মনে পড়ে, মহাবিশ্বের মহাকাশের চন্দ্র-সূর্যসহ অসংখ্য গ্রহ-তারার সারিতে সমুজ্জ্বল রবিরশ্মিটিকে জোর করে কদর্যমুখ অন্ধকারপুরুষ পাশবশক্তি ভেতরের তরল গরল ঢেলে দিয়ে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল বারবার; এবারও অতি সম্প্রতি প্রকাশ্যে তার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবার সময়টা এমনই, যখন উর্বর পলল সমৃদ্ধ বঙ্গীয় বদ্বীপ বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের আকাশসীমায় উড়ন্ত শকুনের ডানা ঝাপটানোর শব্দ মনে-প্রাণে ভীতি ও আতঙ্ক জাগায়।
ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির সীমানা প্রাচীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সদ্য আঁকা গ্রাফিতিতে আলকাতরা লেপনের অঘটনটির সচিত্র বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সুস্পষ্ট হলো “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’’-এর পর জাতিসত্তার অস্তিত্বের ফাটলের মুখ কত বড়ো হয়েছে এবং ঐ মুখ থেকেই উদগিরত হচ্ছে কালো রাত্রির কালো বন্যার গরল ধারা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই ঘটনায় দৃশ্যমান গুটিকয়েক তরুণ-তরুণীগণ একাত্তরে ধর্ষিতা বাঙালি রমণীর গর্ভজাত পাকিসেনার ভ্রুণ থেকে ভূমিষ্ট যুদ্ধ শিশুদের মধ্য থেকে বেড়ে ওঠা আজকের সবল পরিণত পাপবিদ্ধ প্রতিনিধি। এদেরকে শিখিয়ে-পড়িয়ে এমনভাবে বোধশূন্য করা হয়েছে, তারা যেন আলো দেখলেই নিভিয়ে দিতে পারে; এমন কি পতঙ্গের মতো প্রদীপ শিখায় ঝাঁপ দিয়ে পুড়ে অন্ধকারে অভিসার রচনা করতে জানে। এই অভিসার শুরু হয় পরাধীন আমলে; যখন অবিরাম মিথ্যে দিয়ে চাপা দেয়া হতো সত্যকে। তবুও যা সত্য তা-ই ঠিকে যায়; কখনো পরাভব মানে না। সত্যপথে যাত্রার মাহেন্দ্রক্ষণে অমিয়-অমৃত বাণী ও সুরে বাঙালির কণ্ঠে গীত হয়েছিল মুক্তির গান; তেমনই একটি গান “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’’। এই গানের স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে দেয়া আলকাতরার দাগ এমন প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়— একাত্তরে ধর্ষিতা বাঙালি রমণীর গর্ভজাত যুদ্ধশিশু যারা এখন বাঙালি জাতিসত্তার প্রবল প্রতিপক্ষ তারা আর কত বড়ো হবে?
এই প্রবল প্রতিপক্ষ কত বড়ো ও বেপরোয়া তার ভয়ঙ্কর চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এভাবেই দৃশ্যমান: একজন সদ্যপ্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনের আগে পিরোজপুরের নিভৃত গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে রাতের আঁধারে মোবাইল ফোনের আলোয় কবর খুঁড়ছেন মৃতের কন্যা ও বোনসহ তিন নারী। বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী আমৃত্যু কারাদণ্ডভোগী দেলোয়ার হোসেন সাঈদী’র মামলার বাদী। এ অপরাধে জামায়াত-শিবির মানিক পশারীর জানাজা হতে দেয়নি, এমনকি দাফনের জন্য খোঁড়া কবরটিও মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আরেকটি দৃশ্য : ঢাকার টঙ্গীতে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছয় বছরের শিশুকন্যাকে চুম্বন ও শ্লীলতাহানিতে সংক্ষুব্ধ পিতা শাহজালাল রুমির প্রচণ্ড থাপ্পড়ে ধরাশায়ী অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহমদ। তবে জানা যায়, শ্লীলতা হরণকারী মাদ্রাসা শিক্ষককে থাপ্পড় দিয়ে দারুণ বিপাকে পড়েছেন হতভাগ্য পিতা শাহজালাল রুমি।




