এখন সময়:ভোর ৫:৩২- আজ: বুধবার-২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:ভোর ৫:৩২- আজ: বুধবার
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

একুশ নিয়ে একচিলতে

আলম খোরশেদ

মহান ভাষাশহিদ দিবস একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার অন্ত নেই। ফেব্রুয়ারি আসতে না আসতেই দেশজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা তথাকথিত ফ্যাশন হাউসগুলোতে বাংলা বর্ণমালা উৎকীর্ণ পোশাক বিক্রির ধুম পড়ে যায়। আর সেইসব ফ্যাশনদুরস্ত ধরাচুড়ো গায়ে চাপিয়ে একুশের সাতসকালে আমরা দলবেঁধে, সংবৎসর চূড়ান্ত অবহেলার শিকার, জরাজীর্ণ শহিদ মিনারটিতে লাইন লাগিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ আর সুরে-বেসুরে দুই কলি আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গেয়ে আমাদের বাংলাপ্রীতির পরাকাষ্ঠা দেখাই। অথচ বছরের বাকি তিনশ চৌষট্টি দিন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাচরণে বাংলা ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাভক্তির লেশমাত্র বহিঃপ্রকাশ দেখি না।

আমরা শুদ্ধ করে, প্রমিত উচ্চারণে কথা বলার ব্যাপারে নিদারুণরকম উদাসীন। অথচ কথায় কথায় বিনা দরকারে ভুলে-ভরা ইংরেজি কপচাতে রীতিমতো পারঙ্গম। বইপত্রে, রেডিও-টেলিভিশনে, মঞ্চে-মাইকে কোথাও বাংলা ভাষাটিকে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে উপস্থাপনের কোনো প্রচেষ্টা নেই। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-রেস্তোরাঁ সর্বত্র কারণে-অকারণে ইংরেজির ঢালাও ব্যবহারে আমাদের কোনো লজ্জাবোধ হয় না। এমনকী পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানসমূহেও আমরা অবলীলায় বাংলা ভুলে বিজাতীয় বুলির কষ্টকর কসরতে ব্যস্ত থাকি অহর্নিশি। বিয়ের কার্ড ইংরেজিতে ছাপানো আর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পাড়াপড়শির ঘুমের শ্রাদ্ধ করে তারস্বরে হিন্দি, ইংরেজি গান বাজানোটা যেন আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অংশই হয়ে উঠেছে ইদানীং।

আমরা খেয়ে না খেয়ে আমাদের পুত্রকন্যাদের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াতে যারপরনাই উৎসাহী। এই কর্মে আমাদের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির তথাকথিত ধারকবাহকদেরও উৎসাহে কোনো কমতি দেখি না। নিজেদের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভুলে ভিনদেশি পোশাক-আশাক, খাদ্যাখাদ্য আর সংস্কৃতির বেনোজলে গা ভাসিয়ে দিয়ে পরম তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে বাধে না আমাদের বিবেকে। আমাদের চিত্রশিল্পীরাও বুঝি তাঁদের শিল্পকর্মের নামগুলো ইংরেজিতে রাখতে পারলেই বর্তে যান। নগরসংস্কৃতির নতুন অনুষঙ্গ এফ এম রেডিওর জকি-সম্প্রদায় আর টিভি প্রেজেন্টার প্রজাতির সদস্যরাও বিকৃত উচ্চারণের এক অদ্ভূতুড়ে খিচুড়ি-বাংলা বলার মহোৎসবে মত্ত; কল্পিত এক স্মার্টনেস জাহিরের প্রাণান্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

এদিকে ফেব্রুয়ারি এলে আরেক উন্মাদনা শুরু হয় বইমেলাকে কেন্দ্র করে। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসাহীন এবং ন্যূনতম ভাষিক দক্ষতাবিহীন স্বঘোষিত লেখককুল তখন নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে মুড়িমুড়কির মতো বই প্রকাশের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামেন। আর তাঁদের এই লেখক-পরিচিতি আর কবিখ্যাতির জন্য কাঙালিপনার সুযোগ নিয়ে নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত কিছু অসাধু প্রকাশকও ফোকরে টুপাইস কামিয়ে নিতে তৎপর হয়ে ওঠেন তখন। অমর একুশে বইমেলায় হুজুগে দর্শনার্থীদের ভিড়ে পা ফেলাটাই রীতিমতো দায় হয়ে ওঠে, অথচ বই বিক্রির অবস্থাটা বরাবরই নিতান্ত করুণ ও শোচনীয়। হাতেগোনা কিছু বাজারি লেখকের চটুল ও চটকদার বই কেনার জন্য তরলমতি পাঠকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়লেও সত্যিকারের সাহিত্যমানসম্পন্ন একটি ভালো বইয়ের পাঁচশো কপি বিক্রি হতে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায় এই সতেরো কোটি মানুষের দেশে, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে!

যে বাংলা ভাষার মর্যাদাপ্রতিষ্ঠার জন্য অকুতোভয় ভাষাশহিদেরা প্রাণ দিয়েছিলেন, এই পোড়ার দেশে আজ সেই বাংলা ভাষারই কী দীনহীন সকরুণ দশা! বহুজাতিক সংস্থাসমূহ, তাদের কর্পোরেট দেশীয় দোসরবৃন্দ আর বেনিয়া মিডিয়ার নির্লজ্জ আগ্রাসনে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গোটা অস্তিত্বই আজ সঙ্কটাপন্ন। তাই বলি, একুশ নিয়ে এত লোকদেখানো হৈচৈ আর হুজুগেপনায় একুশকে এবং একুশের সেই নির্ভীক, বীরোচিত ভাষা শহিদদের অপমানই করা হয় শুধু, যাঁদের আত্মত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন একটি দেশের নাগরিক, বাংলা ভাষা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ভাষার আসনে অধিষ্ঠিত এবং খোদ একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও সমাদৃত। একুশকে তাই ¯্রফে একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় আটকে না রেখে তাঁর অন্তর্নিহিত চেতনাটুকুকে ধারণ করতে হবে আমাদের বোধে ও মননে, তাকে লালন করতে হবে আমাদের প্রতিটি প্রাত্যহিক পদক্ষেপে; বাংলা  ভাষা ও সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে দিতে হবে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা ও অবস্থান। আমাদের অস্তিতে¦র স্মারক একুশকে তার এই অন্তহীন অপমানের হাত থেকে বাঁচাতেই হবে যে-কোনো মূল্যে।

 

আলম খোরশেদ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি