এখন সময়:রাত ৩:৩৪- আজ: শনিবার-২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:রাত ৩:৩৪- আজ: শনিবার
২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

মমতার মতো শুভেন্দু অধিকারীও কি ? তিস্তার জল নিয়ে খেলবেন?

হোসাইন আনোয়ার

আমি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি ঘটনার কথা বলছি। মহান ভাষা দিবসকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বাংলাদেশের বিজ্ঞ সাংবাদিকরা কয়েকদিন যাবত এমন একটি আবহাওয়া তৈরি করে রেখেছিলেন, যেন মমতা তিস্তার জলের সুইচ গেটের চাবি হাতে করে নিয়ে এসেছেন এবং তা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়ে ভারতে ফিরে যাবেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তিস্তার জল দিতে তিনি হৃদয়ের ব্যাকুলতার কথাটাই বলে গেলেন। তিনি শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে গেলেন। বলে গেলেন “আমার উপর ভরসা রাখুন’। ছিটমহল নিয়ে লোকসভায় আইন হচ্ছে, আর তিস্তার জল নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আমি তো আছি, আপনারা আমার উপর ভরসা রাখুন। আমি সব ফর্সা করে দেব। তবে তার এ আশ্বাসে কতটা আস্থা রাখা যায়, তা নিয়েই  হিসেব নিকেশ তখনই চলছিল।

ইসলামের ইতিহাসের ছাত্রী মমতা প্রথম যৌবনে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে যোগদান করে রাজনীতির খড়িমাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করলেও তখন তিনি ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, এটি কিন্তু কম বড় কথা নয়। তার একটাই বদনাম তিনি বড় বেশি বদমেজাজি। তার সফরের বিশাল অংশ জুড়ে ছিল তিস্তা প্রসঙ্গ।

হিমালয়ে জন্ম নেয়া তিস্তা সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলের ভেতর দিয়ে নেমে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ডুয়ার্সের সমভূমিতে। তার পর আরও এগিয়ে রংপুরের উত্তর গড়িবাড়ির নিকট দিয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। ত্রি-স্রোতা হতে তিস্তার নামকরণ করা হয়েছে। পুনর্ভবা, আত্রাই ও করতোয়ার মিলিত স্রোত সৃষ্টি করেছে এক অপরূপ দৃশ্যের।

১৭৮৭ সাল পর্যন্ত এই নদীটি উত্তরবঙ্গের সর্বপ্রধান নদীরূপে পরিচিত ছিল। করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী তিস্তার বিপুল জলরাশি বয়ে নিয়ে যেত। ভৌগোলিক কারণে বরেন্দ্র এলাকার ভূমি রূপের বিশাল পরিবর্তনের ফলে করতোয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে আত্রাই, যমুনাশ্বেরী বর্ষায় তিস্তার সমগ্র জলরাশি বহন করতে অক্ষম হয়ে পড়তো।

প্রতি বছরই আত্রাই নদীতে বন্যা হত। ১৭৮৭ সালে ঐ অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে পানি প্রচুর পরিমাণে বালু বহন করে নিয়ে যায়। এই বালু সঞ্চিত হয়ে আত্রাই মুখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিস্তার বন্যার পানি নিষ্কাশনের অন্তরায়ের কারণে অন্য কোনো পথ না পেয়ে ঘাগটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে সমগ্র রংপুর জেলার এক ষষ্ঠাংশ লোক মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৭৮৭ সালের ২৭ আগস্ট। এর পর তিস্তা এক নতুন গতিপথ পেয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হলেও তিস্তা সে পথে আজো বয়ে চলেছে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তিস্তা। যে নদীর সমতল অংশের ৩১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ১১৫ কিলোমিটারই বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। বাকিটা উজানের সিকিম ও জলপাইগুড়ির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকার কারণে স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন তিস্তা নদীর পানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে ১৯৮২ সালে তিস্তার উজানে জলপাইগুড়ির গজালডোবা নামক স্থানে ব্যারেজ তৈরি করে ভারত। সেখানে ৭০,০০০ হাজার ঘনফুট পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডাইভারশন খাল কেটে তিস্তার পানি মহানন্দা নদীতে সরিয়ে নিয়েছে ভারত।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে তিস্তার পানি সমস্যা নিয়ে দু’দেশের প্রথম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক বসে। সিদ্ধান্ত হয়, তিস্তার পানির ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ আর ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত। বাকি ২৫ শতাংশ পানি নদীতে সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ মোট পানি ৬৪ শতাংশই থাকছে ভারতে।

এর মধ্যে তিস্তার পানি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উত্তর বঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার বিপুল পরিমাণ জমির জন্য সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হয়। এ দিকে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর এবং বগুড়া জেলার ৬ দশমিক ৩২ লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনতে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ নির্মাণ করে তিস্তা ব্যারাজ। শুরুতে এই ব্যারাজের কাছে তিস্তার সর্বাধিক গড় প্রবাহ ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার কিউসেক আর সর্বনিম্ন ১০ হাজার কিউসেক। অথচ উজানে ক্রমবর্ধমান হারে পানি সরিয়ে নেওয়ার ফলে বাংলাদেশে এর প্রবাহ দাঁড়ায় ১ হাজার কিউসেক থেকে ৪০০-৫০০ কিউসেক।

পরিস্থিতির অবনতির কারণে ২০০৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে যৌথ নদী কমিশনের সভায় তিস্তার পানির ২০ শতাংশ সংরক্ষিত রেখে বাকি ৮০ শতাংশ পানি দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে বণ্টনের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ ৪০ শতাংশ পানি পেতে পারে না বলে মমতা ২০১৪ সালে এসে শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ করে দেয়। মমতার এই মনোভাব বা আচরণ নদী সংক্রান্ত সকল আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী।

তিস্তার পানি নিয়ে মমতা একটি রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেন ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা চাইছিলেন না এক্ষুনি এ বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে। তিস্তা সমস্যাকে ঝুলিয়ে রেখেই তিনি নির্বাচনের কাজটা সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। তার মাথায় ছিল ২০১৬ সালের নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গের জনগোষ্ঠীর ২২ শতাংশ ভোটার হচ্ছে মুসলমান। যাদের অধিকাংশই ধর্মীয় মৌলবাদী। মমতা তাদের কাছের লোক। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর যাবজ্জীবন কারাদ- হলে এর প্রতিবাদে বিশাল মিছিল করার অনুমতি দিয়েছিলেন মমতা। অথচ তার পাল্টা মিছিলের আয়োজন করতে চাইলে মমতা তার অনুমতি দেননি। এটাই ছিল তখনকার বাস্তবতা।

এছাড়াও খাগড়াগড়ে জঙ্গি বস্তিতে বোমা হামলার ঘটনার কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্তে তিনি ঘোর আপত্তি তুলেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এটি তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। এবং এটি ‘র’ এর কাজ। সেই মমতা ঢাকা বিমান বন্দর নেমেই ভোল পাল্টে স্লোগান দেওয়া শুরু করলেন ‘জয় বাংলা’। এরপর প্রতিটি অনুষ্ঠানের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন তিনি বাংলাদেশের বন্ধু এবং শেখ হাসিনা (হাসিনাদি) তার খুব কাছের লোক।

শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য তিনি কলকাতায় “বঙ্গবন্ধু চেয়ার” প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কলকাতায় “বঙ্গবন্ধু ভবন” প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। সেখানে বাংলাদেশের রোগীরা অবস্থান করতে পারবেন। এ সবই ছিল তাঁর কৌশল। যাকে বাংলায় বলা হয় তেল মারা। তিনি হাসিনাকে তেল মারতে এসেছিলেন। যেন শেখ হাসিনা মোদির কাছে তিস্তা প্রসঙ্গটা না তোলেন এবং শেখ হাসিনাকেও তিনি বলেছেন, আমার উপর ভরসা রাখুন। অর্থাৎ তিনি যেন তিস্তার পানি দেওয়ার মালিক এবং তিনিই পানি দেবেন। তাই শুধু দেই, দিচ্ছি, দেব বলে বাঙালিকে বোকা বানিয়ে কলকাতায় ফিরে গেলেন। সেই থেকে দীর্ঘ ১১ বছর তিস্তার পানি তিনি দিলেন না। তার একগুঁয়েমীর জন্য বাংলাদেশ তিস্তার পানি থেকে বঞ্চিত।

২৬ এর নির্বাচনে মমতা একজন পরাজিত সৈনিক। মোদীর শুভেন্দু অধিকারী এখন পশ্চিম বাংলার রাজা! এখন দেখার বিষয় হল শুভেন্দু অধিকারী এখন মমতার মতো তিস্তার জল নিয়ে কোন খেলাটা খেলে।

 

হোসাইন আনোয়ার :

কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বরিশাল

আবুল ফজল : বাঙালি মুসলমান সমাজের বিবেকের কণ্ঠস্বর

ইসরাইল খান বাংলার নবজাগরণের সার্থক উত্তর-সাধক মনস্বী আবুল ফজল ছিলেন বাঙালি মুসলমান সমাজের বিকাশের এবং বিবেকের এক অন্যতম প্রধান কারিগর। বিশ শতকে মুসলমান সমাজকে যতোগুলো

মেরিল্যান্ড ডিসি বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন : যতদিন বেঁচে থাকি-  প্রগতিশীলের পক্ষে, ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিপক্ষে আমার লেখা ও লড়াই চলবে

সাইয়িদ মাহমুদ তসলিম : নির্বাসিত লেখিকা ও  কবি তসলিমা নাসরিন বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকি , আমার লড়াই ও প্রতিবাদ থাকবে ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধে। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল

‘কবিতার কথা’ চট্টগ্রাম আড্ডায় বক্তারা : ‘শুদ্ধতাই হোক কবিতার বুনিয়াদি রূপ’

রুহু রুহেল : ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যায় অনাড়ম্বররূপে মুগ্ধতার কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হলো ‘কবিতার কথা চট্টগ্রাম আড্ডা’র ব্যানারে, মহিলা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে।

বাংলা আমার প্রণোদনা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন সংস্কৃতিকর্মী

চিংলামং চৌধুরী “শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চায় বিকশিত হউক নতুন প্রজন্ম” প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা আমার উৎসব-২০২৬।

শুদ্ধ সংগীতের সুরে মুখর সীতাকুণ্ড সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক সঙ্গীত সম্মিলন অনুষ্ঠিত

দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য : সীতাকুণ্ডে শুদ্ধ সংগীতচর্চার এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুরনন্দনের ১ম বার্ষিক শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মিলন। গত ২ জুন ২০২৬