এখন সময়:ভোর ৫:১১- আজ: বুধবার-২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:ভোর ৫:১১- আজ: বুধবার
২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এ মুহূর্তে প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের আশু দায়িত্ব

আবুল ফজল

সভাপতি, উপস্থিত আইনজীবী ও সুধীমণ্ডলী, ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমার পক্ষে ইচ্ছা থাকলেও  এ সভায়  উপস্থিত থাকা সম্ভব হলো না। এ জন্য  আমি দু:খিত। তাই …নির্ধারিত বিষয়কে আধ কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে নিয়েছি। এ করা হয়েছে আমার বক্তব্যের সুবিধার জন্য। আজকের এ সমাবেশ বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আর তাঁর সুদীর্ঘ ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অবদানের মূল্যায়নই হবে হয়তো অধিকাংশ বক্তাদের বক্তব্যের বিষয়বস্তু। আমি লেখক তাই এ মুহূর্তে বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব সম্বন্ধেই আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যকে সীমিত রাখতে চাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সম্বন্ধে ইতিপূর্বে আমি অনেক বক্তব্য রেখেছি এবং তাঁর আর তাঁর পরিবার পরিজনদের হত্যার প্রতিক্রিয়ায় কিছু সৃজনশীল বর্ণনাও আমি দেশবাসীর সম্মুখে রেখেছি। তাই তাঁর সম্বন্ধে নতুন করে কিছু বলতে যাওয়া মানে পুনরাবৃত্তি করা। তা আমি করতে চাই না। কারণ যে কোন সত্যকে শতবার আওড়ালেও তা শতগুণ সত্য হয় না সত্য সত্যই থাকে। মিথ্যার হাজারো পলেস্তারা দিয়েও ইতিহাসের পাতা থেকে সত্যকে মুছে ফেলা যায় না।

শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি না হলে আমরা আমাদের জাতীয় পতাকা খুঁজে পেতাম না। তাঁর আগে আমরা নিজ দেশে পরদেশী হয়েই ছিলাম। পারতাম না নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিতে। তার অগ্নিগর্ভ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান আমাদের মন মানস থেকে সব রকম হীনমন্যতা দূর করে দিয়ে আমাদের আত্ম—অধিকারের পথ ছিনিয়ে দিয়েছে। সে পথেই রচিত হবে আমাদের রাষ্ট্রের ভিতÑরচিত হবে আমাদের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ।

এখন তাঁর অবর্তমানে এ বুনিয়াদ রচনার দায়িত্ব দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, সংস্কৃতিসেবী, বুদ্ধিজীবীদের ওপর এসে পড়েছে। তাঁর এ অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করাই হবে তাঁর স্মৃতির প্রতি সর্বোত্তম সম্মান প্রদর্শন।

রাজনীতি আজ মোটেও বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়। পৃথিবীব্যাপী রাজনীতি আজ এখন এক সার্বিক রূপ দিয়েছে যে এ সম্বন্ধে উদাসীন থাকতে চাইলেও উদাসীন থাকা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। শেখ মুজিবের রাজনীতি ছিল জনসেবার রাজনীতি। জনগণের আর্থিক ও সুবিধার অর্জনের রাজনীতি। এ কারণে

 

তাঁকে যত নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, অন্য কারো তা করতে হয়নি।

রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক এত অঙ্গাঙ্গি যে স্বভাবতই ক্ষমতার দোষত্রুটি তা রাজনীতির দোষত্রুটি না হয়ে যায় না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ব্যক্তিধর্মী রাজনীতিবিদÑ তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করেননি। জননেতা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষমতা তাঁর করায়ত্ত হয়েছিল।

জীবিত মানুষের সমাজে সব কিছুই বাস্তব আর প্রত্যক্ষ। সব কর্মেরই প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারী। একজনের ত্রুটিতেও এখানে নেমে আসে বহু জীবনের বিপর্যয়। নষ্ট হয়ে যায় সামাজিক ভারসাম্য আর স্থিতিশীলতা। রাজনীতি ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তার ভূমিকাও এত গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রান্ত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির খপ্পরে পড়ে আমাদের দেশে সব রকম মূল্যবোধ, সততা আর নীতিধর্ম ধূলায় লুণ্ঠিত হয়। এ সম্পর্ক রবীন্দ্রনাথের হুঁশিয়ারি স্মরণীয়: Politics in every country has lowered the standard of morality, has given rise to a perpetual contest of lies and deceptions, cruelties, hypocrisies & has increased inordinately natural habit of vainglory।

দেশের রাজনৈতিক অবস্থা যতই ভুলুণ্ঠিত আর ঘোলাটে হোক না কেনÑযে জনসাধারণ শুধু রাজনৈতিক শক্তির নয় বুদ্ধিজীবীদেরও যত রকম চিন্তা—ভাবনারও উৎস, তাদের খাতিরে বুদ্ধি—বিবেচনার আলোকবর্তিকা রাখতে হবে অনির্বাণ। আর বুদ্ধিজীবীদের এ হচ্ছে সর্বকালের দায়িত্ব। জনগণকে দেখাতে হবে যুক্তি আর র‌্যাশনালিজমের পথ। এমনকি সাংঘাতিকভাবেও যে সব সমসাময়িক রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেয় তার ওপর দেখতে হবে সত্য ও যুক্তির ফোকাস। বলা বাহুল্য জনসাধারণকে নিয়েই রাষ্ট্র। জনসাধারণ যদি সব কিছু যুক্তি বুদ্ধির আলোয় বিচার করতে শেখে তা হলেই আমাদের সমাজ জীবন আর রাজনীতি হয়ে উঠবে যুক্তিনির্ভর ও বিভ্রান্তিমুক্ত। এ মুহূর্তে বুদ্ধিজীবীদের এ হচ্ছে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য ও দায়িত্ব।

 

আবুল ফজল, কথাসাহিত্যিক, গবেষক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি