এখন সময়:রাত ৩:৪৯- আজ: শুক্রবার-২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

এখন সময়:রাত ৩:৪৯- আজ: শুক্রবার
২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ-বসন্তকাল

বাংলা সাহিত্যের অপার সৃষ্টির অগ্রযাত্রায় বাঙালি নারীদের অমূল্য অবদান

মারজিয়া খানম সিদ্দিকা

সভ্যতা ও সৃষ্টির পরতে পরতে যেমন নারীর অসামান্য অবদান রয়েছে  তেমনই বাংলা সাহিত্যের অপার সৃষ্টিতেও নারীর অবদান অনস্বীকার্য। অবিভক্ত বাংলার নারী সাহিত্যিকেরা নারীর অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার ছিলেন। কারণ আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা ছিল  অবহেলিত। তাঁদের দৃষ্টিতে নারীরা ছিল অবলা। সব সময় সব কাজে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হতো।

 

বাংলা সাহিত্যের ধারা অনুযায়ী সাহিত্যের উৎকর্ষতার সময়কে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে।এরমধ্যে ১৮০০ শতকের মধ্যভাগ থেকে সৃষ্টি হয় নারী সাহিত্যিকদের পদচারণা। নানা ধরনের প্রতিকূলতা থাকার পরেও বাংলা সাহিত্যের বেশ বড়ো একটা অংশ দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছেন বাঙালি নারী সাহিত্যিকেরা। মূলত আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই সাহিত্যে বাঙালি নারীদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয় ছিল বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসাবে যার নাম গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছেন চন্দ্রাবতী (১৫৫০ থেকে ১৬০০) তিনি ছিলেন পরম দুঃখী কবি। তার নিজের জীবনের বিষাদ গাঁথা কাব্য বাগ্ময় হয়ে প্রাণপ্রিয়তা পেয়েছে তাঁর ছন্দ, সুর  আর শব্দের বুননে। তাঁর রচিত ‘রামায়ণে’ “সীতা” মূল চরিত্রে পরিণত হয়েছে যা এখনো অমূল্য সম্পদসম। তিনি ছিলেন সীতা চরিত্র প্রণয়নে আধুনিক ভাবনার নারীবাদীদের প্রবক্তা। কবিরা বেঁচে থাকেন সৃজনে কর্মে— যেখানে নদীরা মরে গেলেও কবিদের মৃত্যু নেই।

 

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমাংশে বাঙালি নারী সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী।তিনি ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লার জমিদার কন্যা। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন জমিদার, সমাজকর্মী ও লেখিকা।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে তিনি জ্বলজ্বলে এক নক্ষত্র। তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের সমসাময়িক লেখক  ছিলেন। তাঁর জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, রোগ-শোক,বিবাহ বিচ্ছেদ প্রভৃতি ছিল তাঁর সাহিত্য সাধনার অন্যতম অনুষঙ্গ।

 

বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য আধুনিক মহিলা সাহিত্যিক ছিলেন স্বর্ণ কুমারী দেবী।

তিনি ছিলেন বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির নাতনি, (কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ির) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ে, যিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে পাঁচ বছরের বড়ো। ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখালেখি করতেন। ১৮৭৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর প্রথম উপন্যাস “দীপ নির্বাণ” প্রকাশিত হয়।

 

মূলতঃ বিংশ শতাব্দীর পরেই বাঙালী নারীরা

সাহিত্যের মূল স্রোতে প্রবেশ করেছেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের বাঙালি নারীবাদী লেখিকা ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন বেগম রোকেয়া। তিনি ছিলেন একাধারে বাঙালি চিন্তাবিদ,সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক তিনি নারী শিক্ষার অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে নারী জাগরণের প্রাথমিক বীজটি বপন করেছিলেন।

আবার সুফিয়া কামাল, আশাপূর্ণা দেবী,মহাশ্বেতা দেবী,নবনীতা দেব সেন—এঁদের মতো স্বশিক্ষিত নারীরা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নারীর অধিকার, সংগ্রাম ও মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করেছেন। তাঁরা নিজেদের লেখনীর মাধ্যমে নারীর অবহেলিত জীবন,সংগ্রাম ও সমাজের বৈষম্যতা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন যার মাধ্যমে সমাজে নারীদের অগ্রযাত্রায় একটি নতুন পালক যুক্ত করতে পেরেছিলেন তাঁরা যার সুফল আজকের রমণীরা ভোগ করতে সফল হয়েছেন।

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়েও নারীরা সামাজিক আন্দোলনগুলোতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন যাতে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে জীবনের মূল স্রোতে আনতে সাহিত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।আমাদের দেশের নারী সমাজের প্রতিফলন হিসেবে তাদের সুখ-দুঃখ, ঘাত-প্রতিঘাত, বঞ্চনা-অপমান,ভালোবাসা-সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের স্বপ্নগুলো সাহিত্যের পাতায় নারীরা যেন সাথে নিয়ে এগোচ্ছেন, পথ চলছেন,তাদের সাহসী করে তুলছেন।

এখন নারীরা বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে নিজেদের লেখক হিসেবে যেমন প্রমাণ করতে পারছেন তেমনি নিজের আবেগ অনুভূতির কথা নির্ভয়ে লিখে যাচ্ছেন। তাঁরা এখন স্ব স্রষ্টা। নিজেরাই কবিতা, গল্প, উপন্যাস, রম্য,প্রবন্ধ, কলামলেখক হিসেবে নিজেকে যেমন প্রস্ফুটিত করতে পারছেন তেমনি সমাজ ও জীবনের বিভিন্ন গল্প কথা তুলে ধরে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য  করছেন। সে সাথে  সাহিত্যের ভুবনকেও সমৃদ্ধ করতে পারছেন।

 

পরিশেষে বলা যায়, একটা সময় বাংলা সাহিত্যে নারীদের অবস্থান সীমিত পরিসরে থাকলেও আধুনিক যুগে নারীরা তাদের সাহস,মেধা, শ্রম ও লেখনীর মাধ্যমে পুরুষ প্রধান সাহিত্য জগতের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি  করতে সক্ষম হয়েছেন যা সাহিত্যকে আরও বৈচিত্র্যময়তা ও গভীরতায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করছেন।

 

 

মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, কবি ও প্রাবন্ধিক

চট্টগ্রাম

বিশ্ব নারী দিবসের পুনর্পাঠ : বহুমাত্রিক নারীর নতুন ভাষ্য

শাহেদ কায়েস   নারীর ইতিহাস কোনো একরৈখিক অগ্রযাত্রা নয়—তা বহু পথে বয়ে চলা নদীর মতো, যেখানে সংগ্রাম, প্রেম, প্রতিরোধ, রাজনীতি, শ্রম, মাতৃত্ব, শিল্প, দর্শন ও

আন্দরকিল্লার ইফতার অনুষ্ঠানে সুধীজনদের অভিমত বাঙালি জাতিসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার চিহ্নটিই অনির্বাণ অস্তিত্বের প্রতীক

আন্দরকিল্লা ডেক্স : শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজভাবনামূলক কাগজ ‘আন্দরকিল্লা’র ইফতার আয়োজনে সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আন্দরকিল্লা কোনো বলয়বদ্ধ সীমানায়

প্রথা ভেঙে বেরিয়ে এসো নারী  

গৌতম কুমার রায় বিংশ শতাব্দী বিদায় হওয়ার পরে এসেছে একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞান এগিয়েছে। সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে পুরুষ। কিন্তু নারী ! শুধু পিছিয়েছে নারী। কেন

আদিবাসী নারী

কুমার প্রীতীশ বল   ‘হৈ হৈ হৈ জুমত  যেবং. জুমে যেইনে গচ্ছা সুদা তুলিবং. গচ্ছা সুদা তুলি নেই টেঙ্গা কামেবং।’ চাকমা এই গানটির বাংলা অনুবাদ

মহাশ্বেতা দেবী: দর্শন, সাহিত্য ও সমাজচেতনার প্রতিফলন

রওশন রুবী   মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের একজন শক্তিমান ও প্রখ্যাত লেখক। তাঁর শতবর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাহিত্য শব্দের সীমা অতিক্রম করে মানবতার গভীর নৈতিক শক্তিতে