করীম রেজা
সময় থেমে থাকে না, বিশেষ করে কবিতার সময়। সময়ের প্রতিবিম্বও একই থাকে না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আকার-আকৃতি বদলায়। ছায়া যেমন নানা আকারের হয়, কবিতাও নানা রকমের। বলা হয়ে থাকে, কবিতা ভাবে, মূল্যে, ভাষায়, আঙ্গিকে ও ভঙ্গিতে অধিকাংশই দুরূহ, সহজপাঠ্য নয়। সাধারণ পাঠের আড়ালে ভিন্ন পাঠ থাকে, অন্য পাঠ থাকে— যা নিষ্ঠা দিয়ে, একাগ্রতা দিয়ে ও মেধা দিয়ে উদ্ধার করতে হয়। চর্যাপদের কথা এ পর্যায়ে স্মরণযোগ্য। চর্যার ভাষা ছিল সন্ধ্যা ভাষা, গুরুমুখী ভাষা। গুরুর আলোচনা ও ব্যাখ্যা ছাড়া সে ভাষার অন্তর্নিহিত পাঠ সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনুভব বা অনুধাবন করা সম্ভব হতো না।
‘হারমেটিক’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে বিরল, শুধু বিরল নয়—অতি বিরল। ইতালিয়ান সাহিত্যের হারমেটিক ধারা নিয়ে কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক “প্রতিবিম্ব কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা তৈরি করেছেন; রচনা করেছেন বলা অত সমীচীন নয়, যতটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়—তিনি এগুলো নির্মাণ করেছেন। সাধারণভাবে কবির স্বতঃস্ফূর্ত ভাবনা বিশেষ ভঙ্গিতে ভাষায় লেখা হলেই আমরা তা কাব্যরচনা অভিধায় গ্রহণ করি। কবি সানাউল হক এখানে কবিতার এক কঠিন রূপকল্প নিয়ে দীর্ঘ পরিশ্রমে আয়নার মতো প্রতিবিম্বিত চিত্র নির্মাণ করেছেন, যা পাশাপাশি রেখে পাঠক পাঠ করতে পারেন, তুলনা করতে পারেন এবং বিষয়-বিন্যাস ও কাব্য কৌশল নিয়ে ভাবতে পারেন। মূলত পাঠকের অন্তরে দ্যোতনা সৃষ্টির জন্য কবিতা-কৃতির দোলক খণ্ড তৈরি করেছেন কবি এই প্রতিবিম্ব কাব্যাধারে। পাঠক তার ইচ্ছামতো অর্থ তৈরি করে নিতে পারে, তাকে পারতে হয়—এমন ভঙ্গিতে হারমেটিক কবিতাগুলো রচিত ও নির্মিত হয়েছে, যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে। কেননা, অনেকটা এই রকম করেই হারমেটিক কবিতা গড়ে তুলতে হয়। এই বাধ্য করা কবির নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রবণতা এবং পাঠককে আকর্ষণ করার কুশলতা প্রমাণ করে। বিদেশি ভাষার একদম অপরিচিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে তিনি সাহিত্যের একটি বিশেষ প্রক্রিয়াকে বাংলা কবিতায় সফলভাবে আমদানি করেছেন।
সাধারণত কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লেখা হয় না, কিন্তু এই কাব্যগ্রন্থের পঞ্চাশ জোড়া কবিতা পাঠের আগে কবি-রচিত ভূমিকা অংশ পাঠ না করলে গ্রন্থিত কবিতার কাব্যরস আহরণ করা প্রায় দুঃসাধ্য। এই সুলিখিত ভূমিকা থেকেই পাঠক পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন কোন ভঙ্গিতে এই কবিতা নির্মাণ করা হয়েছে। কবিতার ভাব, শব্দ, প্রতীক ও সংকেত কী অর্থ বহন করতে পারে, তা পাঠক নিজে নির্দিষ্ট করবেন। তাছাড়া পাঠকের উপরি পাওনা হিসেবে আছে গ্রন্থের শুরুতেই অত্যন্ত সুলিখিত একটি ‘পাঠসাক্ষ্য’- জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা অতিসংক্ষেপে সুললিত ভাষায় কাব্যগ্রন্থ ও কবি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন।
হারমেটিক পদ্ধতি বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে নতুন। পদ্ধতিটি সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া আবশ্যক। কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় কবি হারমেটিক কবিতা সম্পর্কে একটি ধারণা সহজ-সুললিতভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘১৯২০-৩০ এর দশকে ইতালিতে হারমেটিক কবিতার উৎপত্তি ঘটে এমন এক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময়, যখন কবিকুল প্রকাশের স্বাধীনতা হারিয়ে কবিতায় অন্তরমুখী, সংকেত-নির্ভর ভাষার আশ্রয় নেন। হারমেটিক শব্দটি এসেছে গ্রিক পুরাণের দেবতা হার্মেস ট্রিসমেজিস্টাস-এর নাম থেকে, যিনি গূঢ় জ্ঞান ও নীরব দর্শনের প্রতীক। এদিক থেকে হারমেটিক মানে: রুদ্ধ, রহস্যময় বা স্বয়ংসম্পূর্ণ।’ বোঝা গেল, ইংরেজি শব্দ ‘হার্মিট’ বা নির্জন বাসের সাধু-সন্তদের সঙ্গে এর কোনো যোগাযোগ নেই। রুদ্ধ, রহস্যময়, দর্শন-নির্ভর গোপন দুরূহ ভাবনার ধারক হিসেবে আমাদের চর্যাপদের সঙ্গে এর এক ধরনের সাদৃশ্য দুর্লক্ষ্য নয়, আবার খুব বেশি মিল আছে তাও নয়। চর্যাপদের ভাব, ভাষা ও অনুভব আয়ত্ত করার জন্য গুরুর সহায়তা প্রয়োজন, আর অন্যদিকে হারমেটিক ধারার কবিতায় পাঠককে নিবিষ্টভাবে অন্তর্লোকের দিকেই নজর ফিরিয়ে নিতে উদ্দীপনা জোগায়। উপমা, চিত্রকল্প, ভাব, ভাষা, রূপক ও প্রতীক প্রয়োগের মাধ্যমে পাঠকের মনের গহীনে আন্দোলন ও আলোড়ন সৃষ্টি করা হয়। আমরা হারমেটিক কবিতা পড়তে গিয়ে দেখব সেখানে ভাব ও বক্তব্যের উল্লম্ফন আছে, এক বিষয় থেকে সহসাই বিষয়ান্তরে চলে যাওয়া আছে। দেখা যাবে, এক পঙ্ক্তির সঙ্গে আগের ও পরের চরণের মিল দৃষ্টিগ্রাহ্যরূপে আপাতদৃষ্টিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। হারমেটিক কবিতার এই বিশেষত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয় আধুনিক বাংলা কবিতার ‘জাম্পিং’ বা উল্লম্ফন বৈশিষ্ট্য, যার কারণে পাঠক প্রথাগত কবিতার ধারাবাহিক বিবরণের অভাব বোধ করে। কবিতা পাঠে ভাব ও অনুভবে পাঠক দ্বিধান্বিত হয়, যার ফলশ্রুতিতে আধুনিক কবিতা সহজবোধ্য নয় বলে সাধারণ পাঠকের ধারণা তৈরি হয়েছে। ‘ফ্রান্সেস্কো ফ্লোরা ১৯৩৬ সালে কবিতার এ রহস্যময় ও সংকেতমূলক প্রকৃতিকে বুঝাতে হারমেটিক শব্দটি ব্যবহার করেন’।
কবি এই কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় হারমেটিক ধারার কবিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ইউরোপীয় সাহিত্যে এই ধারার কবি ও কাব্যকৃতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দিয়ে আমাদের বাংলা কবিতার ধারায় এর প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘হারমেটিক কবিতার রচনা শৈলী স্বনির্মিত ও অভিনব, যেখানে প্রতীক, ব্যঞ্জনা এবং বিমূর্ততা মিলে এক গভীর চিত্রপ্রবাহ তৈরি করে। কবিতায় সরাসরি ঘটনা বর্ণনার পরিবর্তে চেতনার জটিল প্রতিফলন ঘটানো হয়।’ আধুনিক কবিতার সঙ্গে হারমেটিক ধারার কবিতার সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক ভূমিকা অংশে উল্লেখ করেছেন, ‘চারটি কাব্যধারা প্রতীকবাদ, পরাবাস্তববাদ, হারমেটিক ও উত্তর আধুনিকতা নানা মাত্রায় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এগুলোর প্রত্যেকটাই ভাষার সীমা ও অর্থের অনিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করে তবে নিজস্ব দার্শনিক অবস্থান থেকে হারমেটিক কবিতা এ ধারাগুলোর মাঝে একটি নিঃশব্দ গভীর প্রতিস্বর—যেখানে ভাষা হয়ে ওঠে একান্ত অনুভবের আয়না।’
তিনি সচেতনভাবেই উল্লেখ করেছেন, বাংলা সাহিত্যে এই হারমেটিক ধারাকে পুরোপুরি চিন্তাগত বা স্বীকৃত সাহিত্যিক আন্দোলন হিসেবে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়নি। যদিও তিনি আলোচনায় বাংলা ভাষার প্রধান প্রধান আধুনিক কবির কবিতায় হারমেটিক ভাব ও ভঙ্গির প্রয়োগ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে আজকের নিরীক্ষাপ্রবণ কবিদের কবিতায় হারমেটিক লক্ষণগুলো মূর্ত হয়ে উঠেছে ভাষার গভীরতর ব্যবহারে, প্রতীকের জটিলতায় এবং অভিপ্রায়ের অস্পষ্টতাকে ধারণ করে।’ কবি আরও লিখেছেন, ‘হারমেটিক কবিতা ইউরোপীয় আধুনিকতাবাদের একটি স্বতন্ত্র ধারা, যার কেন্দ্রে রয়েছে সংক্ষিপ্ততা, প্রতীকের ঘন ব্যবহার, ভাষার অস্পষ্টতা এবং অস্তিত্বগত সংকটের অন্বেষণ। এ ধারার প্রেরণা এসেছে ফরাসি প্রতীকবাদ ও ইউরোপীয় আধুনিকতার সৃজনশীল অভিজ্ঞতা থেকে। আর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় কবিতা থেকে শুরু করে ল্যাতিন আমেরিকার আধুনিক কাব্যধারা এবং সমকালীন কবিতা পর্যন্ত। ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রেক্ষাপটে জন্ম নিলেও, এর গূঢ ও অনুভবময় শৈলী ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, ল্যাতিন আমেরিকা, এশিয়্ এবং এ উপমহাদেশের কবিদের কাজে ছড়িয়ে পড়ে—যেখানে কবিতা বাহ্যিক বর্ণনার চেয়ে অভ্যন্তরীণ চিন্তা ও অনুভবের প্রকাশে বেশি মনোযোগী।’
কবি নিজেই নির্দেশ করেছেন যে, ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ গ্রন্থখানি এককভাবে হারমেটিক কবিতার সংকলন নয়। প্রতিবিম্ব কবিতা গ্রন্থে ৫০ জোড়া কবিতা আছে—একটি হারমেটিক ধারায় রচিত, অন্যটি একই বিষয় ও ভাববস্তু ধারণ করে আধুনিক কবিতার ভঙ্গিতে রচিত ও প্রকাশিত। এত কিছুর পরেও কবি সবিনয়ে নিবেদন করেছেন, ‘একই বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা কিংবা ভিন্ন ভাষা শৈলীতে প্রকাশ করার সম্ভাবনা ঘিরে এ নিরীক্ষা।’ অর্থাৎ তিনি একই ভাবনাকে দুই বিন্দুতে রেখে নির্মাণ করেছেন ও প্রকাশ করেছেন। জীবনঘনিষ্ঠ আধুনিক বা দৈনন্দিন ব্যবহারে অধুনা প্রচলিত শব্দ, সংকেত ও প্রতীক ব্যবহার করে কবিতা রচনা করেছেন, আবার নিবিষ্ট নিরীক্ষায নির্মাণ করেছেন হারমেটিক ভঙ্গির কবিতা। সার্থকতা বা সফলতা পাঠক, বিদ্বৎসমাজ এবং বিশেষত কালের বিচার্য।
নট-মরীচিকা (১) ও (২) শিরোনামের ৫১ ও ৫২ সংখ্যক জোড়া কবিতা দুটি আমরা উদাহরণের জন্য বিবেচনায় নিতে পারি। আমরা জেনেছি হারমেটিক কবিতার শরীর হয় আকার-আয়তনে ছোট। এখানে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও সংকেতপ্রধান, যা এই শ্রেণির কবিতার অন্যতম ধরন। ছোট বাক্যের ছয় পঙক্তির ছোট কবিতা। প্রথম স্তবকে আছে তিন লাইন:
জলের শরীর তবু প্রবাহের চাপে
জল ছেড়ে গেল
বেনামের খেয়া?
এখানে কোনো দীর্ঘ বয়ান বা সরল গল্প নেই, কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন অথচ তীব্র ইশারা রয়েছে। পাঠক তার নিজের মতো করে ভাবনার জলে চিন্তার খেয়া ভাসাতে পারে, পারতে হয় কবিতার রসাস্বাদনের নিমিত্তে। গোপনীয়তা ও অন্তর্মুখী রহস্য দিয়ে পাঠককে টেনে নেওয়া হয় দ্বিতীয় স্তবকে:
দেবতার ধূপে তীরের বন্দনা
অস্বীকারে জীর্ণ
তুলসীতলা— নট-মরীচিকা?
এই অংশটিতে অর্থ সরাসরি ধরা দেয় না। এটি পাঠকের মনের ভেতর একটি ধোঁয়াশা, রহস্য এবং বহুমুখী ব্যঞ্জনা তৈরি করে, যা ঠিক হারমেটিক কবিতার দুর্গমতা ও ভেতরের অবয়বহীন নিঃসঙ্গতার কথা মনে করিয়ে দেয়। বন্দনার সঙ্গে আছে অস্বীকার। অস্বীকার করতে করতে বন্দনার সৌন্দর্য, পবিত্রতা, নিমগ্নতা কিংবা সমর্পণের বোধ জীর্ণ, অন্তর্হিত— এই তীব্র প্রশ্ন উত্থিত হলেও স্পষ্ট উত্তর মেলে না, বরং রহস্য আরও পুঞ্জীভূত হয়। সবটাই কি অভিনয়? মরীচিকার মতো সত্য কিন্তু সত্য নয়। তাহলে কি এই অভিনেতা সদৃশ মরীচিকা বিরাট প্রশ্ন হয়ে রয়ে যায়, মরীচিকার মতো সময়ান্তরে মিলিয়ে যায় না? অভিনেতা মঞ্চ ছেড়ে গেলেও দর্শকের মনে সেই অভিনয়ের রেশ দোলায়িত থাকে কিছুকাল আবার অনেককাল।
একই থিম নিয়ে রচিত দ্বিতীয় কবিতাটিতে প্রথমটির সেই রহস্যময়তা ও ভাঙা অবয়ব নেই। বরং এখানে বিরহ বা দূরত্বের কারণটি খুব পরিষ্কার:
আসবে না বলে তুমি নদী হয়ে গেলে
প্রবাহকে ভালোবেসে নিজ থেকে দূরে সরে যেতে যেতে…
অপেক্ষা নিয়তই প্রবহমান, নদীও। প্রবাহ কখনই নৈকট্যবিলাসী নয়, অপেক্ষা কালের মতো দীর্ঘ প্রলম্বিত হয়, শূন্যতা গভীর করে তোলে। যার কোনো নাম-পরিচয় থাকে না, বেনামের খেয়া হয়ে যায়। খেয়া মানেই তীরে পৌঁছানোর অবলম্বন, পারাবার অতিক্রমের আশা জাগায়, কিন্তু যখন তা বেনামের খেয়া হয়, সেখানে আশার চেয়ে হতাশা, শূন্যতা ও আশাভঙ্গের বেদনা চিত্রিত হয়। স্মৃতিকাতরতা ও নস্টালজিয়া আধুনিক কবিতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এখানে “তুলসিতলায় দেবতারা ছবি আঁকে” বা “পায়ে-পায়ে এই আঙিনায পৌঁছে যেতে”— এই লাইনগুলোর মাধ্যমে আধুনিক মানুষের যান্ত্রিক বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে স্মৃতিকাতরতার প্রকাশ ঘটেছে, যা সাধারণ পাঠকের কাছে অনেক বেশি বোধগম্য। তারপরও সেই নট, সেই মরীচিকা কেনাবেচা হয, হতে পারে, হয়ে থাকে; জানা নাই তার জন্য কী পরিমাণ মূল্য দিতে হয়। দুটি কবিতা পাশাপাশি বিচার করলে দেখা যায়, প্রথম কবিতার ভাষা সংক্ষিপ্ত, শব্দ নির্বাচনে রহস্য সৃষ্টি, ইশারা-ইঙ্গিত ও অস্পষ্টতা বর্তমান; আর দ্বিতীয় কবিতা সেই একই থিম বা বেদনা দীর্ঘ ক্যানভাসে, আধুনিক কবিতার আঙ্গিক বিবরণে ও নস্টালজিয়ার মোড়কে ফুটিয়ে তোলা । অর্থাৎ, একই ভাব বা অনুভূতির দুটি ভিন্ন প্রকাশ— একটি অন্তর্মুখী রহস্যে ঘেরা, অন্যটি আবেগ ও স্মৃতির রেখায প্রায় স্পষ্ট। দুটি কবিতায় পাওয়া যায় নিঃসঙ্গতা, স্মৃতিকাতরতা এবং অনুপস্থিতির এক গভীর বোধ।
আরেকটি জোড়া কবিতা জোছনার অজ্ঞাতে (১) ও (২):
রাতের মৃত চোখ ভরে দেয়
খুনি জোছনার আলো
কবর ফুঁড়ে বের হয়ে আসে
কণ্ঠের উজবুক নদী
নক্ষত্রের অনর্থক দৃষ্টিতে
ধরা পড়ল কি এসবের কিছু!
হারমেটিক কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার সংকোচন এবং অর্থকে সহজলভ্য না করে রহস্যের আবরণে রাখা। “রাতের মৃত চোখ ভরে দেয় / খুনি জোছনার আলো”— এখানে জোছনাকে “খুনি” বলা এবং কবর ফুঁড়ে “কণ্ঠের উজবুক নদী” বেরিয়ে আসার মতো রূপকগুলো সরাসরি কোনো বাস্তব ঘটনা বর্ণনা করে না, বরং এক গভীর অবচেতন বা অতীন্দ্রিয় রহস্য তৈরি করে। কবিতার শেষ লাইনে নক্ষত্রের “অনর্থক দৃষ্টিতে” সবকিছু ধরা পড়ল কি না— একটি মনস্তাত্ত্বিক শূন্যতা ও দুর্ভেদ্য ভাবনার জন্ম দেয়, যা হারমেটিক ধারার অন্তর্মুখী ও অপ্রকাশ্য বৈশিষ্ট্যের কথা মনে করায়।
এর বিপরীতে, জোছনার অজ্ঞাতে (২):
আশ্চর্য সুন্দর একটা রাত
খুন হলো জোছনার ছুরিতে
অথচ কেউ কিছু জানল না—
শুধু অন্ধকারের গন্ধ মেখে
গোরস্থানের শেয়ালগুলো
চিৎকার জুড়ে দিলো বিদীর্ণ উল্লাসে
তবুও কেউ শুনল না—
এমনকি দূরের কোনো চোখ দেখল না
উদ্গ্রীব কান পেতে কেউ কিছুই শুনল না।
উপরে উল্লিখিত কবিতায় প্রথম কবিতার সেই সাংকেতিক বা দুর্ভেদ্য কুয়াশা অনুপস্থিত। এখানে ঘটনা মোটামুটি পরিষ্কার—একটি সুন্দর রাতে জোছনার ছুরিতে রাতটি খুন হয়েছে, অথচ কেউ তা জানল না। গোরস্থানের শেয়ালগুলোর চিৎকার এবং মানুষের উদাসীনতার চিত্রটি এখানে সরাসরি দৃশ্যমান। জোছনাও যে অস্ত্র হতে পারে কবি-কল্পনায় তা বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। সাধারণ আধুনিক কবিতার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো শহুরে বা পারিপার্শ্বিক উদাসীনতার রূপায়ন। “অথচ কেউ কিছু জানল না… এমনকি দূরের কোনো চোখ দেখল না”—এই পঙ্ক্তিগুলোর মাধ্যমে কবি সমাজের বা পারিপার্শ্বিকতার চরম নিঃসঙ্গতা ও বধিরতাকে খুব সহজ, সাবলীল অথচ তীব্র ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ব্যক্তি এখানে নিজেকে নিয়ে সদা ব্যস্ত, চারদিকে দেখার ফুরসৎ সামান্যই; সমাজ-মানস বদলের স্পষ্ট প্রকাশ এখানে লক্ষণীয়।
আরেক জোড়া কবিতা দেখা যেতে পারে— সহযাত্রী (১) ও (২):
জানালার ওপারে ঘাস, ভেতরে ফাঁকা সিট
সেখানে আগের যাত্রীর নিঃশ্বাসের গন্ধ—
নিজের ভেতরে নিজে
মুখহীন, নামহীন আগন্তুক সঙ্গ
আর ফাঁকা সিট
সিটের ফেব্রিকে তার উষ্ণতা—
আমাকে দেখবে বলে কোনো
অনর্গল সঙ্গ
আমার দিকে নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে!
ভোরের ট্রেন ঠিকমতো আসে
ডিজিটাল সিগন্যালে সময় মেপে
ভেতরে গিজগিজ যাত্রী;
জানালার বাইরে বিজ্ঞাপনহীন জীবন,
বিস্তৃত ভাঁটফুল আর গ্রামের ঘরবাড়ি;
ট্রেনের শব্দে ভর করে
অনুপস্থিতির শব্দ আসে
মেঘের মতো পাশের সিটে বসে
আমি হাত রাখি পুরোনো অভ্যাসে
এখানে আগেও কেউ বসত—
তখন মুঠোফোন ছিল না, মুঠোভরা গন্ধ ছিল;
অ্যালার্মের কোলাহলে
এখন কি আর
ঘ্রাণ বিছানোর সময় আছে!
জানালায় শিশিরের বিন্দুগুলো সময়ের শোকে
কবেই অন্ধ হয়ে গেছে।
দুটি কবিতাতেই একটি চলমান যান ট্রেনের ভেতরের সিট এবং সেখানে আগের কোনো যাত্রীর রেখে যাওয়া অদৃশ্য উপস্থিতি বা ঘ্রাণের অনুভূতিকে কেন্দ্র করে ভেতরের নিঃসঙ্গতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রথম কবিতায় “আগের যাত্রীর নিঃশ্বাসের গন্ধ” আর দ্বিতীয় কবিতায় “মুঠোভরা গন্ধ ছিল”— এই দুটি অভিব্যক্তিই মূলত হারানো বা অতীত কোনো সান্নিধ্যের নস্টালজিয়াকে ধারণ করে। প্রথম কবিতা অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক, প্রতীকী এবং বিমূর্ত। সেখানে “মুখহীন, নামহীন আগন্তুক সঙ্গ” বা “অনর্গল সঙ্গ”-এর মতো বিমূর্ত ধারণার মাধ্যমে ভেতরের শূন্যতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের প্রবল সংঘাত এবং সংকট তৈরি করেছে। দ্বিতীয় কবিতাতে আধুনিক যান্ত্রিকতার ছোঁয়া স্পষ্ট। এখানে “ডিজিটাল সিগন্যাল”, “মুঠোফোন”, এবং “অ্যালার্মের কোলাহল”-এর মতো আধুনিক উপাদান এনে বর্তমান প্রযুক্তিকেন্দ্রিক জীবনের সঙ্গে অতীতের সরল গ্রামীণ ঘ্রাণ ও স্মৃতির একটি তুলনামূলক বা সংঘাতময় চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জীবনের অনন্ত গতি স্মৃতিকাতরতায় বাঁধ সাধে, মানুষ চাইলেই আর অতীতমুখী হতে পারে না। তবু বিজ্ঞান, প্রকৃতি, সংস্কার ও আচরণ—সব মিলিয়ে গিজগিজে ভিড়ের মধ্যেও মানুষ একা হয়ে যেতে পারে।
হাইকু, এলিজি, লিমেরিক, সনেট, শায়ের, লতিফা, রুবাইয়াৎ, অমিত্রাক্ষর প্রভৃতি বিদেশি পদ্ধতির কবিতা লেখার চেষ্টা বাংলা সাহিত্যে দেখা গেছে। এর মধ্যে ইতালীয় সনেট যতটা চর্চিত, কর্ষিত ও পাঠকপ্রিয়-কবিপ্রিয় হয়েছে, তা অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি। হারমেটিক কবিতা বাংলা কাব্যসাহিত্যে, যতদূর জানা যায়, প্রথম আমদানি, চর্চা ও প্রচারে কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক পথপ্রদর্শক। এই কাব্যপদ্ধতি কবিপ্রিয় কিংবা পাঠকপ্রিয় হবে, কতদূর পর্যন্ত চর্চিত হবে, তা ভবিষ্যৎ কালের হাতে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আমাদের আর কোনো বিকল্প ভাবনা নেই। কেননা হারমেটিক কবিতা লিখতে গেলে কবির আত্মমগ্নতা, অধ্যবসায়, উপযুক্ত শব্দ নির্বাচন ও সংগুপ্ত অন্তরবোধ—যা ব্যক্তির অন্তরচেতনা বহন করে—তা অত্যন্ত জরুরি। আগেই বলা হয়েছে, হারমেটিক কবিতা সংকেতনির্ভর, প্রতীকী ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ এবং কবির গুপ্ত-সুপ্ত ভাবনা নির্দেশ করে। এইসব বৈশিষ্ট্য হাজির করা কবিকৃতির অতি জরুরি দায়, তা না হলে এই জাতীয় কবিতার সার্থক নির্মাণ দুরূহ।
কবি ভাবে ও আঙ্গিকে সমৃদ্ধ সব কবিতা রচনা করেছেন— তা এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করার বা পাঠ পর্যালোচনার সুযোগ কম। হারমেটিক ঘরানার কবিতার মধ্যে সাররিয়ালিজম-এর (ঝঁৎৎবধষরংস) প্রভাব লক্ষণীয়। সমাজ বিবর্তনের অভিঘাত শিল্পী-সাহিত্যিকদের প্রভাবিত করে; তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে আত্মস্থ করে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন এবং প্রকাশযোগ্য বিষয়কে সংকেত, প্রতীক ও রূপকের আবরণে প্রকাশ করতে হয়। এর জন্য নতুন উপায় ও নান্দনিক প্রকরণ আবিষ্কার করতে হয় অথবা পুরনো আঙ্গিকে নানা রকম শৈল্পিক সংযোজন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে সমাজের সংগুপ্ত ভাবনার সফল প্রতিবাদ প্রকাশের উপযোগী করতে হয়। মোদ্দা কথা, তখন লেখক-শিল্পীরা সমাজচিন্তার সার্থক প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকেন। হারমেটিক কবিতার ইতিহাসেও আমরা তেমন পরিস্থিতি লক্ষ্য করি। পরবর্তীকালে ইউরোপের অনেকানেক কবি কাব্য রচনা করে এই ধারা সমৃদ্ধ করেছেন।
কবি সানাউল হক তাঁর পূর্বের প্রকাশিত কয়েকটি কবিতা অবলম্বন করে, ভাব ক্ষুণ্ন না করে, সেগুলোকে হারমেটিক কবিতায় রূপান্তর করেছেন। যথেষ্ট কাব্যিক দক্ষতা না থাকলে এমন রূপান্তর কর্ম সহজ নয়। আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, রবীন্দ্রনাথ অমিত্রাক্ষর ছন্দের পরিবর্তে স্বরবৃত্তে মেঘনাদবধ কাব্যের অংশবিশেষ লিখেছিলেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দও আমদানিকৃত; মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাকাব্য রচনা করেছেন এই ছন্দে, আর রবীন্দ্রনাথ অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার ছন্দে রচিত ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কতক অংশ স্বরবৃত্ত ছন্দে রচনা করে প্রমাণ করেছিলেন যে গম্ভীর-গভীর কাহিনি-নির্ভর বিবরণ অন্য ছন্দেও রচনা সম্ভব।
কবি সানাউল হকের প্রতিভার স্বাক্ষর আমরা পাই এই ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ শীর্ষক কাব্যচর্চায়। তিনি সাবলীলভাবে আধুনিক জীবনের—বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত শব্দাবলী ও বিদেশি ভাষার শব্দাবলী বাংলা বাক্যে সংযোজন করেছেন। পাঠক সেইসব কবিতা পাঠ করতে গিয়ে গতিভঙ্গ বা বিভগ্ন বোধ জটিলতায় পড়বেন না, কারণ তিনি চেষ্টা করেছেন বাংলা ছন্দের গতিময়তা ও পর্ববিভাজন যথেষ্ট সচেতনতার সঙ্গে অনুসরণ করতে। কবি উদ্দিষ্ট ভাব প্রকাশের নিমিত্তে শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থেকেছেন, প্রয়োজনে নতুন শব্দবন্ধ কিংবা বাক্যাংশ তৈরি করেছেন সার্থকভাবে— যেমন: শপিংমল, এস্কেলেটর, প্রিন্টেড কাগজ, ইনডাকশন, সময়ের কুষ্ঠী, নাদান জোছনা, খুনি জোছনা, ব্লুটুথ, কাস্টমাইজড ভার্সন, দ্রাবিড় শহর, বৃষ্টির একসেস, গালিবের নীরবতা, অপূর্ণ ইউরেকা, অলীক নারী, অভিজাত অবশ মরণ, অদৃষ্টের অনাথ আত্মীয়, মফস্সলি হার্ট, বিব্রত টি-শার্ট, নিধা সাপুড়ে, কুখ্যাত অভিমান, বেহুদা যাত্রী, পরিযায়ী সুখ, বারকোডে হাইড, টিস্যু পেপার, বালুর স্ক্রল, পাহাড়ের মন, ফুলশয্যা-দহন, ঘাসের ঘুম, বিবস্ত্র অন্তর, বিষের জমজম, অনর্গল সঙ্গ, ব্যাকুল সহমরণ, ফেইক আইডি, রেগুলার আপডেট, টাইটানিক ভঙ্গিমা, ভৌতিক ফ্ল্যাশব্যাক, অ্যালগরিদম, একই লজিকে, প্রভৃতি।
নিম্নে কিছু বাক্যাংশ পৃষ্ঠা নম্বরসহ উল্লেখ করা গেল:
মোম গলাতে শিখা জ্বলছে
শিখা নেভাতে মোম গলছে [৩৪]
ঠিকানাহীন অবুঝ অন্ধকারে এভাবে ছুটতে দেখে
প্রতিবার পেছনের দিক থেকে এসে
আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কবিতা নামের অনিবার্য শব্দমিছিল।
সেই মিছিলের দিকে আড়চোখে তাকালেই দেখি এক নারীু [৫৩]
ঠোঁটের প্রান্তে ঘামের আঙুল [৭৩]
একঝাঁক অদৃশ্য ফাল্গুন [৭৮]
বেহুশ চাবির গোছা [৮২]
জল্লাদের নিস্পলক চোখ [৮৫]
একই ক্যাশে জমে থাকা আত্ম-প্রতিচ্ছবি? [৮৭] , প্রভৃতি।
কবি বাংলা কাব্য জগতে নতুন এই হারমেটিক কবিতা আমদানি করেছেন। অমিত্রাক্ষর ছন্দও আমদানিকৃত।
কবি সানাউল হক কত পরিশ্রম করেছেন, তার প্রমাণ এই ৫০ জোড়া কবিতার মধ্যে আমরা পাই। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে একেবারেই নতুন হারমেটিক পদ্ধতিতে তিনি কবিতা নির্মাণ করেছেন, পাশাপাশি একই বিষয় ও থিম নিয়ে প্রচলিত কাব্য-ভঙ্গিতে কবিতা রচনা করেছেন। আমরা জানি, কবিতা রচনায় স্বতঃস্ফূর্ত বা অন্তর-তাগিদের ভূমিকা কতটুকু। কবির মানসপটে ভাবচিত্র পরিস্ফুট না হলে কবিতা, এমনকি কোনো রচনা শুরু করা সম্ভব হয় না। একটি শব্দ, একটি পংক্তি, একটি ক্ষুদ্রতম ভাবসমষ্টি সৃষ্টি না হলে কবি-সাহিত্যিক তাঁর নির্মাণকলা আরম্ভ করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমরা দেখি, শাহ মোহাম্মদ সানাউল হকের সমভাব-সমৃদ্ধ কাব্য রচনা দুটি ভিন্ন ভঙ্গিতে— একটি বহুল প্রচলিত, অপরটি বিদেশাগত এবং একেবারেই নতুন আমদানি। তাঁর অধ্যবসায়, নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং নতুন একটি প্রকরণ বাংলা কাব্যে আমদানি ও ধারণ করে, চর্চা করে একটি কাব্যগ্রন্থ নির্মাণের এই সাধনার জন্য তাঁকে অভিবাদন ও নমস্কার। তিনি হারমেটিক ধারার কবিতা রচনার পথিকৃৎ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, কীর্তিত হবেন এবং নন্দিত হবেন বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে।
হারমেটিক কবিতা পদ্ধতি কাব্যরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম কিংবা অক্ষম, কবিপ্রিয় অথবা পাঠকপ্রিয় হবে কি হবে না, তা ভাবীকালের উপর ছেড়ে দিতে হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আমাদের সাহিত্য সমালোচকগণ বিষয়ের আলোচনায় ও সহজ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে হারমেটিক ধারার কবিতার মর্ম উদ্ধারে যত্নবান কতটুকু হবেন, তার উপরেও এই নতুন ধারার কবিতা চর্চার ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আমরা আবারও কবি শাহ মোহাম্মদ সানাউল হককে তাঁর অসাধারণ, অভিনব, অভিনিবেশ, অধ্যবসায় ও অক্লান্ত চেষ্টায় সৃজিত ‘প্রতিবিম্ব কবিতা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য অভিবাদন জানাই।
করীম রেজা : প্রাবন্ধিক, ঢাকা




