অবরুদ্ধ সময়
অবরুদ্ধ সময়
লিখে রাখো নাম আর তৈরি রাখো লক্ষ লক্ষ স্মৃতিফলক
কোটি কোটি ৩৬ জুলাই
দাঁড়িয়ে থাকো জানালায়
আকাশে আকাশে ক্রুজ মিসাইলের হার্ড রক আর
মৃত্যু নির্বোধ দাঁড়িয়ে করতালি দেয়
সারা পৃথিবী এখন সমাধিক্ষেত্র-সিরিয়া
গাজা ইউক্রেন বলিভিয়া বাংলাদেশ
ট্রেঞ্চের ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে
যে শিশু মায়ের কোল ছাড়া থাকতে পারে না
সে এখন নি:সঙ্গতার ক্রোড়ে
যে পিতা প্রতিদিন ঘরে ফিরতো
সে এখন পাহারা দেয় কান্না
যে ভাই বোনের সম্ভ্রম রক্ষা করতো সে কবন্ধ প্রহরী
জাতিসংঘ বারবার অবাক হয়
ন্যাটো জেনোসাইডের বিরুদ্ধে
গ্রহণ করে শোকপ্রস্তাব
পৃথিবী একদিন শেষ হয়ে যাবে
ধর্মালয়ে চলছে প্রার্থনা
কেউ একজন বলছে পৃথিবী
কোনোদিন শেষ হয়ে যাবে না
ফেরিওয়ালা হাঁক দিচ্ছে
খেলনা আছে নতুন খেলনা
এক হাজার এক রাত্রি
ও মেয়ে শান্ত
তার স্তব্ধতায় ভরে যায় হৃদয় সৈকত
ধীর গতি দীপ্তি মেলে সে দেখে
অবিশ্রান্ত সবুজ ঘুরে ঘুরে মরে যায় মৌমাছি
স্তনের অগ্নিশিখায় স্বচ্ছতোয়া ঝর্ণা নামে হাসির ছটায়
অবুঝ নক্ষত্র যত পদতলে আত্মাহুতি দেয়
চুলের রহস্য নিয়ে ক্রমে ক্রমে
পেকে ওঠে আরব্য রজনী
ভ্রু পল্লবে ভোর আত্মস্থ করে
সোনার আবহ এক হাজার এক রাত্রির
ম্যারাথনমগ্ন গল্প অনি:শেষ থাকে
ও মেয়ের প্রতিটি মৌনতা মৃত্যু ডেকে আনে
পৃথিবীর প্রথম মানুষ নই
আমি পৃথিবীর প্রথম মানুষ নই
শেষ মানুষও না
নদীতে আমি প্রথম
স্নান করিনি-অন্তিম স্নানও না
সূর্যের জন্মেরও আগে
আমার অস্তিত্ব- সূর্য না থাকলেও
মানুষের লেখা গ্রন্থে
মানুষ মহিমান্বিত
মানুষের চেয়ে উৎকৃষ্ট বৃক্ষ
মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মাছ
মানুষের চেয়ে মনোরম নদী
মানবের অহম চূর্ণ হয় পানহাড়ের কাছে -সমুদ্রের বিশালতায়
একদিন শুধু নিরবতা
পালন করবে ব্রহ্মাণ্ড
যা সে অর্জন করেছিলো জন্মের পর
আবার সে চিৎকার করবে
মৃত্যুর আগে
কোনোদিন নিরব থাকবো না আমি
চিৎকারও করবো না
আমি কোনোদিন জন্মগ্রহণ করিনি
কেউ জানে না
বন্ধু হবো-বন্ধু হলো স্বর্ণঈগল
ঈগল হলে আকাশ দেবে গাছের ছায়া
আকাশগাছে সূর্য ধরে
সূর্য পেড়ে রাত্রি খাবে কমলালেবু
ক্ষুধার্ত চাঁদ এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে মেঘবাগানে
ফলজ কোনো বৃক্ষতো নেই
কেবল ধুধু মাটির টানে
ভাটার টানে ভিড়বো কোথায় কোন অসীমে
বন্ধু হলে দিগন্তে এক রংধনু হয়
উড়বো তখন ফিনিক্স পাখি
এলিয়নদের ডাকবো কাছে
আসবে সসার আসবে তারা
বন্ধু হবো সাইবর সেই ভিন্ন গ্রহের
ফিরবো কবে পৃথিবীতে কেউ জানে না
এমনকি ঐ বন্ধুও না
কোন সন্ধ্যায় দেখা হবে
তীব্র চোখের উপত্যকায়
কেউ জানে না




