ক্রম ভারাক্রান্ত
দুটো পথ হেঁটে গেছে-
একটা গ্রাম ছেড়ে বহদূর
প্রতিদিন দু’পা ফেলতেই
চলতে চায় না যুগল পা
ফেলে আসা জন্মগ্রাম
কতোটা ভারাক্রান্ত বুক ;
দহন দগ্ধে পুড়ে পুড়েই
পাথর কষ্ট চেঁপে থাকি।
ন্যারেটিভ মেঘসঙ্গিমেয়ে
মেঘকালো চুল তুমুল বাতাসে আঁছড়ে পড়ছে সম্মুখে
একটা দমকা হাওয়া এসে জানান দিচ্ছে গতিবেগ
বৃষ্টি, বৈরী বাতাস আচ্ছাদিত হতে হতেই মেঘেরা ওই
কোথায় গিয়ে হারিয়ে যায় তোমার মতো চুপচাপ রোজ
সেই তুমি, মেঘডাক শুনলেই ভয়ে জড়িয়ে ধরতে বুক
কিছুতেই ছাড়তে চাইতে না, মেঘসঙ্গি- অবুঝ ও মেয়ে।
ভাঙানৌকোয় জলসিম্ফনি
নদী হারিয়েছি আমি, কোন সুদূরে বয়ে চলে জল
জলের গরাগরি, দেহান্তবুকনদী ভাঙেরে দু-কূল ;
বুকের পাটাতন ভাঙে ছৈ-তোলা নৌকোর মতোন
যতোই কাঠমেস্তুরি চালাক শাবল বুকের নৌকোয়
টইটই-ছলাৎ ছলাৎ জলসিম্ফনি গায় ভীরু মাঝি।
নির্বোধ মানুষ কেবল
ইদানীং মানুষ কেবলই বোকা বনে গেছে
কাকসকল-কুকুরদল তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন আজ
দল বেঁধে বেঁধে উড়ছে কাক, কুকুরদল তেমন
মানুষ হিংসের লোভে মত্ত হয়ে খুন করে মানুষ
কুকুর-কাকেরা মানুষদের বোকামি দেখে হাসে।
ফ্যাসিবাদীমেঘ বৃষ্টির সন্ত্রাস
একেকটি বৃষ্টির ফোঁটা ফ্যাসিবাদী মেঘের মতো গলাবাজি
কিছুতেই পালাতে দিচ্ছে না ও পাড়ার যুগল কুহেলিকা-সমুদ্রকে
ক্যালেন্ডারে আজ শুক্রবার, ক্লাস নেই কলেজে- প্রাইভেট টিউশন
স্বৈরাচারী বৃষ্টি থামছে না ঝরে পড়ছে বিরামহীন সারাবেলা
আকাশ ফুটো কি আজ মেঘরাশি ছেয়ে আছে গোটা বিশ্বময়?
রোদের আনাগোনা নেই ও পাড়াতেও ; টিপটুপটাপ বৃষ্টির সন্ত্রাস
যতোই বেরোতে উদ্যত দমকা হাওয়া-বৃষ্টি, জলমগ্ন পথঘাট
আজকে রুটিনের দিন কি তবে মাটি? উৎকণ্ঠা বুকে শতেক প্রশ্ন
সন্ধ্যানদীপার্কে রোদ মাখামাখি যান্ত্রিক নৌকো ভ্রমণ…
ও স্বেচ্চাচারী বৃষ্টি, এবার থামাও তোমার ঝরে পড়ার ইচ্ছেগতি
ফুচকার টেবিলে মাতাবো দুজন না বলা কথার অসংখ্য ফুলকি।
রবার্ট ফ্রস্টের সঙ্গে একদিন
জলের অস্তিত্ব এবং আগুন আবিষ্কার
পাথর ঘষে ঘষে মানুষের আধুনিক সভ্যতা
বরফকুচি গলে সুবিশাল জলরাশির পৃথিবী
খানাখন্দ পুকুর ভরাট করে কী এক বসবাস
আমরা কভু কি ভেবেছি এরই নাম বাঁচা নয়
বেঁচে থাকার জন্য পথঘাট-সবুজ শস্যভূমি
উঁইটিবি, পুঁইমাচা, পাখিকুজন একদিন হবে
নিরেট পাথরখণ্ডের মতো অপ্রচল পড়ে থাকা
সীসার বিচ্চুরণ পুড়ছে লোকালয় মানুষের মুখশ্রী
রবার্ট ফ্রস্টের সঙ্গে ভিডিও কলে জেনেছি একদিন
তিনি শুধালেন, জল এবং অগ্নি ধ্বংস করবে পৃথিবী!




