লা রাস্তা
ভালো রাস্তা খুঁজতে খুঁজতে এক একটা দিন কেটে যায়
আমি তবে ফিরব কোথায়?
সব পাড়াগাঁ-শহরে দৈত্যরা নেমেছে
যে রাস্তায় যাই, যে রাস্তায় যাই
দৈত্যদের সঙ্গে দেখা হয়
রক্ত লেগে আছে হাতে
চোখে-মুখে ক্রোধ মানুষ হত্যার
কত কাহিনি এখনও কাঁপে
আমরাও কাহিনি হব তবে?
জীবিকা আর জীবিকা সমাচার
আজ আর কে শুনতে চায়?
এখন বাজনা থেকেও বেশি বাজনদার
তমসার কাছে দাঁড়িয়ে আছি
কোথাও কি ভালো রাস্তা আছে আর
আমাদের ঘরে ফিরবার?
আহ্বান
দূর থেকে আহ্বান ভেসে আসছে
আমরা আহ্বানের দিকে যাব
আমাদের আর কোনো কিছু বিকল্প আছে?
আন্দোলন দেখতে দেখতে একটা যুগ বৃদ্ধ হয়
কত আহ্বানে ঝাঁপিয়ে পড়েছি
ফাঁসির মঞ্চে ঝরে পড়েছে জীবনের গান
তবুও থামেনি ঢেউ-
আমরাই প্রজন্মের নাম দিয়েছি কল্লোল
কত বাঁশি এখনও পড়ে আছে
বাজব বাজব বলেও বাজেনি-
বসন্ত পেরিয়ে গেছে কালবৈশাখীর দিকে
জাদুঘরে রেখে দিয়েছি সব গানের পাখিকে
সব পরামর্শরা মুখোশপরা আলো
দেখতেও খুব ভালো, মসৃণ, চকচকে
কোন্ সমুদ্র থেকে এলে?
ব্যর্থ বাগানে ফুটল না ফুল
যদিও সবাই আন্দোলিত হল আহ্বানের ঝড়ে!
অপরিচিত
তোমার বাড়ির পাশে বাড়ি
কোনোদিন পরিচয় হলো না
একই রাস্তা দিয়ে হাঁটলাম
একই দোকানে কিনলাম আনাজপাতি
একই জ্যোৎস্নায় ভিজলাম সারারাত
হয়তো আমার বাড়িটি তেমন ছিল না
হয়তো আমার পোশাক-আশাকেও দারিদ্র্যরে ছাপ
হয়তো আমার পায়ে চপ্পল ছিল
হয়তো কিনেছিলাম সস্তা আনাজপাতি
হয়তো জোৎস্নায় মিশে ছিল আমার কান্নার অভিশাপ
পরিচয় হলো না
আমরা বৃদ্ধ হয়ে গেলাম
পরিচয় হলো না
আমরা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলাম
* তৈমুর খান: বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত




