এখন সময়:রাত ২:৫৫- আজ: মঙ্গলবার-৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ২:৫৫- আজ: মঙ্গলবার
৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

মারমা অনুবর্তন

আরফান হাবিব

উপজাতি, জনজাতি, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কিংবা আদিবাসী- যে নামেই ডাকি না কেন বাংলাদেশের একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে আদিবাসীদের বসবাস। বাংলাদেশে বাঙালিদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র আকারে আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে বংশপরম্পরায় সুদীর্ঘকাল শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের সাথে বসবাস করে আসছে। এই আদিবাসীদের বৃহৎ অংশই মঙ্গোলিয় জনগোষ্ঠীর মানুষ। পাশাপাশি দ্রাবিড়ীয় বা অস্ট্রালয়েড আদিগোষ্ঠীর শঙ্কর আদিবাসী মানুষেরও বসবাস রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং ভৌগোলিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে এরা ভিন্ন ভাষা-ভাষী, তাদের জীবনধারা, সংস্কৃতি, আচার আচরণ ভিন্ন হলেও মনোভাবের দিক থেকে এরা সহজ সরল জীবন যাপন করেন।

বাংলাদেশ ৪৫ টির মতো আদিবাসী রয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১১টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। এদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আচার আচরণ ভিন্ন। বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলভূমি দুই জনপদেই আদিবাসীদের বসবাস রয়েছে।  পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়, ঝরনা আর বনভূমির বুকজুড়ে যে বৈচিত্র‍্যময় আদিবাসী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে, তার মধ্যে মারমা জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী অংশ। আরাকান অঞ্চল থেকে আগত এই জনগোষ্ঠীর ইতিহাস বহু শতাব্দীপ্রাচীন; তারা মূলত বর্তমান রাখাইন রাজ্য (মিয়ানমার) থেকে ধীরে ধীরে স্থানান্তরিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারায় তারা তিব্বত-বর্মী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের নিজস্ব ভাষা ‘মারমা’ যা বার্মিজ ভাষার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। মারমা সমাজ মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী; থেরবাদী বৌদ্ধধর্ম তাদের আধ্যাত্মিক জীবনকে পরিচালিত করে এবং প্রতিটি গ্রামে একটি করে বৌদ্ধ বিহার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা রাখে।

মারমাদের জীবনযাপন প্রকৃতিনির্ভর; জুমচাষ তাদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের প্রধান ভিত্তি, যেখানে পাহাড়ি জমিতে মৌসুমি ফসল উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি তাঁতশিল্প, বাঁশ ও কাঠের কারুকাজ তাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের নিদর্শন বহন করে। নারীরা রঙিন থামি (লুঙ্গির মতো পোশাক) ও পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে, যা তাদের নান্দনিক রুচি ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। তাদের সামাজিক জীবন অত্যন্ত সমবায়ী; পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতা মারমা সমাজকে সুদৃঢ় করে তোলে।

উৎসব-পার্বণ মারমা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার মধ্যে সাংগ্রাই উৎসব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা নববর্ষের কাছাকাছি সময়ে

উদ্যাপিত এই উৎসবটি মূলত তাদের নববর্ষ, যেখানে জলক্রীড়া, ফুল ভাসানো, নৃত্য-গীত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এই উৎসবের প্রেক্ষাপট আনন্দেরই নয়, বরং শুদ্ধি ও পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত।

বর্তমান সময়ে আধুনিকতার প্রভাব, বন উজাড়, ভূমি সংকট ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে মারমা জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবুও তারা তাদের ভাষা, আচার-অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট। পাহাড়ি প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, ধর্মীয় সংযম ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র‍্যরে সমন্বয়ে মারমা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজে এক অনন্য সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের নিঃসংকোচ প্রচারক।

ভিন্ন স্বাদের খাবার

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষত বান্দরবান অঞ্চলে মারমা সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার “মুন্ডি” (স্থানীয়ভাবে মুংডি) স্বাভাবিকত্বের মাপকাঠিতে শুধু একটি খাদ্য নয়, ঐতিহ্যগত ভাবে এটি পাহাড়ি জীবনধারা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য দর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মূলত চাল থেকে তৈরি এই খাবারটি প্রস্তুত করার পদ্ধতি অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যময়-প্রথমে চাল কয়েক দিন ভিজিয়ে রেখে তা পিষে ম- তৈরি করা হয়, এরপর ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করে বিশেষ চালুনির মাধ্যমে চাপ দিলে তা সুতার মতো লম্বা হয়ে বের হয়, যা দেখতে অনেকটা নুডলসের মতো হলেও স্বাদ ও গঠনে একেবারেই আলাদা।  এরপর এই মুন্ডির সঙ্গে গোলমরিচ, পাহাড়ি মরিচের গুঁড়া, পেঁয়াজ ভাজা, ধনেপাতা, চিংড়ি ও শুঁটকির গুঁড়া মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়; কখনো সঙ্গে থাকে বিভিন্ন ধরনের চাটনি বা সেঁকা কাবাব, যা খাবারটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।  ঐতিহ্যগতভাবে এটি মারমাদের ঘরোয়া পরিবেশে, আগুনের চুলার চারপাশে বসে দলবেঁধে খাওয়ার একটি সামাজিক আচার ছিল, যেখানে খাবারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত পারস্পরিক সম্পর্ক ও আড্ডা; তবে বর্তমানে বান্দরবানের উজানীপাড়া, মারমাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এটি আধুনিক দোকান বা রেস্তোরাঁয়ও পাওয়া যায় এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  মুন্ডির উৎপত্তি মূলত মিয়ানমারে বলে ধরা হয় এবং এটি মারমা ও রাখাইন জনগোষ্ঠীর প্রাচীন খাদ্যঐতিহ্যের অংশ; “মুং” শব্দের অর্থ পিঠা এবং “তি” অর্থ কেঁচো-এর সুতার মতো গঠনের কারণে এই নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কারখানায় তৈরি মুন্ডিও বাজারে এলেও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে বানানো মুন্ডির স্বাদই সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে মুন্ডি অস্তিত্বগত একটি পাহাড়ি খাবার নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়, যা মারমা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, স্বাদবোধ, সামাজিকতা ও ঐতিহ্যকে একসূত্রে বেঁধে আজও জীবন্ত রেখেছে।

জীবন এখানে উৎসব

মারমা সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভেতরে “সইং নৃত্য” এক অনন্য ও গভীর অর্থবহ শিল্পরূপ, যা উন্মুলিতপ্রায় বিনোদনের জন্য নয়, বরং জীবন, মৃত্যু এবং স্মৃতির মধ্যকার এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত এই নৃত্য মূলত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সাথে জড়িত-বিশেষ করে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সমাজের সম্মানিত প্রবীণ ব্যক্তিদের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে।

“সইং নৃত্য” অনন্য এক আচার-অনুষ্ঠান, যেখানে শোককে এক বিশেষ নান্দনিকতায় রূপ দেওয়া হয়। সাধারণত মৃতদেহ বা কফিনকে কেন্দ্র করে এই নৃত্য পরিবেশিত হয়। কফিনটি কেবল একটি বহনযোগ্য কাঠামো নয়; বরং সেটিকে সাজানো হয় রাজপ্রাসাদের আদলে, যা মারমা ভাষায় “তালা আকাও” নামে পরিচিত। এই রাজপ্রাসাদতুল্য কাঠামোর ভেতরে কিংবা চারপাশে নৃত্যশিল্পীরা দলবদ্ধভাবে নৃত্য পরিবেশন করেন, যেন এটি মৃত ব্যক্তির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের এক প্রতীকী আয়োজন।

এই নৃত্যের সাথে জড়িত থাকে গীতিনাট্যধর্মী উপস্থাপনা-বিশেষত ‘জ্যাত ও পাংখুং’- যেখানে গান, সংলাপ এবং নাচের সমন্বয়ে মৃত ব্যক্তির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়। তাঁর জন্ম, কর্মজীবন, সমাজে অবদান-সবকিছুই কাব্যিক ভাষায় এবং ছন্দময় উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে। ফলে এটি কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং স্মৃতির এক জীবন্ত পুনর্নির্মাণ।

বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভিক্ষু বা ভান্তেদের মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি নির্বাণের পথে যাত্রা। এই বিশ্বাস থেকেই সইং নৃত্যের মাধ্যমে তাঁদের বিদায়কে এক উৎসবমুখর মর্যাদায় রূপ দেওয়া হয়। এখানে শোকের সাথে মিশে থাকে এক ধরনের আধ্যাত্মিক আনন্দ-যেন মৃত্যুও জীবনেরই একটি গৌরবময় অধ্যায়।

বর্তমানে এই নৃত্যের পরিসর কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে। শুধু ধর্মীয় গুরু নয়, বরং সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের মৃত্যুতেও

এই নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এতে বোঝা যায়, মারমা সমাজে ব্যক্তি নয়, বরং তাঁর অবদান ও মর্যাদাকেই প্রধান করে দেখা হয়। একজন প্রবীণ ব্যক্তি, যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় সমাজের জন্য ব্যয় করেছেন, তাঁর বিদায়কেও একইভাবে সম্মান জানানো হয়।

একটি সইং নৃত্য দলে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ জন সদস্য থাকে, যারা সমন্বিতভাবে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পদচারণা, দেহভঙ্গি, তাল ও লয়ের মধ্যে থাকে শৃঙ্খলা এবং গভীর আবেগের প্রকাশ। এই সম্মিলিত পরিবেশনা একদিকে যেমন সামাজিক সংহতির প্রতীক, তেমনি অন্যদিকে এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাও বহন করে।

পথিকের জন্য জল

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটলে, হঠাৎ করেই কোনো এক ছায়াঘন বৃক্ষতলে চোখে পড়বে ছোট্ট এক মাচাং-নিঃশব্দ, নিরাভরণ, অথচ অপার মমতায় ভরা। এই মাচাংই ‘রিফুংজাং’,

চাকমা ভাষায় ‘জিরেনি খলা’। বাইরে থেকে দেখলে এটি যেন কয়েক টুকরো কাঠের সমাহার, কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে থাকে এক গভীর মানবিক ইতিহাস-অতিথিপরায়ণতা, সহমর্মিতা আর নিঃস্বার্থ দানের এক অনবদ্য স্পন্দন।

দূর পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ক্লান্ত পথিক যখন হেঁটে যায়, তার পায়ের ধুলোর সঙ্গে মিশে থাকে তৃষ্ণা আর অবসাদ। ঠিক তখনই, কোনো এক অজানা মানুষের হাতে গড়া এই ছোট্ট মাচাং যেন তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। সেখানে রাখা থাকে একটি পানির কলস বা পাত্র-শীতল, স্বচ্ছ, আহ্বানময়। কেউ বলে না, “এসো, পানি খাও”-তবু সেই নীরব আহ্বান পথিকের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। সে এগিয়ে আসে, জল তুলে নেয়, তৃষ্ণা মেটায়; আর নিঃশব্দে রেখে যায় এক অদৃশ্য কৃতজ্ঞতা, যা বাতাসে ভেসে পৌঁছে যায় সেই অচেনা দাতার কাছে।

এই প্রথার শিকড়ে রয়েছে এক সহজ অথচ গভীর বিশ্বাস-তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো মানেই মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। পাহাড়ি আদিবাসী সমাজে এটি একটি সামাজিক আচরণ শুধু নয়, বরং এক প্রকার আধ্যাত্মিক সাধনা। ‘রিফুংজাং’ নির্মাণ করা মানে যেন নিজের হৃদয়ের এক টুকরো অংশ পথের ধারে রেখে দেওয়া, যেখানে প্রতিটি পথিক তার ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে পারে। যারা নিয়মিত এই মাচায় পানি ভরে রাখেন, তারা জানেন-প্রতিটি চুমুকের সঙ্গে তারা অর্জন করছেন অগণিত অদৃশ্য কৃতজ্ঞতা, অজানা মানুষের মঙ্গলকামনা।

মারমা সম্প্রদায়ের গ্রামীণ জীবনে এই ঐতিহ্য ছিল একসময় খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য। পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে পানির উৎস দূর বা দুষ্প্রাপ্য, সেখানে এই ছোট্ট মাচাংগুলো হয়ে উঠেছিল জীবনরক্ষার এক অনন্য অবলম্বন। বিশেষ করে কোনো বিহারের পাশেই দেখা মিলত এদের-যেন ধর্মীয় স্থানের শান্তি আর মানবিকতার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এক নীরব সেবা কেন্দ্র। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিকতার ব্যস্ততায় মানুষ এখন নিজের প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। সেই নীরব মাচাংগুলো, যেগুলো একসময় পথিকের ক্লান্তি লাঘব করত, আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে অবহেলার অন্ধকারে। কাঠগুলো পচে গেছে, কলসগুলো শুকিয়ে ফেটে গেছে, আর সেই নিঃশব্দ আহ্বান যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি বাতাসে। রিফুংজাং নিয়ে মারমা সমাজে এটি লোককাহিনি প্রচলিত আছে, গল্পটি এমন-

“এক দেশে এক বুড়ি ছিল। তার ছিল এক ছেলে। বুড়ির মন ভালো ছিল না। সে ছিল খুব কৃপণ। কোনো পথিক পানি চাইলে সে পানি দিত না। বুড়ির এমন স্বভাব দেখে ভগবান অসন্তুষ্ট হলেন। একদিন বুড়ির ছেলে জুম কাটতে গেল। দুপুরবেলা তার খুব পিপাসা পেল। সে পানির খোঁজে এদিক-ওদিক ঘুরতে লাগল, কিন্তু কোথাও পানি পেল না। ভগবানের ইচ্ছায় চারপাশের সব ঝরনার পানি শুকিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ছেলেটি তৃষ্ণায় মারা গেল। ছেলের মৃত্যুর কারণ জেনে বুড়ি খুব কাঁদল। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে মনস্থ করল, মানুষের জন্য একটি জলাধার তৈরি করবে। পরে বুড়ি একটি জলাধার তৈরি করে দিল। পথিকরা সেই জলাধার থেকে পানি পান করে খুব উপকৃত হলো এবং বুড়িকে ধন্যবাদ জানাল। তখন থেকেই মানুষের উপকারের জন্য জলাধার তৈরির প্রচলন শুরু হয়।

নতুন প্রজন্মের হাতে আবারও জেগে উঠতে পারে আদিবাসী সংস্কৃতি। হয়তো কোনো এক তরুণ, কোনো এক গ্রামে, আবার পথের ধারে গড়ে তুলবে একটি ছোট্ট মাচাং। সেখানে রাখা থাকবে এক কলস জল, আর তার পাশে অদৃশ্যভাবে লেখা থাকবে-“তুমি ক্লান্ত হলে, এখানে থামো।”

এই সহজ আহ্বানেই তো লুকিয়ে আছে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়-মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। আর তখনই মনে হবে, এই ছোট্ট ‘রিফুংজাং’ যেন পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে চুপচাপ বলে যাচ্ছে- মানুষ, তুমি এখনো মানুষ আছো।

 

আরফান হাবিব :  প্রাবন্ধিক, বান্দরবান

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি