কম্পাস
কম্পাসের কাঁটা
স্বাধীনভাবে নড়াচড়া করতে পারছে না!
সে কীভাবে দিগনির্দেশ করবে?
কোনটা উত্তর কোনটা দক্ষিণ
কোনটা পূব কোনটা পশ্চিম
কোনটা অগ্নিকোণ কোনটা বায়ুকোণ?
ও কম্পাস নিয়ে—
দিগভ্রান্ত হয়ে পড়ছি,
সঠিক ঠিকানায় পৌঁছাতে পারছিনে!
এমনিতে দিনমান দিনমণির দেখা পাচ্ছি না,
দিন ভিক্ষা করে তনু রক্ষা করতে পারছিনে,
দারিদ্র্যের সাথে ধস্তাধস্তি করতে করতে
ধলেশ্বরীর জলে ডুবে যাচ্ছি!
কীসের নিকটে আছি—কীসের দূরত্বে আছি,
বুঝতে পারছিনে!
কোন কম্পাস হাতে তুলে নিচ্ছি বারবার?
কোন অভিমুখে যাচ্ছি?
নানা শঙ্কা নিয়ে—
কোন নটরাজের নজরে নজরবন্দি থাকছি?
দিগ্দর্শনযন্ত্রও দিগ্ভ্রান্তিতে ফেলছে!
ডমরুধ্বনিতে—
ও কম্পাস বাতিল করছি না কেন?
পুঁচকে ইঁদুর
পুঁচকে ইঁদুরদের উৎপাত এতটা বেড়েছে
পাহাড়ের পাদদেশে,
পাহাড়ও অবাক!
ইঁদুরগুলো আজ কোন বেশে?
নুড়ি পাথর সরাতে পারছে না,
সরাবে পাহাড়!
পাহাড়কে ঠোকরায়—
ঠোকরানোর শব্দে শুধু বিরক্তি উৎপাদন করছে,
আর কোনো উৎপাদনের শক্তি নেই!
গিরিচূড়ায় উঠার সাহস নেই—
গিরিশৃঙ্গে উঠে অয়নবায়ুতে থাকার মুরোদ নেই!
নিজের শক্তি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই
তারপরও ভাবে—
পাহাড়কে ঠোকরাতে ঠোকরাতে ফেলে দেবে!
ইঁদুরগুলো সারা জীবন ব্যয় করলেও—
পাহাড়ের বিশালত্ব অনুধাবন করতে পারবে না!
তারা আজ চারণভূমিতে না থেকে
শিলা ও উপলখণ্ডের ভেতর ঢুকে পড়েছে,
কখন যে গণ্ডকূপে পড়ে যাবে!
মানুষ ঠোকরা মানুষ
বনে কাঠঠোকরা পাখি নেই!
তার বদলে—
মানুষ ঠোকরা মানুষের উপস্থিতি,
পুরো বনজুড়ে।
বনে নিরীহ মানুষেরা থাকতে পারছে না!
পা রেখে বনে হাঁটতে পারছে না কাঠবিড়াল,
কাঠমল্লিকাও ফুটছে না!
বন হয়ে উঠছে শ্বাপদসংকুল,
বন্য ও জংলীরা কার জয়ধ্বনি করছে?
শিকার ও হরণ নিয়ে
বনপালক ও বনরক্ষক
হাঙর ও সাপের দাঁত নিয়ে
আরও দাঁতাল হয়ে উঠছে!
মানুষ ঠোকরা মানুষগুলোর ঠোঁট
কী ভয়াবহ রকমভাবে তীক্ষ্ম ও সূচালো হয়ে উঠছে,
এবং আক্রমণাত্মক!
ত্বক কারো আর মসৃণ থাকছে না!
বনে কীভাবে মানুষ ঠোকরা মানুষের
এতটা প্রাদুর্ভাব হলো?
এক বাউরি বাতাসের পর!




