এখন সময়:রাত ১০:৪১- আজ: রবিবার-১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ১০:৪১- আজ: রবিবার
১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

রাসসুন্দরী দাসীর আমার জীবন : নারীর চিরকালীন লড়াইয়ের গল্প

নূর সালমা জুলি :

মরা মাটি ফুঁড়ে ওঠে জীবনের কায়া

লাল ত্বকে সবুজাভ ক্ষীণ তরু

হলুদ বসন্ত ওরে দেখা দিবি নাকি এই

বিমুখ প্রান্তরে

. . .

সমূহ স্খলন আছে, তবু জানি

¯্রােতের বুঝিবা অন্ত নেই অন্ত নেই।।

(হাসান হাফিজুর রহমান)

 

মানুষ অসাধারণ হয়ে ওঠে তার কাজের জন্য। কেবল বেঁচে থাকা নয় সেটাকে অর্থবহ করার জন্য যখন মানুষের চেতনায় অসাধারণ এক অনুভব কাজ করে তখন সত্যিকার অর্থেই সে অনন্য হয়ে ওঠে। এমনই অনন্য একজন মানুষ রাসসুন্দরী দাসী। তিনি সময়কে অতিক্রম করতে শিখেছিলেন সহজাতভাবে। বিদ্যাশিক্ষার সুযোগ না থাকলেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির বদৌলতে ‘একজন’ হয়ে উঠেছিলেন। ৮৮ বছর বয়সে নিজের আত্মজীবনী লেখেন। সময়টা অনেক আগে। তখনকার প্রেক্ষাপটে রাসসুন্দরীকে বিবেচনা করতে হবে। তাঁর জন্ম ১২১৬ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। এক রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং বিয়েও এমনই এক পরিবারে। পরিবারটি আবার সম্পদশালীও বটে।

 

এক বড় বাড়ির গৃহকর্মনিপুণা, ধর্মপ্রাণ বধূটি পুুুঁথি পড়বে বলে অক্ষরজ্ঞান লাভ করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। চৈতন্য ভাগবত পড়ার আকাক্সক্ষা রাসসুন্দরীকে এই অসাধ্য সাধনে উৎসাহিত করে। প্রশ্ন হচ্ছে অক্ষরজ্ঞান লাভ করে ধর্মগ্রন্থ পাঠ করেই তিনি ক্ষান্ত হলেন না কেন? এমন কোন্ আন্তর্তাগিদ তাঁকে নিজের জীবনের গল্প লিখতে অনুপ্রাণিত করল? যে সময় তিনি এসব করেছেন সেসময় বিবেচনায় আনলে বিস্মিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। একজন পুরনারী তাঁর জীবনের স্বপ্ন, বিশ^াস, আস্থা, সুখ আর দুঃখের বয়ান লিপিবদ্ধ করছেন। মানুষ এভাবেই আসলে কালজয়ী হয়ে ওঠে। প্রতিভা এমনই। নারী হয়ে জন্মেও হাজার প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে সাহিত্যের আকাশে একটা স্বতন্ত্র্য জায়গা দখল করে নিয়েছেন রাসসুন্দরী।

রাসসুন্দরীর গ্রন্থের প্রস্তাবনা লেখেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানে বলেন :

লেখাপড়া শিখিবার তাঁহার কোন সুবিধা ঘটে নাই। তখনকার কালে স্ত্রীলোকের লেখাপড়া শেখা দোষের মধ্যে গণ্য হইত। তিনি আপনার যতেœ, বহু কষ্টে লেখাপড়া শিখিয়াছিলেন। তাঁহার ধর্ম পিপাসাই তাঁহাকে লেখাপড়া শিখিতে উত্তেজিত করে। . . .

ইঁহার ধর্ম বাহ্যিক অনুষ্ঠান আড়ম্বরে পর্যবসিত নহে,  ইঁহার ধর্ম জীবন্ত আধ্যাত্মিক ধর্ম। জীবনের প্রত্যেক ঘটনার ইঁনি ঈশ^রের হস্ত দেখিতে পান, তাঁহার করুণা উপলব্ধি করেন, তাঁহার উপর একান্ত নির্ভর করিয়া থাকেন; এক কথায় তিনি ঈশ^রেতেই তন্ময়। এরূপ উন্নত ধর্মজীবন সচরাচর দেখা যায় না।

সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ^াস রাসসুন্দরীর একটা শক্তি, একটা সহায়, একটা অবলম্বন। তিনি তাঁর একলা চলার পথে সেই শক্তিকে সঙ্গী করে চলেছেন। নিজের অজান্তে এমন অদৃশ্য শক্তির ওপর আস্থা রেখে নিজেকে নির্মাণ করেছেন। ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। যদিও পুরুষের তৈরি করা আদর্শের মধ্যে দিয়েই জীবনকে দেখেছেন রাসসুন্দরী। তারপরেও তাঁর চিন্তনের ক্ষেত্রে স্বকীয়তার প্রকাশ লক্ষ করা যায়। তিনি কেবল নিজের আত্মজীবনী লেখেননি বরং তৎকালীন সমাজের অন্তঃপুরের জীবনের গল্প আমাদের শুনিয়েছেন। এই গ্রন্থের গ্রন্থপরিচয় লেখেন দীনেশচন্দ্র সেন। বলেন :

এই জীবনীখানি ব্যক্তিগত কথা বলিয়া উপেক্ষা করা চলে না। ইহা প্রাচীন হিন্দু রমণীর একটি খাঁটি নক্সা। যিনি নিজের কথা সরলভাবে কহিয়া থাকেন, তিনি অলক্ষিতভাবে সামাজিক চিত্র অঙ্কন করিয়া যান। ‘আমার জীবন’ পুস্তকখানি শুধু রাসসুন্দরীর কথা নহে, উহা সেকেলে হিন্দু রমণীগণের সকলের কথা; এই চিত্রের মত যথাযথ ও অকপট মহিলা-চিত্র আমাদের বাঙ্গালা সাহিত্যে আর নাই। এখন মনে হয়, এই পুস্তকখানি লিখিত না হইলে বাঙ্গালা সাহিত্যের একটি অধ্যায় অসম্পূর্ণ থাকিয়া যাইত।

দীনেশচন্দ্র সেনের এই কথার মধ্যে গ্রন্থটির গুরুত্বের বিষয়টি প্রতিভাত হয়েছে। বয়ানের সারল্য গ্রন্থটিকে ভিন্ন এক মর্যাদা দিয়েছে। সেই সমাজে কোনোরকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ ব্যতিরেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অক্ষরজ্ঞান লাভ করা রাসসুন্দরী তাঁর জীবনের কথা লিখে সাহিত্যের একটা দিকের উন্মোচন করেছেন। নারীকে পুরুষের চোখে তখন অবধি সমাজ দেখে আসছে। যেখানে নারীর প্রেমময় রূপটিই বেশি প্রাধান্য পেয়ে আসছে। এ বিষয়ে দীনেশচন্দ্র সেন বলেন :

‘স্বাভাবিক লজ্জাশীলতায় রাসসুন্দরী এই প্রেমের অঙ্কটিই স্বজীবন হইতে বাদ দিয়াছেন, তাহার জীবনের অপরাপর দিক দ্বিগুণতর স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। কবি বা ঔপন্যাসিক যে স্থান হইতে বিদায় গ্রহণ করিয়া থাকেন, রাসসুন্দরী সেই স্থান হইতে কথা আরম্ভ করিয়াছেন; কোন পুরুষ শত প্রতিভাবলেও রমণীহৃদয়ের গূঢ় কথার এমন আভাস দিতে পারিতেন কিনা সন্দেহ।’

রাসসুন্দরী তাঁর আমার জীবন গ্রন্থে সেই অন্তঃপুরের প্রতিদিনের ঘরকন্নার কথা বলতে গিয়ে ভীষণ অনায়াসে নিজের ভাবনার কথা বলে গেছেন। শিশুকালে খুবই ভীরু প্রকৃতির ছিলেন। আর সরল মনে অকপটে সবকিছু বিশ^াস করতেন। এটা তাঁর ব্যক্তিত্বের একটা বৈশিষ্ট্যও বলা যায়। ফলে অভিযোগ না করে সবকিছু মেনে নেওয়া ও মানিয়ে নেওয়ার একটা সহজাত বোধ তাঁর মধ্যে ছিল। মাত্র বারো বছর বয়সে বিয়ে হয় তাঁর। এবং অনেকদূর শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। এই বাল্যবিবাহ তৎকালীন সমাজে একটা অতি স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। রাসসুন্দরী এই অল্প বয়সে একটা বিশাল সংসারে কীভাবে গৃহিণী হয়ে উঠলেন সেই কথামালা সবিস্তারে উপস্থাপন করেছেন। অদ্ভুত একটা ব্যাপার যে সংসারের সকল কাজ নিজ হাতে করেও তিনি কী করে নিজেকে নিয়ে ভাববার সুযোগ পেলেন? তার আগে এমন কোনো উদাহরণ তো তার সামনে ছিল না। এটাকে বলা যায় এক সহজাত প্রতিভা। যা থাকলে তার প্রকাশ ঘটবেই।

ছোটবেলায় রাসসুন্দরী প্রচুর প্রশ্ন করতেন। সব শিশুরাই করে তবে তাঁর প্রশ্নের মধ্যে যুক্তি খুঁজে দেখার একটা প্রয়াস ছিল।

 

মায়ের কাছে শুনেছিলেন তাদের ইষ্টদেবতা দয়ামাধবকে ডাকলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। রাসসুন্দরী সেই বিশ^াসকে আজীবন লালন করেছেন। আট বছর বয়সে বাড়ির স্কুলে গেলেও সে অর্থে তাঁর পড়াশোনার সুযোগ ঘটেনি। পিতৃ¯েœহ বঞ্চিত রাসসুন্দরীকে বিয়ে দেওয়া হয় বারো বছর বয়সে। তখন তাঁর বিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ি এ সম্পর্কে তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না বলেই তিনি উপস্থাপন করেন। সংসারে এসে মানিয়ে নিতে তাঁর সময় লাগে। নিজের পরিচিত ঘর ও স্বজনদের ছেড়ে এসে কীভাবে চোখের জলে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকেÑতার বিবরণ এটাই উপস্থাপন করে মেয়েদের পারিবারিক কাঠামোয় কীভাবে লড়াই করে টিকতে হয়। জগৎ নিয়ম বানিয়ে ছেড়ে দেয়। দুইশ বছরের বেশি সময় আগে যে লড়াই করেছে রাসসুন্দরী তা কিন্তু আজও বহমান। অথচ সেই সময় তিনি উপলব্ধি করেন এবং তাঁর এই জীবনের গল্প লিখে রাখেন।

আমোদ-আহ্লাদে কিছুদিন কাটানোর পর শাশুড়ি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়লে একটা বৃহৎ সংসারের সকল দায়-দায়িত্ব এসে পড়ে রাসসুন্দরীর উপর। পঁচিশ-ছাব্বিশ জন মানুষের দুবেলা রান্না একা হাতে সামলাতেন তিনি। সঙ্গে বাড়ির বিগ্রহের সেবা, অতিথি সেবা এবং দৃষ্টিহীন শাশুড়ির দেখভাল করা। পরমেশ^রকে ভরসা করে রাসসুন্দরী এই সংসার সমরাঙ্গনে নেমে পড়েন। এত প্রায় প্রত্যেকটি মেয়ের লড়াই-এর গল্প। যা আজও রয়েছে তবে এর যৎসামান্য পরিবর্তন হয়েছে। তবে এখানে উল্লেখ্য নিজের সমাজ আর তার নিয়মকে একজন নারী যেভাবে দেখছে সেটা। রাসসুন্দরীর ভাষায় :

তখন মেয়েছেলেরা লেখাপড়া শিখিত না, সংসারে খাওয়া দাওয়ার কর্ম্ম সারিয়া কিঞ্চিৎ অবকাশ থাকিত, তখন কর্ত্তা ব্যক্তি যিনি থাকিতেন, তাঁহার নিকট অতিশয় নম্রভাবে দ-ায়মান থাকিতে হইত। যেন মেয়েছেলের গৃহকর্ম বৈ আর কোন কর্ম্মই নাই। তখনকার লোকের মনের ভাব এইরূপ ছিল। বিশেষতঃ তখন মেয়েছেলের এই প্রকার নিয়ম ছিল, যে বৌ হইবে হাতখানেক ঘোমটা দিয়া ঘরের মধ্যে কাজ করিবে, আর কাহারও সঙ্গে কথা কহিবে না। তাহা হইলেই বড় ভালো বৌ হইল। সে কালে এখনকার মতন চিকণ কাপড় ছিল না, মোটা মোটা কাপড় ছিল। আমি সেই কাপড় পরিয়া বুক পর্যন্ত ঘোমটা দিয়া ঐ সকল কাজ করিতাম। আর যে সকল লোক ছিল, কাহারও সঙ্গে কথা কহিতাম না। সে কাপড়ের মধ্য হইতে বাহিরে দৃষ্টি যাইত না। যেন কলুর বলদের মত দুইটি চক্ষু ঢাকা থাকিত। আপনার পায়ের পাতা ভিন্ন অন্য কোন দিকে দৃষ্টি চলিত না। এই প্রকার সকল বিষয়ে বৌদিগের কর্মের রীতি ছিল। আমি ঐ রীতিমতেই চলিতাম।

কী সহজ, সরল, অকপট এই বর্ণনা! রাসসুন্দরীর সমাজবীক্ষণ আমাদের এই সত্যকে উপলব্ধি করায় নারী আসলেই ‘অপর’। পুরুষতন্ত্র তার সুবিধামতো নারীকে ব্যবহার করে আসছে এবং তার জন্য একটা ছক তৈরি করে রেখে দিয়েছে। এটা আর দশটা প্রথার মতো চলে আসছে কাল থেকে কালান্তরে। রাসসুন্দরীর বয়স তখন সবে চৌদ্দ বছর। সকাল থেকে রাত্রি দুই প্রহর পর্যন্ত কাজ করতে হতো। বলছেন, ‘পরমেশ^রের অনুগ্রহে ঐ সকল কাজ আমার কর্তব্য কাজ বোধ হইত। একবারও আমার বিরক্তি বোধ হইত না।’ এবং এমন সময় তাঁর লেখাপড়া শিখে পুঁথি পড়ার শখ জাগে। কিন্তু তখন মেয়েরা লেখাপড়া করত না এবং সমাজহিতৈষীরা এটাকে বিদ্রুপ করে বলতÑ‘এখন বুঝি মেয়েছেলেতেও পুরুষের কাজ করিবেক। এতকাল ইহা ছিল না, একালে হইয়াছে।’ সমাজের এই রক্তচক্ষুকে অতিক্রম করে কীভাবে রাসসুন্দরী শিক্ষা লাভ করলেন সেটাকে ছোটখাট একটা যুদ্ধ বলা যায়। যে যুদ্ধ তিনি নিজের সঙ্গে নিজে করেছেন এবং জিতেছেন। ১৮ বছর বয়সে প্রথম মা হন এবং ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত ১২ জন সন্তানের মা হন তিনি। একা হাতে এতগুলো সন্তানের যতœ, সংসারের সকল কাজ সমাধা করতেন রাসসুন্দরী পরমেশ^রের কৃপায়। কৃপায় বটে! পিতৃহীন রাসসুন্দরী মায়ের মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত হতে পারেননি। তখন তাঁর মনে হয়েছে, ‘আমি যদি পুত্র সন্তান হইতাম, আর মার আসন্ন কালের সংবাদ পাইতাম, তবে আমি যেখানে থাকিতাম, পাখীর মত উড়িয়া যাইতাম। কি করিব, আমি পিঞ্জর-বদ্ধ বিহঙ্গী।’ রাসসুন্দরীর এই উপলব্ধিকে সাধুবাদ দিতেই হয়। কেননা আজকের একুশ শতকের নারীও কি ডানা পেয়েছে? ওড়ার আকাশ আছে তার? এতেই বোঝা যায় সমাজ কতটা এগিয়েছে? নারীকেন্দ্রিক ইস্যুগুলোতে সমাজের অগ্রগতি হতাশাগ্রস্ত করে আমাদের। এখানে এসে সভ্যতাগর্বী মানুষের সব অহংকার ধুলায় মিশে যায়।

রাসসুন্দরী তাঁর জীবনকথা লিখতে গিয়ে নিজের অজান্তে ঐ সমাজব্যবস্থা আর সেখানে নারীর অবস্থানকে বিশ্লেষণ করে গেছেন। এই বিশ্লেষণ বেশ মূল্যবান। একজন স্বশিক্ষিত মানুষ জীবন আর রাজনীতির জটিল আবর্তের মধ্যে না গিয়েও সাদা চোখে যা দেখেছেন তা অকপটে বলে গেছেন। সংসার-সমুদ্রে মগ্ন থেকেও তিনি নিজের লেখাপড়ার কথা ভাবতেন। সঙ্গে সঙ্গে এটাও ভাবতেনÑএই সমাজে কেউই নারীর লেখাপড়াকে সহ্য করে না, ভালো চোখে দেখে না। তাঁর এই দেখা তাঁর ভাষা থেকে শোনা যাক :

তখন আমাদিগের দেশের সকল আচার-ব্যবহারই বড় মন্দ ছিল না, কিন্তু এই বিষয়টি ভারি মন্দ ছিল। সকলেই মেয়েছেলেকে বিদ্যায় বঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছিলেন। তখনকার মেয়েছেলেগুলো নিতান্ত হতভাগা, প্রকৃত পশুর মধ্যে গণনা করিতে হইবেক। এ বিষয়ে অন্যের প্রতি অনুযোগ করা নিরর্থক, আমাদের নিজের অদৃষ্ট ক্রমেই এক প্রকার দুর্দশা ঘটিয়াছে। বাস্তবিক মেয়েছেলের হাতে কাগজ দেখিলে সেটি ভারি বিরুদ্ধ কর্ম জ্ঞান করিয়া, বৃদ্ধা ঠাকুরাণীরা অতিশয় অসন্তোষ প্রকাশ করিতেন, অতএব আমি কেমন করিয়া লেখাপড়া শিখিব।

রাসসুন্দরী এভাবে তাঁর দেখা সমাজকে, সমাজের প্রথাকে তুলে ধরেছেন। নারীশিক্ষার বিরোধিতা কেবল পুরুষ নয়, নারীরাও করত। এই প্রক্রিয়া আজকের অর্থাৎ দুইশ বছর পরের সমাজেও ভিন্নভাবে চলছে। সমাজবীক্ষণ একজন মানুষের মনের আলোকিত রূপকে প্রকাশ করে। ভাবতে অবাক লাগে রাসসুন্দরী এতটা সচেতন কীভাবে হলেন? তিনি তাঁর সমাজের অনেক মানুষের চেয়ে চেতনাগত দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন। একজন প্রাগ্রসর মানুষ তিনি। তাঁর চিন্তা আর ভাবনার দূরদর্শিতা তাঁকে আজও অবশ্য পাঠ্য করে তুলেছে। তিনি তাঁর লেখাপড়া শেখার ঐকান্তিক বাসনা মাটির পৃথিবীর মানুষদের জানাতে পারেননি। তাই এই আকুতি পরমেশ^রকে জানিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে উপায় জানতে চেয়েছেন। নারীর এই অসহায়তা কিন্তু এখনও বিরাজমান। নতুন কিছু করতে হলে আসলে কিছু করতে হলেই তাকে এমন সব পরীক্ষা অর্থাৎ লড়াই-এর মধ্য দিয়েই যেতে হয়। পাশে কাউকে পায় না। পরমেশ^র বা সেই নিরাকার সত্তাকে বিশ^াস করা ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। একটি শক্তির উপর আস্থা রাখলে নিজেকে আত্মবিশ^াসী লাগে। আধুনিক মানুষ এই বিষয়টিকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন যাদের রাসসুন্দরীর মতো সামাজিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের এই পথ অবলম্বন করা ছাড়া উপায় থাকে না।

রাসসুন্দরী স্বপ্নের মধ্যে চৈতন্য ভাগবত পাঠ করেন। অর্থাৎ তাঁর ভাবনার এসব সারাক্ষণ ঘোরে। অথচ গৃহকর্মে তাঁর দিনরাত কেটে যায়। কীভাবে রাসসুন্দরী এসবের মধ্য দিয়ে গিয়েও লেখাপড়া শিখলেন এই গল্প আমাদের বিস্মিত করে। তাঁর মর্ষকামিতা আমাদের মুগ্ধ করে। সমাজ অবশ্য নারীর এই মর্ষকামিতাকে আদর্শ হিসেবে প্রচার করে আসছে যুগ যুগ ধরে। আট বছর বয়সে পাঠশালায় যাওয়ার অভিজ্ঞতাকে মেমোরাইজ করেন তিনি। ঘরের মধ্যে স্বামী-সন্তানদের বইপত্র থেকে তিনি একটু একটু করে শিখতে শুরু করেন। এবং অবশ্যই তাঁর বিশ^াস অনুযায়ী এই লড়াইয়ে পরমেশ^র তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বড় ছেলের লেখার উপকরণ তালপাতা লুকিয়ে নিয়ে লেখার চেষ্টা, ঘোমটার আড়াল থেকে পুঁথিপত্র লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা আমাদের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের ছবিকে দেখায়। তিনি বলেন তাঁর স্বামী বড় ভালো মানুষ কিন্তু দেশাচারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তাঁর ছিল না। এই দেশাচার বলে মেয়েদের লেখাপড়া মন্দ কাজ। এক্ষেত্রে তাঁর একশ দশ বছর পরে জন্মানো রোকেয়ার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হয়। তিনি লেখাপড়া শেখার ব্যাপারে ভাই এবং স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়টিও ভেবে দেখার এটুকু সহযোগিতা পেতে একশ দশ বছর লেগে গেছে আমাদের। যা-ই হোক, রাসসুন্দরী বলছেন : আহা কি আক্ষেপের বিষয়। মেয়েছেলে বলিয়া কি এতই দুর্দশা! চোরের মত যেন বন্দী হইয়াই থাকি, তাই বলিয়া কি বিদ্যা শিক্ষাতেও দোষ? সে যাহা হউক, এখনকার মেয়েছেলেগুলো যে নিষ্কণ্টক স্বাধীনতায় আছে, তাহা দেখিয়াও মন সন্তুষ্ট হয়।

এখন যাহার একটি মেয়েছেলে আছে, সে কত যতœ করিয়া লেখাপড়া শিখায়। এই লেখাপড়া শিখিবার জন্য আমাদের কত কষ্ট হইয়াছে। আমি যে যৎকিঞ্চিত শিখিয়াছি, সে কেবল সম্পূর্ণ পরমেশ^রের অনুগ্রহে মাত্র।

রাসসুন্দরী তাঁর জীবৎকালেই সমাজের পরিবর্তন দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। নারীর ব্যক্তি হয়ে ওঠার ব্যাপারটার দিকে হয়তো তিনি মনোযোগ দেননি কিংবা দেওয়ার সুযোগও ছিল না। তবে নিজে তিনি ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন এই কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। সমাজে পরিবর্তন এসেছে বা আরও আসবে এ নিয়ে আমাদের দ্বিধা নেই। কিন্তু পরিবর্তন কতটা ইতিবাচক সেটাই বিবেচনার বিষয়। যা বলছিলাম রাসসুন্দরী আমার জীবনে একজন মেয়ে সন্তান, একজন বধূ,  একজন মা সর্বোপরি একজন নারীর জীবন। যে জীবনের ভেতরের লড়াইটার অনুপুঙ্খ বিবরণ তিনি দিয়েছেন এখানে। শ্বশুরবাড়ির স্বজন আর ১২ জন সন্তানের লালন-পালন, লেখাপড়া, বিয়ে-শাদি সামাজিকতা, পুজা-অর্চনা এসবের মধ্যে দিয়ে বারো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে আসা রাসসুন্দরী বা তার মতো অনেকের একটা জীবন অদ্ভুতভাবে ক্ষয় হয়ে যায়। এই বিবরণ আমাদের মনের আকাশে গভীর এক বিষণœতা এনে দেয়। কেন বলছিÑএখানে কোথাও ঐ নারীটির জীবন থাকে না, সকলের সঙ্গে ভাগ হয়ে যায়। আর মাঝখান থেকে তার নিজের বলে কিছুই থাকে না। রাসসুন্দরী সেই বিপুল শূন্যতার মধ্য থেকে নিজের বলে কিছুটা সময়কে লড়াই করে অর্জন করেছিলেন। এখানেই তিনি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে যান।

রাসসুন্দরী তাঁর বিভিন্ন বয়সের চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সংসারজীবন, বাবা-মা নিয়ে ভাবনা, পিতৃগৃহে যাওয়ার বিষয় সবই এসেছে। ঘরের কথা বলতে গিয়ে তাঁর ভাবনার প্রকাশ এমন :

৪০ বৎসরের বারো বৎসর পিত্রালয়ে ছিলাম। পরে পরাধীনা হইয়া ২৮ বৎসর এক প্রকার বউ হইয়াই ছিলাম। . . . সেকালে মেয়েছেলেদিগের স্বাধীনতা মোটেই ছিল না, নিজের ক্ষমতায় কোন কর্মই করিতে পারা যাইত না, সম্পূর্ণরূপে পরাধীনা হইয়া কালযাপন করিতে হইত। সে যেন এককালে পিঞ্জরাবদ্ধ বিহঙ্গীর মত থাকা হইত।”

এই উপলব্ধি দুইশ বছর আগে রাসসুন্দরী কীভাবে পেলেন? এটা বিস্ময়ের উদ্রেক করে বৈকি। তাঁর চিন্তার স্বচ্ছতা, দেখার গভীরতা সর্বোপরি অনুভবের গাঢ়তা তাঁকে হয়তো এভাবে ভাবতে উদ্ধুব্ধ করেছে। তিনি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন সেখানে নারীর নিজেকে পরাধীন ভাবতে পারার বিষয়টি খুবই অভিনব। কেননা সমাজে এটা সে অর্থে কোনো চর্চিত বিষয় ছিল না। রাসসুন্দরীই বলছেন যে এটা দেশাচার। তাহলে প্রথার তথা ¯্রােতের বিপরীত ভাবনার উদয় কীভাবে হলো তাঁর মনে? একারণেই  আমরা তাঁকে প্রাগ্রসর বলছি। তিনি নিজের আলাদা জগৎ নির্মাণে স্বপ্ন দেখেছিলেন। এবং সেখানে থেমে থাকেননি। স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। সংসারের সকলকে তুষ্ট করে চাঁদ ধরার বাসনা রাখতেন মনের কোণে। ভাবতে অবাক লাগেÑএকজন মানুষ কতটা সাহসী আর আত্মবিশ^াসীর সঙ্গে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে পারেন? তিনি একে একে পড়ে শেষ করেন চৈতন্যভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত, আধারপর্ব্ব, জৈমিনিভারত, গোবিন্দলীলামৃত, বিদগ্ধমাধব, প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা, বাল্মীকি-পুরাণ-এর আদিকা- এবং সপ্তকা-। পড়তে পারলেও লিখতে পারতেন না। সপ্তম পুত্র কিশোরীলাল তাঁকে পত্র লিখতে বলে। সে কলকাতায় লেখাপড়া করত। মায়ের পত্র পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে মাকে লেখার সমুদয় উপকরণ দিয়ে যায়। কীভাবে সংসারের কাজের মধ্যে থেকেও রাসসুন্দরী লেখাটাও আয়ত্ত করেন সে গল্প আমাদের অভিভূত করে। তিনি বারবার তাঁর এই ভ্রমণের কষ্টের কথা আমাদের বলেছেন। তাঁর

 

এই পথচলা একটা সমাজের ভেতরের কথাকে প্রকাশ করে। কীভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন ভারতীয় সমাজে আলো ঢুকছেÑতারও একপ্রকার প্রকাশ বলা যায়।

রাসসুন্দরীর কিছু অতিলৌকিক বিষয়ে বিশ^াস ছিল। স্বপ্নের বিবরণ, মনের অলৌকিকতা, অন্তরে স্পষ্টদর্শন, মৃত্যু-কল্পনা, প্রকাশ ভূত দৃষ্টিÑএমনসব শিরোনামে তাঁর সেসব বিশ^াস জায়গা পেয়েছে। যেহেতু তিনি অন্তরে এসব লালন করতেন অর্থাৎ পরমেশ^রকে নিজের একমাত্র সহায় ভেবে সাধনা করতেন সেহেতু এমন কিছু ধারণা তাঁর মধ্যে জায়গা পেয়েছে। এটা যদি তাঁর সময়ের প্রেক্ষাপটে ভাবা হয় তাহলে খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। আমার জীবন-এর প্রথম ভাগের শেষ দিকে এসে স্বামীর প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছেন। যেগুলো খুব বাহ্যিক বিষয়। অবশ্য এতে তাঁর স্বামীর একটা ছবি উপস্থাপিত হয়ে যায়। তাদের পরস্পর মানসিক বোঝাপড়া কেমন ছিল এ থেকে আন্দাজ করা যায় তবে সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। সহজভাবে যেটা মনে হবে রাসসুন্দরীর সব কিছুতে বিশ^াস এবং অভিযোগ করার মানসিকতা ছিল না বলে সেটা হয়তো এক অর্থে ঠিকঠাক ছিল। এই প্রবণতা কেবল রাসসুন্দরীর নয় আমাদের সমাজের বেশিরভাগ নারীর। আর দাম্পত্যসম্পর্ককে সুখময় করতে নারীকে এভাবেই চায় সমাজ।

আমার জীবন দ্বিতীয়ভাগে আসলে প্রথমভাগের বিষয়গুলোকে সংক্ষিপ্তাকারে বলার চেষ্টা আছে। তিনি প্রথমভাগেই একপ্রকার তাঁর কথা শেষ করেছিলেন। দ্বিতীয়ভাগে কিছু কবিতা রয়েছে আর আছে তার বিশ^াসের কথা।

রাসসুন্দরীর গ্রন্থটি একজন গেরস্থবাড়ির গৃহকর্ত্রীর জীবন কথা নয় এর মধ্য দিয়ে একটা সমাজকে রিপ্রেজেন্ট করা হয়েছে। প্রথম নারী আত্মজীবনীকার হিসেবে তাঁকে সাধুবাদ জানানো যেতেই পারে কিন্তু তাঁর চেয়েও বড় কথা এমন করে নিজের লড়াই-এর গল্প বলার ইচ্ছেটা। যেটা সেই প্রেক্ষাপটে অভিনব এবং অবশ্যই সাহসী এক পদক্ষেপ। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া ‘দয়ামাধব’ মন্ত্রে উজ্জীবিত রাসসুন্দরী তাঁর পরমেশ^রকে সঙ্গী করে একটা অদ্ভুত লড়াই লড়ে গেছেন। এবং শেষ পর্যন্ত জিতেছেন। যদিও এক বন্ধুর পথ তাঁকে অতিক্রম করতে হয়েছে। প্রত্যেক সফল মানুষকেই এমন পথ পেরুতে হয়। তবে মানুষটি যদি নারী হয় সেক্ষেত্রে এই পথে তার সহায় কেবল পরমেশ^র। এই সত্য কেবল রাসসুন্দরী নয় সকল নারীর ক্ষেত্রেই বলা চলে। দীনেশচন্দ্র সেন যথার্থই বলেছেন নারীকে নিয়ে পুরুষের কাব্যচর্চা যেখানে শেষ হয় তারপর থেকেই তারপরের জীবনের একটা পূর্ণাঙ্গ লেখচিত্র এঁকেছেন রাসসুন্দরী। যেটা পুরুষের পক্ষে অনুভব করাও কঠিন। অন্তঃপুরবাসী এই নারী পর্দাপ্রথার অন্তরালে থেকে দেখেছেন তাঁর সমাজকে। তাঁর সেই বীক্ষণ কালের সীমাকে অতিক্রম করে আজও প্রাসঙ্গিকতা পেয়ে যায়। আজ হয়তো শিক্ষাক্ষেত্রে রাসসুন্দরীর যে লড়াই সেটা অনেক নারীকে করতে হয় না কিন্তু মানুষ হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠার লড়াইটা আজও অব্যাহত আছে।

আমার জীবন একটা বিষয়কে স্পষ্ট করে নারীর লড়াইটা চিরকালীন। কেবল লড়াই-এর রকমফের আছে। একই সমাজে একই আলো-হাওয়ায় বেড়ে ওঠেও নারীর জীবনে একটি বাড়তি লড়াই পুরুষতন্ত্র চাপিয়ে দিয়েছে কেবল নারী বলে। যে প্রশ্ন দুইশ বছর আগে রাসসুন্দরীর মাথায় এসেছে সে প্রশ্ন আজকের নারীরও।

এমন একটা লড়াই কেন মাথা পেতে নেবে নারী-এমন প্রশ্নের উত্তর পুরুষতন্ত্রকে দিতে হবে। নারী বারবার প্রমাণ করেছে তার সক্ষমতা, যোগ্যতা। প্রকৃতিতে যদি যোগ্যতমের জয় হয় তাহলে মানব সমাজ কি তার বাইরে? যে লড়াই রাসসুন্দরী লড়েছেন কমবেশি নারীদের সে লড়াই লড়তে হয়। একটা মুক্ত আকাশ, নিজের এক টুকরো পৃথিবী, কিছুটা সময় নিজের জন্য আর আত্মপরিচয় গড়ার জন্য যে শ্রম নারী দেয় সেটাকে মর্যাদা দেওয়ার মতো মানসিকতা পুরুষতন্ত্রের নেই। তাই সভ্যতা এগুলেই নারীকেন্দ্রিক ইস্যুগুলো অনেকটা একইরকম রয়ে গেছে। রাসসুন্দরীর মতো আমরাও পরমেশ^রই ভরসা রাখি। কবে তিনি পুরষকে আর তার মনোভাবকে কিছুটা পরিবর্তন করবেন-এই আশায় জগৎসংসারে লড়ে যায় প্রতিটি নারী। জগতে নিজের আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সংশপ্তক একেকজন নারী।

 

নূর সালমা জুলি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার,

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী সরকারি ডিগ্রি কলেজ

চট্টগ্রামী প্রবাদের প্রথম গ্রন্থ : রচয়িতা জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন

মহীবুল আজিজ জেমস ড্রমন্ড এন্ডার্সন (১৮৫২-১৯২০), সংক্ষেপে জে ডি এন্ডার্সন আজ থেকে একশ’ সাতাশ বছর আগে চট্টগ্রামী প্রবাদের সর্বপ্রাথমিক গ্রন্থটি রচনা-সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিলেন। চট্টগ্রামী

দেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই (সম্পাদকীয়- জুন ২০২৪ সংখ্যা)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্প্রতি আমাদের দেশসহ উপমহাদেশে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই