এখন সময়:রাত ১:২৮- আজ: মঙ্গলবার-৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১:২৮- আজ: মঙ্গলবার
৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

কানাডায় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ’: এক ঐতিহাসিক দলিল

ইসরাইল খান

খ্যাতনামা কবি, লেখক ও গবেষক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল খুবই সাদামাটা পরিবেশে—১৯৭৭ সালের গ্রীষ্মের এক পড়ন্ত দুপুরে| তখন আমি থাকি শহীদুল্লাহ হলের নতুন ভবনে| ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘¯^কীয়তা’-র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের পরই কীভাবে যেন তিনি ওর সম্পাদকের ঠিকানায়, এক হাজার দুই ন¤^র রুমে হাসতে-হাসতে হাজির| হাতে একগুচ্ছ কবিতা, আর জামালপুর থেকে প্রকাশিত তরুণ সম্পাদক কবি তসলিমা নাসরীন সম্পাদিত ‘সেঁজুতি’ পত্রিকার কয়েকটি কপি| সহজ, অতি আপনজনের মতো ‘ইসরাইল ভাই’ স¤ে^াধনে ঐদিনই আমরা আপন হয়ে গেলাম| তাঁর এবং আমার পথ যে একই!

সেই দিনটির কথা আমি কখনো ভুলিনি|

জামালপুর-শেরপুর থেকে সাহিত্যচর্চার ব্রত নিয়ে ঢাকায় এসে তিনি শুধু যে আমার সঙ্গেই দেখা করেছিলেন—তা হয়তো নয়! তিনি ঢাকা শহরের সকল পত্র-পত্রিকার কার্যালয়ে সাহিত্য-সম্পাদকদের সঙ্গে অচিরেই পরিচিত হলেন| পত্রিকা অফিসে আগত তরুণ-প্রবীণ অনেক কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গেই অল্পদিনের মধ্যে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে| নানান পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকল অনবরত| কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সত্তরের দশকের কবিদের মধ্যে নিজের আসন পোক্ত করে ফেললেন| বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর কবিতা, কথিকা, নিবন্ধ প্রভৃতি প্রকাশিত হতে থাকে| পরবর্তীকালে তিনি রেডিও, টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকার নিয়মিত লেখক ও উপস্থাপক হিসেবে গণ্য হন| আমার ‘¯^কীয়তা’-য় তাঁর কয়েকটি কবিতা সত্তরের দশকেই ছাপা হয়েছিল|

তাঁর সুবাদে শেরপুরের ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র (অকালপ্রয়াত) কবি আহমদ আজিজ, কবি মীর আনিসুল হাসান (ইংরেজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখকে আমি ‘¯^কীয়তা’র লেখক হিসেবে এবং আমার বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম| কয়েক বছর আগে তিনি বঙ্গবন্ধু বিষয়ক গবেষণার জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন| বলে রাখা ভালো, মূলত কবি হলেও তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন| তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গিয়েছে অনেক আগেই| বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি তিন দশক ধরে কাজ করছেন| বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা ২২টি আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও ডজন খানেক বই রচনা করেছেন| বিটিভিতে লিখেছেন একাধিক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক| নাটক ও গান রচনা ছাড়াও তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলোরও একটি আলাদা চরিত্র দাঁড়িয়ে গিয়েছে| সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘কানাডায় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ| বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কানাডা সরকারের কী ভূমিকা ছিল? কানাডার বিভিন্ন ব্যক্তিরই বা ভূমিকা কী ছিল? কানাডায় অবস্থিত বিভিন্ন জনের আহরিত তথ্যের সমাহার ঘটিয়ে এই গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে|

ভূমিকায় সম্পাদক জানিয়েছেন : “ইতিহাসের আড়ালে ঘুমিয়ে আছে আমাদের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা| অর্ধশতাব্দী পর সেইসব আকর তথ্য উদ্ধার, আবিষ্কার এবং সংগ্রহ অত্যন্ত দুরূহ ও দুঃসাধ্য হলেও নিরলস চেষ্টার মাধ্যমে কানাডায় মুক্তিযুদ্ধের নানান বিষয় সংগ্রহ করেছি|”

যাঁরা কানাডায় সরাসরি এই যুদ্ধের সতীর্থ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, গবেষণা করেছেন—দেশি-বিদেশি সেইসব লেখকদের লেখায় ও অভিজ্ঞতায় পূর্ণতা পেয়েছে সংকলনটি| বেশ কয়েকটি পর্বে লেখাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে| যেমন : গবেষণা প্রতিবেদন, স্মৃতিচারণমূলক তথ্যাদি, সাক্ষাৎকার, সংবাদপত্রের চিত্র, যুদ্ধশিশুর কথা ও কবিতা, গ্রন্থ-পর্যালোচনা, কার্টুন ইত্যাদি|

ইতিহাস বিকৃতির বিষয়টিও এখানে সম্পাদক গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন| তিনি জানান, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিয়ের এলিয়ট ট্রুডোকে মরণোত্তর ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ (Friends of Liberation War Honour) দেওয়া হয়েছে| অথচ তিনি প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না; বরং পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন| মুক্তিযুদ্ধের ছয় মাস পর তিনি বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন| তবে অনেক কানাডিয়ান ছিলেন, যাঁরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন| যেমন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং পিয়ের ট্রুডোর পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী লেস্টার পিয়ারসন, সে সময়কার পার্লামেন্টের বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদ, সিবিসির সাংবাদিক-লেখক স্ট্যানলি বার্ক, প্রফেসর জোসেফ ও’কানেল, যুদ্ধশিশু দত্তকের উদ্যোক্তা ফ্রেড কাপুচিনো ও বনি কাপুচিনো প্রমুখের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল| এই সংকলনে তাঁদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে| অনেক অজানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সমাবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কানাডিয়ান সরকারের ভূমিকা, সে দেশের বুদ্ধিজীবী, লেখক-সাহিত্যিক এবং মানবদরদি মানুষদের অসাধারণ অবদান লিপিবদ্ধ করে জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করায় সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার হয়েছেন| তাঁকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই|

 

ইসরাইল খান: প্রাবন্ধিক ও গবেষক, ঢাকা

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি