এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির

তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে। শুধু প্রশ্ন করেই ক্ষান্ত হননি, সরু পাকা রাস্তাটার ঢাল বেয়ে হেঁটে ক্ষেতে নামতেও থাকেন। দৃষ্টিতে ক্ষেতে বসা ওই সামনের লোকটা। দেখেতো মনে হয় লোকটি বত্রিশ তেত্রিশ বয়সের হবে। পরনে কটকটা হলুদ রঙের লুঙ্গি, মালকোচা মারা। তবে মালকোচার এমন ভাব ফুটেছে যেনো এক অতি আনাড়ি হাতের কাজ। ঝুলে পড়া আড়াআড়ি গিট দেখে মনে হচ্ছে এক্ষুনি খুলে যাবে।

আসলেই তাই। এই লুঙ্গির মালকোচা নিয়ে লোকটি মানে সাজু বেশ উৎকন্ঠায় আছে। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে পৌনে বারোটা পর্যন্ত এ অবধি তিনবার কোঁচার গিট খুলে গেছে। কর্দমাক্ত হাত দিয়ে সেটা পুনরায় ঠিক করতে গিয়ে ফজু চাচার দেয়া আলমারিতে তুলে রাখা নতুন লুঙ্গিটার রফাদফা হয়ে গেছে। আর ওই ফজু চাচারই মামাতো ভাইয়ের ছেলে হলো এই সাজু। গ্রামে এসেছে ক্ষেতে কি না কি করবে। এই গ্রামেই সাজুর বাবা ইদ্রিস আহমেদের বিঘা আটেক কৃষি জমি সেই বিশ বছর আগে থেকে ফজু চাচাই চাষাবাদ করে আসছেন। কথা ছিল প্রতি বছর যা-ই ফসল ফলাবেন তার কিছু অংশ ফজু চাচা ঢাকায় পাঠিয়ে দিবেন। প্রথম প্রথম বছর দু’য়েক অনিয়মিত হলেও ফজু চাচা কিছু না কিছু পাঠাতেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন অজুহাতে সেটাও পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। ওদিকে ইদ্রিস সাহেবও সপরিবারে নিজস্ব ব্যবসার কাজে মালয়েশিয়া চলে যান। থাকেনও প্রায় সতেরো বছরের কাছাকাছি। গত এক মাস হলো ঢাকায় এসেছেন। এসে ফজু চাচার কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিয়ে ছেলের গ্রামে যাওয়ার ব্যাপারে সব ঠিকঠাক করেন। তো এতো দিন পর ইদ্রিস সাহেবের ছেলে কোথা থেকে এসে উদয় হলো তা ফজু চাচার বোধগম্য হচ্ছে না। বিঘা খানেক জমি চেয়ে নিয়েছে সাজু তার কাজের জন্য। কথা হয়েছে যে ফসল উৎপন্ন হবে তা দিতে পারবে না। আসলে সাজুর কর্মকাণ্ডে আদৌ কোনো ফসল হবে কিনা তার কোনো নিশ্চয়তাও নেই। এতোগুলো বছর পর গ্রামে নিজেদের বাড়ির অবস্থা ভালো না থাকায় সাজুর ব্যবস্থা হয়েছে ফজু চাচার বাড়িতেই থাকা-খাওয়ার। কথা হয়েছে এর জন্য ওনাকে টাকা নিতে হবে। ফজু চাচা প্রথমে একটু আপত্তি করলেও পরে হাসিমুখে তাতে রাজি হয়ে যান। এখানে একটা ছোট্ট অপরাধবোধ কাজ করছে ওনার মাঝে। সেটা হলো দীর্ঘ সময় ধরে উনি সাজ্জাদ সাহেবের জমি বিনা প্রতিদানে ভোগ করে আসছেন। তাই প্রথম দিন থেকেই ফজু চাচা সাজুর সাথে খুবই আপন ভাবেই যত্নাত্তি করছেন।

প্রথম পর্যায়ে বারো দিন হয়ে গেলো সাজুর আসার। এসেই মাঠে নেমে পড়েছে। ক্ষেতের জমিটুকুর চারিধারে বেশ মোটা আর উঁচু মাটির আইলে ঘেরা। আর এটা হয়েছে আইলের ভেতর দিকে একফুট গভীর সরু নালা তৈরির জন্য। নালা পরিবেষ্টিত ভেতরের জমিটুকু আটটি ছোট ছোট ব্লকে ভাগ করা হয়েছে আড়াআড়ি অনুরূপ নালা করে। দূর থেকে জমিটা দেখতে হয়েছে বাংলা কষিটানা খাতার পৃষ্ঠার মতো। ওই প্রত্যেকটা ব্লকের মাটির মাঝে কতগুলো কাচের ছোট ছোট পাইপের মতো কি না কি গেড়ে রেখেছে। প্রতিটি পাইপের মাথায় রাবারের ঢাকনা লাগানো। এই ঢাকনার ভেতর দিয়ে সূক্ষ্ম হাইপোডার্মিক সূঁচ ঢুকিয়ে সাথে আনা পোর্টেবল প্রেসার মিটার দিয়ে কি সব পরীক্ষা টরিক্ষা করে। ওর মনে ভয় ছিল আর কিছু চুরি না হলেও কাচের পাইপগুলো যে কোনো সময় চুরি হবেই হবে। জমি প্রস্তুত করে এগুলো লাগানোর পর আজ তিনদিন তো হয়ে গেলো এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই আছে। সাজু অবশ্য আগেই অনেকগুলো অতিরিক্ত এই পাইপ নিজের কাছে জোগাড় করে রেখেছে। কয়েকদিন ধরে এক একটি পাইপের সাথে মিটার লাগিয়ে বিভিন্ন ডাটা নিয়েই যাচ্ছে হাতের ছোট্ট কালো নোটবুকে। ফজু মিয়া জমির এমন দ্বশা দেখে বিষম চিন্তিত। সোনার ফসল ফলা ওই জমি বুঝি এবার বরবাদই হয়ে যাবে। তবে পুরোপুরি কষ্ট পাবেন না, কারণ তিনি সাজুর বাবারই জমির অংশ ওকে দিয়েছেন। প্রতিদিন গুনে গুনে বালতিতে করে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দেয়। তাও আবার একেক ব্লকে একেক পরিমাণ। আর এই পানি দেয়ার কাজে সাজু দুজন ছাত্রকে পার্ট টাইম সহকারী হিসেবে রেখেছে ওই ফজু চাচার মাধ্যমেই। এই কাজে ওদের আগ্রহেরও কোনো কমতি নেই। আজ ওরা ক্ষেতে পানি দেয়া শেষ করে স্কুলে চলে যাওয়ার পর সাজু একাই ওর বাকি কাজগুলো করছিলো। ওই সময়ই প্রশ্নকর্তার কথাগুলো কানে যেতেই ঘুরে তাকালো। দেখে একজন সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পরা মধ্য বয়স্ক লোক এরই মাঝে কাঁচা রাস্তার ঢাল বেয়ে নিচে ক্ষেতে নেমে আসছেন। বেশ উৎসাহী দৃষ্টিতে চেয়ে রয় সাজু, লোকটি তার কাছে না আসা অবধি।

সাজু দাঁড়িয়ে বিনয়ের সাথে লোকটিকে সালাম দেয়, আস্ সালামু আলাইকুম, চাচা। আমি সাজু। ফজু সাহেব আমার চাচা হন। আর আমি এ গ্রামেরই ইদ্রিস আহমেদ এর ছেলে। একটানে কথাগুলো বলে সাজু থামে।

লোকটি আগ্রহের সাথে বলেন, ও তুমি ফজুর ভাতিজা! আরে, আরে, আরেকটা কি নাম বললা? ইদ্রিস! ও হাঁ, ইদ্রিসই তো বললা। বাপরে! তুমি ইদ্রিসের ছেলে? তুমি সত্যিই ইদ্রিসের ছেলে? বলে লোকটি সাজুর উত্তরের অপেক্ষা না করেই সাজুকে জড়িয়ে ধরেন।

সাজু কেমন যেনো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। মাটি লাগানো দুটো হাত দুদিকে প্রসারিত করে রাখে, যেনো কোনো ভাবেই হাতের মাটি লোকটার ধবধবে সাদা পাঞ্জাবিতে না লাগে। লোকটা সাজুর কাঁধে মুখ গুঁজে আছে। গলার স্বর ভারী হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে উনি ইতোমধ্যেই কাঁদতে শুরু করেছেন। ভারী কন্ঠেই বললেন, আরি বাপরে, তুমি ইদ্রিসের ছেলে! সেই বিশ বছর আগে তোমাকে দেখেছি, তখন তোমার বয়স কত হবে, এই এগারো কি বারো। আর আর আমার প্রাণের বন্ধু ইদ্রিসকেও তো সেই তখনই শেষ দেখা দেখেছিলাম। লোকটি এবার জোরেসরেই কেঁদে ফেললেন। আলিঙ্গন থেকে মুক্ত করে সাজুকে বললেন, চাচ্চু, তুমি আমাকে চিনতে পারছো? আমি তোমার পিয়ার চাচা!

সাজু এতক্ষণ একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। পিয়ার নামটা শুনে ওর মনের মাঝে অনেক পুরনো দিনের একটা হাসি খুশি মুখ ভেসে ওঠে। সামনে অশ্রুসিক্ত লোকটাকে দেখে  মিলালো সেই মুখ। মনে মনে বললো, এ আল্লাহ, উনি তো সেই আগের মতোই আছেন। ওর বাবার চুল দাড়ি তো সব সাদা হয়ে গেছে কিন্তু ওনার তো এখনো সেই কালোই আছে। সাজু আরো বিনয়ের সাথে বললো, পিয়ারু চাচা (ওনাকে আদর করে পিয়ারু চাচা বলতো), আপনে তো ঠিক তেমনি আছেন। আপনাকে দেখে আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে, চাচা।

আরে কি বলো! আমার তো পাগলের মতো আনন্দ লাগছে। সব কিছু কেমন যেনো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। আমি তো ভাবছিলাম আর কোনোদিন বন্ধুটাকে দেখবই না। ও যাওয়ার পর প্রথম বছর দু’য়েক ফোনে যোগাযোগ ছিল। তারপর ও মালয়েশিয়া চলে গেলো। এর পর কত বছর পার হয়ে গেলো, ওর সাথে যোগাযোগ নাই। দেখা সাক্ষাৎ নাই। আজকে হঠাৎ করে মনের ভেতর চেপে বসা দুঃখের পাথরটা সরে গেলো। বাবা, বলো আমার বন্ধু কেমন আছে (পিয়ার সাহেব এখন সাজুকে বাবা বলা শুরু করলেন)?  ওকি দেশে আছে? নাকি এখনো বিদেশেই আছে?

চোখের সামনে তার সেই প্রিয় পিয়ারু চাচ্চুর আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখে সাজুর বুকের ভেতরেও আনন্দের ছোঁয়া বয়ে গেল। ও বললো, হাঁ চাচা, বাবা ভালো আছেন। আর বিদেশ ভালো লাগছে না। বললো মরতে হলে দেশের মাটিতেই মরবো। উনি মাকে নিয়ে এখন থেকে দেশেই থাকবেন। আর আমারও ইচ্ছে ছিল গ্রামের মাটিতে একটা পরীক্ষা টরিক্ষা করি। তাই বাবাকে বলা মাত্র উনি রাজি হয়ে যান। উনি আমাকেই আগে পাঠালেন। বলেছেন, ওনার কি নাকি আগে থেকেই কারো সাথে একটা বোঝাপড়া আছে। সেটাও নাকি শেষ করতে চান।

হঠাৎ পিয়ারু চাচা চেঁচিয়ে উঠেন, কিহ্! কি বললে? কারো সাথে বোঝাপড়া? হাঁ, হতেই হবে। দেখতে হবে না ও কার বন্ধু! হাঁ, অবশ্যই ওটা শেষ হতে হবে। ওর ফোন নাম্বার দাও তাড়াতাড়ি। ও আচ্ছা বাবা, তুমি তাহলে এখনো বিয়ে করো নি। আরে কি বলি! উনি নিজেই এবার হাসিতে ফেটে পড়লেন। হাসতে হাসতেই বলেন, কই নাম্বার দাও!

চাচার এলোমেলো কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝলো না সাজু। অন্যমনস্ক ভাবে মাটি জড়ানো হাত দিয়েই ওর ব্যাগে রাখা মোবাইল বেড় করে বাবাকে সরাসরি ফোন করে বসলো। ওপাশে কয়েকটা রিং হতেই বাবা ফোন রিসিভ করেন, হ্যালো। কিরে কেমন আছিস? গতকাল ফোন দিলাম, ফোন ধরলি না। আবার কলব্যাকও করলি না। কিরে কথা বলছিস না কেন? কি হয়েছে?

সাজুর মাথাই কাজ করছিল না। ও কোনো উত্তর না দিয়েই ফোনটা পিয়ারু চাচার হাতে দিয়ে দিলো।

পিয়ারু চাচা প্রায় ছোঁ মেরেই ফোনটা নিয়ে কানে ধরলো, আস্ সালামু আলাইকুম। কিরে, ইদু, কেমন আছিস? আচ্ছা সারপ্রাইজ দিলি আমাকে। দোস্ত! কোনো কথা শুনবো না। আজই চলে আয়, দোস্ত।

ফোনের ওপাশ ও ইদ্রিস সাহেবের আনন্দে, আবেগে কন্ঠ ধরে আসে। ভাঙা ভাঙা গলায় বলে, রমু! দোস্ত! তুই আমাকে ক্ষমা করে দে। কত দিন হলো তোকে ফোন দেই নাই। আবার দেশে এসে তোর সাথে দেখাও করি নাই। দোস্ত, আমাকে ক্ষমা করে দে। তবে মনে রাখিস, আমার এই দেশে ফেরার পিছনে কিন্তু তুই। দোস্ত, আমি তোর কথা শোনার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু, সাজুতো ওখানে গেলো বারো দিন হলো, তুই কথা বললি এতোদিন পর?

আরে, আরে, ইদু। আর বলিস না। একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম সপ্তাহ খানেক। তারপর বড়মেয়ের অনুরোধে ওর বাসায় কয়েকদিন থাকতে হলো। গতকাল রাতে বাড়ি এসেছি। আর সকালেই তো সাজু বাবার সাথে দেখা। দোস্ত, তুই জানিস, আমি কোনদিন তোর উপর রাগ করি নাই।  আর কোনোদিন করবোও না। দোস্ত, তোকে যে দেখতে ইচ্ছে করছে। ডাক্তার আমাকে দীর্ঘ জার্নি করতে মানা করেছে। তা না হলে আমি এক্ষুনি রওনা হতাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। দোস্ত, তুই কি আসবি?

আরে দোস্ত, তোর কাছে যাওয়ার জন্যই তো এই ব্যবস্থা। আমি এক্ষুনি রওনা হচ্ছি। তুই ফোন রাখ।

ও পাশের লাইন কাট অফ। তারপরও কয়েক সেকেন্ড কানে ফোন লাগিয়ে রাখেন পিয়ার সাহেব। সম্মতি ফিরে পান পিছন থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠে, বাবা! তুমি এখানে কি করছো? তোমার না হাঁটাহাঁটি করা নিষেধ?

এই প্রশ্নে শুধু পিয়ার সাহেবই চমকে ঘুরে তাকান না, সাজুও একটু চমকে উঠে। পিয়ার সাহেবই প্রথমে কথা বলেন, ও-য়ো মা, তুই? কখন এলি?

এই তো, বাস থেকে নেমে ভ্যানে বাড়ি যেতেই দেখি তোমার মতো কেউ এখানে। তাই কনফার্ম হতেই ভ্যান থেকে নেমে চলে এলাম। এসে তো দেখি ঠিকই ধরেছি। চলো, চলো, বাড়ি চলো। বলেই বাবার হাত ধরে টান দিতে গিয়ে হঠাৎ থেমে যায়। ওর চোখ পরে ছোট ছোট ব্লক গুলোয় লাগানো কাচের টিউবগুলোর একটির সাথে লাগানো প্রেসার মিটারটা দেখে। অবাক হয়ে বলে উঠে, আরে! এখানে টেনশিওমিটার! ঘটনা কি?

পিয়ার সাহেবের কৌতূহল বেড়ে যায়। বাহ্!  তুই কি এই যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে জানিস?

বলো কি বাবা, আমি তো আমার থিসিসের কাজ এই যন্ত্র দিয়েই সারলাম।

ও আচ্ছা, আচ্ছা। খুব ভালো, খুব ভালো। তো ওকে চিনিস? বলে আঙুল তুলে সাজুকে দেখায়। উত্তরের আশা না করেই বলতে থাকে, ও হচ্ছে সাজু। তোর সেই ইদ্রিস চাচার ছেলে। আর, এই যে বাবা সাজু, ও হচ্ছে আমার ছোট মেয়ে মিরা। তোমার মনে আছে কিনা – তোমরা চলে যাওয়ার মাসখানেক আগে এক বিকালে ছোটরা পূবের মাঠে খেলছিলে। তখন মিরা পড়ে গিয়ে পা মচকে ফেলে। তখন সেই ছোট্ট তুমি সাত বছরের মিরাকে পাঁজাকোলা করে তুলে দৌড়ে বাড়িতে এনেছিলে। কি আর বলবো, সেদিন তোমার বাবা আর আমি তোমাদের দেখে দুঃখ পাবো কি হেসেই মরি। কারণ, তুমি মিরার চেয়েও বেশি জোরে জোরে করে কাঁদছিলে।

সাজু কথা বলবে কি! হঠাৎ কোথা থেকে একঝাক লজ্জা ওর কাঁধে ভর করলো। মনে মনে ও ভীষণ চমকে গেছে ছোট বেলার সেই মিরাকে এখন চোখের সামনে দেখে। ও ভালো মতোই এই স্মৃতিটা ওর মনের মাঝে ধরে রেখেছে। কারণ, ওই ঘটনার পর ওরা গ্রামে ছেড়ে আসা অবধি প্রায় একমাস নিজের পরিবারের সদস্যরা তো আছেই, এই মিরার বাড়ির সদস্যরাও ওকে জ্বালিয়ে মারতো ওর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কান্নার জন্য। লজ্জায় মিরার সামনে মাথাই তুলতে পারছিলো না।

এদিকে মিরার অবস্থাও সুবিধার না। সেও কেনো যেনো লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। অন্য কেউ অত ছোট্ট বেলার ঘটনা মনে রাখতে না পারলেও মিরা এটা কখনো ভুলে তো নাই-ই বরং আরো সুন্দর ভাবে ওর মনের মধ্যে সাজিয়ে রেখেছে। মিরাও চোখের সামনে পরিপূর্ণ সাজু ভাইকে দেখে ভীষণ খুশি। মুখে কিছুই বলতে পারলো না।

সাজুর সংকুচিত ভাব পিয়ার সাহেবের চোখ এড়ালো না। উনি হঠাৎ একটু অস্থির হয়ে উঠেন। বলেন, আচ্ছা, আচ্ছা, হয়েছে হয়েছে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো, আমি এখন বাড়ি ফিরছি নারে মা। এক্ষুনি বাজারে যেতে হবে। দোস্ত আসতেছে। ওর বাইলা মাছ, মেনি মাছ পছন্দ। আচ্ছা যাই মা, দেরি হয়ে গেলো। তুই বাড়ি চলে যা। আর বাবা, সাজু আজ রাতে তুমি আমার বাসায় খাবে। তোমার বাবা আমার বাসাতেই থাকবে। বলেই হাঁটা শুরু করলেন রাস্তার দিকে।

মিরা আর সাজু দুজনেই চুপচাপ হাসিমুখে পিয়ার সাহেবের যাওয়া দেখলো। তারপর মিরাই প্রথম কথা বললো, ওয়াও! সাজু ভাই! কত্ত দিন পর আপনাকে পাওয়া গেলো!

হাঁ, অনেক দিন পর! আমি তো ভাবিই নাই তোমার সাথে আবার দেখা হবে! তো তুমি কি যেনো বললে এই টেনশিওমিটার, থিসিস-টিসিসের ব্যাপারে?

ও, আচ্ছা। আসলে আমি মৃত্তিকা নিয়ে এম, এস কমপ্লিট করেছি ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে। ওই থিসিসে আমি ওয়াটার স্ট্রেসের গুরুত্ব নিয়ে কাজ করেছি। তাই ওই মাটিতে ওগুলো দেখে চিনতে পারলাম। কিন্তু আপনার এটা বোধ হয় আরো আধুনিক।

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছো। এটা একদম লেটেস্ট। মাটির আদ্রতার খুবই সামান্য পরিবর্তনও এটা প্রকাশ করতে পারে প্রায় নির্ভুল ভাবে।

হ্যাঁ, আমারো ইচ্ছা এমন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সুযোগ পাবার। তাই মালয়েশিয়ার এক ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করেছি ফুল স্কলারশিপে পিএইচ,ডি করবার জন্য। ওখানে কর্মরত আমাদের দেশেরই ভীষণ টেলেন্টেড একজন শিক্ষককে অনুরোধ করেছি আমার পিএইচ,ডি  সুপার ভাইজার হওয়ার জন্য। উনি বলেছেন তিন মাস পর জানাবেন।উনিই সম্মতি জানালে আমি নিশ্চিত আমার ফুল স্কলারশিপটাও মিলে যাবে।

মিরার শেষের কথাগুলো শোনা মাত্রই সাজুর শিরদাঁড়া দিয়ে হালকা শীতল অনুভূতি বয়ে যায়। কয়েক মিনিট অপলক দৃষ্টিতে মিরার দিকে চেয়ে রয়।

কি হলো, অমন করে তাকিয়ে আছেন যে?

মিরার প্রশ্নে সাজু তাড়াতাড়ি চোখ ফিরিয়ে নেয়। হেসে বলে, ওহ, না না। ওই একটু অন্যমনস্ক হয়েগিয়েছিলাম। তো, অমন ভালো রেজাল্ট নিয়ে তো নিজস্ব ডিপার্টমেন্টেই জয়েন করতে পারো।

মিরা কথাটা ধরে ফেলে। বলে, কি বললেন ভাইয়া? আপনি জানলেন কিভাবে যে আমার রেজাল্ট ভালো?

সাজু হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। কিছু গোপন করতেই বলে, ও আচ্ছা! এটা বলাটা আবার কঠিন কি। তুমি যে ফাটাফাটি ছাত্রী হবে সে কি আর বলতে হবে নাকি? না হলে কি যে ইউনিভার্সিটিতে ফুল স্কলারশিপের জন এপ্লাই করেছো, সেটা কি সবাই পারে?

এবার মিরার চোখে মৃদু সন্দেহ দেখা দেয়, সাজু ভাই, কই আমি তো আপনাকে কোনো ইউনিভার্সিটির নাম বলি নাই।

সাজু থতমত খেয়ে যায়। কোনো মতে বলে, না না, কি বলছো? আমি জানবো কিভাবে, তুমি তো কোনো নামই বলো নাই। আমি শুধু অনুমানে একটু বেশিই বলে ফেলেছি। যা-ই হোক, বাদ দাও ওসব কথা। তুমি বোধহয় ঢাকা থেকে আসছো। নিশ্চয়ই সেই ভোরে রওনা দিয়েছো। এখন যাও, সন্ধ্যায় তোমাদের বাসায় দেখা হচ্ছে। বলেই সাজু ওর কাজে দ্রুত ফিরে গেলো।

হঠাৎ সাজুর এমন ভাবসাব মিরার মনে সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিলো। কিন্তু মুখে কোনো কথা বললো না। ও নিশ্চিত সাজু ভাই কিছু লুকাচ্ছেন। আর সেটা ধরা পরে যাবার ভয়েই ওর সামনে থেকে সরে পড়লেন। মিরাও ওনাকে সে সুযোগটা দিয়ে হাসি মুখে বললো, ঠিক আছে, সাজু ভাই। সন্ধ্যায় দেখা হবে।

সাজু ঘাড় ঘুরিয়ে মিরাকে এক সুন্দর হাসি উপহার দিয়ে আবার কাজে লেগে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মিরার মোটেও ভালো কাটলো না। একেতো এতোদিন পর ওর এক নীরব ভালোলাগার মানুষের দেখা পাওয়া। আবার একই সাথে সকালে সাজু ভাইয়ের কিছু কথা বলা। কিছুক্ষণ আগেই ইদ্রিস চাচা আর চাচি দুজনেই এসে পৌঁছেছেন। আর তখনই বাড়িতে এক বিরাট হইচই পড়ে যায়। দুই জটিল বন্ধু মিলিত হয় পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে। সবাই আনন্দে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে নানা কাজের উছিলায়। মিরা অনেকটা সময় আড়াল থেকে দুই বন্ধুর মিলনের সেই আনন্দ উপভোগ করছিলো। দেখতে দেখতে আনন্দে মিরার চোখও ভিজে গেলো। হঠাৎ শুনলো ইদ্রিস চাচা গম্ভীর গলায় বলছেন, শোনরে পিয়ার, আমি কিন্তু প্রথমে ঢাকায় এসেই ফজু ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে নিয়েছি মিরা মায়ের বিয়ে টিয়ে হয়ে গেলো কিনা! তারপর যখন জানলাম তুই তোর কমিটমেন্ট ঠিকই রক্ষা করতে মিরা মাকে এখনো বিয়ে দিস নাই। তখন তুই চিন্তা করতে পারবি না, আমি আনন্দে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠি। আর ছেলেটাও বলছিলো সে কি না কি রিসার্চ করতে চায় এদের মাটি আার ফসল নিয়ে, তখনি আমি ওকে বলি আমাদের গ্রামে চলে যেতে। ওয়ো দেখলাম নিঃশব্দে রাজি হয়ে গেলো। পাঠিয়ে দিলাম। ভাবলাম, তুই যেমন উৎসুক মানুষ। আর কেউ না দেখলেও তুই অন্তত ওকে আগ্রহ নিয়ে দেখতে যাবি। আর তখনই তোর সাথে আমার বোঝাপড়াটার সুরাহা হবে।

ইদ্রিস চাচার কথা শেষ হতে মিরার বাবা আনন্দে চিৎকার দিয়ে উঠেন, এই না হলো গিয়ে কথা। সকালে সাজু বাবার কাছে তোর ফোনে বলা বোঝাপড়ার কথা শুনেই আমার খুশিতে পাগল পাগল লাগছিলো। আমিও তখন সাজু বাবাকে বলে ফেলি নিশ্চয়ই তোমার বিয়ে হয়নি। এটা শুনে তো বাবাজী একদম থ বনে যায়। হাহ্ হাহ্ হা। আমি ওটা দেখে কতো কষ্টে যে হাসি ঠেকিয়েছি। তোর মনে আছে এই বোঝাপড়ার সূত্রপাত! ওই যে যেদিন সাজু বাবা ওই টুকুন চিকন চাকন শরীর নিয়ে মিরাকে কোলে করে কাঁদতে কাঁদতে আমাদের সামনে আসলো তখন আমরা দুজনে হাসিতে ফেটে পড়েছিলাম। ওমন অভাবনীয় দৃশ্য দেখে তুই বলেছিলি – পিয়ার, দোস্ত, এই লক্ষ্মী মেয়েটাকে আমাকে দিবি। আমি কথা দিচ্ছি, আমার এই সুন্দর মনের ছেলেটা এভাবেই আগলে রাখবে। ওহ্ দোস্ত! তুই ভাবতেও পারবি না তখন ঠিক আমার মনের কথাটাই বলেছিলি। আমি তোর হাত ধরে রাজি হয়ে বলেছিলাম, যা এখন, এই মূহূর্ত থেকেই মিরা তোর মেয়ে। তার পর কতগুলো বছর কেটে গেলো অজানা আশঙ্কায়। মেয়ে দিনে বড় হয়ে যায়। বড় মেয়ের বিয়ে দেয়ার পর ছোট মেয়ের কতো সম্বন্ধ আসতে থাকে। আমি কৌশলে ওদেরকে কেটে যাই।  মেয়ে বলে মাস্টার্স করতে চাই। বললাম করো। এর পর বললো পিএইচ,ডি করতে চাই। আমি বললাম করো মা, করো। তবু বিয়ের কথা বলছিলাম না, এই ভেবে যদি তুই এসে যাস।

এই কথার পর ইদ্রিস চাচা আর চেয়ারে বসে থাকতে পারলেন না। দ্রুত উঠে এসে মিরার বাবাকে বসা অবস্থায়ই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন।

এদিকে আড়ালে দাঁড়ানো মিরার অবস্থা চরম আকার ধারণ করলো। ওর বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা হাতুড়ি পেটা শুরু করলো, পেটের মধ্যে কি যেনো মুচড়ে উঠলো, জীবনে এই প্রথম ভীষণ আনন্দে বুক ফেটে কান্না বের হতে চাচ্ছিলো। ও যত রকম ভাবে সম্ভব চেষ্টা করলো কান্না থামিয়ে রাখতে পারলো না। ও শব্দ করেই কেঁদে ফেললো। পাছে ধরা পড়ে যায় তাই নিঃশব্দে এক দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। আর তখনই শুনলো বাইরে মিরার বাবার কন্ঠ, এই যে বাবা, এতক্ষণে এলে। আমরা তো তোমার  অপেক্ষায় ছিলাম। মিরা এবার অজানা শিহরণে আরো জোরে কেঁদে উঠে বিছানায় বালিশে মুখ গোজে।

খাওয়া দাওয়া শেষে সাজু উঠনে হাসনাহেনা গাছটার কাছে একটা মোড়ায় বসে ভাবছে। আসলে ভাবছে না রীতিমতো কাঁপছে।  আজকের ঘটনাটা ওর কাছে রূপকথার গল্পের মতোই লাগছে। মালয়েশিয়ায় স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন আবার শিক্ষকতা করাকালীন কত মেয়েকেই তো ও দেখেছে। কিন্তু আজকে মিরাকে দেখা মাত্রই ওর মনের ভিতর এক সম্পূর্ণ নতুন শিহরণ বয়ে গেছে। তারপর আবার ওর বাবা আর পিয়ার চাচার চমৎকার বোঝাপড়ার সমাধানও চূড়ান্ত। সাজু বুঝতে পারছেনা ও মিরার সামনে দাঁড়াবে কীভাবে। ওর বেশি চিন্তা করতে হলো না, মিরাই যেনো কখন ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ও বুঝতেই পারেনি।

বিষম চিন্তায় বাধা পরে মিরার কথায়, সাজু ভাই, আপনি এখানে?

সাজু কেঁপে উঠে কোনোমতে বলে, ও হাঁ। এই তো একটু এখানে ভাবছিলাম। ঘটনাগুলো কেমন যেনো মাথাটাকে ঘুরপাক খাইয়েদিলো। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।

কেনো, বিশ্বাস হবে না কেনো? আল্লাহ চাইলে কিনা হয়! কত মিরাকল ঘটনা ঘটে যায়। মিরাও কাঁপাকাঁপা কন্ঠে বলে এক দৃষ্টিতে সাজুর দিকে তাকিয়ে থাকে।

সাজু, নিজেকে একটু সামলে মিরার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, এটা তুমি ঠিকই বলেছো, মিরাকল। হাঁ, মিরাকলই বটে। ও মিরা আরেকটা মিরাকল বোধ হয় ঘটে গেছে।

কি? আরকটা মিরাকল! আমিতো নিজেকে নিজেই ধরে রাখতে পারছি না। বলেন, তাড়াতাড়ি বলেন। আমার জীবনে আর কি মিরাকল আছে?

মিরা, আসলে হয়েছে কি, সকালে তুমি যখন আমার কথা বলে চলে গেলে তখন মালয়েশিয়ার সেই শিক্ষক তোমার পিএইচ,ডির সুপারভাইজার হওয়াতে এক্সেপ্ট করেছে।

মানে? বলে চিৎকার দিয়ে উঠে মিরা। মানে, মানে কি ড. সাজ্জাদ আহমেদ আমার পিএইচ,ডি প্রগ্রামের জন্য রাজি হয়েছেন? কিভাবে কি হলো? মিরা আবারো চিৎকার দিয়ে উঠে, বাবা, মা শুনে যাও, তাড়াতাড়ি।

উঠনে মেয়ের চেঁচামেচিতে পিয়ার চাচা, চাচি, সাজুর বাবা, মাসহ আরো অনেকে হুড়োহুড়ি করে উঠোনে বেরিয়ে আসে। দেখে মিরা রীতিমতো আনন্দে কাঁপছে।

মিরার বাবা বললেন, কি রে, কি হয়েছে?

মিরার কথা আটকে আটকে আসছে, বাবা শুনেছো, আমার পিএইচ,ডি প্রগ্রাম এক্সেপ্টেড। ড. সাজ্জাদ আহমেদ উনি রাজি হয়েছেন। আমাদের দেশের গর্ব, বিখ্যাত সায়েন্টিস্ট ড. সাজ্জাদ!

সাজুর বাবা এবার অবাক হয়ে বললো, তা মা উনি তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে।

এতটুকু শোনা মাত্রই মিরার ভেতর মাথা হঠাৎ ঘুরে গেলো, চোখের সামনে ওর প্রাণ প্রিয় সাজু ভাই ক্রমশ ঝাপসা হয়ে এলো। মিরা এলিয়ে পড়তে থাকলো মাটিতে।

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাজু ওরফে ড.সাজ্জাদ মিরাকে মাটিতে পড়তে দিলো না। মূহূর্তেই ধরে ফেলে হঠাৎ পাঁজাকোলা করে তুলে আবারো ভয়ে কেঁদে ফেলে।

সাজুর বাবা, মিরার বাবা আবারো বিশ বছর আগের মতো দমফাটানো হাসিতে ফেটে পড়লো।

 

সৈয়দ মনজুর কবির : গল্পকার, ঢাকা

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে