এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

চিত্রকলার ইতিহাস : মানুষের চোখে পৃথিবী দেখার গল্প (পর্ব-১)

ইমদাদুল হক সূফী

 

ভূমিকা

মানুষের সভ্যতার ইতিহাস যতটা ভাষা ও লেখার, ঠিক ততটাই রঙ ও রেখার। মানুষ কথা বলতে শেখার বহু আগেই ছবি এঁকেছে। সেই ছবি কখনো ছিল বিশ্বাসের আশ্রয়, কখনো ক্ষমতার ভাষা, কখনো বা নিছক অনুভূতির প্রকাশ। গুহার অন্ধকার দেয়াল থেকে আধুনিক গ্যালারির ক্যানভাস পর্যন্ত চিত্রকলার দীর্ঘ যাত্রা আসলে মানুষের দেখার ভঙ্গি বদলে যাওয়ার ইতিহাস। এই প্রবন্ধে বিশ্ব চিত্রকলার ধারাবাহিক ইতিহাসের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের চিত্রধারাকে যুক্ত করে সংক্ষিপ্ত অথচ সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা হলো।

১

মানুষ কথা বলতে শেখার আগেই ছবি এঁকেছে। শব্দের আগে রেখা, বাক্যের আগে রঙ। তাই চিত্রকলার ইতিহাস আসলে মানুষের নিজেকে ও পৃথিবীকে দেখার ইতিহাস। গুহার দেয়ালে আঁকা আদিম পশুর ছবি থেকে শুরু করে আজকের বিমূর্ত ক্যানভাস—এই দীর্ঘ যাত্রা মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও সভ্যতার রূপান্তরের সাক্ষ্য বহন করে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে, আনুমানিক ৪০,০০০-৩,০০০ খ্রিষ্টপূর্ব, মানুষ গুহার অন্ধকারে ছবি এঁকেছিল। ফ্রান্সের লাসকো (প্রায় ১৭,০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) কিংবা স্পেনের আলতামিরার গুহাচিত্রে দেখা যায় শিকার, পশু ও প্রতীকী চিহ্ন। এসব ছবি কেবল সৌন্দর্যের জন্য আঁকা হয়নি—গবেষকদের মতে, এগুলো ছিল আচার, বিশ্বাস কিংবা বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। এখানেই চিত্রকলার প্রথম পাঠ—শিল্প জীবনের সঙ্গে যুক্ত।

সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিত্রকলাও নতুন ভূমিকা পায়। প্রাচীন মিশরে (৩,০০০-৩০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্রকলা ছিল ধর্ম ও পরকাল বিশ্বাসের

 

অংশ। সমাধির দেয়ালে আঁকা মানুষের অবয়ব ছিল নিয়মবদ্ধ ও প্রতীকী। বাস্তবের চেয়ে চিরস্থায়িত্বই ছিল গুরুত্বপূর্ণ (নেবামুনের সমাধিচিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)। একই সময়ে মেসোপটেমীয়

সভ্যতায় (৩,৫০০-৫০০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্র ও অলংকরণ রাজক্ষমতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের বাহন হয়ে ওঠে (উরের স্ট্যান্ডার্ড, আশুরবানিপালের প্রাসাদ-রিলিফ)। এই পর্যায়েই ভারতীয় উপমহাদেশে চিত্রকলার প্রাচীন ভিত্তি গড়ে ওঠে। সিন্ধু সভ্যতায় (২,৬০০ু১,৯০০ খ্রিষ্টপূর্ব) বড় দেয়ালচিত্র না মিললেও সিলমোহর ও অলংকরণে চিত্রভাবনার উপস্থিতি লক্ষণীয়। মৌর্য যুগে (৩২২-১৮৫ খ্রিষ্টপূর্ব) বৌদ্ধ শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং অজন্তা গুহাচিত্রের প্রাচীন স্তরগুলোর সূচনা হয় আনুমানিক ২য় শতক খ্রিষ্টপূর্ব। গ্রিক সভ্যতায় (৬০০-৩০০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্রকলায় মানবদেহের সৌন্দর্য ও অনুপাত নতুন গুরুত্ব পায় (পলিগনোটাস, অ্যাপেলিস)। রোমানরা এই ধারাকে আরও বাস্তবমুখী করে তোলে। পম্পেই নগরীর দেয়ালচিত্রে (১ম শতক খ্রিষ্টাব্দ) পার্সপেকটিভ ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য চিত্রকলাকে নতুন মাত্রা দেয়।

একই সময়ে উপমহাদেশে গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতক) অজন্তার পরবর্তী গুহাচিত্রগুলো মানবিক আবেগ, আধ্যাত্মিকতা ও ছন্দময় রেখার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে (বোধিসত্ত্ব পদ্মপাণি ও বজ্রপাণির চিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)। এই ধারাই পরবর্তী ভারতীয় শিল্পভাবনার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

(চলবে )

ইমদাদুল হক সূফী, সম্পাদক, দেশপ্রসঙ্গ

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো