এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

সাফিন আহমেদ এর মৃত্যুতে কমল দাশগুপ্তকে স্মরণ

তসলিমা নাসরিন

 

এমনি বরষা ছিল সেদিন, মেনেছি গো হার মেনেছি , ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে তোমারে করেছে রানী,  তুমি কি এখন দেখিছো স্বপন, এই কিগো শেষ দান বিরহ দিয়ে গেলে, আমি ভুলে গেছি তব পরিচয়, যেথা গান থেমে যায় , আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়  তুমি যে বহ্নি শিখা, জেগে আছি একা,  আমি বনফুল গো, ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে,  সেদিন নিশীথে বরিষণ শেষে চাঁদ উঠেছিল বনে,  শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে, যদি আপনার মনে মাধুরী মিশায়ে, চরণ ফেলিও ধীরে ধীরে প্রিয়,  তুমি হাতখানি যবে রাখো মোর হাতের পরে, আমার যাবার সময় হলো, কতদিন দেখিনি তোমায়, হার মেনেছি গো হার মেনেছি, জানি জানি গো মোর শূন্য হৃদয় দেবে ভরি,  বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে,  পথহারা পাখি কেঁদে মরে একা, আমি চাঁদ নহি অভিশাপ, গভীর নিশীথে ঘুম ভেঙে যায় ছোটবেলায় এই গানগুলো শুনতাম আমাদের বাড়িতে। এগুলো এবং এরকম আরও হাজার রকম গান ছিল আমার দাদার সংগ্রহে। বাড়ির রেকর্ডপ্লেয়ারে বাজতো গান। সারা পাড়া শুনতো।  দাদা বলতো গানগুলোর সুরকার  কমল দাশগুপ্ত। তখনই প্রথম কমল দাশগুপ্তর নাম শুনি।  ফিরোজা বেগম নজরুলগীতি গাইলে সবাই ভাবতো সুর বুঝি কাজী নজরুল ইসলামের। কাজী নজরুল ইসলাম কমল দাশগুপ্তকে  তা্ঁর গানে স্বাধীনভাবে সুর করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কমল দাশগুপ্ত নজরুলের ৪০০ গানে সুর দিয়েছিলেন।

 

অবিশ্বাস্য প্রতিভা ছিল কমল দাশগুপ্ত’র। ১৯৩০ সালে তাঁর সুরারোপিত গানের প্রথম রেকর্ড বের হয়। এইচ.এম.ভি  গ্রামোফোন কোম্পানিতে  মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা ও গানের সুর করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।  মোট ৮৫০০ গানে তিনি সুর করেছেন। খেয়াল, রাগ প্রধান গান, ভজন, কীর্তন, কাওয়ালি, ইসলামী সঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, আধুনিক বাংলা গান, উর্দু ও হিন্দিগীত, গজল, লোকসঙ্গীত,

মার্চ সঙ্গীত ও সিনেমার গানে রয়েছে তার অবিস্মরণীয় অবদান। ১৯৪৩ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতার জীবন্ত কিংবদন্তি ১৯৬৭ সালে স্ত্রী পুত্রসহ ঢাকায় স্থায়ী হন। কেন তাঁকে ঢাকায় অনিশ্চিত জীবনে আসতে হয়েছিল? তিনি তো কলকাতায়  সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন! ১৯৫৫ সালে মুসলমান মেয়েকে বিয়ে করার জন্য কি একা হয়ে গিয়েছিলেন? ধন দৌলত, যশ খ্যাতি, সুনাম, জনপ্রিয়তা   সব তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল? ঢাকাও  কিন্তু এই আশ্চর্য প্রতিভার অধিকারীকে সম্মান করেনি। নিজের ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন এক মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী সঙ্গীতসাধককে ঢাকা বাধ্য করেছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে।  বাধ্য করেছে  নিজের  কমল দাশগুপ্ত নাম ত্যাগ করে মোহাম্মদ কামালউদ্দিন নামটিকে বরণ করতে।  বাধ্য করেছে তাঁকে চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করতে। বাধ্য করেছে তাঁকে হাতির পুলে মুদির দোকান খুলে  মুদিগিরি করতে, লজেন্স বিস্কুট  বিক্রি করতে। ঢাকা এই অসামান্য শিল্পীকে বাধ্য করেছে  অবহেলা  আর উপেক্ষায় জীবন কাটাতে।  বাধ্য করেছে তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে। ২০ জুলাই,  ১৯৭৪ সাল। অসুস্থ হওয়ার পর পিজিতে নিয়ে গেলে বাংলার মহান শিল্পীকে স্পেশাল কেয়ারে ভর্তি করায়নি ডাক্তাররা, কারণ তিনি ”ফাস্টর্ ক্লাস গেজেটেড অফিসার” ছিলেন না।

 

কমল দাশগুপ্ত’র কথা মনে পড়লো  কারণ তাঁর পুত্র সাফিন আহমেদ, কলকাতায় জন্মের পর যাঁর নাম ছিল মনোজিৎ দাশগুপ্ত, দু’দিন আগে যুক্তরাষ্টে্রর এক হাসপাতালে মারা গেছেন। কমল দাশগুপ্ত মারা গিয়েছিলেন ৬২ বছর বয়সে, পুত্রও একই বয়সে মারা গেলেন। কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের  তিন পুত্রের প্রতিভা কমল দাশগুপ্ত আর ফিরোজা বেগমের মিলিত প্রতিভার ধারে কাছে আসতে পারেনি, যদিও বলা হয় মিউজিশিয়ানদের সন্তানেরা ভালো মিউজিশিয়ান হন। দুই পুত্র গান গেয়েছেন, হয়তো ভালো মিউজিশিয়ান হয়েছেন কিন্তু পিতার মতো সুরের যাদুকর হতে পারেননি।

 

বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের লোকেরা কি কখনও ক্ষমা চেয়েছেন কমল দাশগুপ্তের কাছে? বনানীতে তাঁর কবরে কখনও ফুল দিতে যান? আক্ষেপ করেন? লজ্জা পান? কখনও তাঁর গানের অনুষ্ঠান করেন? তাঁকে শ্রদ্ধা জানান? জানাতে ইচ্ছে করে।

 

তসলিমা নাসরিন, কবি

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো