এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

অসভ্যতার সংস্কৃতি সভ্যতারই কলঙ্ক (সম্পাদকীয়- জুলাই ২০২৬)

আপন আয়নায় মুখ দেখে টের পাওয়া যায় না ভেতরের অসুখটা কত গুরুতর। বাইরে সভ্যতার আলো ছড়ালেও প্রদীপের নীচের অন্ধকারের বৃত্তটি চোখে পড়ে না। আদিম প্রাকৃতিক মানুষ আর আধুনিক সভ্য মানুষের মধ্যে বিস্তর মানগত পার্থক্য দৃশ্যমান হলেও মানবীয় প্রবৃত্তির ক্ষেত্রে সভ্য মানুষ কতটুকু খাঁটি তা পরিমাপ করা সহজ নয়। তবে সমাজচিত্র বলে দেয় প্রদীপের নিচের ছায়াবৃত্তের মধ্যেই সভ্যতা লজ্জায় মুখ ঢেকেছে। কেননা আধুনিক সভ্যতার বিকাশ মানুষকে লোভী, কৃত্রিম ও পরশ্রীকাতর করে তুলেছে; আসুরিক প্রবৃত্তিগুলোকে উসকে দিয়েছে। ফরাসী দার্শনিক ও চিন্তক জ্যাঁ-জ্যাক রুশোর মতে সভ্যতার অগ্রগতি মানুষের নৈতিক উন্নতি ঘটায়নি বরং তাকে আরো দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন আদিম বা আদি রূপের মানুষ স্বভাবগতভাবে সৎ, নিষ্পাপ এবং শান্তিপূর্ণ ছিল। আদিম মানুষের মধ্যে কোনো লোভ, হিংসা বা অহংকার ছিল না। জ্যাঁ-জ্যাক রুশো অষ্টাদশ শতকের জ্ঞানপ্রভাদীপ্ত যুগের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন। তথাপি অষ্টাদশ শতকের এই ফরাসী দার্শনিকের বিশ্বাস ও ভাবনা একবিংশ শতাব্দীতেও প্রাসঙ্গিক; বিশেষত বাংলাদেশের সমকালীন প্রেক্ষাপটে।

বাংলাদেশে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির শিকড় বিস্তার ঘটেছে—এই আক্ষেপ অনেক পুরনো। তবে নৈতিক ও অমানবিক ক্রম অধঃপতন বর্তমানে কত ধাপ নিচে নেমেছে তা গুণে শেষ করা যাবে না। তাই অন্ধ বিবরে নিপতিত এই সমাজের নিয়তিনির্ভর পাপবিদ্ধ মানুষের গায়ে সভ্যতার আলো পৌঁছানোর কোনো সুযোগ নেই। কারণ এরা নিজেরাই ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’ এবং এই অন্ধকারই তাদের সকল কুকীর্তি লুকিয়ে রাখার জুতসই আড়াল।

সাম্প্রতিককালে নৈতিক অবক্ষয় ও সংকট এমন পর্যায়ে নেমেছে যা চোখে দেখলে ও কানে শুনলে অন্ধ ও বধির হয়ে যেতে হয়। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, জালিয়াতি, জোচ্চুরি, প্রতারণা এমনকি খুন ও গুম গা সয়ে যাওয়ার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সভ্য বা জ্ঞানী দাবিদার কিছু মানুষের আদিম প্রবৃত্তি ও বিকার এতই অসভ্য যে এগুলোর নাম উচ্চারণ করাটাও অরুচির পর্যায়ে পড়ে। আর এগুলো এমন জায়গায় ঘটছে বা যাদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে তাতে ধর্ম ও নৈতিকতায় বিশ্বাসের জায়গাটিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নারীর প্রতি অবিচার, নির্যাতন ও নিগ্রহ পুরুষশাসিত সমাজে নৈমিত্তিক ঘটনা। তবে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা প্রভৃতি পশুত্বের চেয়েও নিকৃষ্টতম। এর চেয়েও ভয়াবহ ব্যভিচার ও অপ্রাকৃতিক— যা পশুর মধ্যেও নেই—‘বলাৎকার’; এমন ঘটনায় যখন ধর্মীয় শিক্ষালয়ে ও অনাথালয়ে আশ্রিত নিরীহ ও অবুঝ শিক্ষার্থীদের শিকার হতে হচ্ছে তখন সমাজের চেহারাটা এতই বীভৎস দেখায় যে, তার দিকে চোখ তুলে তাকানো যায় না। আর এসব ঘটনাকে জায়েজ করার জন্যও যখন একটি চক্র সচেষ্ট তখন কি রাষ্ট্রের কোনো দায় থাকে না? এই লাগামহীন অসভ্যতার সংস্কৃতি আসলেই সভ্যতারই কলঙ্ক। তাই প্রশ্ন জাগে—মানুষ কীভাবে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব হয়?

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো