এখন সময়:সকাল ৬:২৭- আজ: রবিবার-২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:সকাল ৬:২৭- আজ: রবিবার
২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ-৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

বই আনন্দ, জ্ঞান, প্রেম ও সভ্যতার প্রতীক

রুদ্র সুশান্ত : “বই পড়াকে যথার্থ হিসেবে যে সঙ্গী করে নিতে পারে,তার জীবনের দুঃখ কষ্টের বোঝা অনেক কমে যায়।”

‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’ আমাদের দেশে কিশোর কিশোরী, তরুণ তরুণী, যুবক যুবতীদের হাতে বই তুলে দিন। এরা একজন আরেকজনের দিকে চেয়ে কবিতা পড়বে, একজন আরেকজনকে কবিতা শোনাবে। গল্প পড়বে গল্প শোনাবে। সাহিত্য পড়বে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ আরো বেড়ে যাবে। সাহিত্য প্রিয় একটা জাতির জাতির ভিতর অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কমে আসে। সবাই আস্তে আস্তে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে  উঠবে। আমাদের বাংলা সাহিত্য আরো অনেক শক্তিশালী হবে, আরো বিশ্বমানের হবে,যতো বেশি পাঠক বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি হবে বাংলা সাহিত্য ততো সমৃদ্ধ হবে। একটি সাহিত্য প্রিয় জাতি নিজের আত্মোউন্নয়ন, আত্মশুদ্ধি,  আত্মসমৃদ্ধি এবং আত্মোপলব্ধির সুযোগ পেয়ে থাকেন। নিজেদের ভিতরে সুবোধ, সুবুদ্ধি এবং শুভ ভাবনার উদয় হবে।  সাহিত্যের প্রতি যত অনুরাগী হবেন, একজন মানুষ ততই নিজেকে আত্মকলহ ও আত্মবিলাপ থেকে সরিয়ে রাখতে পারবেন। এবং সংঘর্ষ-বিরোধ এসব সম্পর্কে বুঝার অনুভূতি নিজের অন্তরে সুচিন্তিত মতামতসহ সৃষ্টি হবে। ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষ ধীরে ধীরে নিজেকে আবিষ্কার করার পূর্ণ সুযোগ পাবেন।  ক্রমান্বয়ে ঝগড়া বিবাদ নৈরাজ্য কুকর্ম অপকর্ম এবং সকল প্রকার অনৈতিক কাজ কমে আসবে। সাহিত্য মানুষকে নিজেকে উপলব্ধি করার জ্ঞান প্রদান করে। বই হল পৃথিবীর সর্বোত্তম একটা পবিত্রতম বস্তু। লেখিকা ‘প্রতিভা বসু’র একটা কথা খুব মনে পড়ে যায়- “বই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ আত্মীয়, যার সঙ্গে কোনদিন ঝগড়া হয় না,কোনদিন মনোমালিন্য হয় না।”

আমাদের এই বাঙালি সভ্যতা কে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণে বই পড়তে হবে। বইয়ের ভিতরে আমাদের বাঙালি সত্তা, বাঙালি জাতীয়তাবোধ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এবং বাঙালির পরম প্রাপ্তির ইতিহাস গুলো বর্ণিত আছে। ‘ভিক্টর হুগো’ বলেছেন- “বই বিশ্বাসের অঙ্গ,বই মানব সমাজকে টিকাইয়া রাখিবার জন্য জ্ঞান দান করে। অতএব, বই হইতেছে সভ্যতার রক্ষাকবচ।” আমাদের সভ্যতা কে রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বই পডতে হবে।

আমাদের দেশে এককালে (বেশি দিন আগের কথা নয়) মায়েরা তাদের সন্তানদের দোলনা দুলিয়ে গান শুনিয়ে গল্প করে বিভিন্ন শ্লোক শুনিয়ে ঘুম পাডাতে। মুখে মুখে চলে আসা শত শত হাজার হাজার ধাঁধা, ছোট ছোট গল্প, ছোট ছোট ঘুম পাডানি গান এবং বিভিন্ন লোকজ গানের অংশ সুর করে মায়েরা শুনাতেন। সেইসব সুর করা নানান গান, গল্প শুনে বাচ্চারা দোলনার তালে তালে ঘুমিয়ে পড়তো। কিন্তু আজকাল তেমন আর শোনা যায় না। এর পিছনে একটাই কারণ- আজকাল যারা মা হচ্ছেন তারা এসব কোন গল্প জানেন না, এসব গল্প, গান ও  ধাঁধা সম্পর্কে তাদের কোন আইডিয়া নাই। কারণ তারা এসব কোনদিন পড়েননি তারা নিজেরা না পড়ার কারণে পরবর্তী প্রজন্মকেও তারাই সব দিতে পারছেন না। আমরা যখন ছোট ছিলাম অনেক ছোট তখন আমার দাদা-দিদিরা আমাদেরকে কাছে টেনে নানান ধরনের রম্য গল্প ছোট গল্প সুর করা গান শুনাতেন। বর্তমানকালে যারা মা হচ্ছেন তারা যখন দিদি হবেন আর যারা বাবা হচ্ছেন তারা যখন দাদা হবেন আপনারা কিন্তু আপনাদের নাতি-নাতনি নিয়ে এ ধরনের খোশ-গল্পগুলো করতে পারবেন না, সুর করে গান শোনাতে পারবেন না। কেন পারবেন না? কারন জানেন না। না জানার পিছনে ঐ একটাই কারণ- কখনো পড়েননি।

আবার অনেকে বলবেন বাচ্চাদেরকে সুর করে কেন শোনাতে হবে? আমি বলবো সুর করে শোনানোর দরকার নেই, এমনি শোনান। এমনি শোনানোর জন্য তো জানতে হবে, তাইনা? আমি যদি না জানি তবে কি শোনাবো বলেন? যদি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আমরা সঠিক পথে সুনিপুনভাবে পরিচালিত করতে না পারি তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় আমাদেরকে নিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- “বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো।” একটা মানব সন্তান জন্মগ্রহণ করার পরে যখন আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে তখন তাকে যদি তার পূর্বপুরুষদের কীর্তি ও আবিষ্কার সম্পর্কে ধারণা দেয়া না যায় তবে সেই সন্তানটি তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে যাবেন। একটা বাচ্চা যখন ছোটবেলা থেকে আমাদের এই বাঙালি সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়ে আসবে, (জন্মের পর থেকেই যখন সে কথা বলা শিখবে তখন থেকেই) তখন সেই বাচ্চাটা বুঝতে পারবে এইসব আমাদের বাঙালির লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের বাঙালির সংস্কৃতি। সেই বাচ্চাটা এইসব দেখে শুনে বড হবে। এবং পরিবারের কাছে ছোট বেলা থেকে একটা শিশু সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পেয়ে যাবে। তখন সেই শিশুটি বড় হয়ে অবশ্যই আমাদের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরবে, ভালবাসবে পছন্দ করবে এবং যতœ নিতে শিখবে। এইভাবে আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের এই প্রিয় সংস্কৃতি ছডেিয় দিতে পারি। আমাদের এই প্রাণপ্রিয় সংস্কৃতিটিকে সুদৃঢভাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রথম দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকে, এরপরে সমাজ, এবং রাষ্ট্রর উপর এ দায়িত্বটা বর্তায়। ‘জন মেকলে’ বলেছেন- “প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলোকোঠায় বসবাস করব তবু এমন রাজা হতে চাই না যে বই পড়তে ভালবাসে না।”

বিশ্ব বিখ্যাত নেপোলিয়ন- “বলেছেন অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে জীবন চলে না।” আমাদের প্রেক্ষাপট আমাদের কাছে ষাট হাজার বই  থাকা অনেকটা সম্ভব নয়, তবে শতেকখানি বই থাকা অসম্ভব কিছু নয়।

মোদ্দা কথা হলো আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বই বইমুখী হতে হবে। সাহিত্য মুখী হতে হবে। সাহিত্যের প্রতি একটা  দরদ থাকতে হবে, বই ভালবাসতে হবে, বই পড়তে হবে, গান ভালোবাসতে হবে,গান শুনতে হবে। একটা সংস্কৃতিপ্রিয় জাতি এবং সংস্কৃতিপ্রিয় সভ্য উন্নত জাতি নিজেরাই নিজেদেরকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমাদের প্রজন্মের মুখে মুখে থাকবে রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, জীবনানন্দ দাশ, নির্মলেন্দু গুণ, বুদ্ধদেব গুহ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এঁদের কবিতার লাইন। এরা বাসে ট্রেনে যেতে সময় হাতে বই রাখবে। এই প্রজন্ম গিটার হাতে রাস্তাঘাটে গান গাইবে, পার্কে বাঁশি বাজাবে, বেহালার সুরে মুখরিত হবে উদ্যান গুলো। এরকম একটা উন্নত প্রজন্ম সৃষ্টি হলে আমরা নির্দ্বিধায় একটা বিশ্ব পরিচিত উন্নত জাতিতে পরিণত হব, এটা অনায়াসে বলা যায়।

 

এই প্রজন্মটার একহাতে থাকুক বই আর এক হাত ধরে রাখুক প্রেমিক-প্রেমিকার হাত। প্যান্টের এক পকেটে থাকুক মানিব্যাগ আরেক পকেটে থাকুক বাঁশি। পিছনে পিঠের সাথে ঝুলানো থাকুক গিটার, সেই গিটারের ঝংকারে নন্দিত হোক আশপাশ। এরকম একটা সংস্কৃতিপ্রিয় প্রজন্ম সৃষ্টি হলে নির্দ্বিধায় আমাদের এই উপত্যকায় অপরাধবোধ ও অপরাধপ্রবণতা কবে যাবে।তখন আমরা নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতা “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়” লাইনটাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবো। তখন আমরা নবারুণ ভট্টাচার্যের দিকে তাকিয়ে বলতে পারবো এই উপত্যকা মৃত্যুর জনপদ নয়, এই উপত্যকা ভালোবাসার, এই উপত্যাকা প্রেমের, এই উপত্যকা ছন্দের, এই উপত্যকা কবিতার, এই উপত্যাকা আনন্দের, এখানে সভ্যতা-সংস্কৃতি ও আনন্দের লালনপালন করা হয় এবং বুকে ধারণ হয়। আমাদের একটা সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রিয় এবং উন্নত মস্তিষ্কের অধিকারী সাহিত্যপ্রেমী প্রজন্ম তৈরি হোক এই প্রত্যাশা আমার মনে লালিত।

 

রুদ্র সুশান্ত, কবি ও প্রাবন্ধিক

প্রাচীন বাংলার নাগরিক জীবনে শিল্প ও সৌকর্য

ড. আবু নোমান এখন প্রাচীন বাংলার যে স্থাপত্যগুলো পাওয়া সম্ভব সেগুলোকে প্রত্মতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বললেও বলা যেতে পারে। স্থাপনা সমাজের সভ্যতার একটি অন্যতম নিদর্শন বা উপাদান।

বৈষম্যমূলক কোটা প্রথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে (সম্পাদকীয়- জুলাই ২০২৪)

সরকারী চাকরীতে কোটা প্রথা কোন ভালো বা গ্রহণযোগ্য প্রথা হতে পারেনা। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়। প্রশাসনে মেধাবীর চেয়ে অমেধাবীর আধিক্য বেশী বলে রাষ্ট্রীয় কাজে

আহমদ ছফা বনাম হুমায়ূন আহমেদ

মাত্র দেশ স্বাধীন হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ তখন আহমদ ছফার পিছন পিছন ঘুরতেন। লেখক হুমায়ূন আহমেদ-কে প্রতিষ্ঠার পিছনে যে আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, সে কথা