এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

আলদা মেরিনির গুচ্ছ কবিতা

অনুবাদ : শাহ মোহাম্মদ সানাউল হক ও সীমা হক

আলদা মেরিনি (১৯৩১-২০০৯) আধুনিক ইতালীয় কবিতার অন্যতম স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী কণ্ঠ। ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, উন্মাদনা, আধ্যাত্মিকতা, নিঃসঙ্গতা এবং মানবিক যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতার প্রধান উপাদান। দীর্ঘ সময় মানসিক হাসপাতালে কাটানোর অভিজ্ঞতা তাঁর কাব্যভাষাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, তবে তাঁর কবিতা কখনো আত্মবিলাপ নয়; বরং যন্ত্রণা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য রূপান্তর। মেরিনির কাব্যশৈলী সংক্ষিপ্ত, সংগীতময় ও চিত্রকল্পনির্ভর; সহজ ভাষার ভেতর তিনি গভীর অস্তিত্ববোধ ও রহস্যময় আভাস নির্মাণ করেন। প্রেম ও ঈশ্বরচেতনা তাঁর কবিতায় প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, ফলে তাঁর রচনা একই সঙ্গে মানবিক ও মেটাফিজিক্যাল মাত্রা লাভ করে। সমকালীন ইতালীয় সাহিত্যে তিনি এমন এক কবি, যিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সর্বজনীন কাব্যিক সত্যে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন।

আমার জন্ম একুশ বসন্তে

 

আমি জন্মেছি বসন্তের সমারোহে

অথচ জানতাম না যে, জন্মানোর উৎসে

আর পাগলের মতো জমি খোঁড়ার কাজে

ঝড়ের তাণ্ডব লুকিয়ে থাকে;

 

তথাপি প্রসেরপিনা কোমল মনে

দেখতে থাকেন বৃষ্টিধারা ঘাসের উপর,

গমের পুষ্ট দানার উপর;

 

আর সন্ধ্যায় তিনি সারাক্ষণ কাঁদেন

হয়ত এভাবেই তিনি প্রার্থনা সারেন।

 

 

 

 

ভালোবাসা

 

আমি সকালে জেগে উঠলাম,

এ ভালোবাসা কোথায় রাখব

ভাবছিলাম;

কারণ আমি ছিলাম একা।

আমি ভালোবাসলাম ফুল

এবং পাতাগুলো, ওরা আমার

জানালার ধারে ছিল;

 

আমি বাতাসের ছোঁয়াকে ভালোবাসলাম

যে বাতাস আমার চুলে

খেলছিল; এবং সেই ছোট্ট পাখিকে

যে পাখি তার বাসা থেকে

প্রথম উড়াল দিয়েছিল।

এরপর আরও কিছু ভালোবাসা ছিল

আর তখন আমি এমন কিছু করলাম

যা বহুদিন ভুলে ছিলাম

 

আমি আয়নায় নিজেকে দেখলাম,

মিষ্টি হেসে আমাকে ভালোবাসলাম।

 

 

 

ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা

 

সে চেয়েছিল হাসতে, আকুল হয়ে

নৈঃশব্দের সুরে

সমুদ্রের জলে

একদিন সে ভিজে যেতে চেয়েছিল

বিস্মিত ভালোবাসায়;

 

এখন তার পাগুলো নগ্ন, ক্ষতবিক্ষত

চুলগুলো বিবর্ণ হয়ে উড়ছে, বিষাদে;

 

সে জানত না যে স্মৃতিগুলো

দরজায় গেঁথে থাকা লোহার পেরেকের মতো;

অতীতের প্রাচুর্য সম্পর্কে

একাকী রাত্রির হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে

সে ভাবেনি কখনোই;

 

তার জানা ছিল না যে অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষারা

শূন্য থেকে যায়আগন্তুক ভাবনায়

যে ভাবনা উড়ে যায়

স্বর্গের বিশ্বকোষের দিকে;

 

স্বপ্নে সে নিজেকে দেখে

সীসার একটা রঙ্গমঞ্চে চাবুক মারছে

উদ্ভট পুতুলদের উপর

অথচ এসব তাকে প্রফুল্ল করে না।

 

 

মুক্ত প্রজাপতি

 

তোমরা ধুলো গিলে ফেলবে,

পাগল হওয়ার চেষ্টা করবে

কিন্তু পারবে না

বুদ্ধি ও যুক্তির বয়নকাজে,

আর এসব তোমাদেরকে

টানা-ছেঁড়া-জর্জরিত করবে।

তবে এই গভীর ক্ষত থেকে

বেরিয়ে আসবে

মুক্ত প্রজাপতিরা।

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো