এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

হাফিজ রশিদ খান-এর কবিতাগুচ্ছ

শরতে আমার ঘুমহারা গান

 

তুমি আকাশের ওই মসৃণ ছায়ালু পথ

হরিৎপাতার ঘনিষ্ঠ পরগনায় বাতাসের মার্চপাস্ট

উঠোনে ঝকমকিয়ে হাসা বৃষ্টিবাহিনীর জলকেলি

 

এই শরতের উজল পহরে শুরু হলো তবে আজ

পরিপাটি ভুবনের ঘরে-ঘরে আমার চোখের

ঘুমহারা গান আর অক্লান্ত প্রব্রজ্যা

 

 

গহন পাড়াগাঁয় মৃত আমি

 

অনুভূতিদেশের গহন পাড়াগাঁয়

ঝোপের ছায়ায় রেশমিপালক পক্ষী আমি এক চেয়ে থাকি

পৃথিবীর আলো-হাওয়া আর

নরনারীদের সংসার জীবনযাপনের দিকে লুব্ধ চোখে

 

আমাকে এ দশা দিয়েছে পথের পাশে

জীবন-গ্রন্থাগারের তাকে-তাকে

সাজানো মানব-অক্ষরেরা

ওই জ্ঞানে মোহমুক্ত আমি রয়ে যাবো এই গাঢ় গাঁওয়ের

খেজুরের মিঠায় ডাগর চোখ মেলে বসে থাকা

মাছির শরীর হয়ে

আলুথালু সন্ধ্যার শিথানে

আর রাতের আঁধারমানিকের আলোঝরা গুচ্ছে-গুচ্ছে

 

সেইসব অক্ষরের অবিনাশিতায়

অন্যরকমের মৃত আমি এখন— ডেকো না

ডেকো না আমারে বন্ধু

 

তোমাদের সকল কাজের কাজি হতে …

 

 

সুফি-সমাসঙ্গ

যুবরাজ দারাসিকো হত্যা হলো সুফি-সমাসঙ্গের গৌরবে

আওরঙ্গের রাজত্ব তবু চলে বিশাল ভারতবর্ষে

সুফিপ্রাণ শারমাদ শহীদেরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে

ব্যথিতের উল্কি এঁকে বুকে

রাজতোরণের সামনে গড়ায়

জীর্ণ কম্বল জড়ায়ে গায়ে

 

ওপরের হুকুমে তাদেরও খুন ঝরে

মোগলে তা চেটেপুটে খেয়ে এপিটাফ লেখে

অমর হবার উগ্র বাসনায়

সূর্যালো নিবিয়া যায়

অন্ধকার চলে যায় অন্ধকারের অতল বিরাবানে

ধীরে ফসিলে-ফসিলে ভরে গোরস্তান

 

 

 

 

 

 

 

 

শারমাদেরা দূরের বাতি হয়ে জ্বলে

পৃথিবীর হৃৎখচিত মুক্তির আকাশে …

 

শুভযোগ

 

যাহা রেখে যাও তাই থেকে যায়

নাদানেরা, কুকুরেরা খায়

 

বগলে দুধের বোতল চাদরে ঢেকে দিকে-দিকে

প্রিয় মেকুরের খোঁজে এত্তেলা পাঠাও দৌবারিকে

 

বনের ভেতরে, সাগরের তটে

হেঁটে চলা তোমার ছায়ার মায়াগল্প এইখানে রটে

 

আসমান বেয়ে আটলান্টিকের পারে

শ্বেতকায় মুলুকের মগজের ধারে

 

 

অনেক দিনের সুখবোধ ছেড়ে আমার কুটিরে

সুচারু নখের জ্যোতি ঝরে তুমুল তিমিরে

 

এবার ফুরাবে তো যন্ত্রণা এ ঘাগির জীবনের

যেহেতু বিরাজ করে শুভযোগ তোমার প্রেমের …

 

 

যৌনতার বর্বরতা

 

যৌনতার বর্বরতা আমাকে দাও হে মুক্তি

আমার অনেক ভক্তি শুক্তির ভেতরে

মুক্তো আহরণে উড়ন্ত রয়েছে আজও

নাবিকের দুর্ধর্ষ চরিতামৃত অন্বেষায়

 

কামগন্ধময় তীব্র লিপ্সার গা ঘিনঘিন করা

হা-মুখো এ সংসারের গাড্ডা থেকে

এই ইহ দেহনন্দন আকাশে ওড়াও, ওড়াও

হে জিবরাইল

তোমার কুশলী চিমটিতে তুলে

এই শিশ্নকৃষ্ণজ্বালা, নোলাদাগা স্ফীত কনডম

ফুঁয়ে-ফুঁয়ে নির্বাপিত করো

 

ওগো বিয়াত্রিচে দেবী, কবি দান্তের প্রেমিকা

আমি অলিকুল শিরোমণিদের সেবাদাস হবো নেশাতুর নেত্রে

হবো তো অমিত শক্তিধর মাঙ্গলিক

সমাজের স্বপ্নের পূরণে …

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো