গতরাত
গতরাতে চুরি যাওয়া মাছের গল্প জানে বিড়াল ও কড়াই। ধানপানের খোঁজ রাখে মাঠের শিয়াল।
হাঁসগুলো পুকুরেই আছে। সন্ধ্যাআরতি শেষ হলে একঝাঁক মুরগি ঘরেতে ওঠে। উঠোনভর্তি ধান জেগে থাকে রাতের আঁধারে। কোনো রাতই ধানচোর নয়।
বিকাল সন্ধ্যার দিকে গড়ালে, গোরুগুলো মাঠ থেকে ফেরে। রাখালের পায়ে মাঠ ও মাটির মায়া। মায়া কোনো চোর নয়। কিছুটা যৌনকাতর।
আজ রাতে গত রাত ফিরে এলে বাড়ির গলিতে বনবিড়ালের দেখা মেলে। সংসার সাবধানী হতে যায়। সেই ফাঁকে হারিয়ে যায় মুরগির জীবন।
চাঁদরাতে, ধানেপানে শেষ হয় গতরাতের সকল কাহিনি।
মাঙ্গলিক
গাছটি ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছে। আমিয়ো চারদিকে ঘুরে ঘুরে গরু-ছাগলের উৎপাত ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে আছি।
কেউ মৃত্যুর কথা বলে। কেউ জন্মের কথা বলে। জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানে মাঙ্গলিক সন্ধ্যার বাড়ি। রাত্রি গভীর হলে, বাড়ি হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব ঠিকানা।
কেউ বলতে পারবে না, এ গাঁয়ের মানুষেরা কখনো অসৎ ছিলো। যার যার ক্ষেতে কাজ করতো লাঙল ও নিড়ানি। সেই থেকে কৃষাণির ভালোবাসা আজো খুঁজে ফেরে ছায়া ও রোদ্দুর।
গাছটি বড়ো হয়ে গেছে। আমারো ব্যস্ততা নেই।
জীবন তার নিজের মতো সাঁতার কাটছে মাঙ্গলিক স্রোতে।
জীবনাংশ
একটি পাখি বাসা থেকে উড়ে গিয়ে আবারো ফিরে এলো বাসায়। এখান থেকেই জীবনের শুরু…
বাবা বলতেন, ” জীবনটা খুব সরল। আমরা নিজেরাই জটিল করে তুলি। ”
বাবা নেই। জীবন এখন না-জটিল, না-সরল। বেগবতীর মরা-স্রোতে ভেসে যাচ্ছে কচুরিপানার মতো।
জীবনের খোঁজে পাখিটি উড়ছে আকাশ ছাড়িয়ে।
জীবনের খোঁজে গাছটি ঘুরছে বিলের গভীরে।
একটি পাখি উড়ে গিয়ে, আর ফিরে আসেনি।
বয়ান
পূজার ছুটিতে কোথাও যাবো না। মা দূর্গা ব্যথিত হবেন। পুড়ে যাবে শরীরের ক্ষেত।
সামনে ও পিছনে ঘাম সাপ হয়ে হাঁটবে। মাথার গরমে উকুন জ্বালাবে অনেক। কোথাও যাবো না। সুখদের বাড়িতে থাকবো।
আমি জানি, সময় আমাকে ছাড়বে না। আমার পায়ের কাছে বসে থাকবে নষ্ট কুকুর। কোথাও যাবো না। মা কালীর ভয়।
ছায়ার ভেতরে নয়। ওখানে জীবন শান্ত হয়ে আসে। পারলে, একবার ঘুরে যাবো দুঃখদের বাড়ি।




