এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

অন্তরনিহিত ইতিহাস

মহীবুল আজিজ

 

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

দুর্ভাগ্য আমার না হোমায়রার সেটা বলা মুশকিল তবে আনন্দের কাল স্বল্পস্থায়ী সেটা ধ্রুবসত্য। সন্ধ্যার পরপর হলের ক্যাফেতে কফি খাবো বলে গিয়ে বসলাম। একটু পরেই সম্ভবত লাইব্রেরি থেকে ফেরে হোমায়রা। ‘বসতে পারি’ বলে পাইন কাঠের একটা হাল্কা চেয়ার টেনে বসে। সৌজন্যের বশে কফির প্রস্তাব দিই এবং দু’জনেই ফেণাওঠা এক্সপ্রেসো নিয়ে বসি। ক্যাফেটা মূলত চা-কফির হলেও সেখানে বিয়ারও অনুমোদনযোগ্য। হার্ডড্রিংক্স-এর জন্য রয়েছে ভিন্ন কোণ। আমরা কফিতে মগ্ন হলেও অদূরের বিয়ারযাপনে ব্যস্ত লোকেদের বিয়ারের ঘ্রাণ হামলা করে নাকে। সত্যি কথা বলতে প্রথম সাক্ষাতের সেই অপ্রীতিপ্রদ ঘটনার পর থেকে তখনও পর্যন্ত হোমায়রার সঙ্গে আমার তেমন কোনো কথাই হয় নি। লাহোরের শেখুপুরায় ওদের বাড়ি। আমি কখনো গিয়েছি কিনা জানতে চাইলে বললাম, না, এবং যাওয়ার কোনো ইচ্ছেও নেই। একটুখানি বিস্ময়ের ঝলক তার চোখে মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। হোমায়রা বললো, ওর দেশটা অনেক সুন্দর। ওদের বাড়ির কাছেই চমৎকার বন আর বাগান আর দর্শনীয় ঐতিহাসিক সব স্থান। কেন তার দেশে যেতে অনিচ্ছুক সে-প্রশ্নের উত্তরে তাকে বললাম, যে-দেশের মানুষ আমার দেশে এসে হত্যাকারীতে পরিণত হয়েছিল সে-দেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই। শুনে একটু যেন আনমনা হয়ে উঠলো হোমায়রা। তবে সেকথার কোনো প্রতিবাদ না করেই সে বলে—

: আমি শুনেছি, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তোমাদের দেশে কিছু লোক নিহত হয়েছিলো। তবে সংখ্যাটা আমার ঠিক জানা নেই। আমাদের পাঠ্যবইতে পড়েছি। সংখ্যাটা মনে নেই, ভুলে গেছি।

দেখলাম আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা ওর কাছে পাড়ায়-পাড়ায় যুদ্ধের মতো একটা ব্যাপার। এর মধ্যে যে অপরিমেয় রক্ত অনিঃশেষ বেদনা আর ভয়ংকর যন্ত্রণার ইতিহাস আছে সেটা তাকে কে বোঝাবে। আমি জানি এইসব বিষয়ে শতভাগ সত্য জানার কোনো দায় তার নেই। সে এসেছে উচ্চশিক্ষার জন্য। সেই বৈতরণী পেরিয়ে সে ফিরে যাবে তার দেশে। কিন্তু তার এই না জানাটা বা ভুলভাবে জানাটাকে আমার কাছে নিজেরই অসম্মান-অপমান মনে হয়। তার সামনে বসে থাকা আমাকে সে সারাক্ষণই একটা মেকি ইতিহাসের আয়নায় বাঁধানো প্রতিকৃতি হিসেবে কল্পনা করে যাবে যেটা ভাবা আমার জন্য কষ্টকর। পুশকিন তাঁর প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, কথাটা সত্য হলেও নিখুঁত সত্য নয়। তিনি নিহত হ’ন ডুয়েলে যেখানে তাঁর নিজেরও দায় ছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যত মৃত্যু যত ক্ষয় তার সবটাই হোমায়রার পূবসূরিদের কারণে। এটা তার জানা দরকার। কিন্তু সে আমার কথা শুনবে কেন বা শুনলেও সে কী তা বিশ্বাস করবে! একটা কুশলী প্রশ্নের তীর বরং ওর দিকে ছুড়ে দেওয়া যাক—

: আচ্ছা, তুমি কী জানো তোমাদের কী পরিমাণ সৈন্য যুদ্ধ শেষের পর আত্মসমর্পণ করেছিল?

কুঁতকুঁতে চোখে তাকায় সে। প্রশ্নটার তীক্ষ্মতা দিয়ে মাপবার চেষ্টা করে আমাকে। ‘আত্মসমর্পণ’ কথাটার মধ্যে যে একটা অগৌরবের ভাব আছে সেটা তার চেহারায় প্রতিফলিত হচ্ছিল। তারই দেশের একটা বিপুল সংখ্যক গোষ্ঠী প্রত্যক্ষ পরাজয়ের ইতিহাস উজ্জ্বল অক্ষরে লিখে রাখার জন্য দায়ী, এটা অন্তত অস্বীকার করা সম্ভব নয়। সেই প্রচেষ্টার দিকে সে যায়ও না এবং সকলের মতো ইতিহাসের সেই সংখ্যাটা সে দেখলাম নির্ভুলই জানে—

: হ্যাঁ, আমাদের দেশের ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছিল।

হোমায়রা কোরেশির ইতিহাস দিয়েই আমি তাকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই—

: এই তিরানব্বই হাজার সৈন্যের প্রত্যেকের সঙ্গে ছিল মানুষ খুন করবার অস্ত্র। তারা নিশ্চয়ই পিকনিক করতে আসে নি আমাদের দেশে। আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত তারা এই অস্ত্রের শক্তি দিয়ে যতটা সম্ভব মানুষ খুন করেছে। আমাদের নারীদের ধর্ষণ করেছে হত্যা করেছে। আমাদের নারীদের গর্ভে রেখে গেছে তাদের অত্যাচারের ভ্রূণ। এগুলোই হলো সত্য। আমি জানি না তুমি এসব শুনেছো কিনা!

ক্যাফের জনবিরলতায় গমগম করে আমার কথাগুলো। হোমায়রার শারীরিক মুদ্রায় একটা অপ্রস্তুত ও অস্বস্তির ভাব। কথাগুলো শোনার মানসিকতা যে তার নেই সেটা তার কথাতেও স্পষ্ট। আমার কথাগুলো যেখানে তার যুক্তি দিয়ে ভাবা উচিত সেখানে সে উল্টো তার কথাকে দাঁড় করায় এবং সেটা বহু আগে ঘটে যাওয়া আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া এক যুদ্ধের পক্ষে তার ওকালতি—

: এক হাতে নিশ্চয়ই তালি বাজে না। হ্যাঁ, যে-কোনো যুদ্ধ নিঃসন্দেহে মন্দ ব্যাপার কিন্তু তার দায় যুদ্ধরত উভয় পক্ষেরই।

হোমায়রাকে বোঝানো আসলেই অসম্ভব ব্যাপার। যে-কথাটা সে বলে সেটা বস্তুত সে বলে া, বলে তার সমস্ত জাতির প্রতিনিধি হয়ে সে। তার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ আসে তার দেশের আলো বাতাস হাওয়া আকাশ আর অবস্থানের বাস্তবতা থেকে। আমার কোনো কথাই সুদীর্ঘকাল থেকে গঠিত হওয়া তার মনের সত্যকে কোনোভাবেই বদলাতে পারবে না। আমি তাই রূঢ় জেনেও মৃদু আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিই—

: এখন এখানে তোমার-আমার আচমকা ধ্বস্তাধ্বস্তিতে কী এক পক্ষ দায়ী হবে না উভয় পক্ষ!

যে-আলাপ ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ হওয়ার কথা সেটা চলে যায় অপ্রীতির দিকে। ‘আমার একটু কাজ আছে’ বলে উঠে পড়ে হোমায়রা। আমার জানা হয়ে যায়, ওর সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকলো না এই জীবনে। একটা ভুলের পথ ধরেই সে হেঁটে চলে যাবে বাকি সময়টুকু। নিজের দুর্ভাগ্যকে দায়ী করে আমি আপাতত মানুষের অজ্ঞানতার হেতুর মধ্যে খুঁজি উপশম।

স্মরণকালের সবচাইতে বড়ো দুর্গ্রহের মধ্যে পড়ি। জানি না একই অনুভূতি হোমায়রারও হয় কিনা। একই বাড়িতে থাকা কিন্তু কারও মুখ কেউ না দেখার প্রতিজ্ঞায় বদ্ধপরিকর দু’জনেই। যে-মানুষ ‘ত্রিশ লক্ষ শহিদের’ ত্যাগকে ‘কিছু মানুষের’ ক্ষতি বলে মনে করে তার সঙ্গে কথা বলা দূরে থাক, তাকে চোখের সামনে দেখাটাও পাপ জ্ঞান করি। হয়তো সেও আমাকে তার মন থেকে একটি ক্ষুদ্র বিয়োগ চিহ্নের এক টানে একদিক থেকে সরিয়ে দিয়েছে অন্যদিকে। তারপরেও একই লবি একই করিডর একই দরোজা একই লাইব্রেরি একই রাস্তাঘাট চাইলেও আমরা পার্মুটেশন কম্বিনেশনের বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে পারি না। হয়তো জীবনটাই তা-ই। ফলে হোমায়রার সঙ্গে আমার দেখা হয়-ই। আর সেটা হলে সে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরায় কিংবা নত মুখে পাশ কেটে যায়, আমিও অনুসরণ করি একই মুদ্রা। আমার কাছে সে এক অপরাধী কিংবা আহাম্মকের প্রতিমূর্তি হয়ে ধরা দেয়। অপরাধী, কারণ আমার জানাটাকে সে তুচ্ছ জ্ঞান করে তার জানা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় আমার জানাটাকে। আহাম্মক, কারণ আমার প্রদত্ত তথ্য ও সত্যকে চাইলেই সে ঝালাই করে নিতে পারতো কিন্তু সেটা না করে সে আমাকে মনে মনে মিথ্যেবাদী ধরে নিয়েছে। তা নাহলে একই বাড়ির পারস্পরিক প্রতিবেশি আমাকে সে এড়িয়ে চলতো না এমনভাবে। আমার অবশ্য তাতে কোনো অনুশোচনা থাকে না। আসলে সে আমাকে নয়, এড়িয়ে চলে প্রকৃত সত্যকে। সত্যের আসল চেহারাটা দেখতে পেলে সে জানতো যাদের নিয়ে সে গর্ব করে, যাদের সে দেশ জাতির রক্ষক বলে এতোকাল জেনে এসেছে তারা প্রত্যেকে একেকটা হননকামী প্রবল পুরুষ। প্রত্যেকেই সশস্ত্রতার মদমত্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের নিরীহ বিপরীত পক্ষের ওপর। সব ভুলে আমি তাই আমার কাজে ডুবে থাকি অষ্টপ্রহর। গবেষণার পাশাপাশি অনুবাদ করতে থাকি আইজাক বাশেভিস সিঙ্গারের উপন্যাস। মজার বিষয়, সেটিও এক যুদ্ধের উপন্যাস। ভাবি, কী হতো যদি আমরা ১৯৭১ সালে পরাজিত হতাম পাকিস্তানিদের নিকটে! যে-হিটলার ও তার গেস্টাপো বাহিনী ইহুদিদের মাংসচর্বি দিয়ে সাবান বানিয়ে নিজেদের গায়ের ময়লা সাফ করেছে তার অনুকরণে পাকিস্তানি স্বৈরপ্রভুরা বাঙালির সর্বস্ব দিয়ে সাবান বানিয়ে আবর্জনা সাফের অজুহাতে সাফ করে দিতো সমগ্র জাতিকেই।

জানুয়ারির শীতসকালের স্বচ্ছতা দেখে বোঝার উপায় নেই দিনতিনেক আগেও বরফ পড়েছিল পুরু। সিটিকাউন্সিলের ট্রাকভর্তি লবণ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ছিটিয়ে দিলে বরফ গলতে থাকে দ্রুত। বরফের ওপর আচমকা দুয়েক সেকেন্ডের রোদে মনে হতে থাকে রূপার পাতলা একটা আস্তরে কেউ ঢেকে দিয়েছে সমগ্র কেম্ব্রিজ। দুপুর হয়-হয় এই সময়টাতে লাউঞ্জ ফাঁকাই থাকে। বইপত্র টেবিলে বিছিয়ে নিয়ে আমি আমার পড়াশোনার কাজে মনোযোগী হই। লাইব্রেরি থেকে একটা বই এনেছিলাম— পোলিশ লেখক তাদেউস বোরোবস্কি’র লেখা গ্যাস দিস ওয়ে লেডিজ এ্যান্ড জেন্টলমেন। একটা গল্প পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল যে-লোকটা আমাকে হ্যান্ডস্ আপ্ বলে চিৎকার করে উঠেছিল ১৯৭১-এ আমাদের বাড়ির চৌদ্দটি পরিবারের টিনের ঘরে প্রথমে গানপাউডার ছিটিয়ে এবং পরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গে সেই লোকটাই ড্রেস পাল্টে এসে পড়েছে তাদেউসের সীমানায়। সিঁড়িতে পদশব্দ ওঠে, হোমায়রার। একটু ঘষটানো আর আলতো ধরনের। না-তাকানোর অবজ্ঞায় স্থির থাকি আমি। ডিম্বাকৃতির বড়ো জানলা দিয়ে দেখতে পাই, হলমুখী লাল ইটের রাস্তা ধরে হেঁটে গেল। স্কিম্ড্ মিল্কে এক কাপ ফোলকার্ট কফি নিয়ে বসবার অবকাশ পেয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে উঠে পড়ি। আর তখনই হোমায়রা চলে যাওয়র প্রায় আধঘণ্টা পর কেউ একজন দরোজায় ছায়া ফেলে দাঁড়ায়। ডোরবেলে সাড়া দিয়ে দরোজা খুলতেই মাঝবয়েসী উপমহাদেশীয় চেহারার একজন লোকের মুখোমুখি। কখনো দেখি নি লোকটাকে। প্রশ্ন করতেই স্মিত হেসে বললো, আমি ইকবাল কোরেশি, হোমায়রার বাবা। অভ্যর্থনা জানিয়ে চেয়ার এগিয়ে দিলাম। কাঁধে রাখা চামড়ার ব্যাগটা পাশের টিটেবিলে রাখতেই ল্যাভাটরিটা দেখিয়ে দিলাম তাঁকে। অভ্যর্থনা’র সৌজন্যের জন্য ধন্যবাদ জানালে আমি তাঁকে চা/কফির প্রস্তাব দিই। এক কাপ কফি’র সানন্দ স্বীকৃতি তাঁর চোখজোড়ায় উজ্জ্বল আভা আনে।

ইকবাল কোরেশির কেম্ব্রিজে আসার কথা ছিল সকালেই। আ্যামস্টাহ্ডামে ব্যবসায়ের কাজ সেরে কেম্ব্রিজ হয়ে তাঁর স্বদেশে ফেরার কথা। হোমায়রা সেই অনুযায়ী অপেক্ষাও করে তার বাবা’র জন্য। কিন্তু ফ্লাইটে বিলম্ব হওয়ার ফলে তিনি এসে পৌছান নির্দিষ্ট সময়ের তিন ঘণ্টা পর। মেয়েকে বিলম্বের সংবাদ দেওয়া হয় না। এদিকে সকাল এগারোটা থেকে হোমায়রার কোর্সওয়ার্ক-সেমিনার হবে ওর কোর্সশিক্ষকের ডারউইন কলেজের লেকচার-হলে। বললাম, আপনি নিশ্চিন্তে বসুন। ভদ্রলোককে আপাতদৃষ্টে সজ্জন মনে হয়। আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটাবার জন্য কয়েকবারই তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন আমার কাছে। প্রশংসা করলেন আমার বানানো কফির। আমার বিস্তারিত পরিচয় জেনে কথাপ্রসঙ্গে তিনি বললেন, তাঁর বাবা ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করা ডাক্তার। তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন মোহাজের। তাঁর বাবা আলতাফ কোরেশির কর্মস্থল ছিল কুমিল্লা। কোটবাড়িতে থাকতেন তিনি। এখনও অ্যালবামে ছবি আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা কোটবাড়ির। যুদ্ধাহত পাকিস্তানি সৈন্যদের চিকিৎসা-সেবা দেওয়াটা ছিল তাঁর মূল দায়িত্ব। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি আলতাফ কোরেশি কিডনি-জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়। মাসখানেকের মধ্যেই মারা যান ডাক্তার আলতাফ কেরেশি। আমাকে খুশি করবার জন্য কিনা জানি না এক পর্যায়ে তিনি বললেন,

: আমাদের এমন চৌকস সেনাবাহিনীকে তোমরা যারা সেরকমভাবে যুদ্ধ করো নি আগে, এমন করে হারিয়ে দেবে সেটা আমরা পাকিস্তানিরা কিন্তু কখনো ভাবি নি। তবে, আমার মনে আছে বাবার কথা। তিনি বলেছিলেন বাঙালি গেরিলারা অসম্ভব সাহসী আর ক্ষিপ্র ছিল। সৈন্যরা ওদের খুব ভয় পেতো। আর ভয় পেতো বৃষ্টিকে। বৃষ্টি দেখলেই গুটিয়ে যেতো সবাই।

ইকবাল কোরেশির বাবা সাঁতার জানতেন না। একবার তাঁর শখ চাপলো কোনো এক পুকুরঘাটে পাথরের সিঁড়িতে বসে গোসল করবেন। কিন্তু পিছলে সিঁড়ির ফাঁদে পড়ে তাঁর প্রায় মরণদশার উপক্রম। তবে, নভেম্বরে তাঁর অসুস্থতা না হলে পরে নিঃসন্দেহে তাঁর স্থান হতো সমর্পণকৃত তিরানব্বই হাজারের মধ্যেই। সেদিক থেকে অসুস্থতাটা তাঁর জন্য শাপে বরই ছিল এক ধরনের।

কথায় কথায় দুপুর হয়ে আসে। আমার লাঞ্চের সময় হয়ে যায়। এই ফাঁকে আইরিশ জেসিকা এবং স্পেনের ফিওনা’র একজন কফির সঙ্গে শর্ট ব্রেড, আরেকজন ব্রাঞ্চের লাজানিয়া খেয়ে ফের দৌড়াতে থাকে লাইব্রেরির দিকে। যাত্রার ক্লান্তি ও অবসাদের প্রভাবে হোমায়রার বাবা হাই তুলছিলেন ঘন-ঘন। আমার লাঞ্চের মেনু ক্রিম-পাস্তা আর স্যামন মাছের কাবাব আগেই বের করে রাখা ছিল ফ্রিজে। এখন আধাআধি ডিফ্রস্ট হয়ে এলে মাইক্রোঅভেনে বাকিটা সেরে আমি অনায়াসে বসে পড়তে পারি দুপুরের খাবার-পর্বে। ডিপফ্রিজে এ্যালুমিনিয়ম ফয়েল-বক্সে রাখা ছিল ইন্ডিয়ান শপ থেকে কেনা ভেজিটেবল ফ্রাইড রাইস আর সব্জির পাকোড়া। প্রস্তাবনার সঙ্গে-সঙ্গে চেহারায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাব ফুটিয়ে ইকবাল কোরেশি বললেন:

: তোমার কোনো অসুবিধা না হলে দিতে পারো। আমি বুঝতে পারছি না হোমায়রা কখন আসবে! ওর সেমিনারের কথা আমার জানা আছে কিন্তু সেটা কতক্ষণ ধরে চলবে তা আন্দাজ করতে পারছি না।

বললাম, সেমিনার শেষ হলে নিশ্চয়ই হোমায়রা চলে আসবে। আপনি খেয়ে সোফায় আরাম করে বসুন। কয়েক মিনিটের মধ্যে খাবার প্রস্তুত হয়ে গেলে টেবিলের এক প্রান্তে আমি এবং আরেক প্রান্তে হোমায়রার বাবা। আমাদের দু’জনের সামনে দুই ধরনের মেনু। তবে ক্ষুধার প্রকোপ ঠেকাতে ইউরোপিয় এবং উপমহাদেশীয় দুই ধরনের খাবারের সক্রিয়তা একই। লাঞ্চ শেষে ইকবাল কোরেশি নিজেই এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেতে চাইলেন। বুঝতে পারি, কন্যার প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁর দুই চোখের পাতাকে কোনোভাবেই এক করতে না দেওয়ার প্রচেষ্টার জন্যই তাঁর কফিতেষ্টা। এবং কালো কফিতে শেষ চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দরোজার নব ঘোরানোর শব্দে আমরা দু’জনেই সচকিত তাকাই। ইকবাল কোরেশির কন্যা হোমায়রা কোরেশি হাজির। নিজেকে যতটা সম্ভব অপ্রস্তুত ভাবমুক্ত রেখে আমি অস্ফুটে বলি,

: এই যে এসে গেছে আপনার কন্যা। আমার জরুরি কাজ আছে একটু। আপনারা বাপ-বেটি চমৎকার এই পুনর্মিলন-পর্ব উপভোগ করুন। আশা করি আপনার কেম্ব্রিজ-অবস্থান আনন্দে কাটবে।

বলেই দ্রুত নিজের কক্ষে ফিরে আসি আমি। আমার আকস্মিক ব্যস্ততা প্রদর্শনের মূল কারণ যে হোমায়রাই সেটা কোনোভাবেই বুঝতে দেওয়ার সুযোগ দিতে চাই না আমি। শেষে দেখা যাবে বাপ-বেটি মিলে কিংবা কন্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পিতা এবং কন্যা দু’জনের যৌথ প্রচেষ্টা চেপে ধরেছে আমার এবং আমাদের একাত্তরকে।

লাইব্রেরিতে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে পরদিন ভোরে ব্রিটিশ মিউজিয়মে সারাদিন থেকে লন্ডনের আলী ব্রাদার্স থেকে দেশি শাকসব্জিমাছ কিনে সন্ধ্যার দিকে এসে পৌঁছাই। হাউজমেটদের কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সুন্ বিরাট ব্যাগ ভরে বিশালাকায় কাঁকড়া এনেছে লন্ডনের মাছের বাজার থেকে। বিপুলাকার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সেই কাঁকড়াদের প্রাণবায়ু কেড়ে নেওয়া হবে। তারপর বড়ো একটা কড়াইয়ে অনেকখানি তেলে ভেজে কিমচি সহযোগে আঠালো চাল আর সি-উইড দিয়ে খাবে সেই কাঁকড়া। ফ্রান্সের থমাস একটা বড়ো বাগেট আর এক বাটি বিন্স নিয়ে বসেছে টিভি’র সামনে। নাইজেরিয়ার সিদি ওকোঙ্কো একটা কুসকুসের প্যাকেট কাঁচি দিয়ে কেটে নিচ্ছিল শুঁটকির গুড়ো মিশিয়ে খাবে বলে। কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না পাঁচ নম্বর কক্ষে। হয়তো পিতাকন্যা মিলে সময় কাটাচ্ছে কোথাও কিংবা লন্ডনে বেড়াতে গেছে। অনেক রাতে, মধ্যরাতের দিকে হোমায়রার কক্ষে কিছুটা সাড়া মেলে। একটা ভারি পুরুষালি গলা শোনা যায় হঠাৎ-হঠাৎ। হোমায়রার গলা ততোটা শোনা যায় না। ভোরের দিকে জেগে উঠি আমি। বড়ো জানলাটা খুলে দিলে ঠাণ্ডা হাওয়া এবং রোদের আভা দুই-ই একসঙ্গে আসে। ম্যাডিংলে রোডের দিক থেকে কিছুক্ষণ পরপর ছুটতে থাকা দ্রুতগামী যানবাহনের শব্দ আসে কানে। একটু পরে সমস্ত শহর জেগে উঠলে সেই শব্দ চলে যাবে নেপথ্যে। অকস্মাৎ দরোজায় টোকার শব্দ। জোরালো নয়, মৃদু ধরনের। টোকা-ই কী, নাকি অন্য দরোজার টোকাকে মনে করছি নিজের দরোজায় টোকা। এইসব ভাবাভাবির মধ্যে ভেতর থেকে কান পাতলে দরোজার অন্য পাশে কারও কথকতা কানে আসে। ডোরভিউতে চোখ ফেলতেই দেখি ইকবাল কোরেশি এবং তাঁর মেয়ে হোমায়রা। দু’জনের হাতেই ব্যাগ বা সেরকম কিছু ধরা। দু’জনের পরনেই ঘরের বাইরে বেরোবার পোশাক। নিশ্চয়ই তারা কোথাও যাচ্ছে। কিন্তু আমার দরোজায় টোকা কেন!

দরোজা খুলতেই ইকবাল কোরেশি এবং হোমায়রার মুখোমুখি। হোমায়রার চেহারায় প্রত্যাশিত সেই নিরেট গাম্ভীর্য আর কাঠ-কাঠ নিরাবেগ ভঙ্গিটা নেই। ভেতরে ঢুকে বসতে বললে ভদ্রলোক আন্তরিকতার সঙ্গে সে-প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলতে থাকেন—

: আমার সময় কম। আমি এখনই চলে যাচ্ছি হিথ্রোতে। প্লেন ধরতে হবে। আমরা নিশ্চিত ছিলাম না তুমি জেগে না ঘুমিয়ে। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য দুঃখিত। সেদিন হোমায়রার অনুপস্থিতিতে তুমি যা করেছো তার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আবার কখনো এলে নিশ্চয়ই দেখা হবে। আশা করি বাকি যে-দিনগুলো আমার মেয়ে এখানে থাকবে তোমাদের সময়টা আনন্দে কাটবে। আর শোনো, কাল ওকে আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক গল্প করেছি। হোমায়রা এখনও বাচ্চা মেয়ে, ওর জীবনের অনেকটা পথ এখনও সামনে রয়ে গেছে। আমাদের পরিবারের সবাই উচ্চশিক্ষিত। আমার দাদা মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন।

আশা করি সেও তার পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে। তুমি ভালো থেকো।

বাইরে গাড়ি থামবার শব্দ পাওয়া যায়। হয়তো ড্রামার স্ট্রিটে বাসস্টেশনে যাওয়ার ট্যাক্সিক্যাব এলো। ইকবাল কোরেশির সঙ্গে বিদায়ী করমর্দন করে তাঁর স্বদেশযাত্রার জন্য জানালাম শুভকামনা। বহুদিন পর দেখলাম হোমায়রার স্মিত মুখ, সেই মুখ যেটা কয়েক মাস আগে এক সকালবেলা আমার প্রাতসম্ভাষণে হয়ে উঠেছিল উদ্ভাসিত। এখন বাসটার্মিনাল থেকে হিথ্রোর বাস ধরে পিতাকন্যা যাবে ঘণ্টাদেড়েকের পথ কেটে। তারপর আবার দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর্ব। নিজের ভেতরটায় এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি টের পাই। ভাবি যারা দূর-দূর দেশ থেকে আসে এখানে সবাই তাদের ভেতর স্ব-স্ব দেশের একটা মিনিয়েচার ধরে রাখে সারাক্ষণ। ইকবাল কোরেশি এবং হোমায়রা চলে গেলে আমার ভেতরে থাকা সেই মিনিয়েচারটা দুলে উঠলো। হাওয়ার আলতো দোলায় দেখতে পেলাম আমার শহরটা অবাক চলচ্চিত্রের মতো বয়ে চলেছে অসংখ্য অব্যক্ত শব্দের প্রবাহ নিয়ে। একটু পরে যখন এদিককার জাগরণ পূর্ণ ধারায় বইতে শুরু করবে তখন দুই শহরের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ আমাকে নিয়ে যাবে অন্য এক বর্তমানে। বেরির ঝোঁপে দু’টো চড়ুই এসে বসলে অকস্মাৎ এক জিজ্ঞাসার প্রণোদনা আমাকে নাড়ায়— আমার শহরের চড়ুইগুলো কি এই শহরের চড়ুইগুলোর ভাষা বুঝবে! নাকি তারাও আমাদেরই মতো ভাষার বিচ্ছিন্নতা নিয়ে কাছে আসবে একে অন্যের।

গোধূলির আলো আজ অনেকটাই মরা-মরা দেখায়। হতে পারে এই ম্লানতা পরবর্তী দিনের অনুজ্জ্বলতার ইশারা। এক কাপ কফি খাওয়ার জন্য কিচেনে এসে দেখি হোমায়রাও কেটলিতে পানি সেদ্ধ করছে কফি খাবে বলে। নিজের উপস্থিতির সরব ঘোষণা থেকে একটু দূরেই থাকি আমি। নিশ্চয়ই ওর বাবাকে বিদায় জানিয়ে ফেরার বেদনায় সে বিদ্ধ হয়ে রয়েছে। যতোটা সম্ভব নীরবতা বজায় রেখে আমি রান্নাঘরে প্রয়োজনীয় তৈজষের সন্ধান করি। আমার স্বরচিত দূরত্বের ভাব টের পায় হোমায়রা। নিজ থেকেই সম্ভাষণ জানায়। খানিকটা অবাক হই আমি। কেননা, ওর সঙ্গে তখনও পর্যন্ত একটা ঠাণ্ডা লড়াইয়ের আমেজ চলছিল। কিন্তু তার সম্ভাষণ আমাকে প্রথমবারের মতো আভাস দেয় ব্যতিক্রমের। যদিও আমি জানি, ব্যতিক্রম নিয়ম নয়। টেবিলে কফিমগ রাখতে রাখতে হোমায়রাকে শুনি—

: তোমার অনেক প্রশংসা করেছেন বাবা। তোমাদের সঙ্গে যে-যুদ্ধ হয়েছিল সেটা নিয়েও আলাপ হয়েছে। আমার দাদা তোমাদের ওখানে ডাক্তার ছিলেন যুদ্ধের সময়ে।

আবার যুদ্ধ! হ্যাঁ, ওর দাদা পাকিস্তান আর্মির ডাক্তার ছিলেন সেটা আমার জানা হয়েছে ওর বাবার কাছে। কিন্তু সেই যুদ্ধের প্রসঙ্গ এনে আবার কোন্ জলভ্রমিতে ফেলে দেবে সে আমাকে কে জানে। তবে কী ওর বাবা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ওদের তরফ থেকে যতোটা সম্ভব বিরুদ্ধ যুক্তির সম্ভার রেখে গেছে ওর জিম্মায়! আমিও মনে-মনে আমার ইতিহাসের সঞ্চয় মেলে ধরবার চেষ্টায় প্রাণপণ। কিন্তু আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে যা বলতে থাকে হোমায়রা সেটিকে এককথায় বলা যাবে উল্টোপুরাণ—

: বাবা বলেছেন, একসময় সবাই ভুট্টো-ইয়াহিয়ার কথাকে বিনাপ্রশ্নে মেনে নিতো কিন্তু এখন অনেক কিছুই আবার নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের আর্মিও সমালোচনার উর্ধ্বে নয়।

আমার মনের মধ্যেও ঘুরপাক খায় কৌতূহল—

: তাহলে সেদিন তুমি যেভাবে আমাকে আক্রমণ করলে যুদ্ধের কার্যকারণ নিয়ে?

উত্তরে হোমায়রা নমনীয়—

: সেদিন আমি তা-ই জানতাম কিন্তু বাবা বললেন, তোমার কথা মিথ্যে নয়। কারণ, আসল ইতিহাসটা ওঁরা জানেন। আমরা জানি না। সেটা আমাদের দোষ না। আমরা আসলে ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইতে আমাদের ইতিহাস পড়ি, ‘তোমাদের ইতিহাস’ পড়ি না মানে বাবার মতে, ‘তোমাদের ইতিহাস’ আমাদের পড়তে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, মুদ্রার একটা পিঠই আমরা দেখতে পাই, অন্য পিঠটা থেকে যায় আমাদের দৃষ্টির অগোচরে। তুমি সেদিন তিরানব্বই হাজার সৈন্যের কথা বলেছিলে না? এরা ইয়াহিয়া খানের নিকটে ছিল বাছাই করা বীরের দল কিন্তু আমরা তাদেরকে কাপুরুষ বলে জানি। কারণ তারা গোষ্ঠিশুদ্ধ হেরে এসেছিল। বাবা বললেন, তোমরা যেহেতু আগে আক্রমণ করো নি, কাজেই তোমাদের যুক্তিকে কোনোভাবে খাটো করে দেখা চলবে না। কেননা, আক্রমণকারীরা তাদের নিজেদের আক্রমণকে জাস্টিফাই করবার জন্য হাজার রকমের যুক্তি দাঁড় করাবে।

থামলো হোমায়রা কোরেশি। এবারে আমার মনে হলো, আমি দু’দিন আগে যে ইকবাল কোরেশি’র সঙ্গে গল্প করেছিলাম এই মেয়ে তাঁর যথার্থ উত্তরসূরী। অথচ কয়েক মাস আগে তার কথা শুনে ইচ্ছে হয়েছিল একটা ঘুষি মেরে নাকটা ফাটিয়ে দিই মেয়েটার। তখনকার মতো আমাকে বিদায়ী সম্ভাষণ জানিয়ে নিজের কক্ষে ফিরে যায় হোমায়রা। কয়েকটা শুকনো পাতা ঝরে পড়ে এল্ম গাছ থেকে। আমাকেও উঠতে হবে রুমে ফিরে যাওয়ার জন্য। আইজাক বাশেভিস সিঙ্গারকে রেখে এসেছি ওখানটায়। উপন্যাসের নায়ক এ্যারন গ্রাইডিঙ্গার বলছিল— পোলিশদের আর কষ্ট করে ইহুদিদের মারবার দরকার নেই। তাদের সেই কাজটা তাদের জন্য করে দিতে পোল্যান্ডে এসে পৌঁছেছে হিটলারের গেস্টাপোবাহিনী।

 

মহীবুল আজিজ : কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক, চট্টগ্রাম

অ্যান কারসন : পুরাণ পেরিয়ে মানুষের কাছে

শাহেদ কায়েস ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অধ্যয়ন ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা

 ‘সাড়ে ৭ বছরে ১৪ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি’

আন্দরকিল্লা ডেক্স : গত সাড়ে ৭ বছরে সারাদেশে ১৪ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চাঁদপুরের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠিত সংগঠন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। বিগত পুরো অক্টোবর মাস

কবীর-লালন ভাবসঙ্গীত উৎসবে ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন : ভাঙা ডালের কোষ থেকে জেগে ওঠে সবুজ-সজিব পত্র-পল্লব

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, তুমুল ঝড়-ঝঞ্ঝায় সবুজ প্রান্তরে সকল বৃক্ষরাজি ধ্বংস হলেও কয়েকটি ডালপালা পড়ে থাকে। ঐ ডালপালাগুলোর মধ্য

যোগেন চৌধুরী : শূন্যতার মর্মবেদ

মইনুদ্দীন খালেদ দুঃসহ অভিজ্ঞতায় অস্তিত্বের প্রদাহে বদলে যায় মানুষের নিত্য-চেনা অবয়ব। ক্ষুরধার একটা অপয়া মুহূর্তের রিরংসায় মানুষ কি অতর্কিতে হয়ে যায় তার আপনজনের হন্তারক! পচনশীল

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির (পূর্ব প্রকাশিতের পর) মামা, আমরাতো তিন দিন আগের থেকেই ওরে খুঁজতেছিলাম। পুলিশ আধা ঘন্টা হইলো ওর লাশ দিয়া গেছে। কইলো পরশুদিন রাইতে