এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

শামীম নওরোজ-এর গুচ্ছ কবিতা

গতরাত

 

গতরাতে চুরি যাওয়া মাছের গল্প জানে বিড়াল ও কড়াই। ধানপানের খোঁজ রাখে মাঠের শিয়াল।

হাঁসগুলো পুকুরেই আছে। সন্ধ্যাআরতি শেষ হলে একঝাঁক মুরগি ঘরেতে ওঠে। উঠোনভর্তি ধান জেগে থাকে রাতের আঁধারে। কোনো রাতই ধানচোর নয়।

বিকাল সন্ধ্যার দিকে গড়ালে, গোরুগুলো মাঠ থেকে ফেরে। রাখালের পায়ে মাঠ ও মাটির মায়া। মায়া কোনো চোর নয়। কিছুটা যৌনকাতর।

আজ রাতে গত রাত ফিরে এলে বাড়ির গলিতে বনবিড়ালের দেখা মেলে। সংসার সাবধানী হতে যায়। সেই ফাঁকে হারিয়ে যায় মুরগির জীবন।

চাঁদরাতে, ধানেপানে শেষ হয় গতরাতের সকল কাহিনি।

 

 

 

 

 

মাঙ্গলিক

 

গাছটি ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছে। আমিয়ো চারদিকে ঘুরে ঘুরে গরু-ছাগলের উৎপাত ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে আছি।

কেউ মৃত্যুর কথা বলে। কেউ জন্মের কথা বলে। জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানে মাঙ্গলিক সন্ধ্যার বাড়ি। রাত্রি গভীর হলে, বাড়ি হারিয়ে ফেলে তার নিজস্ব ঠিকানা।

কেউ বলতে পারবে না, এ গাঁয়ের মানুষেরা কখনো অসৎ ছিলো। যার যার ক্ষেতে কাজ করতো লাঙল ও নিড়ানি। সেই থেকে কৃষাণির ভালোবাসা আজো খুঁজে ফেরে ছায়া ও রোদ্দুর।

গাছটি বড়ো হয়ে গেছে। আমারো ব্যস্ততা নেই।

জীবন তার নিজের মতো সাঁতার কাটছে মাঙ্গলিক স্রোতে।

 

 

 

 

জীবনাংশ

 

একটি পাখি বাসা থেকে উড়ে গিয়ে আবারো ফিরে এলো বাসায়। এখান থেকেই জীবনের শুরু…

বাবা বলতেন, ” জীবনটা খুব সরল। আমরা নিজেরাই জটিল করে তুলি। ”

বাবা নেই। জীবন এখন না-জটিল, না-সরল। বেগবতীর মরা-স্রোতে ভেসে যাচ্ছে কচুরিপানার মতো।

জীবনের খোঁজে পাখিটি উড়ছে আকাশ ছাড়িয়ে।

জীবনের খোঁজে গাছটি ঘুরছে বিলের গভীরে।

একটি পাখি উড়ে গিয়ে,  আর ফিরে আসেনি।

 

 

 

 

বয়ান

 

পূজার ছুটিতে কোথাও যাবো না। মা দূর্গা ব্যথিত হবেন। পুড়ে যাবে শরীরের ক্ষেত।

সামনে ও পিছনে ঘাম সাপ হয়ে হাঁটবে। মাথার গরমে উকুন জ্বালাবে অনেক। কোথাও যাবো না। সুখদের বাড়িতে থাকবো।

আমি জানি, সময় আমাকে ছাড়বে না। আমার পায়ের কাছে বসে থাকবে নষ্ট কুকুর। কোথাও যাবো না। মা কালীর ভয়।

ছায়ার ভেতরে নয়। ওখানে জীবন শান্ত হয়ে আসে। পারলে, একবার ঘুরে যাবো দুঃখদের বাড়ি।

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো