া আলাল ফালাহ ”

শাসকের গর্বচক্ষু ভুলে গেছে ন্যায়বিচারের সত্যভাষণ

নিষিদ্ধ মূর্খতার সিম্পোজিয়াম ঘিরে রেখেছে-

মানসিক বিকৃতির কতিপয় তৃষ্ণাকাতর এমেথিস্ট পাথর

অসুস্থতায় ঢলে পড়েছে সুডৌলা মধুমিতার কুমারী স্তন

 

সুখময়ী ময়ূরের পালকগুলো খসে পড়ে নগ্ন বন্যতায়

শ্বেতবাস গায়ে কাঁদতে থাকে বিধবা গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ

রেইনবো লরিকিট রেসপ্লেনডেন্ট বা গোল্ডেন ফেজেন্ট

ভুলে গেছে আত্মবাদী নবসুরধ্বনির বাসন্তিক স্লোগান

ফনর্দমায় ছটপট করে ওয়াটার লিলির ব্যর্থ শ্বাসনালি

অর্কিড অথবা চেরি ব্লসম অথবা টিউলিপের গর্ভাশয়

চিরে চিরে খেয়ে ফেলেছে অণ্ডকোষহীন ক্ষুধার্ত রাজহাঁস

গোলাপগুলো বন্ধ্যা রজনীগন্ধা প্রৌঢ়া কৃষ্ণচূড়া অতি বৃদ্ধা

বঞ্চনার আত্মপ্রতারিত এই ভূখণ্ডের রক্তমাটিতে-

তবু বেঁচে থাক আমাদের অভিযুক্ত পলাতকা স্বপ্নগুলো

 

 

 

 

 

===========================

মনের মহাকাশ

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন

 

মানুষ অসীম মহাকাশের মানচিত্র আঁকে।

এক সৌরজগৎ পেরিয়ে অন্য সৌরজগতের পথে যাত্রা করে।

দূর নক্ষত্রের আলো মাপে,

গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে মহাকাশযান পাঠায়,

অসীমের রহস্য উন্মোচনে জীবন উৎসর্গ করে।

অথচ তার নিজের ভেতরেও যে একটি মহাবিশ্ব আছে,

সে তার খোঁজ রাখে না।

হৃদয়ের আকাশের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ অজানা থেকে যায়,

মনের অগণিত নক্ষত্রগুলো অগণিতই রয়ে যায়।

নিজের অন্তরের কৃষ্ণগহ্বর,

আলোকবর্ষ আর নক্ষত্রপুঞ্জ না চিনেই

সে বাইরের অসীমকে জয় করতে চায় ।

তবুও মানুষ বুঝতে পারে না

সবচেয়ে অনাবিষ্কৃত মহাকাশটি মাথার ওপরে নয়,

নিজের মনের ভেতরেই থাকে।

অতঃপর সেই মহাকাশকে আবিষ্কার করার আগেই

একদিন সে নিজেই মহাবিশ্বের অনন্ত নীরবতায় বিলীন হয়ে যায়।

 

 

 

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

 

কাজল রশিদ-এর দুটি কবিতা

 

প্রত্যাবর্তন

অনেককাল আয়নাতে মুখ রেখে দেখিনি নিজের আলো,

চোখের ভেতর শুকিয়ে গেছে অচেনা বৃষ্টির কালো।

যে পথ ধরে ফিরতে চেয়েছি, সে পথ ঘাসে ঢাকা যায়,

তবু তোমার অনুপস্থিতি প্রতিদিন ঘরে ফিরে চায়।

 

একদিন সমস্ত সন্ধ্যা নামবে জানালার কিনারে,

প্রত্যাবর্তন ততদিন শুধু উচ্চারিত হবে মিনারে।

 

 

জলরেখা

নদী আজও বালুচরে তার অসমাপ্ত নাম লেখে,

বাতাস এসে সেই অক্ষর পাখির ডানায় দূরে রেখে।

কাদামাটির গন্ধ নিয়ে সূর্য ডুবে যায় নির্ভার,

জলই জানে কোন গভীরে জমে থাকে অন্ধকার।

 

তীরে তীরে ভাঙনগুলো জন্ম দেয় নতুন তীর,

জলরেখা শেখায় আমায় হারিয়েও হওয়া স্থির।

 

====================

আশা

নয়ন আহমেদ

 

কে দোলাচ্ছে কালো পর্দাটা?

বিদায় জানাবো চোখের সামনে দোলায়মান নিরাশাকে।

সে দুলছে একটা অশ্লীল হা করা ব্রার মতোন;

তৈরি করছে দীর্ঘাকৃতি বিভ্রম।

তার মূল নেই,

আছে সরীসৃপের মতো নৃশংস স্থাপত্যকলা।

আমি তোমাকে একগুচ্ছ রেশমকোমল চুলকে মেলে দিতে বলেছি ব্যাধিগ্রস্তদের সামনে।

প্রশান্তি তৈরি হবে।

যেমন অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বমান গৃহ,

কয়েক টুকরো কাঠ থেকে পালঙ্ক,

শিথানের জন্য নকশাতোলা বালিশ।

 

দেখবে নিবিড় উপত্যকা

বর্ণিল লোকালয়

পরিপাটি সংসার।

রুনুঝুনু বাজছে জীবন যাপনের সুর।

চোখ ফেরাতে মন চাইবে না।

আছে মা

আছে বোন

আছে পিতা

আছে আদমের মতো অস্থির হয়ে পড়া পুরুষের চিরদিনের ইভ।

এইসব গুঞ্জরিত কারুকলা

এই সপরিবার চিত্রকলা

একটা পাতার মতোন সবুজ দাম্পত্য।

তোমাকে আশীর্বাদ করবে।

 

এখানেই থাকো তুমি।

দেখবে,লাল চিরুনির মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠছে জগৎ।

বেছে নাও এই পার্থিবতা।

 

কোলে নাও।

এই বদান্যতায় দোল খাবে শিশু।

চুম্বনের মতো ঝরবে বৃষ্টি।

প্রেয়সী তার হৃদয় কুমড়ার মতো ফালি ফালি না করে রেখে দেবে তার পুরুষের জন্য।

এখানে অশ্রুপাতও তাজমহলের চেয়ে দামী।

 

চাও পাস্তুরিত আকাশ,

সমকোণী আগুন।

 

লটকনের মতো ঝুলে আছে আশা।

 

=====================

 

 

 

 

 

 

ঈশ্বর

মোহাম্মদ হোসাইন

 

কবিতা লিখতে লিখতে কেউ কেউ ক্লান্ত হয়

আবার ক্লান্ত হতে হতে কেউ কেউ কবিতা লেখে।

 

অথচ, আমি কাজ এবং ক্লান্তির ভেতরে ঝিম মেরে বসে থাকি।

দেখি কাজ কবিতা লিখছে আর ক্লান্তি

মেঘের গুরু গুরু ডাক শুনে রবীন্দ্র সংগীত গাইছে

 

বাইরে বৃষ্টি রোদের মতো হাসছে… যেমন হাসে যৌবনবতী মেঘ ভাদ্রে কিংবা আশ্বিনে…

খোঁপা খুলে পড়ে গেছে যে ফুল সে ফুল আমারই ফুলদানিতে ছিল

 

বিশ্বাস জিনিসটা আজকাল লটকন গাছের ফলের মতো হাওয়ায় দুলে

আর ভালোবাসা ডুবন্ত খড়কুটোর মতো দিক চিহ্নহীন

 

আমি খুব নিবিড়ভাবে চোখে চোখ রেখে দেখেছি

সফলতা রেসের ঘোড়ার বাজি খেলার মতো, যেখানে  জুয়াড়ি শুধু জুয়ার দান ফেলে বসে থাকে –

 

জীবনভর…আর মানুষেরা বুঝে হোক কিংবা না বুঝে

খেলে যায়, খেলে যেতে থাকে, হায়!

 

আমি একটা ঘর বানিয়ে নিয়েছি নিজের মাঝে

সে ঘরে আমি একা একা থাকি একা একাই গান গাই

ছবি আঁকি — যেমন করে ঈশ্বর থাকেন একা অনির্দিষ্ট..!

 

 

=====================

 

 

 

 

ওরা ফিরে যাক

রফিক আনম

 

হলুদ ফুলের দেশে শুয়ে আছে বাবারা যেখানে

সেখানে আমার জন্ম প্যানোয়ায় সাগরের পাশে

প্রেমের পালঙ ভাসে অন্ধকারে মাথিনের কূপে

বুদ্ধের রাংকূটে শ্রান্তি বিনোদনে সম্রাট অশোক

সোনাফলা সেই দেশে হানা দেয় রোহিঙ্গা ডাকাত

মায়ের সুখের ঘুম ফিরিয়ে দেন সায়েস্তা খান

ক্যাপ্টেন হিরন কক্স নিজ নামে বাজার বসায়

আধুনিক বাংলাদেশে তিলোত্তমা কবিতানগর

 

হলুদ ফুলের দেশে ওরা ফিরে এসেছে আবার

শরণার্থী রূপ ধরে; পালংবাসী সংখ্যালঘু ত্রস্নু

রোহিঙ্গার জন্মপেশা খুনাখুনি মাদক পাচার

নাফ নদী থেকে সাঙ্গু আরাকানী লীলাভূমি যেন

সইতে পারি না আর নিজ দেশে ওরা ফিরে যাক

আমরা ফেরত চাই নিরাপদ মায়ের আবাস

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাবুল আনোয়ার-এর দুটি কবিতা

 

মধ্যরাতের দুঃখ

 

মধ্যরাতে দলছুট মেঘগুলো

ছুঁয়ে যায় বিষাদের খোলা জানালা

বুকের ভেতর নীল জলের ঢেউ

বেগানা বাতাসে উড়ে বাসন্তীর চুল

মধ্যরাতে নিঃসঙ্গ দুঃখগুলো

ভোরের চৌকাঠ ধরে

নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ।

 

 

জলজ আকাশ

 

জলজ আকাশে উড়ে ড্রোন মিছিল

নবীন মেঘেরা দল বেঁধে ঘুরতে আসে

হুডখোলা রিক্সায়। শাহবাগে যায়

শায়িত বিপ্লবের অনলাইন ভার্সনে

মুখস্ত করে মন্ত্রমুগ্ধ ডিজিটাল পাঠ

নবীন মেঘেরা হাওয়ায় হাওয়ায়

তুমুল রোদেলা দিন চুরি করে ফের।

 

 

=====================

 

 

 

 

যেখানে প্রাণের বন্যা

বাসুদেব খাস্তগীর

 

টুপ টুপ ঝরে গাছের পাতারা দখিনার সমীরণে

ঝরে পড়ে ওরা নিয়মের জালে অবিরত ক্ষণে ক্ষণে।

পাতা কুড়ানিরা দেখে হয় যেন আনন্দে আটকানা

বাতাসের সাথে পাতাগুলো নাচে কারো নেই কোনো মানা।

নিলুয়া বাতাস দোল দিয়ে যায় ঝাবুক পাতার গায়ে

নদীর ছন্দে পাখিদের গানে মন ছুটে দূরে নায়ে।

ক্লান্ত পাখিরা ঘরে আসে ফিরে বিকেলের অবসরে

বিহগ গাথার সুরের আবেশ জুড়ে থাকে অন্তরে।

 

গাছের শাখায় নতুন প্রাণের উল্লাস শিহরণ

যে গিয়েছে চলে আবার সেখানে নতুনের আবাহন।

উছল গাঙের ঢেউ এসে পড়ে বিপুলা সেজেছে আজ

নীপবনে নেই রুদ্রদাহের তপ্ত মরুর সাজ।

রুক্ষ খরার দিন শেষে মেলে শান্ত সৌম্য ক্ষণ

টুপুর টাপুর শব্দে কে যেন মন করে উচাটন।

 

চারিদিক ঘিরে প্রাণের বন্যা প্রাণে প্রাণে সজীবতা

রূপের জোয়ারে হেসেছে ধরনী কথা বলে তরুলতা।

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

মানুষের মুখ

শাহনাজ পারভীন মিতা

 

পৃথিবীর পথ হাঁটি

কি খুঁজি আমি

খুঁজে ফিরি মানুষ! নাকি

তারই মাঝে মানুষের মুখ

একটু সময়, বিছিয়ে শীতল পাটি।

 

যেখানে সবুজ বৃক্ষ

বৃষ্টির গান সুরে সুরে

মেয়ে তুমি পথ হেঁটে যাও

রুমঝুম রুমঝুম নুপুরে।

 

মানুষের মুখ ব্যাকুল দুচোখ

সেখানেই প্রাপ্তি পরম সুখ।

 

 

=====================

 

 

 

 

 

হেলেনা আমার

অনন্য কাওছার

 

বোবা পাখিদের গান শেখাবে বলে তুমি নিজেই ভুলে

যাচ্ছ গীতিকবিতা, ত্রিতাল গাম্ভীর্য, গানের লিরিক।

প্রমিত উচ্চারণ করতে যেয়ে ভুলে যাচ্ছ সহজ বাক্যের

গঠনরীতি, বোবা প্রাণীদের মতো কেবলই নাড়াচ্ছ ঠোঁট।

 

গত বর্ষাকাল থেকে আমাকে শেখাচ্ছ তুমি

গীতিবাদ্য, গীতিকবিতার পরিচিত লাইন।

হেলেনা আমার, তুমি নিজেই জানো না যে

তোমার কণ্ঠস্বরে বেজে ওঠে পৃথিবীর আদিম সংগীত

তোমার অমিয়-ঠোঁটে যেসব বাক্য উচ্চারিত হয়

তার চেয়ে কি আর হতে পারে এমন শ্রতিতিমধুর?

 

যেই আমি তোমার মুখোমুখি হলে ভুলে যাই

বাংলাদেশের আয়তন,

রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রনীতির মধ্যে পার্থক্য।

তাকে শেখাচ্ছ তুমি দুর্বোধ্য কবিতার লাইন;

সংবিধানের ১৭ নাম্বার অনুচ্ছেদ।

অথচ তুমিই যে আমার একমাত্র আদর্শ সংবিধান

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মহাকাব্য।

 

গত শীতকাল থেকে আমাকে শেখাচ্ছ তুমি

নীতিমালা, প্রাচীনকালের চর্যাগীতি;

কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের মতো হাতেকলমে

আমাকে শেখাচ্ছ তুমি বর্ণমালা, ধ্বনিতত্ত্ব; প্রমিত বাংলা উচ্চারণ

অথচ আমি উচ্চারণ করি: হেলেনা আমার, হেলেনা আমার।

 

জনসচেতনতা বাড়াতে গিয়ে তুমি নিজেই

গভীর রাতে বাড়ি ফিরছ, সিগারেট খাচ্ছ,

অথচ আমি যে তোমার নেশায় মাতাল হচ্ছি, হুইস্কি খাচ্ছি,

তলিয়ে যাচ্ছি ডিপ্রেশনের নিতল আঁধারে।

এর চেয়ে কি আর হতে পারে এমন বিষাদনীল?

এর চেয়ে কি আর হতে পারে এমন বেদনার?

 

 

 

 

 

 

=====================

 

 

 

 

 

 

মাথিনের কূপ

শাহেদ সাদ উল্লাহ

 

যেন ফের ডেকে ওঠে ছায়াগুলো।

অতলে জলের শূন্যতা শুনে যায় অন্ধ মাছেরা।

তিমিরের কালো চুল বেয়ে ক্য়ুাশা নামে দূরের মেঘের মতো।

 

অনুজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর কোনো অনুযোগ নেই।

পাহাড়ী চাঁদ গড়িয়ে পড়েছিল জলে।

ঘাসের নীরবতা চোখ তুলে দেখে।

অক্ষমতা অন্ধকারেই ভাঁজ করে করে রেখে দি।

ভেবে, জোনাকিরা উড়ে যাবে সেখানে।

দেয়ালে কে যেন এঁকে রাখে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের চোখ, বিদ্ধ ধনুক।

 

কেউ সমুদ্রে নেমে যায় ভিজিয়ে পা,

কেউ বেদনাগুলো সমুদ্রেই রেখে আসে।

আজ সে-সমুদ্রেও হয় অকাল সূর্যাস্ত। কালশিটে পড়ে স্রোতে।

ধীরে ক্ষয়ে যায় সমগ্র আকাশ।

দিগন্তের নিচে পাল-তোলা জাহাজ

চেয়ে-চেয়ে দেখে শেষ গোধূলি।

 

পাখিদের সব পাখায় একটি করে

ক্রন্দন ওড়ে। মাঝে-মাঝে রোদ

কুড়িয়ে নিয়ে ওরা চলে যায় দূরে–মাথিনের কূপে।

সেখানে দগ্ধ মেঘের আড়ালে

ঝরে কাঁচের বৃষ্টি।

নাফনদী জানে, যতটা গভীর হয় রাত–ততটা বাড়ে ক্ষত।

মাথিনের কূপ হয় রক্তাপ্লুত।

 

=====================

 

 

 

 

 

জেগেছি

হোসনে আরা বিউটি

 

সবকিছু বদলে দাও

তোমরা আবার উঠে দাঁড়াও

আবার জাগো নতুন রূপে

ভয়ভীতি সব তাড়াও।

 

আবার এসেছে দিন

সবকিছু হারালাম

শকুন দাঁড়িয়ে দেখ

ভুল নাই জাতিনাম।

 

সমাজ শত্রু কারা

তোমাদের নেই ছাড়

শকুনেরা সাবধান

আমরা জেগেছি আবার।

রূপের বহর চাটগাঁ শহর

উৎপলকান্তি বড়ুয়া

 

চকবাজারের চক্কু মিয়ার তিনটা ফ্ল্যাট বাড়ি

প্রতি মাসেই বদলান তার নিউ মডেল গাড়ি।

ট্যারা সফিক টেরিবাজার ঘর বাড়ি রয় ছাড়ি

আন্দরকিল্লার আনু করে চায়ের দোকানদারি।

 

ধনিয়ালা পাড়ার ধনু বিরাট ধনী লোক

কাপাসগোলার কফিল মিয়ার খেলার প্রতি ঝোঁক।

অক্সিজেনের রকসি বসুর হোটেল ব্যবসা আছে

তার মোটেও মুখের রুচি নেই মাংস মাছে।

 

গোলক সেনের শোলকবহর বাড়ি গড়ার শখ

জামালখানের কামাল উদ্দিন চোখের চিকিৎসক।

কোতোয়ালির কৈতান ঘোষ তালা দিয়ে দোরে

সারাটা দিন ঘুরে বেড়ায় কাজির দেউড়ি মোড়ে।

 

নাসির আলি নাসিরাবাদ শ্বশুর বাড়ি থাকে

বাকলিয়ার বগারবিলে দেখতেও যায় মা’কে।

ষোলশহর থেকে জানি কাছেই মুরাদপুর

মুরাদ আলী কয় হাঁটা যায় বলুন এতদূর?

 

বহদ্দারহাটের বদর শেখের মাথায় আছে সিট

সারাটা দিন বসে বসে রাশিতে দেয় গিঁট।

গোল পাহাড়ের গোপাল দত্ত বেচে বিড়ি পান

পাহাড়তলীর বাহার ভালো গায় আধুনিক গান।

 

বাদুরতলা চাকরি করে বীর বাহাদুর দাশ

পাহাড়তলীর পাহাড় থেকে তাহের কাটে ঘাস।

জয় বড়ুয়া রয় নন্দনকাননে তার বাসা

বেশ মেধাবী বিদেশ গিয়ে চাকরি করার আশা।

 

দেওয়ানহাটের দেওয়ান রায় ওভারে ব্রিজের নিচে

রয় বসে কেউ জানে না রে মানে কি তার পিছে?

ঘাট ফরহাদবেগের ফরিদ বের হয় না দিনে

দেওয়ান বাজার থেকে আনে রুইয়ের মাথা কিনে।

 

আগ্রাবাদের তাগড়া জোয়ান সোহান সফির রোজ

চারটে চিকেন পাঁচ হালি ডিম নিত্য তাহার ভোজ।

নতুন নতুন রূপের লেটেস্ট মডেল প্রাইভেট কার

মোগলটুলির মকবুল হক গাড়ির দোকানদার।

 

আছদগঞ্জের অছি মিয়ার যায় না এখন দেখা

পাঠানটুলীর পাঠানদেরও নেই চিহ্ন রেখা।

মনসুর আলীর মনসুরাবাদ টেক্সিগ্যারেজটাতে

সুযোগ সেবা পায় সকলে সারাটা দিন রাতে।

 

বিবির হাটের গোলাম পালে পাটনাইয়া খাসি

আলকরণ আর নিউমার্কেট দুটোই পাশাপাশি।

সদরঘাটের বদর আলীর সাহস ও জোর খুঁটি

অলংকার ও টাইগার পাসে মুদির দোকান দুটি।

খুলশি আবাসিকে খুলু নানা ও নানির সাথে

কাতালগঞ্জের কলিম জাগে ঘুমায় না সে রাতে।

নাসিরাবাদ নয়াবাজার বাদামতলী মিলে

সাদ্দাম আলীর তিনটি শপই চমকে দেবে পিলে।

 

লালখান বাজারেতে লাল মিয়ার ওঠা বসা

তার জন্যই লেখা বুঝি কপাল ভাগ্য দশা-

শালা বিহীন শশুরবাড়ির সব সম্পদ পেয়ে

চান্দগাঁওতে রয় বউ আর দুই ছেলে ও মেয়ে।

 

রেয়াজউদ্দিন বাজারে রোজ রিয়াজ বাজার করে

পাঁচলাইশে দশ তলার উপর থাকে ভাড়ার ঘরে।

হেমসেন লেইন হেমা সোমের পৈতৃক ঘর বাড়ি

ফিরিঙ্গীবাজার যায় করতে প্রাইভেটে মাষ্টারি।

 

মাদারবাড়ির ছাদর উদ্দিন রিকশা চালায় দিনে

আটজনের সংসারে অভাব জর্জরিত ঋণে।

বাংলাবাজার ঘাটের মাঝির রোদে পোড়ে চাম

বক্সিরহাটের পানের খিলির নেইরে আগের নাম।

 

চন্দনপুরার চান্দু গুহ বোঝে বাজার হাট

বাদুরতলায় মাদুর পাটির ব্যবসা জমজমাট!

কদমতলীর কদম বাড়ির নামটা আলো করে-

পুত্র তাদের জ্ঞান ও গুণে সবারই উপরে!

 

চৌমুহনী থেকে সোজা পশ্চিমে দাও টান

ছোটপোলের পাশে বড়পোলের অবস্থান।

চাক্তাইতে আখতারের ব্যবসা উন্নতি তর তর

বাকলিয়ার বিএড কলেজ জ্ঞান-সূতিকা ঘর।

 

রয় চেরাগী পাহাড় এবং টেরিবাজার কারা?

একটি গলিই হাজারী গলি! বেষ্ট মেডিসিন পাড়া।

হালিশহর ফইল্যাতলী বাজার তো নাম করা

পাথরঘাটার পার্থ গোমেজ শিক্ষক বেশ কড়া!

 

কালুরঘাটের কালু মিয়া বয়স আটাশ তার

গোল পাহাড় আর মেহদিবাগে রাতের টহলদার।

বাহার সিগন্যাল বাহার আলি তার পোলাপাইন পাঁচ

পাচলাইশের পাঞ্চু বনিক শেখায় ড্রয়িং নাচ।

 

ঈশান মিস্ত্রির হাটে জিসান বেচে জমির সার

কাট্টলিতে কালাম বানায় কাঠের ফার্নিচার।

বউ বাজারে বউরাও করে নানান কেনা কাটা

বন্দর দেশ জাতির পুরো সোনার জানালাটা।

 

কর্ণাল হাট, জি ইসি, লাভ লেইনে এসে থেমে

কুনাল ঘোষাল এক্কেবারে হায় রে গেছে ঘেমে!

পতেঙ্গা সি বিচে সোজা আসতে চায় যে কেউ

মন জুড়িয়ে যায় রে দেখে সাগর জলের ঢেউ।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে