এখন সময়:ভোর ৫:৩২- আজ: শনিবার-২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:ভোর ৫:৩২- আজ: শনিবার
২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

কানাডায় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ’: এক ঐতিহাসিক দলিল

ইসরাইল খান

খ্যাতনামা কবি, লেখক ও গবেষক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল খুবই সাদামাটা পরিবেশে—১৯৭৭ সালের গ্রীষ্মের এক পড়ন্ত দুপুরে| তখন আমি থাকি শহীদুল্লাহ হলের নতুন ভবনে| ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘¯^কীয়তা’-র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের পরই কীভাবে যেন তিনি ওর সম্পাদকের ঠিকানায়, এক হাজার দুই ন¤^র রুমে হাসতে-হাসতে হাজির| হাতে একগুচ্ছ কবিতা, আর জামালপুর থেকে প্রকাশিত তরুণ সম্পাদক কবি তসলিমা নাসরীন সম্পাদিত ‘সেঁজুতি’ পত্রিকার কয়েকটি কপি| সহজ, অতি আপনজনের মতো ‘ইসরাইল ভাই’ স¤ে^াধনে ঐদিনই আমরা আপন হয়ে গেলাম| তাঁর এবং আমার পথ যে একই!

সেই দিনটির কথা আমি কখনো ভুলিনি|

জামালপুর-শেরপুর থেকে সাহিত্যচর্চার ব্রত নিয়ে ঢাকায় এসে তিনি শুধু যে আমার সঙ্গেই দেখা করেছিলেন—তা হয়তো নয়! তিনি ঢাকা শহরের সকল পত্র-পত্রিকার কার্যালয়ে সাহিত্য-সম্পাদকদের সঙ্গে অচিরেই পরিচিত হলেন| পত্রিকা অফিসে আগত তরুণ-প্রবীণ অনেক কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গেই অল্পদিনের মধ্যে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে| নানান পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকল অনবরত| কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সত্তরের দশকের কবিদের মধ্যে নিজের আসন পোক্ত করে ফেললেন| বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর কবিতা, কথিকা, নিবন্ধ প্রভৃতি প্রকাশিত হতে থাকে| পরবর্তীকালে তিনি রেডিও, টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকার নিয়মিত লেখক ও উপস্থাপক হিসেবে গণ্য হন| আমার ‘¯^কীয়তা’-য় তাঁর কয়েকটি কবিতা সত্তরের দশকেই ছাপা হয়েছিল|

তাঁর সুবাদে শেরপুরের ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র (অকালপ্রয়াত) কবি আহমদ আজিজ, কবি মীর আনিসুল হাসান (ইংরেজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখকে আমি ‘¯^কীয়তা’র লেখক হিসেবে এবং আমার বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম| কয়েক বছর আগে তিনি বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গবেষণার জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন| বলে রাখা ভালো, মূলত কবি হলেও তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন| তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গিয়েছে অনেক আগেই| বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি তিন দশক ধরে কাজ করছেন| বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা ২২টি আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও ডজন খানেক বই রচনা করেছেন| বিটিভিতে লিখেছেন একাধিক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক| নাটক ও গান রচনা ছাড়াও তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলোরও একটি আলাদা চরিত্র দাঁড়িয়ে গিয়েছে| সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘কানাডায় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ| বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কানাডা সরকারের কী ভূমিকা ছিল? কানাডার বিভিন্ন ব্যক্তিরই বা ভূমিকা কী ছিল? কানাডায় অবস্থিত বিভিন্ন জনের আহরিত তথ্যের সমাহার ঘটিয়ে এই গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে|

ভূমিকায় সম্পাদক জানিয়েছেন : “ইতিহাসের আড়ালে ঘুমিয়ে আছে আমাদের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা| অর্ধশতাব্দী পর সেইসব আকর তথ্য উদ্ধার, আবিষ্কার এবং সংগ্রহ অত্যন্ত দুরূহ ও দুঃসাধ্য হলেও নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে কানাডায় মুক্তিযুদ্ধের নানান বিষয় সংগ্রহ করেছি|”

যাঁরা কানাডায় সরাসরি এই যুদ্ধের সতীর্থ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, গবেষণা করেছেন—দেশি-বিদেশি সেইসব লেখকদের লেখায় ও অভিজ্ঞতায় পূর্ণতা পেয়েছে সংকলনটি| বেশ কয়েকটি পর্বে লেখাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে| যেমন : গবেষণা প্রতিবেদন, স্মৃতিচারণমূলক তথ্যাদি, সাক্ষাৎকার, সংবাদপত্রের চিত্র, যুদ্ধশিশুর কথা ও কবিতা, গ্রন্থ-পর্যালোচনা, কার্টুন ইত্যাদি|

ইতিহাস বিকৃতির বিষয়টিও এখানে সম্পাদক গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন| তিনি জানান, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়ের এলিয়ট ট্রুডোকে মরণোত্তর ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ (Friends of Liberation War Honour) দেওয়া হয়েছে| অথচ তিনি প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না; বরং পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন| মুক্তিযুদ্ধের ছয় মাস পর তিনি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন| তবে অনেক কানাডিয়ান ছিলেন, যাঁরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন| যেমন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং পিয়ের ট্রুডোর পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী লেস্টার পিয়ারসন, সে সময়কার পার্লামেন্টের বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদ, সিবিসির সাংবাদিক-লেখক স্ট্যানলি বার্ক, প্রফেসর জোসেফ ও’কানেল, যুদ্ধশিশু দত্তকের উদ্যোক্তা ফ্রেড কাপুচিনো ও বনি কাপুচিনো প্রমুখের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল| এই সংকলনে তাঁদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে| অনেক অজানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কানাডিয়ান সরকারের ভূমিকা, সে দেশের বুদ্ধিজীবী, লেখক-সাহিত্যিক এবং মানবদরদি মানুষদের অসাধারণ অবদান লিপিবদ্ধ করে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করায় সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার হয়েছেন| তাঁকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই|

 

ইসরাইল খান: প্রাবন্ধিক ও গবেষক, ঢাকা

আবুল ফজল : বাঙালি মুসলমান সমাজের বিবেকের কণ্ঠস্বর

ইসরাইল খান বাংলার নবজাগরণের সার্থক উত্তর-সাধক মনস্বী আবুল ফজল ছিলেন বাঙালি মুসলমান সমাজের বিকাশের এবং বিবেকের এক অন্যতম প্রধান কারিগর। বিশ শতকে মুসলমান সমাজকে যতোগুলো

মেরিল্যান্ড ডিসি বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন : যতদিন বেঁচে থাকি-  প্রগতিশীলের পক্ষে, ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিপক্ষে আমার লেখা ও লড়াই চলবে

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম : নির্বাসিত লেখিকা ও  কবি তসলিমা নাসরিন বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকি , আমার লড়াই ও প্রতিবাদ থাকবে ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধে। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল

‘কবিতার কথা’ চট্টগ্রাম আড্ডায় বক্তারা : ‘শুদ্ধতাই হোক কবিতার বুনিয়াদি রূপ’

রুহু রুহেল : ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যায় অনাড়ম্বররূপে মুগ্ধতার কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিতার কথা চট্টগ্রাম আড্ডা’র ব্যানারে, মহিলা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে।

বাংলা আমার প্রণোদনা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন সংস্কৃতিকর্মী

চিংলামং চৌধুরী “শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চায় বিকশিত হউক নতুন প্রজন্ম” প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা আমার উৎসব-২০২৬।

শুদ্ধ সংগীতের সুরে মুখর সীতাকুণ্ড সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন অনুষ্ঠিত

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য : সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২ জুন ২০২৬