এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

শুদ্ধ সংগীতের সুরে মুখর সীতাকুণ্ড সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন অনুষ্ঠিত

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য :

সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২ জুন ২০২৬ ইং, সংগীতগুণী প্রদীপ ভট্টাচার্য্যের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সীতাকুণ্ডের এল. কে. সিদ্দিকী স্কয়ারে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুরনন্দন। সুর, তাল, লয় ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দিনভর মুখর ছিল পুরো আয়োজন, যা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সুরনন্দনের শতাধিক শিক্ষার্থী একক সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা ও সাধনার পরিচয় তুলে ধরে। ক্ষুদে ও নবীন শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকবৃন্দ। দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সুরনন্দনের সভাপতি ও গল্পকার দেবাশিস ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অতিথিবৃন্দের প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এই সঙ্গীত সম্মিলনের। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নজির আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. বখতিয়ার উদ্দিন, এ.সি.এল. লিংকের নির্বাহী পরিচালক সুনন্দ ভট্টাচার্য্য সাগর, বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী লিটন দাশ, প্রতিক ভট্টাচার্য্য এবং সুরনন্দনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক উজ্জ্বল কান্তি দাশ। বাচিকশিল্পী মোঃ গোলাম সাদেক ও পাতা দে বৃষ্টির সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে সুরনন্দনের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

উদ্বোধনী পর্বের পর সুরনন্দন এর পরিচালক শিল্পী ঋক ভট্টাচার্য্যের পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। একের পর এক পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা শিল্পীদের করতালিতে উৎসাহিত করেন।

এরপর নৃত্যশিল্পী পাপড়ি চক্রবর্তীর পরিচালনায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিত শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরে শিল্পী লিটন চৌধুরীর পরিচালনায় বৃন্দ তবলাবাদনের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

দিনের তৃতীয় ও শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় একক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী লিটন দাশ, সুজন দাশ, ঋক ভট্টাচার্য্য, দীপঙ্কর চক্রবর্তী দীপ্ত এবং সাঈম হাসান সানী। তবলায় সঙ্গত করেন খ্যাতিমান তবলাশিল্পী সানি দে, লিটন চৌধুরী, প্রতিক চৌধুরী ও প্রীতম নাথ। কিবোর্ডে ছিলেন প্রবীর আচার্য্য এবং অক্টোপ্যাডে ছিলেন অভি আচার্য্য ও প্রান্ত বনিক। অনুষ্ঠানটির সফল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন সুরনন্দনের অন্যতম সদস্য অপি দেবনাথ ও প্রিয়তোষ নন্দী। দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শুদ্ধ সংগীতের চর্চা, লালন, প্রচার ও প্রসারের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত সুরনন্দনের এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস। সুর, সাধনা ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

সংগীতের নির্মল সৌন্দর্য, নবীনদের উচ্ছ্বাস এবং গুণীজনদের অনুপ্রেরণায় সুরনন্দনের প্রথম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন হয়ে উঠেছিল এক হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক উৎসব—যার সুর দীর্ঘদিন প্রতিধ্বনিত হবে সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে।

ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্যিক প্রতিরোধ

শাহেদ কায়েস একজন কবিকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকার এতটা অস্বস্তিতে পড়েছিল কেন? তাঁর লেখা বাজেয়াপ্ত করতে হয়েছে, পত্রিকার জামানত কেড়ে নিতে হয়েছে, ছাপাখানায় নজরদারি বসাতে হয়েছে,

হঠাৎ ‘আন্দরকিল্লায় অন্তরকথা

ড. মাসুদুল হক   ২৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা একটু একটু করে রাতের দিকে গড়াচ্ছিল। কচি অন্ধকার পাকতে পাকতে যখন চেরাগি পাহাড় মোড়ে পৌঁছালাম, তখন চট্টগ্রামের

স্বপ্নীল বোঝাপড়া

সৈয়দ মনজুর কবির তুমি কে ও? কোন বাড়ির ছেলে? কই আগে তো কোনোদিন দেখি নাই? বেশ উচ্চ:স্বরে একটানে প্রশ্নগুলো করেন পিয়ার খান প্রায় আশি হাত

লাল নীল স্বপ্নের গল্প

দেবাশিস ভট্টাচার্য   শৈশব নিয়ে লিখতে গেলে আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে যাই, জীবনের এতটা সময় পার করে এসে মনে হয় শৈশবই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।

কামার

তানভীর আহমেদ হৃদয় ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি মাটিতে নামেনি। পূর্ব আকাশে সূর্যের আভা ফুটে উঠলেও গ্রামের অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভাঙেনি। কিন্তু আব্দুল করিম কামারের ঘরে