এখন সময়:রাত ১:৪৯- আজ: সোমবার-২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ১:৪৯- আজ: সোমবার
২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

চিত্রকলার ইতিহাস : মানুষের চোখে পৃথিবী দেখার গল্প (পর্ব-১)

ইমদাদুল হক সূফী

 

ভূমিকা

মানুষের সভ্যতার ইতিহাস যতটা ভাষা ও লেখার, ঠিক ততটাই রঙ ও রেখার। মানুষ কথা বলতে শেখার বহু আগেই ছবি এঁকেছে। সেই ছবি কখনো ছিল বিশ্বাসের আশ্রয়, কখনো ক্ষমতার ভাষা, কখনো বা নিছক অনুভূতির প্রকাশ। গুহার অন্ধকার দেয়াল থেকে আধুনিক গ্যালারির ক্যানভাস পর্যন্ত চিত্রকলার দীর্ঘ যাত্রা আসলে মানুষের দেখার ভঙ্গি বদলে যাওয়ার ইতিহাস। এই প্রবন্ধে বিশ্ব চিত্রকলার ধারাবাহিক ইতিহাসের সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের চিত্রধারাকে যুক্ত করে সংক্ষিপ্ত অথচ সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা হলো।

মানুষ কথা বলতে শেখার আগেই ছবি এঁকেছে। শব্দের আগে রেখা, বাক্যের আগে রঙ। তাই চিত্রকলার ইতিহাস আসলে মানুষের নিজেকে ও পৃথিবীকে দেখার ইতিহাস। গুহার দেয়ালে আঁকা আদিম পশুর ছবি থেকে শুরু করে আজকের বিমূর্ত ক্যানভাস—এই দীর্ঘ যাত্রা মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও সভ্যতার রূপান্তরের সাক্ষ্য বহন করে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে, আনুমানিক ৪০,০০০-৩,০০০ খ্রিষ্টপূর্ব, মানুষ গুহার অন্ধকারে ছবি এঁকেছিল। ফ্রান্সের লাসকো (প্রায় ১৭,০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) কিংবা স্পেনের আলতামিরার গুহাচিত্রে দেখা যায় শিকার, পশু ও প্রতীকী চিহ্ন। এসব ছবি কেবল সৌন্দর্যের জন্য আঁকা হয়নি—গবেষকদের মতে, এগুলো ছিল আচার, বিশ্বাস কিংবা বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। এখানেই চিত্রকলার প্রথম পাঠ—শিল্প জীবনের সঙ্গে যুক্ত।

সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিত্রকলাও নতুন ভূমিকা পায়। প্রাচীন মিশরে (৩,০০০-৩০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্রকলা ছিল ধর্ম ও পরকাল বিশ্বাসের

 

অংশ। সমাধির দেয়ালে আঁকা মানুষের অবয়ব ছিল নিয়মবদ্ধ ও প্রতীকী। বাস্তবের চেয়ে চিরস্থায়িত্বই ছিল গুরুত্বপূর্ণ (নেবামুনের সমাধিচিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)। একই সময়ে মেসোপটেমীয়

সভ্যতায় (৩,৫০০-৫০০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্র ও অলংকরণ রাজক্ষমতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের বাহন হয়ে ওঠে (উরের স্ট্যান্ডার্ড, আশুরবানিপালের প্রাসাদ-রিলিফ)। এই পর্যায়েই ভারতীয় উপমহাদেশে চিত্রকলার প্রাচীন ভিত্তি গড়ে ওঠে। সিন্ধু সভ্যতায় (২,৬০০ু১,৯০০ খ্রিষ্টপূর্ব) বড় দেয়ালচিত্র না মিললেও সিলমোহর ও অলংকরণে চিত্রভাবনার উপস্থিতি লক্ষণীয়। মৌর্য যুগে (৩২২-১৮৫ খ্রিষ্টপূর্ব) বৌদ্ধ শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং অজন্তা গুহাচিত্রের প্রাচীন স্তরগুলোর সূচনা হয় আনুমানিক ২য় শতক খ্রিষ্টপূর্ব। গ্রিক সভ্যতায় (৬০০-৩০০ খ্রিষ্টপূর্ব) চিত্রকলায় মানবদেহের সৌন্দর্য ও অনুপাত নতুন গুরুত্ব পায় (পলিগনোটাস, অ্যাপেলিস)। রোমানরা এই ধারাকে আরও বাস্তবমুখী করে তোলে। পম্পেই নগরীর দেয়ালচিত্রে (১ম শতক খ্রিষ্টাব্দ) পার্সপেকটিভ ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্য চিত্রকলাকে নতুন মাত্রা দেয়।

একই সময়ে উপমহাদেশে গুপ্ত যুগে (৪র্থ-৬ষ্ঠ শতক) অজন্তার পরবর্তী গুহাচিত্রগুলো মানবিক আবেগ, আধ্যাত্মিকতা ও ছন্দময় রেখার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে (বোধিসত্ত্ব পদ্মপাণি ও বজ্রপাণির চিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য)। এই ধারাই পরবর্তী ভারতীয় শিল্পভাবনার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

(চলবে )

ইমদাদুল হক সূফী, সম্পাদক, দেশপ্রসঙ্গ

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি