মূল : বানু মুশতাক
কন্নড় ভাষা থেকে ইংরেজি ভাষান্তর : দীপা ভাস্তি
বাঙলায়ন : কুমার প্রীতীশ বল
(বানু মুশতাক: দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের একজন লেখক, মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবী। তিনি ছয়টি ছোটগল্প সংকলন, একটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধ সংকলন এবং একটি কবিতা সংকলনের লেখক। তিনি কন্নড় ভাষায় লেখেন। বানু মুশতাক কর্ণাটক সাহিত্য একাডেমি এবং দানা চিন্তামণি আত্তিমব্বে পুরস্কারসহ নানান পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর আগে উর্দু, হিন্দি, তামিল এবং মালায়ালাম ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে। ‘হার্ট ল্যাম্প’ তাঁর রচনার ইংরেজিতে অনূদিত প্রথম গ্রন্থ। এটি বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
দীপা ভাস্তি : দক্ষিণ ভারতের একজন লেখক এবং অনুবাদক। তাঁর কলাম, প্রবন্ধ এবং সাংস্কৃতিক সমালোচনা ভারত এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অনূদিত কন্নড় সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে কোটা শিবরাম করণথের একটি উপন্যাস এবং কোডাগিনা গৌরাম্মার একটি ছোটগল্প সংকলন। ইংরেজিতে তাঁর অনূদিত বানু মুশতাকের গল্প ভারতের সম্মানজনক পুরস্কার ‘পেন ট্রান্সলেটস পুরষ্কার’-এ ভূষিত হয়েছে। দীপা ভাস্তি’র ইংরেজিতে অনূদিত বানু মুশতাকের গল্পসংকলন ‘হার্ট ল্যাম্প’ ২০২৫ সালের বুকার আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করে।)
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আমার মতো কোটি কোটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব সৃষ্টি করার পর, আমাদের সৎকর্মের জন্য বেহেশত এবং গুনাহের জন্য দোজখ তৈরি করার পর খোদা, যিনি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন: খোদা, বেহেশতের বাগানের সুমিষ্ট সুবাস উপভোগ করার জন্য আপনাকে এখনই আপনার পথে যেতে হবে। অথবা সম্ভবত আপনি ফেরেশতাদের আদেশ করেন, যারা হাত জোড় করে, আলোকিত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি হয়তবা আপনার আত্মার একটি ক্ষুদ্র অংশ, কিন্তু আমার একটি অনুরোধ করার অধিকার আছে, তাই না? কারণ . . .
এটা এমন এক সময়ের কথা, যখন আমি বিশেষভাবে ভঙ্গুর এবং দুর্বল ছিলাম। যদিও তখন আমার আসলে খুব বেশি সমস্যা ছিল না। আমার চারপাশে সবসময় চারটি দেয়াল ছিল, আর তোমার বিশুদ্ধ কল্পনার সেই অসাধারণ সৃষ্টি বাতাসের আকারে স্বাধীনতা, আমার মুখ স্পর্শ করত; যখন আমি জানালা খুলতাম। আমি যখন রাতে জুঁই গাছে হাত দিতাম, একটা মর্মস্পর্শী সুবাস ছড়িয়ে দিত তখনই, কেবল রাতের বেলা। সাদা তুলোর মতো মেঘ, অস্তগামী সূর্যের শিখার মতো রশ্মি দ্বারা তাদের কিনারায় সূচিকর্ম করা এবং উঠোনের একাকী কারি পাতা গাছের ডালপালা দিয়ে ঝলমল
করছিল, তখন মাঝখানের ঘরের জানালা থেকে আমি কালো মেঘের গর্জন দেখতে পেতাম, যা দেখতে হাতির মতো লাগছিল। কেবল আমার হৃদয়ে মুক্তোর মতো বৃষ্টির হিংস্রতা দেখতে পেতাম। আমার পা কখনও সামনের উঠোন স্পর্শ করেনি এবং কেবল ঘরের চৌকাঠের ভেতরে মেঝেতে পা রেখেছিল। আমার শাড়ির আঁচল একবারও মাথা থেকে সরে যায়নি। আমার চোখের পাতা লজ্জায় কানায়-কানায় ভরে যেত। হাসি আমার ঠোঁটে ভেসে ওঠেনি এবং আমার চোখও মৌমাছির মতো ঘুরে বেড়ায়নি। এই কারণেই আম্মা আমার ওপর কড়া নজর রাখতেন না। এটা করো না, ওটা করো না, এভাবে দাঁড়াও না, ওভাবে দেখ না… ওকে আমাকে এসব কথা বলার দরকার ছিল না। আমারও অনেক কিছু ভাবার অভ্যাস ছিল না।
কিন্তু তবুও, আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন আছে! এই সব- এই ঝলমলে, সবুজ রঙের ঝিঁঝিঁ পোকা, সর্বত্র এই রঙ, ঝলমলে পাথর, সুগন্ধি কাদা, বাতাস, এই মিষ্টি গন্ধ, এই গাছপালা, মাঠ, বন, গর্জনকারী সমুদ্র, এই বৃষ্টি, বৃষ্টিতে ভেসে আসা কাগজের নৌকা — এগুলো এমন কিছু নয়, যা আমি স্পর্শ করতে পারি বা ডুব দিতে পারি, গন্ধ নিতে পারি না, দেখতে পারি না, কারণ এর দিকে আমি মুখ তুলে তাকাতে পারি না। তুমি এই সব তার জন্য, তোমার সর্বোচ্চ সৃষ্টির জন্য দিয়েছ, তাই না? এটাই একমাত্র সত্য যা আমি জানি। তাই বলে আমি খুব বেশি ঝামেলা করিনি কারণ এটা তোমার আদেশ, মনে হচ্ছে। বেচারা আম্মা! সে কি করতে পারত, সর্বোপরি?
তাই আমি কখনও পাল্টা কথা বলিনি এবং আম্মা যা যা বলেছিলেন সবই শুনেছি। আমি এটা বলতে চাই: তোমার বাধ্য হওয়া উচিত, সে বলল, সে তোমার কাছে খোদা, সে যা বলবে তাই করা উচিত, তোমার তার সেবা করা উচিত। এই কথাগুলো আমার হৃদয়ে খুব গভীরভাবে খোদাই করা হয়েছিল।
এমনকি আমার নামও হারিয়ে গেছে। তুমি কি জানো আমার নতুন নাম কী ছিল? তার স্ত্রী।
আব্বার কথা? থাকুক। যখন আমাকে আম্মাকে ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে, তখন মনে হলো যেন আমার হৃদপিণ্ডটা ছিঁড়ে, হাতের তালুতে রেখে জোরে চেপে ধরা হয়েছে। আম্মাও কষ্ট পাচ্ছিলেন। তবুও, তিনি কিছুই বললেন না। তার ভেতরের দিকে একটা করাত উন্মত্তভাবে ছুটে যাচ্ছিল। কিন্তু তবুও তার চোখ জ্বলছিল; কেবল চোখের কোণাদুটো ভেজা ছিল। হয়ত তুমি বুঝতে পারবে। তারা বলে তুমি আমাদের জন্য শত শত মায়ের ভালোবাসা বহন কর; এক মায়ের হৃদয়ের জ্বলন্ত আগুন নিশ্চয়ই তোমার ভেতরে থাকা শত শত হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। কিন্তু আমি তোমাকে কোথাও দেখতে পাইনি। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আম্মা আমাকে তার বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, তার ঠান্ডা হাত আমার জ্বলন্ত গালে রেখেছিল। কিন্তু তারপর সে আমাকে আমার মায়ের আলিঙ্গন থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল। আমি সোনা-রূপার সূচিকর্ম করা কাপড়ে মোড়ানো এক মূল্যবান রত্ন ছিলাম।
আমি জানতাম আম্মা কাঁদছেন। আমরা যত দূরেই যাই না কেন, আমি এখনও তার কান্না শুনতে পাচ্ছিলাম। এখানেও একটি ছোট প্রশ্ন: যদি সে এসে আমাদের সঙ্গে শিকড় গেড়ে বসত তাহলে কী হতো? যখন তুমি এত অবসর সময়ে পশুরাজ্য, সোনালি আবরণে মোড়ানো ফুলের ভেতরের সূক্ষ্ম সুতোর মতো অংশ, এই অসাধারণ পুকুর, হ্রদ, নদী এবং ঝর্না তৈরি করেছ, তখন কি তোমার আমার হৃদয়ে উঁকি দেওয়ার এবং আমার ভয়, আমার ইচ্ছা, স্বপ্ন এবং হতাশা দেখার সময় ছিল না?
আমার কাছে তখন আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। আমাকে অন্যের বাড়ির উঠোনে শিকড় গাঁথতে হয়েছিল, সেখানে নতুন অঙ্কুর গজাতে হয়েছিল, সেখানে ফুল ফোটাতে হয়েছিল। সে তখন যুক্ত হয়ে যাচ্ছিল, আর আমার পরিচয়ও হারিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি আমার নামও হারিয়ে গেল। তুমি কি জানো আমার নতুন নাম কী? তার স্ত্রী। আমার শরীর, আমার মন আমার নিজের ছিল না। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, সে আমার শরীর চাইছিল, যার শক্তি ফিরে আসার ক্ষমতা আমার অজানা ছিল। সে আমাকে গ্রাস করেছিল। সেই মুহূর্তগুলো ছাড়া, তুমি তাকে যে ক্ষমতার রাজদন্ড দিয়েছিলে তা তার হাতে জ্বলজ্বল করছিল।
তার সব ধূর্ততা কোথা থেকে এবং কীভাবে বেরিয়ে এলো, আমি জানি না। মুহূর্তের মধ্যেই সে আমার হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারত এবং প্রতিটি টুকরো বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে দিতে পারত। আমার শরীর ছিল তার খেলার মাঠ, আমার হৃদয় ছিল তার হাতের খেলনা। এভাবেই, আমি আমার হৃদয় মেরামত করার জন্য মলম লাগাতাম, কিন্তু সে ইচ্ছামতো ভেঙে ফেলত। হে খোদা, আমাকে কেন খেলনা হতে হলো? আমি তাকে ঘৃণা করি না, আর আমি চাইও না যে সে আমার খেলার জিনিস হোক। যদি আমি তার মেরুদণ্ড হতাম আর সে যদি আমার চোখের জল মুছে দিত…
এক সপ্তাহেরও কম সময় সে আমাকে ব্যবহার করছে, যখন সে পাগলের মতো আচরণ করত। আমি কে? আমার মর্যাদা কী, এমন লোক আছে যারা আমাকে লক্ষ লক্ষ রূপী দেবে, কিন্তু আমি তোমার মতো ভিক্ষুককে ঘরে এনে ফেলেছি! তখন আমার কী উত্তর দেওয়ার থাকে? আম্মার পরামর্শ অনুসারে, আমি চুপ করে রইলাম। সে আদেশ দিল, ‘তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে অবিলম্বে পঞ্চাশ হাজার টাকা আনতে হবে। যদি না হয়, তাহলে তুমি আর কখনও সেখানে পা রাখতে পারবে না।’ ময়লা কাপড়ে মোড়ানো গয়নার মতো আমি আম্মার কাছে ফিরে গেলাম।
আম্মার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে তার চোখে শত শত সূর্য ও চাঁদের আলো জ্বলে উঠল। যখন সে দেখল, সে আমার সঙ্গে আসেনি তখনই সেগুলো ম্লান হয়ে গেল। সে আমাকে আলতো করে ঘরে তুলে নিল। পঞ্চাশ হাজার টাকার দাবি আমার মুখের আনন্দকে বিঘ্নিত করেছিল। সেই রাতে যখন আমি আম্মার পাশে শুয়েছিলাম, তখন আমার মনে শান্তি এসেছিল, কিন্তু শীঘ্রই তার কথা মনে পড়ে গেল। আম্মার প্রেমময় হৃদয়ের দুর্গে একটা গর্ত খুলে গেল। সে ভেতরে ঢুকে পড়ল। তিন দিন কেটে যাওয়ার পরেও আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে জিজ্ঞাসা করল, আমি টাকা পেয়েছি কিনা এবং আমার শুষ্ক মুখটি দেখে, তখন সে বলল: ‘এবারই আমরা এখানে শেষ বার আসব। এখন থেকে তুমি আর ফিরতে পারবে না; তোমার বাবা-মাও আমাদের বাড়িতে আসা উচিত নয়।’
আম্মা পেট ভরে আমাকে খাইয়েছেন। তিনি আমাকে তার সমস্ত হৃদয় দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি সমস্ত গিঁট খুলে আমার চুলগুলো এমনভাবে বেণী করেছিলেন যেন তার সমস্ত প্রেমময় চুম্বন একত্রিত করে রেখেছেন। আমার চুলে তিনি যে জুঁইয়ের সুতো বেঁধেছিলেন, তা তার মতোই সুগন্ধযুক্ত ছিল। কনকম্বর ফুল জুঁইয়ের সঙ্গে লুকোচুরি খেলত। প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে আম্মার দিকে ফিরে ফিরে তাকাত। আমি আমার অনিচ্ছুক পদচিহ্ন মাটি থেকে সরিয়ে তার পিছনে হাঁটতে লাগলাম।
সে তার কথা থেকে সরে যাওয়ার মতো ছিল না। তার অহংকারের কি একটা সীমা থাকা উচিত ছিল না? তার বাড়িতে ফিরে আসার পর তিন দিন পর্যন্ত আমি আমার বিনুনি খুলিনি। আম্মার প্রেমময় চুম্বনগুলো সরে যাওয়ার ভয়ে আমি ভীত ছিলাম। আমার হৃদয় তার সঙ্গে লেগে ছিল; শেষ কথা বলার জন্য তারও ছিল আসক্তি। এরপর আর আম্মার সঙ্গে দেখা হয়নি। তোমার কাছে এটা জানানোরও আমার কোন প্রয়োজন নেই। তুমি এসব জানো; তোমার নিজের হিসাব রক্ষকরা প্রতিদিন কোটি কোটি এরকম প্রতিবেদন তোমার কাছে আনে, কিন্তু সেগুলো সবই কলম দিয়ে লেখা, অথচ এই প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে হৃদয় থেকে, একজন নারীর হৃদয় থেকে, হৃদয়ের ধারালো নিব দিয়ে লেখা চিঠির একটি স্ট্রিং এবং ভেতরে লাল কালির মতো। হয়তো এখনও পর্যন্ত তোমার কাছে এমন কোনো অনুরোধ পৌঁছায়নি কারণ তোমার কাছে আমার মতো হৃদয় আছে এমন কোনও হিসাব রক্ষক নেই।
সব-সময়ের মতো, আমি এমন এক আত্মার বন্দি যার দরজা-জানালা বন্ধ। আমি আর কখনও আম্মা, আব্বা অথবা আমার ছোট ভাইকে দেখতে পাইনি। একটা দূরের আশা ছিল, আম্মা চুপ করে থাকবেন না। আমি জানি, তিনি অনেকবার আমাকে দেখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এতটাই শক্তিশালী দুর্গ তৈরি করেছিলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা বৃথা গিয়েছিল। টাকার প্রতি তার লোভ আমাদের সমস্ত আসক্তি, ভালোবাসা এবং স্নেহ গ্রাস করেছিল। তিনি অন্ধ ছিলেন কিন্তু তার অবস্থানের প্রতি দৃঢ় ছিলেন।
অনেক প্রতিবেশী আমাকে পরামর্শ দিত, সে যেমনটা ঠিক মনে করে তেমনই হতে। এমনকি তুমিও একই কথা প্রচার করেছ, সে আমার প্রভু, তার কথা মেনে চলা আমার কর্তব্য, এই পৃথিবীতে সে যে কোনো জায়গায় যখন ইচ্ছা দেখাতে পারে। কিন্তু আমি? তুমিই বলেছিলে, মাও ঈশ্বরের সমান, তুমিই বলেছিলে যে তার পায়ের নিচে বেহেশত আছে, তবুও আমি তার সঙ্গে একবারের জন্যও দেখা করতে পারি না। আমার সীমিত চিন্তাভাবনাগুলোকে আঘাত করে এমন ছোট ছোট সমস্যাগুলোর জন্য তোমার কি সময় আছে, তুমি কি আমার পুরো জীবনকে তিন ঘন্টার নাটক বলে মনে কর, আমি তোমার কাছে একজন অভিনেতা বলে মনে হয় কিনা, একটা কথা মনে রাখবে: আমার সুখ-দুঃখ ধার করা নয়। এগুলো অভিনয় করার জন্য নয়। এগুলো অভিজ্ঞতার জন্য। তুমি কেবল একজন বিচ্ছিন্ন পরিচালক। যখন তোমার নিজের কোনও চরিত্র আমার মনকে আক্রমণ করে, তখন পরিচালক হিসেবে তোমার কি কোনো কর্তব্য নেই? আমাকে অন্তত একটা সান্ত্বনা দাও। এই সবের মধ্যে আমার দোষ কী, বলো?
সে আমাকে কখনও জিজ্ঞাসা করেনি, আমি কিছু খেয়েছি কিনা বা পান করার জন্য কিছু পেয়েছি কিনা। কিন্তু সে চাষ করত, বীজ বপন করত; আমার ভাঙা হৃদয় এবং ক্লান্তিতে ভরা আত্মা সত্ত্বেও। শরীর পাকা ছিল, গর্ভ প্রস্তুত ছিল এবং তার ক্ষুধাও ছিল প্রচন্ড। আমি নিজেও মা হওয়ার প্রত্যাশী ছিলাম, কিন্তু আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে আমার মাতৃগৃহের পথে ক্রমাগত পিছনে ফিরে তাকাচ্ছিলাম। দিগন্তে যত দূরেই তাকাই না কেন, আমি কোনো রূপ বা আকৃতি দেখতে পেলাম না। আমি কেবল কয়েকটি সবুজ স্মৃতি গাছ দেখতে পেলাম, যখন তারা তাদের পাতা ঝরাচ্ছিল এবং খালি হয়ে যাচ্ছিল।
পরে জানতে পারলাম, আম্মা কোনোভাবে আব্বাকে রাজি করিয়েছিলেন, তারা তাদের নিজস্ব জিনিসপত্র বিক্রি করে বিশ হাজার টাকার একটা বান্ডিল নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসবে। সেদিন কাক ডাকছিল, ডান চোখটা দপ-দপ করে উঠল, আগুনের কুন্ডলি দেখা গেল। সম্ভবত আম্মা আসবেন। আম্মা যাত্রা শুরু করেছিলেন কিন্তু পৌঁছাননি। কোথাও একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। সবদিক থেকেই যেন অশান্তির পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তিনি আমাকে আম্মার মৃতদেহ দেখতে যেতে দেননি। বরং তিনি খেয়াল রেখেছিলেন, আমি যেন ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে না পারি।
এখানে আমাদের শহরের বড় হাসপাতালে, মনে হচ্ছে তারা তার মৃতদেহ কেটে ফেলেছে। সম্ভবত তারা তার হৃদয় কাটেনি। যদি তারা হৃদয়টা পেত, তবে তারা জমাট বাঁধা রক্ত পেত না; বরং তারা একটি জমাট বাঁধা আত্মা, বেশ কয়েকটি অপ্রতিরোধ্য লক্ষ্মণরেখা, অগ্নিপরীক্ষার কয়েক ডজন চিহ্ন খুঁজে পেত। কিন্তু একটা কথা সত্য: জীবিত অবস্থায় তার দেহ টুকরো টুকরো হয়ে গেলেও, যখন সে মারা গিয়েছিল তখন কেউ তার হৃদয় অথবা তার আত্মা স্পর্শ করেনি। একজন স্বর্গীয় কুমারীর মতো তার চোখ খোলা ছিল। আমি ভাবছি, সে কাকে দেখার আশা করছিল। দুর্ভাগ্যবশত তার চোখ খোলা ছিল, কারো আগমনের অপেক্ষায়।
এদিক ওদিক থেকে। জানালা দিয়ে। যদিও ভেন্টিলেটরের ভেতর দিয়ে আমি কিছু খবর শুনেছিলাম, কিন্তু যিনি সবকিছু দেখতে গিয়েছিলেন তিনি জেদ ধরে রইলেন। মনে হচ্ছে, আব্বা আম্মার মৃতদেহের পাশে বসে আম্মার কোমরে বাঁধা বিশ হাজার টাকার বান্ডিলটি খুলে তার হাতে ধরিয়ে দিলেন। মনে হচ্ছে, তিনি মিনতি করে বললেন, ‘অন্তত এখন ওকে এখানে নিয়ে এসো।’ তিনি আমাকে এই বিষয়ে কিছুই বলেননি। তিনি আমাকে সেখানেও নিয়ে যাননি।
একটা মেয়ের জন্ম হলো, তার মুখটা ঠিক আম্মার মতো, চোখ দুটো গভীর জলাশয়ের মতো। আম্মার মতোই, আমি তাকে কোলে তুলে নিলাম, জড়িয়ে ধরলাম এবং তার সঙ্গে খেললাম। এখন আমার অশ্রু ঝরেনি, পুকুর আর নদীতে পরিণত হয়নি। বরং আমার চোখের কিনারা কুয়াশার মতো ঝলমল করছিল। তোমার অসাধারণ উপহারের জন্য ধন্যবাদ; তুমি আমাকে ভুলে যাওয়ার শক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প দিয়েছ। জীবনের মরুভূমিতে পুরনো স্মৃতির শীতল বাতাস শান্তিপূর্ণ ছিল। আমি আবার গর্ভবতী হয়েছি, যদিও আমি এখনও বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলাম এবং যখন আমি তাকে আমার বাহুতে বহন করছিলাম, তখন অন্য জোড়া পায়ের নরম লাথি এবং ছোট্ট হৃদয়ের স্পন্দন আমার মধ্যে শিকড় গেড়েছিল।
আমি ভীষণ উত্তেজিত হয়ে উঠলাম। সে তার গোঁফ মুচড়ে বলল, ‘আমিই ওদের লালন-পালন করছি, ওদের বহন করতে তোমার সমস্যা কী?’ বেচারা। সে যা বলছে তা ঠিক। তুমি যদি তাকে একবারও সন্তান জন্মদানের অসুবিধা সম্পর্কে বলতে, তাহলে সে হয়ত এ-কথাগুলো বলতে পারত না। গলা পরিষ্কার করা যত সহজ, চাপ কমানোর জন্য প্রস্রাব করা যত সহজ, তুমি এমন একটি সরল সত্তা তৈরি করেছ যা অহংকারী এবং সুখী, আর এখন তুমি উদাসীন। তাকে কি রক্ত-মাংস দিয়ে অস্বস্তিকর করে তোলা উচিত? তার হাড়ের লবণ কি পিষে গর্ভে খাওয়ানো উচিত? সে কি কেবল মাংস নয়, পাঁজর ভেঙে ফেলার তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে বাস করবে? যদি তার এই অভিজ্ঞতা হতো। না, আমার এই জিনিসগুলো জিজ্ঞাসা করার সুযোগ নেই; কারণ তুমিই স্রষ্টা এবং সে তোমার প্রিয় সৃষ্টি। এটা কি আমাকে সৃষ্টির প্রতি অপ্রিয় করে তোলে?
যখন তার ইচ্ছানুযায়ী একটি ছেলের জন্ম হলো, তখন তার আনন্দের সীমা ছিল না। যদিও আমি খুশি ছিলাম না, তবুও একটা জিনিস আমাকে তৃপ্তি দিয়েছিল। অন্তত আমরা আমার মতো আর একজন অসহায় বন্দীকে সৃষ্টি করিনি। এমন একজনের পরিবর্তে যাকে করুণভাবে, স্থিতিশীলতাহীনভাবে জীবনযাপন করতে হবে, এমন একটি ছেলের জন্ম হলো যে পুরুষ হওয়ার সম্পূর্ণ অহংকারে গর্বের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে!
আমি আমার মেয়ের উপর আরও ভালোবাসা ঢেলে দিলাম।
দুটো সন্তানই বড় হচ্ছিল। তার মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্বের জটিলতা এবং অহংকার সবই ডিম পাড়ছিল এবং সন্তান জন্ম দিচ্ছিল। আমি সবচেয়ে কর্তব্যপরায়ন দাসে রূপান্তরিত হয়েছিলাম; এটাই ছিল একমাত্র পথ। পৃথিবীকে কিছুই না দিয়ে, পৃথিবী থেকে কিছুই না পেয়ে, সামাজিক সম্পর্কের কোনো সচেতনতা ছাড়াই, নামহীন, একজন ব্যক্তির চেয়ে কম, আমি কেবল তার স্ত্রী, অর্থাৎ বিনামূল্যে শ্রম। রাতে যদি আমি কল্পনা করতাম, তার সুরক্ষা ছাড়া আমার কী হবে, আমি কাঁপতে শুরু করতাম। তাকে ছাড়া আমি কিছুই ছিলাম না এবং সেই তীব্র বাস্তবতা আমার চোখের সামনে সর্বদা ছিল। আমি কেবল একটি ছায়া ছিলাম। আমি প্রথমে এটি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম না। আমার মধ্যে অনেক দ্বন্দ্ব ছিল। তাকে ছাড়া ভবিষ্যতের সামান্যতম ইঙ্গিত পেলেই আমি ভয় পেয়ে যেতাম। পরিস্থিতি কল্পনা করতেও আমি ভয় পেতাম। আমি একজন দাস ছিলাম; তবুও, যে মালিক আমার শ্রমের বিনিময়ে আমাকে খাবার, জল এবং আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাকে আমার কাছে মহাত্মার মতো মনে হয়েছিল।
হয়তো এভাবেই চলতে পারত, আর আমিও শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বিয়ে দিতাম এবং তারপর মারা যেতাম, ঠিক আম্মার মতো। কিন্তু একদিন সে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করল। স্পষ্টতই আমার পেটে একটা টিউমার গজিয়ে উঠছিল। ডাক্তাররা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলল, আমার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। তার মুখটা যেন আমার উপর রেগে আছে। ডাক্তারদের সামনে সে কিছুই বলল না। আমার অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর, সে ফিরে এসে শুধু দাঁড়িয়ে রইল। ‘তুমি যে গলায় চেইনটা পরে আছো, সেটা আমাকে দাও।’ সে আদেশ দিল। এই চেইনটা সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। আম্মা যখন আমার বিয়ে দিয়েছিলেন, তখন এই দুই-স্ট্র্যান্ডের চেইনটা বানিয়ে দিয়েছিলেন। মা তার নিজের বিয়ের সোনা গলিয়ে এটা তৈরি করেন। আমি আম্মার স্মরণে সবসময় এটা পরতাম। এই কারণেই আমার মন এটা দিতে অনিচ্ছুক ছিল। আমি তোতলাতে-তোতলাতে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি এটা এখন কেন চাইছ?’ আমার মনে হয় জীবনে এটাই প্রথমবার তাকে প্রশ্ন করেছিলাম। দ্বিধা বা করুণা না করে, সে খুব স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিল, ‘আমি আবার বিয়ে করছি। আমি এটা নতুন মেয়েটিকে দিতে চাই।’ অন্ধকার আমাকে ঘিরে ধরেছিল। আমি কি এই গ্লুকোজের বোতলগুলো ছিঁড়ে পালিয়ে যাব? কোথায় পালিয়ে যাব? আমি কি তাকে একটা থাপ্পড় মারব? হে খোদা! এটা অসম্ভব। বাচ্চাদের কী হবে? আমার ঘরের চার দেয়ালও আমার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা আমার চোখের সামনে দৃঢ় হয়ে ওঠে, আর তখন আমি ভেঙে পড়েছিলাম।
আমি আমার বাম হাতে চেইনটা এমনভাবে ধরে রাখলাম যেন এটা আমার জীবন। সে অবাক হয়ে গেল, হয়ত সে এটা আশা করেনি। সে আমার দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকাল। আমার অস্বীকৃতি তার চেইন না পাওয়ার চেয়েও বেশি অপমান করেছে। সে জ্বলে উঠে, প্রতিশোধ নিতে চাইছে। ‘ওহ! তুমি কি মনে কর তোমার চেইন না দিলে আমার বিয়ে হবে না?!’ সে চিৎকার করে উঠল। আমি ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি এখন আবার বিয়ে করতে চাও কেন?’
‘আমি কি তোমাকে এর ব্যাখ্যা দেব? ঠিক আছে, তাহলে শোনো। আমি তোমার মতো ভিক্ষুকের সঙ্গে আমার জীবন নষ্ট করতে চাই না। অসুস্থ মানুষে কী লাভ? আমি একটি ভালো পরিবারের ভালো মেয়েকে বিয়ে করছি।’
তুমি আমাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি দিয়েছ। কিন্তু এত যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য তাকে নিষ্ঠুরতা দেওয়া তোমার উচিত হয়নি। ধৈর্যের সীমা কত? ধৈর্য আমার জীবনের মূলমন্ত্র হলেও, আমি অসহায়ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। আমি কিছু বলার আগেই সে বলল, ‘তুমি কি আরও শুনতে চাও? তোমার কাছ থেকে আমি কী আনন্দ পেয়েছি? যতবারই তোমাকে স্পর্শ করেছি, তুমি মৃতদেহের মতো সেখানে পড়ে আছ। সে-জন্যই আমি আবার বিয়ে করছি।’
আমি সোজাভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার কথাগুলো নীরবতায় পরিণত হয়েছিল। আমার চোখ অশ্রুর আবরণে ঢেকে গিয়েছিল। আমাকে আবর্জনার মতো রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছিল এবং আমি রাগে ভরে যাচ্ছিলাম। আমি বিছানা থেকে উঠতে চাইছিলাম, কিন্তু পারছিলাম না। ধীরে ধীরে আমি ভাবতে শুরু করি। তাকে থামানো কি আমার পক্ষে সম্ভব ছিল? তার অনুগত দাস হিসেবে আমার সময়ে, আমি মাত্র তিন-চারটি সহজ প্রশ্ন করেছিলাম, যার উত্তরে আমি হাজার হাজার উত্তর পেয়েছি।
‘দেখ, তুমি ভালো নেই। ওকে আবার বিয়ে করতে দাও।’ যদি কেউ বলে, ‘আরে, সব ঠিক আছে, ও একজন পুরুষ, শুধু একটা নয়, ও চারটি বিয়ে করতে পারে, তুমি কী চাইতে পার?’ অন্যরা মিথ্যে সহানুভূতির সঙ্গে পরামর্শ দিল, তারা গোঁফের নিচে হেসে বলল: ‘দেখো, আমার প্রিয়, ওকে বিয়ে করতে দাও যদি সে চায়। প্রতি মাসে তোমাকে কিছু টাকা দেওয়ার দাবিতে মামলা দায়ের কর। বিচারের জন্য প্রায় চার-পাঁচ বছর সময় লাগবে। ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু দিন-মজুরির কাজ কর।’ এর মানে সমাজ তার কাজ মেনে নিয়েছে। তারা এমনকি বলে যে, তুমি এ-সব কাজে সাহায্য কর! তোমার নামে সে এটা করে; কারণ আমি তোমার অসম্পূর্ণ সৃষ্টি, হে খোদা? তুমি কি আমার অভিযোগ শুনতে পাচ্ছ? আমার কান্না কি তোমার কাছে পৌঁছাচ্ছে? আমি কী করব… আমি কী করব…
তুমি আমাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করার শক্তি দিয়েছ। কিন্তু তোমার তাকে এত নিষ্ঠুরতা দেওয়া উচিত হয়নি যে এত কিছু ঘটাবে।
তিন দিন ধরে সে হাসপাতালে আসেনি। আমি আর আমার বাচ্চারা হাসপাতালের লোকজনের দেওয়া বিনামূল্যের খাবার ভাগাভাগি করে খেয়েছি। ডাক্তাররা আমাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এখন সেটাও শেষ। বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে আমি অনেক কষ্টে আমার বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম। সামনের দরজায় একটা মোটা তালা। ঘরের সামনে নারকেল পাতার সবুজ ছাউনি। বাড়িতে কেউ নেই। প্রতিবেশীরা উঁকি মেরে দেখে আবার বাইরে উঁকি দিল। আবার দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। বাচ্চারা আমার কাছাকাছি বসে রইল। দিন কেটে গেল এবং রাত নেমে আসল, যদিও আমি ঘরের সামনে বসে থাকলাম।
হৃদয় এবং ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকার আরও ঘন হচ্ছিল। আমার অসহায়ত্ব দেখে বাচ্চারা তাদের ক্ষুধার কথা বলল না। যেহেতু আমার পা শক্ত ছিল, তাই আমি পা ছড়িয়ে দিলাম। বাচ্চারা আমার গায়ের সঙ্গে লেগে রইল। আমি ঘুমিয়ে গেলাম, আমি বুঝতে পারিনি কটা বাজে। আমার অন্তর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো জোরে একটা চিৎকারে আমার চোখ খুলে গেল। তখন দেখলাম, আমার পাশে ঘুমিয়ে থাকা আমার ছেলেটি খাদের মধ্যে পড়ে গেছে। এক লাফে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমি তার কাদা-ঢাকা শরীরকে জড়িয়ে ধরলাম। ঠিক তখনই আমি শুনতে পেলাম ছাউনির নিচে একটা টেম্পো থেমেছে। মানুষের কোলাহল, উত্তেজনা, উৎসবের কোলাহল শোনা গেল। সে নেমে পড়ল। টেম্পোর পেছনের দরজা থেকে তার অতি শক্তিশালী হাত দিয়ে সে লাল পোশাক পরা এক মহিলাকে তুলে ধরল, সোনার সূচিকর্ম করা কাপড়ে মোড়ানো মূল্যবান রত্নপাথরের মতো। সে উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপে এগিয়ে গেল। বাড়ির সামনের দরজা খুলে গেল। সবাই তার সঙ্গে ছিল। আমার ছেলে কাঁপতে কাঁপতে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি চোখ বড় বড় করে সব দেখছিলাম।
লাল কালিতে ভরা আমার হৃদয়ের নিব ভেঙে গেল। আমার মুখ আর কথা বলতে পারে না। লেখার জন্য আর কোনো অক্ষর থাকল না। আমি ধৈর্যের অর্থ জানি না। যদি তুমি আবার পৃথিবী গড়তে চাও, আবার পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করতে চাও, তাহলে অনভিজ্ঞ মৃৎশিল্পীর মতো হয়ো না। নারী হয়ে পৃথিবীতে এসো, খোদা!
একবার নারী হও হে খোদা!
কুমার প্রীতীশ বল : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক, ঢাকা




