এখন সময়:রাত ১:২৭- আজ: মঙ্গলবার-৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ১:২৭- আজ: মঙ্গলবার
৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

ইচক দুয়েন্দে ও তাঁর আত্মদাহী শিল্পজীবন

মাসুদুল হক

ঢাকার শাহবাগের সেই সময়টা এখন কেবল স্মৃতির ভেতরে ধোঁয়ার মতো ভাসে আমার কাছে। পিজি হাসপাতালের সামনে, সিলভানার টেবিলে, মৌলির সামনে সাজানো ছোট ছোট টুলে, বাংলা একাডেমির দেয়ালে হেলান দিয়ে কিংবা শাহবাগের রাতের শেষ চায়ের দোকানে-এক ধরনের অদ্ভুত মানুষদের দেখা মিলত তখন। তারা চাকরি করত না ঠিক, আবার বেকারও ছিল না। তারা বেঁচে থাকত শিল্পে, সাহিত্যে, আড্ডায়, দুঃস্বপ্নে, মদে, গাঁজায়, অনিদ্রায়, ক্ষুধায় এবং অসম্ভব সব কল্পনায়। তাদের কারও শরীরে ঠিকঠাক পরিচ্ছন্ন বাবুদের মতো সুশীল পরিচ্ছদ ছিল না, কিন্তু তাদের কথার মধ্যে ছিল মহাবিশ্বের বিপুলতা। তারা সমাজের স্বেচ্ছাপ্রান্তীয় মানুষ ছিল, কিন্তু নিজেদের কল্পনার কেন্দ্রে তারা ছিল রাজা। সেইসব মানুষের মধ্যে ইচক দুয়েন্দে-ওরফে শামসুল কবীর কচি-ছিলেন এক অদ্ভুত দীপ্তিমান চরিত্র। তাকে শুধু লেখক বললে ভুল হবে। সে ছিল এক জীবন্ত পারফরম্যান্স, এক আত্মদাহী শিল্পসত্তা, এক বোহেমিয়ান লোকপুরাণ, যে নিজের জীবনকেই শিল্পে পরিণত করেছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পড়ার সময় থেকেই কচির মধ্যে এই অস্বাভাবিকতার বীজ ছিল। তখন সে ‘পেঁচা’ নামে ছোটকাগজ বের করত। ছোটকাগজ তখন কেবল সাহিত্য প্রকাশের মাধ্যম ছিল না; সেটি ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক বিদ্রোহ। মূলধারার সাহিত্যিক গাম্ভীর্যের বিরুদ্ধে, প্রতিষ্ঠিত নন্দনের বিরুদ্ধে, এক ধরনের তীব্র বিকল্প চেতনা। ‘পেঁচা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হাসান আজিজুল হক, অসীম কুমার দাস, বিষ্ণু বিশ্বাসদের মতো মানুষ। হাসান আজিজুল হকের ‘বৃত্তায়ন’ প্রথম প্রকাশিত হয় এই পত্রিকা থেকেই। অর্থাৎ কচি কেবল লেখক ছিল না, সে ছিল সাহিত্যিক শক্তির এক অদৃশ্য মধ্যস্থতাকারীও। কিন্তু তার প্রকৃত সত্তা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয় ঢাকায় এসে।

ঢাকায় এসে সে যেন একেবারে অন্য এক জীবনে ঢুকে পড়ে। তখন আশির দশকের শেষভাগ, নব্বইয়ের শুরু। শহরজুড়ে এক ধরনের সাংস্কৃতিক উত্তাপ। শাহবাগ ছিল তার কেন্দ্র। লেখক, কবি, শিল্পী, নাট্যকর্মী, ভবঘুরে, বিপ্লবী, পাগল-সবাই সেখানে মিশে থাকত। সেই আড্ডার ভেতরেই একদিন আমার সঙ্গে দেখা মেলে কচির। কোনো মুদ্রণবিষয়ক কাজের পেমেন্ট পেয়ে সে বন্ধুদের মধ্যে টাকা বিলিয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্যটি যেন কচির সমগ্র চরিত্রের এক প্রতীক। সে অর্থকে গুরুত্ব দিত না; আবার অর্থ ছাড়া বাঁচতও না। তার কাছে জীবন ছিল এক অবিরাম নাটক, যেখানে প্রতিটি আচরণও শিল্পের অংশ।

রোকন আর কচির একসঙ্গে থাকা, তারপর সাবদার সিদ্দিকীর এসে জুটে যাওয়া-এই ঘটনাগুলো কেবল আড্ডার গল্প নয়, এগুলো এক ধরনের বিকল্প শিল্পজীবনের দলিল। সাবদার সিদ্দিকী ছিলেন যেন এক বাংলাদেশের বিট জেনারেশন ধারার জান্তব কবি । তাকে দেখা যেত জোব্বা পরে রাশান রেলি সাইকেল চালাতে, পিজির ট্যাংকির পানিতে পাখির মতো স্নান করতে, গুলিস্তানের ভাঙা বাসে বাস করতে। এইসব চরিত্র আসলে মেকি নগরসভ্যতার প্রচলধারার বাইরে থাকা মানুষ, কিন্তু শিল্পের ভেতরে যারা প্রবলভাবে উপস্থিত। কচি তাদেরই একজন।

কচির বিরক্ত হয়ে সাবদার সিদ্দিকীকে ঘরে বাইরে থেকে তালা মেরে রেখে চলে যাওয়া  এবং বিকেলে ফিরে এসে ঘর খুলে সাবদার সিদ্দিকীর ঘর থেকে দ্রুত প্রস্থান ও যাবার সময় সারদার সিদ্দিকীর কণ্ঠে শোনা: ‘দিলুম শাস্তি’। পরে টেবিলে সাজানো মনুষ্যমল আবিষ্কার করার ঘটনা নিছক কৌতুক নয়। এর মধ্যে এক ধরনের সুররিয়াল শিল্পবোধ কাজ করে। যেন জীবন নিজেই এক দাদা-আন্দোলনের ইনস্টলেশন। এই মানুষগুলো জীবনকে কোনো শৃঙ্খলিত নৈতিকতার ভেতর দিয়ে দেখত না। তারা জীবনকে দেখত এক ধরনের সীমান্তভাঙা অভিজ্ঞতা হিসেবে। সেখানে লজ্জা নেই, ভদ্রতা নেই, সামাজিকতা নেই; আছে কেবল অস্তিত্বের নগ্নতা। কচির জীবনকে বোঝার জন্য এই ঘটনাগুলো জরুরি, কারণ এখানেই তার শিল্পীসত্তার ভেতরের ‘দুয়েন্দু’ কাজ করতে শুরু করে।

সে যে নিজের নামটিকেও ডিকন্সট্রাক্ট করবে, সেটাই স্বাভাবিক। ‘কচি’কে উল্টে নিয়ে ‘ইচক’ বানানো নিছক শব্দখেলা নয়। এর মধ্যে আছে নিজের পরিচয়কে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের আকাক্সক্ষা। আর তার সঙ্গে ‘দুয়েন্দে’ যোগ করা মানে নিজেকে সরাসরি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার শিল্পদর্শনের সঙ্গে যুক্ত করা। লোরকার ‘দুয়েন্দু’ তত্ত্ব কচির কাছে নিছক সাহিত্যতত্ত্ব ছিল না; এটি ছিল এক জীবনদর্শন।

লোরকা বলেছিলেন, শিল্পের গভীরে কাজ করে এক রহস্যময় শক্তি, যা শিল্পীকে তার অন্তর্গত অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এই শক্তি কোনো মিউজ নয়, কোনো এঞ্জেল নয়। এটি আসে যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা, মৃত্যু ও অন্তর্দাহের মধ্য দিয়ে। দুয়েন্দু শিল্পীকে নিরাপদ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় বিপজ্জনক এক অভিজ্ঞতার দিকে। সেখানে শিল্প নিছক নান্দনিক খেলা থাকে না; তা হয়ে ওঠে অস্তিত্বের আর্তনাদ। ইচক দুয়েন্দের জীবন যেন এই তত্ত্বেরই জীবন্ত রূপ।

সে কখনো স্থিতিশীল হতে চায়নি। সে চেয়েছিল অনিশ্চয়তার ভেতরে বাঁচতে। কারণ স্থিতি শিল্পকে মেরে ফেলে-এ কথা সে হয়তো অনুভব করত গভীরভাবে। রোকেয়া হলের সাহিত্য সম্পাদিকার সঙ্গে তার আচরণ, ম্যাগাজিন ছাপার কাজ নেওয়ার আগে টস করা, অগ্রিম টাকা নেওয়া,তারপর যথা সময়ে ম্যাগাজিন মুদ্রণ করে না দিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া, আবার দুদিনের মধ্যেই ছেপে তা সাহিত্য সম্পাদিকার হাতে তুলে দেওয়া-এসবকে কেবল দায়িত্বহীনতা বলে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে। এর মধ্যে ছিল এক ধরনের পারফরমেটিভ অস্তিত্ববাদ। সে যেন প্রতিটি ঘটনাকে নাটকে রূপান্তরিত করত। বাস্তবতাকে সরল রেখায় চলতে দিত না। তাকে ঘিরে সবসময় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করত। যেন শিল্পের জন্য জীবনকে একটু বিপজ্জনক রাখা জরুরি।

লোরকার দুয়েন্দুর কেন্দ্রে ছিল মৃত্যুচেতনা। স্প্যানিশ সংস্কৃতির গভীরে যে মৃত্যু-সচেতনতা কাজ করে, লোরকা মনে করতেন তার থেকেই জন্ম নেয় প্রকৃত শিল্প। ইচক দুয়েন্দের জীবনেও সেই মৃত্যুচেতনা ছিল। যদিও তা সবসময় প্রত্যক্ষভাবে প্রকাশ পায়নি, কিন্তু তার আচরণ, লেখালেখি, সম্পর্ক, বোহেমিয়ানতা-সবকিছুর মধ্যে ছিল এক ধরনের আত্মবিনাশী প্রবণতা। যেন সে জানত জীবন ক্ষণস্থায়ী; তাই তাকে চরমভাবে বাঁচতে হবে। তার আড্ডা, অনিয়ম, উধাও হয়ে যাওয়া, হঠাৎ আবির্ভাব-সবকিছুই যেন সময়ের বিরুদ্ধে এক ক্ষণস্থায়ী বিদ্রোহ।

তার সাহিত্যেও এই দুয়েন্দুর ছায়া স্পষ্ট। ‘টিয়াদুর’ নিছক জাদুবাস্তবতার গল্প নয়; এটি বাস্তবতার গোপন অন্ধকারকে রূপকের ভেতর দিয়ে ধরার চেষ্টা। সেখানে বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখা ভেঙে যায়। চরিত্রগুলো যেন একই সঙ্গে জীবিত ও মৃত, স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের মাঝখানে আটকে থাকা মানুষ। আর ‘লালঘর’-এ যে নির্মম বাস্তবতা, তা কোনো সমাজতাত্ত্বিক প্রতিবেদন নয়; বরং বাস্তবের ভেতরের মানসিক ক্ষতকে শিল্পে রূপ দেওয়া। এই কাজগুলোতে কচি কারিগরি দক্ষতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অভ্যন্তরীণ তীব্রতাকে। ঠিক যেমন লোরকা বলেছিলেন-নিখুঁত শিল্প নয়, জীবন্ত শিল্পই আসল।

দুয়েন্দু তত্ত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শিল্পকে বাণিজ্যিকতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। শিল্প তখন বাজারের পণ্য থাকে না; হয়ে ওঠে আত্মার গভীর সংঘর্ষের প্রকাশ। কচির জীবন ছিল তারই উদাহরণ। সে অর্থনৈতিকভাবে সফল লেখক হতে পারত। তার মেধা ছিল, ভাষা ছিল, সাহিত্যবোধ ছিল। কিন্তু সে মূলধারার নিরাপদ জীবন বেছে নেয়নি। বরং সে থেকে গেছে প্রান্তে। যেন প্রান্তিকতাই তার সৃজনশীলতার জ্বালানি।

অনেকেই হয়তো বলবেন, এসব রোমান্টিক বোহেমিয়ানতা। কিন্তু বিষয়টি তার চেয়েও গভীর। কচির জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিল্প কখনো কখনো সামাজিক সফলতার বিপরীত দিকে হাঁটে। শিল্পী তখন নিজেকে ভেঙে ফেলে, নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, কারণ তার ভেতরে কাজ করে এক অদৃশ্য তাড়না। লোরকা সেই তাড়নাকেই বলেছিলেন দুয়েন্দু।

ইচক দুয়েন্দের আড্ডাগুলোও ছিল এক ধরনের শিল্পকর্ম। সেখানে গল্প মানে কেবল গল্প নয়; বরং জীবনের পুনণির্মাণ। সে যখন বন্ধুর মধ্যে টাকা বিলিয়ে দেয়, যখন টস করে ছাপাছাপির কাজ নেয়, যখন উধাও হয়ে যায়, তখন সে যেন বাস্তবতার ধারাবাহিকতাকে ভেঙে দিচ্ছে। যেন বলতে চাইছে, জীবন কোনো অফিশিয়াল ন্যারেটিভ নয়। জীবন এক উন্মাদ কোলাজ।

এই উন্মাদনার ভেতরেও ছিল গভীর মানবিকতা। কারণ দুয়েন্দু কেবল অন্ধকার নয়; এর মধ্যে থাকে প্রাণশক্তিও। লোরকা বলেছিলেন, দুয়েন্দু শিল্পীকে তার সীমা অতিক্রম করতে বাধ্য করে। কচির জীবনেও সেই সীমালঙ্ঘনের প্রবণতা ছিল। সে ভাষার সীমা ভেঙেছে, পরিচয়ের সীমা ভেঙেছে, সামাজিকতার সীমা ভেঙেছে। এমনকি নিজের নামও ভেঙে নতুন নাম বানিয়েছে। যেন সে নিজেকেও স্থির থাকতে দেয়নি।

ইচক দুয়েন্দের ইংরেজি উপন্যাস ডব অৎব ঘড়ঃ খড়াবৎং নামটিও যেন তার জীবনদর্শনের প্রতিধ্বনি। সম্পর্ক, প্রেম, বন্ধুত্ব-সবকিছুর মধ্যেই সে এক ধরনের দূরত্ব ও অনিশ্চয়তা রেখে দিত। কারণ স্থিরতা তাকে ভয় পাইয়ে দিত। সে ছিল যাযাবর চেতনার মানুষ। তার ঘর ছিল আড্ডা, তার ঠিকানা ছিল বন্ধুদের বাসা, তার নাগরিকতা ছিল সাহিত্য।

আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে ইচক দুয়েন্দের মতো মানুষদের প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়। এখন সাহিত্যও অনেকটাই পরিকল্পিত, ক্যারিয়ারনির্ভর, বাজারমুখী। লেখকেরা নিজেদের ব্র‍্যান্ডে পরিণত করছেন। সেখানে কচির মতো আত্মবিধ্বংসী শিল্পী প্রায় বিলুপ্ত। কিন্তু সেই কারণেই তাকে মনে রাখা জরুরি। কারণ সে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিল্পের একটি বন্য অঞ্চল আছে, যেখানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সেখানে শিল্পী নিজেও নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাকে চালায় এক অদৃশ্য আগুন।

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা বলেছিলেন, দুয়েন্দু আসে “পায়ের তলা থেকে”-অর্থাৎ শরীরের গভীরতম অন্ধকার থেকে। ইচক দুয়েন্দের জীবন ও সাহিত্য সেই অন্ধকার থেকেই উঠে এসেছিল। তার মধ্যে ছিল বেদনা, হাস্যরস, উন্মাদনা, আত্মধ্বংস, প্রেম, দারিদ্র‍্য, আড্ডা, অনিশ্চয়তা-সবকিছুর এক অদ্ভুত মিশ্রণ। সে কোনো নিখুঁত মানুষ ছিল না। বরং তার অসম্পূর্ণতাই তাকে স্মরণীয় করে তোলে।

কখনো কখনো মনে হয়, কচি আসলে নিজের জীবনটাকেই এক দীর্ঘ উপন্যাসে পরিণত করেছিল। সেখানে চরিত্র ছিল রোকন, সাবদার সিদ্দিকী, শাহবাগ, সিলভানা, পিজি হাসপাতাল, গুলিস্তানের ভাঙা বাস, ছোটকাগজ, অনিদ্রা, সিদ্ধি, ক্ষুধা এবং এক ধরনের মহিমান্বিত ব্যর্থতা। সেই উপন্যাসের নামই হয়তো “দুয়েন্দু”।

আর তাই ইচক দুয়েন্দেকে কেবল একজন লেখক হিসেবে পড়লে তাকে বোঝা যায় না। তাকে বুঝতে হলে তার জীবনকে পড়তে হয়। তার উধাও হয়ে যাওয়াকে পড়তে হয়। তার টস করাকে পড়তে হয়। তার হাসিকে পড়তে হয়। তার স্বেচ্ছাদারিদ্র‍্যকে পড়তে হয়। তার অনিয়মকে পড়তে হয়। কারণ এগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা নয়; এগুলো ছিল তার শিল্পের অংশ।

সে জানত, প্রকৃত শিল্প সবসময় একটু বিপজ্জনক। একটু অন্ধকার। একটু অসমাপ্ত। একটু আত্মঘাতী।

এবং সেই কারণেই, বহু বছর পরেও শাহবাগের পুরোনো আড্ডাগুলোর ধোঁয়ার ভেতর থেকে যেন এখনও ভেসে আসে এক নাম-ইচক দুয়েন্দে। যেন কোনো ভবঘুরে আত্মা এখনও রাতের শেষে সিলভানার টেবিলে বসে আছে, পকেট থেকে আধুলি বের করে টস করছে, আর বলছে-হেড অর টেল।

সেই ইচক দুয়েন্দে আজ ১৭ মে ২০২৬ পৃথিবীর পরীক্ষা কক্ষের বেঞ্চে  শরীর রেখে আত্মা নিয়ে মহালোকে উধাও হয়ে গেলেন।

 

মাসুদুল হক : কবি ও প্রাবন্ধিক, দিনাজপুর

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি