এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির

 

দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো করার কথা  না। একটু বিরক্ত হয়েই বলে, কে?

দরজার ওপাশ থেকে হাউমাউ করে কেউ কেঁদে উঠে, ভাইজানগো, কেয়ামত হয়া গেছে গো! একটু উঠেন না ভাইজান। কেয়ামত হয়া গেছে গো!

বিরক্তির মাঝেই সিহাব ওই কন্ঠের মানুষটিকে চিনতে পারে। এটাতো ওদের বাসায় যিনি বাড়ির কাজগুলো করেন – মানে মানিকের মার। হঠাৎই বিরক্তি ভাবটা দূর হয়ে সেখানে দুঃশ্চিন্তা ভর করে। নিশ্চয় কোনো বড় ধরনের বিপদ হয়েছে। গত তেরো বছর ধরে উনি ওদের সাথে আছেন – সিহাবের সেই এগারো বছর বয়স থেকেই। প্রথম ওনাকে যেমন টিংটিঙে শারীরিক গড়নে দেখেছিল এখনো ঠিক তেমনি আছেন। সে সময় ওনার সাথে ছিল সাড়ে চার বছরের এক ছেলে, মানিক আর কোলে ছিল তিন বছরেব মেয়ে মিতু। আর এখন ওনার আরো  চার পুত্র সন্তান যুক্ত হয়েছে।  রাজা, সিরাজ, বাদল আর মিন্টু। একজনের থেকে আরেক জনের বয়সের  পার্থক্য দেড় কি দুই। সবচেয়ে ছোট ছেলে মিন্টুর বয়স ছয়ের কাছাকাছি। ওনাকে দেখলে কেউ বুঝবেই না ওনার ওই শারীরিক অবস্থাতে ছয় ছয়টি সন্তান। একটা গোপন খবর – মহল্লার মহিলা সমাজ ওনার এই বিশেষ ঘন ঘন জন্মদানের প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছেন। মানিকের মায়ের শরীর স্বাস্থ্য বিবেচনা করে স্বামী সিরাজ মিয়াকে না জানিয়েই ওনার বিশেষ চিকিৎসা করিয়ে দেন। আর স্বামী সিরাজ মিয়াকে বলা হয় ডাক্তার বলেছেন ওনার আর সন্তান ধারণের অবস্থা নাই। এতে মানিকের মা যারপর নাই খুশি হলেও সিরাজ মিয়ার মন দুঃখের কালো মেঘে ছেয়ে যায়।

সিরাজ মিয়ার পেশা ভাড়ায় রিক্সা চালানো। আবার কোনো কোনো দিন বদলা মজুর হিসাবেও কাজ করে। সিহাবদের বাড়ির এক বাড়ি পরেই ছোট্ট ঝুপড়ির মতো কতোগুলো ঘরের একটিতে থাকতেন। গতবছর পাশের একতলা বিল্ডিংয়ের একটা রুম ভাড়া নিয়েছেন। এতে পাশের বাড়ির খালাম্মা এবং সিহাবের আম্মার অবদান আছে। কারণ একটাই দুজনেই এই মানিকের মায়ের কাজের উপর নির্ভরশীল। ওনারাই ওনার মাসিক বেতন বৃদ্ধি করে ওই রুমের ভাড়া মিটিয়ে দেবার মতো ব্যবস্থা করে দেন। আর সাড়া মাস সিরাজ মিয়া টেনে টুনে সংসারটা চালান। অবশ্য ওটাকে চালানো বলে না। ছেলেমেয়েদের খাবারের কষ্ট হয়তো তেমন পেতে দেননি দু’বাড়ির মায়েরা মিলে। মাঝে মধ্যেই রাতে মানিকের মায়ের চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে আশেপাশের বাড়ির সবাই জড়ো হতো ওনার বাড়ির সামনে। দেখা যেতো নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানো সিরাজ মিয়াকে। আর বিধ্বস্থ অবস্থায় ঘরের কোণায় পরে থাকা মানিকের মাকে। সেদিনগুলির চিৎকার চ্যাঁচামেচির সাথে আজকের চিৎকারটা অনেক অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী। সিহাব দ্রুত উঠে দরজা খুলে দেয়। মানিকের মা হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে। পিছনে সিহাবের মা আর বোনরা সবাই। সবাই উদ্বিগ্ন।

হড়বড়িয়ে মানিকের মা কি যে বললো সিহাব কিছুই বুঝলো না। ও কেবল অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে। তখন মা এলেন সাহায্য করতে। বললেন, তুই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। মেডিকেলে যেতে হবে। মিন্টু ওদের বাড়ির ছাদে উঠে জানালার সানসেটে নামার চেষ্টা করছিলো। তো ছাদের বাড়তি রডের মধ্যে বেঁধে যায়। ওর পেটে ঢুকে ওখানেই ঝুলে ছিল। পাশের বাড়ির মেয়েরা মিলে টেনেটুনে নামিয়েছে ঠিকই কিন্তু মিন্টুর অবস্থাতো ভালো না। রক্ত বেড় হচ্ছে তো হচ্ছেই। ওর বাপও তো বাসায় নাই আর মানিকের তো কোনো খোঁজই নাই। এখন তুই ছাড়াতো ওকে মেডিকেলে নেয়ার কেউ নেই। তুই তাড়াতাড়ি রেডি হ।

সিহাব কথাগুলো কোনো ভাবে গিললো প্রায়। মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গেলো মনে। চব্বিশ বছরে কখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি যে তাকেই কাওকে ইমার্জেন্সি মেডিকেলে নিতে হবে। মেডিকেলে রুগী কিভাবে নিতে হবে? কিভাবে ভর্তি করতে হয়? কিভাবে রুগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে? এসবতো ও জানে না। কিন্তু তারপর কিভাবে যেনো নিজের অজান্তেই ঠিকঠিক দ্রুত রেডি হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে পড়ুয়া সিহাব দু’দিন হলো টিউশনির টাকাটা পেয়েছে। যার সামান্যই এখন পকেটে। ভাবে, সে মিন্টুকে নিয়ে মেডিকেলে গেলে খরচাপাতির টাকাতো আর মানিকের মায়ের কাছে চাওয়া যাবে না। আবার কি পরিমাণ টাকা লাগবে সেটাওতো সে জানে না। এমন অনিশ্চিয়তার মাঝেই সিহাব গেটের বাইরে রক্তাক্ত ছোট্ট মিন্টুকে তুলে নেয় হাতে। দ্রুত স্কুটার ট্যাক্সি ঠিক করে ফেলে। সাথে মানিকে মা আর মানিকের বয়সী আরেক ছেলে উঠে গাড়িতে। অচেতন মিন্টুকে সবার ভাঁজ করা হাঁটুর উপর লম্বা করে শুইয়ে দেয়া হলো। সিহাবতো মনে মনে অনবরত আল্লাহর নাম নিচ্ছে। এদিকে হলো আরেক বিপত্তি। চির দুর্বল মানিকের মা হঠাৎ বমি করা শুরু করতেই গাড়ি থামাতে বলে সিহাব। ওনাকে কোনো মতে রাস্তার পাশে নামাতেই ওনার বমিতো আর থামে না। হচ্ছে তো হচ্ছেই। তারপর যা হবার তাই হলো – মানিকের মা গেলেন অজ্ঞান হয়ে। সিহাবতো পড়লো আরেক বিপদে। মনে মনে আল্লাহর সাহায্য চাইতে চাইতে ট্যাক্সির ড্রাইভার এর সাহায্য নিয়ে মানিকের মাকে গাড়িতে উঠালো। সিহাব ভয়ে ভয়ে বললো, ড্রাইভার সাহেব তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলের আউটডোর গেটে যান।

অনেকটা ঘোরের মধ্যে মেডিকেলে পৌঁছালে নিয়ে আসা রুগীর সংখ্যা হয়ে যায় দুইয়ে।

তারপর বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ সিহাবের সময়টাযে কিভাবে চলে যায়। কথায় বলে না – গরীবের জান বড়ই জটিল। মানিকের মায়ের হাতের শিরায় স্যালাইন চললো সাথে বিভিন্ন ইনজেকশন। ছেলের এমন দুরাবস্থায় ওনার জন্যও খুবই দরকারি চিকিৎসাটা এই যাত্রায় হয়ে গেলো। উনি মোটামুটি সুস্থ হয়েছেন। আমাকে দেখেই চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার পোলার কি হইল? ওয় কি বাইচ্চা আছে?

সবে জেনারেল ওয়ার্ডে ঢুকা সিহাব যন্ত্রের মতো উত্তর দেয়, মিন্টুকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়েছে প্রায় আধা ঘন্টা হলো। আমি এসেছি আপনার অবস্থা দেখতে।

আমি ভাল হয়য়া গেছি, ভাইজান। কান্না জড়ানো কন্ঠে বললেন তিনি। আমি আমার পোলাডারে একটু দেখতে চাই, ভাইজান।

আপনি এখন দেখবেন কিভাবে?  ওরতো অপারেশন হচ্ছে। যখন বের করবে তখন আপনাকে জানিয়ে যাবো।

ইয়া আল্লাহ রে। কি কন ভাইজান? আমি যাবো। আমার তো কিচ্ছু হয় নাই। আমি এইখানে ক্যান? মানিকের মা বিস্ময় নিয়ে চারিপাশে দেখছে।

মায়েরা কি এমনই হয়! সিহাবের মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে। কাছেই এক ডাক্তারকে পেয়ে বললো, এক্সকিউজ মি, স্যার। ইনি কি এখন যেতে পারবেন?

কে? ইনি? কিভাবে যাবেন? বয়স্ক ডাক্তার সাহেব বেশ বিরক্তির সাথেই বললেন। এনার যে অবস্থা! চরম অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ। তার উপর খনিজ লবনের ঘাটতিতে আছেন। ওনার আরো কয়েকদিন এখানে থাকতে হবে।

কথাটা শোনা মাত্রই মানিকের মায়ের সে কি চিৎকার। ওরে ভাইজান, আমি এইখানে থাকবো না। আমার পোলার কাছে নিয়া চলেন। আমারে নিয়া চলেন।

এমন চিৎকারে ডাক্তার সাহেব নিজেই ভয় পেয়ে যান। আরে আরে, করছেন কি? এটা হাসপাতাল। এমন চিৎকার করা চলবে না। আচ্ছা, আপনি যদি স্বেচ্ছায় চলে যেতে চান তাহলে যেতে পারবেন। চিৎকার করবেন না। সিহাবের দিকে তাকিয়ে বললেন, এই যে আপনি – আপনি কি এনার এটেন্ডেন্ট? ভাই, তাড়াতাড়ি ফরমালিটিজ শেষ করে ওনাকে নিয়ে যান। বলেই আরেকটা রুগীর কাছে চলে যান।

সিহাব আসলে যন্ত্র হছে যেনো। কোনো অভিব্যক্তি ছাড়াই পরবর্তী কতগুলো ফর্মালিটিজ শেষ করে মানিকের মাকে ওই ওয়ার্ড থেকে বের করে আনে। মনে মনে মানিকের মায়ের মনের জোর দেখে অবাক হয়। তিন তলা থেকে দোতলার সিঁড়ি আর লম্বা লম্বা তিনটি করিডর পার হয়ে যখন অপারেশন থিয়েটারের সামনে ওরা আসলো ঠিক তখনই মিন্টুকে অপারেশন শেষে বের করে আনলো। স্ট্রেচারে মিন্টু শুয়ে আছে, অচেতন। মানিকের মা দৌড়ে গিয়ে মিন্টুকে জড়িয়ে ধরে। সিহাব অবাক হয়, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা দেখে। স্ট্রেচার ধরে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন নার্স নির্বিকার। কোনো বাধা প্রদান নেই। শুধু একজন বললেন, রুগীর ভাগ্য ভালো। রড বেশি দূর ভিতরে ঢোকেনি। অপারেশনও তেমন জটিল কিছু হয় নাই। রুগীকে আমরা ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছি। আধাঘন্টার মধ্যেই জ্ঞান ফিরবে। আপনারা ইচ্ছা করলে একদিন রাখতেও পারেন আবার আজকেই নিয়ে যেতে পারেন।

সিহাব হা করে সব শুনছে। কি হচ্ছে এসব! গরীব বলে মিন্টুকে এমনটি করছে নাতো? কথা বলে উঠে, আচ্ছা, তাহলে তো খুবই ভালো। আপনারা অপারেশনের পর রুগীকে এভাবেই যেতে দেন?

এবার দ্বিতীয় নার্স কথা বলেন, হ্যাঁ, আমরা জটিল কিছু না হলে বাসায় পাঠিয়ে দেই। দেখতেই পারছেন, কত কত রুগী বেড না পেয়ে ফ্লোরে ফ্লোরে শুশে আছেন। ঔষুধ প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খাওয়াবেন।

আসলেই অবাক ব্যাপার। সন্ধ্যা হয় হয় এমন সময় সিহাব ওদের সবাইকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসে। মানিকের মায়ের সেকি বাঁধভাঙা হাসি। নিজেও যে একজন কঠিন রুগী তার কোনো হিসেবই নেই। ছেলে মিন্টুকে ঘিরেই যেন চিন্তা বেশি। না একটু একটু চিন্তা বোধ হয় ওনার বড় ছেলে মানে মানিকের জন্যও হয়। সিহাবই প্রথম মানিককে মহল্লার স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলো। কোনোক্রমে মেরে পিটিয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো গেলো। তারপর মানিকের বাড়ি থেকে পলানো শুরু। তার ওই পলানো ক্রমেই সবার কাছে নিয়মিত হয়ে যায়। ওকে দিয়ে লেখাপড়াতো হলো না। তাই চট্টগ্রামে থাকা মানিকের দূরসম্পর্কের পরিচিত এক লোকের গ্যারেজে পাঠানো হলো মাস খানেক হলো। তাও আবার গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে খবর এলো ও সেখান থেকে পালিয়েছে। ঢাকাতেও আসে নি। সাত দিন হলো ও কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কে জানে।

সিহাবদের বাসায় পৌছানোর ঘন্টা খানেক পর সেই পালিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছেলে মানিক বাড়ি ফিরে আসলো। মানিকের মায়ের সে কি আনন্দ! উনি কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। এই মানিকই আজকের দিন বাদে অন্য কোনোদিন আসলে নির্ঘাত উত্তম মধ্যম পেতো। কিন্তু আজকের কথা ভিন্ন। ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা ওকে গ্যারেজ থেকে পালানোর শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিলো। মানিক মিন্টুর জন্য কলা এনেছে। মায়ের সাথে ছেলেমেয়েরা বেশ মজা করে কলা খাচ্ছে। কোথায় মানিকের মায়ের নিদারুণ পুষ্টিহীনতা আর কোথায় মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা তার ছেলের করুন অবস্থা।

প্রায় বছর দেড়েক পরের ঘটনা। সিহাবের মাস্টার্সের ফলাফল দেয়ার চার মাসের মাথায় ও একটা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসে চাকরী পেয়েছে। বিগিনার্স স্টেজের পজিশন। সকাল সাতটায় বাসা থেকে বের হয় আসে সেই রাত আটটায়। আজও তেমনই রাতে বাসার গলিতে পা রাখতেই তীব্র পচা গন্ধে সিহাবের পেট মুচড়ে উঠে। ব্যাপারটা কি বুঝে উঠতেই দেখে গলির মাথায় ওদের বাড়ির সামনে মানুষের বিশাল জটলা। বাড়ির যত কাছে আসছে ততই গন্ধের তীব্রতাও বাড়ছে। জটলাটার উৎস ডানদিকের বাড়ির দিকেই বেশি। নিজেদের বাড়ির ভেতর যাওয়ার চাইতে ওদিকে ব্যাপারটা কি হলো দেখতেই সিহাবের মন বেশি চাইছে। রুমাল রাখার অভ্যাস না থাকায় জামার হাতা দিয়ে কোনো মতে নাক মুখ ঢেকে সামনে পা বাড়ায়। দেখে মানিকরা যে বাড়িতে থাকে সে বাড়ির সামনে হোগলা দিয়ে জড়ানো কিছু একটা পরে আছে। আর ওটা দেখতেই এত গন্ধ সত্ত্বেও উৎসুক মানুষের ভীড়। কি আশ্চর‌্য্য! মানিকের মা ওটার পাশেই নাক মুখ না ঢেকেই নিথর হয়ে বসে আছে। সিহাব অবাক ওনার কি বোধশক্তিরও অভাব ঘটলো!

সিহাব জানতে চায়, কি ওটা?

একটু দূরে মানিক দাড়িয়ে। ওর অবস্থাও বিধ্বস্থ। ওই উত্তর দিলো, মামা, এইটাতো রাজার লাশ।

বলিস কি? সিহাব বেশ জোরেই বলে উঠে। তিন দিন আগেই ও শুনছে রাজা সদরঘাটের যে হোটেলে কাজ করতো সেখান থেকে উধাও। ওকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। রাজার বেলায় চিন্তার বিষয়। কারণ, ওর মানিকের মতো পলানোর অভ্যাস নাই। ভীষণ সুন্দর  চেহারা আর গড়ন। তবে মাথা গরম ছেলে। হঠাৎকরেই রেগে যেতো। এই এতো টুকুই ওর খারাপ বৈশিষ্ট্য। সিহাব ভাবে ওর আবার কি হলো? মানিক কে আরো বলে, কেনো কি হয়েছিলো ওর? (চলবে)

 

 

সৈয়দ মনজুর কবির, গল্পকার, ঢাকা

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো