এখন সময়:রাত ২:৪৭- আজ: মঙ্গলবার-৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:রাত ২:৪৭- আজ: মঙ্গলবার
৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

অনিশ্চিত দিনকাল

আনোয়ারুল হক

যমুনা ফিউচার পার্কের দক্ষিণ দিকের পকেট গেট দিয়ে বের হয়েছে সে। পঁচিশ থেকে বয়স তিরিশের এক উদভ্রান্ত যুবক। যারা ওর পরিচিত, নিয়মিত একসঙ্গে উঠবস করে, তিন ডব্লিউর সার্কেলে সাঙ্গপাঙ্গ তারা কেউ তাকে ডিশ সেলিম, কেউ পাঙ্কু নামে ডাকে। যখন যে সরকার আসে তখন সেই দল করে। তার মানে সবসময় সরকারি দলের লোক সে। জুনিয়রদের কাছে বড় ভাই। আয়ের উৎস তার এলাকার যানবাহনের চাঁদাবাজী আর তেজগাঁও শিল্প এলাকার আবাসিক ভবনগুলিতে ডিশ, ওয়াইফাইয়ের ব্যবসা। শক্ত সামর্থ মাঝারি সাইজের শরীর। কুতকুতে চোখ। মুখে লাবণ্য কম, রুক্ষতা বেশি। প্রথম তাকালেই যে কারো চোখে পড়বে, মাথার মাঝখানে পোপ পলের চাঁদির টুপিটার মতো গোল বাটি বসিয়ে চারিদিকের চুল গলা ছোলা মোরগের মতো চাঁছা। তালুর গুচ্ছ চুল ধান গাছের পাতার মতো সরু সরু তোবড়ানো।

 

আবু সাইদ গেট থেকে এক সিঁড়ি নেমে ছোট্ট একটা লাফ দিয়ে পাঙ্কু ফুটপাথে নামল। একই পথে যমুনায় ঢোকার মুখে ব্ল-ি চুলের টপস্ পরা একটি মেয়ে, সেলিব্রেটি টাইপ ওর সাথে মৃদু ধাক্কা খেল। দুজনের মুখ থেকে একই সাথে উচ্চারিত হল, সিট!

দুজনেরই মনে হয়, তাড়া আছে। কেউই ভ্রুক্ষেপ করল না। ডিশ সেলিম ভিড়ের রাস্তাটায় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সামনে খালি যে রিকশটাকে পেল, তাতেই সে লাফ দিয়ে উঠল। হাতের ইশারায় রিকশাওয়ালাকে চলতে বলল। আবার মোবাইল থেকে মুখ সরিয়ে বাম হাতের তর্জনী দিয়ে সামনের দিক দেখিয়ে বলল, এই যা। এম ব্লকে। চালা জলদি। বলেই সে মোবাইলে কথা বলায় মনোযোগী হল।

রিকশাওয়ালা রুস্তমের কোনো ইচ্ছাই ছিল না যাত্রী নেওয়ার। সে বাড্ডার মোড়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ফিরছিল কড়াইল বস্তিতে নিজের এক রুমের ঘরে।

পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা রাতের ভাত বাসী আলুর ডালনা মরিচ পোড়া দিয়ে মেখে ধীরে সুস্থে খেয়ে তারপর আবার বের হবে। সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে খাওয়ার সময় পায়নি। মাঝখানে একটা বনরুটি আর এককাপ চা খেয়েছে কেবল। এই সময় হুট করে তার খালি রিকশায় লাফ দিয়ে উঠে পড়া যুবক যেন ভাদ্র মাসের তাল। আচমকা ওর মাথায় পড়েছে। রুস্তম বিরক্ত তো হলই, তার উপরে তুই করে বলাতে রিক্সার প্যাডেল থেকে পা উঠিয়ে সে থেমে গেল। নিজের সিটে বসে পিছন ফিরে ডিশ সেলিমকে এক নজর দেখল। যাবে না বলতে গিয়ে রুস্তম থেমে গেল। নিজের মনই যেন তাকে হুশিয়ার করে দিল, সাবধান! সে পাঙ্কুর চেহারা সুরত পোশাক ভাবভঙ্গি মোবাইলে দ্রুত কথা বলার রাগী স্বর শুনে আর অস্থিরতা দেখে মুখের কথা গিলে ফেলল। সামনের দিকে ফিরে প্যাডেলে চাপ দিয়ে রিকশাচালক রুস্তম ভাবছে, এই বয়সের একটা ছেলে ছিল ওর। সেজন্যে বাপের বয়সী ওকে এই ছেলে তুই করে কথা বলাতে রুস্তমের রাগ হলেও চুপ থাকাই ভালো। গরিবের আবার মান অপমান। এসব কবুল করেই তাকে চলতে হবে। কোনো ঝামেলা হলে কে তাকে বাঁচাবে!

দেশি লোকেরা আছে বটে! কিন্তু তাদেরই বা জোর কত! বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে রিকশা চালাবার জন্য মাত্র এক সপ্তাহ হল সে বউ আর কিশোরী মেয়েটিকে রেখে এখানে এসেছে। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। ওর এলাকার সঙ্গীরা যারা কাজের খোঁজে এখানে এসে রিকশা চালায়, তাদের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েই সে এসেছে। দেশের বাড়িতে মাস ছ’য়েক ধরে সে অভাবে পড়ে ভ্যান চালাত। সারাদিনের শেষে মহাজনের টাকা পরিশোধ করে চাল কিনলে হাতে তেল, মসলাপাতি, একটা তরকারি কেনার টাকা থাকত না। পেছনে বসা ঐ ছেলেটির বয়সী ওর বড় ছেলে, যার ওপর রুস্তম আশা করেছিল সে তার দশ বছরের ছোট বোন আর বাপ-মাকে দেখবে সেই আশা টিকল না। এলাকার চেয়ারম্যানের দল করতে গিয়ে মারামারি করে পুলিশের খাতায় নাম উঠল। শুনেছে, আগের চেয়ারম্যানের দলের একজনকে খুন করে সে পালিয়েছে। কোথায় গেছে কেউ জানে না। সেই দলই এখন ক্ষমতায়। যাতে পোলার আর ঘরে ফেরার কোনো পথ নেই। ধরা পড়লে হয় সারা জীবনের জেল নইলে সেই দলের কারো হাতে খুন হবে সে। আর রুস্তমের এমনই ভাগ্য, ওই সময় সে যার জমিতে হাল দিত, ফসল ফলাত সেই জমির মালিক ছিল ঐ চেয়ারম্যানই। রুস্তমের ছেলে দিদার যখন তার জন্য মারামারি করতে গিয়ে খুনের আসামি হল তখন চেয়ারম্যানের সহানুভূতি দূরে থাক, বছর লাগাতি কামলার কাজ থেকে কোন কথা না বলে বাপেরে ছাটাই করে দিল। অগত্য মা মেয়েসহ জীবন বাঁচানোর তাগিদে রুস্তম আজ এখানে রিকশাচালক।

তিন চাকার রিকশার প্যাডেল ঘুরছে তো রুস্তমের মনের চাকাও ঘুরছে। তিনবছর আগে দিদার নামে তার যে ছেলে পুলিশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে, সে আর পেছনের সিটে বসা ঐ ছেলেটি তো একই বয়সী। ভিটা ছাড়া আর কিছু নেই এমন পরিবার ওদের। মাত্র দুই গ-া জমিই ওদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। রুস্তমের বাপ-দাদা কারোরই কোনকালে বাড়তি জমি ছিল না। এলাকার সেই সময়ের চেয়াম্যান সগির আলী ছিল ওর দাদার মহাজন। তার ছেলে ইদ্রিস আলী চেয়ারম্যান ছিল রুস্তমের বাপের মহাজন। তার কুড়ি বছর বয়সে বাপ মারা যাওয়ার পর এই ইদ্রিস আলী হইল তারও মালিক। এতদিনের সম্পর্ক ইদ্রিস আলী শেষ করে দিল ছেলে খুনের মামলার আসামি হওয়ার পর। তার জন্যই তো সে খুন করছে! রুস্তম ভাবে, কথায় আছে না, যার জন্য চুরি করি সেই বলে চোর। ক্ষমতা বদল হইছে তো চেহারাও বদল হইয়া গেছে।

 

 

ডানে বামে দেখে ডি ব্লক থেকে ই ব্লকে ঢোকার মুখে ডিশ সেলিম রুস্তমের পিঠে হাত রেখে বলল, ‘এই, এইখানে একটু খাড়া, আমি আইতেছি।’ বলে পাঙ্কু লাফ দিয়ে নেমে ছ’তলা বিল্ডিংয়ের গেট পার হয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।

রুস্তম বুঝতে পারছে না, বাকি দিনটা তার কেমন যাবে। একটা দীর্গশ্বাস ফেলে রিক্সাটাকে রাস্তার একপাশে রেখে নিজের সিটের ওপর বসে সে একটা আকিজ বিড়ি ধরাল। আয়েশে দুই-তিন টান দিয়েছে মাত্র. দেখল. ডিশ সেলিম ডান হাত ধরা পনের যোল বছরের একটি মেয়েকে নিয়ে বাড়িটির ছোট গেট ডিঙাল। রুস্তমের ভ্রু কুঁচকে দ্রুত নিজের সিট থেকে নেমে বিড়িটা ঝোপে ছুড়ে ফেলে দাঁড়াল। যুবক আগের মতোই কানে মোবাইল, কথা বলছে দ্রুত। মেয়েটিকে ইশারা করল উঠে বসতে। রুস্তমকে ইশারা করল, যেতে।

রুস্তম দ্বিধায় পড়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কই যামু ?’ ডিশ সেলিম বিরক্ত হয়ে মুখ থেকে মোবাইল সরিয়ে খেঁকিয়ে উঠল, ‘কইছি না তোরে, কই যামু। যা।’

কিশোরী মেয়েটি হিহি করে হাসল। এতে আরও বেশি মন খারাপ করে রুস্তম মেয়েটির দিকে তাকাল। দেখল, তাকে ওর নিজের মেয়েটির মতোই মনে হল। রুস্তমের মেয়ে সুফিয়ার স্বাস্থ্য ভালো। তবে এই মেয়েটি শুকনো। গায়ে-বায়ে কোনো মাংস নেই। মাথার চুল কালো না, লাল। মুখের রঙে আর হাতে-পায়ের রঙ এক না। মেয়েদের জামার বদলে মেয়েটির পরনে ছেলেদের শার্ট, গলার নিচে অনেকটা খোলা, যাতে উঠতি বুক দেখা যায। কোমরের নিচের প্যান্টটা হাঁটুর কাছে ইন্দুরে খাওয়া গর্ত, টুটা-ফাটা। ঠোঁটে এমন ভাবে রঙ মেখেছে তাতে ওরে মানাইছে না।

চলতে চলতে রুস্তম কে ব্লকে মোড় ঘুরতে গিয়ে ঘাড় ফেরালে পিছনে বসা ওদের দুজনের দিকে চোখ গেল। তাতে সে শরম পেল। যুবক ছেলেটি এখন আর মোবাইলে হরবড় করে কথা বলছে না। তার মনোযোগ মেয়েটির শরীরে। বৃষ্টি নেই, তেমন রোদও নেই। রিক্সার হুড তুলে দিয়েছে পাঙ্কু। ডান হাতে মেয়েটির কোমর জড়িয়ে ধরে ওর বাম হাত ঘুরছে শরীরের যেখানে সেখানে। অমত নেই বোঝা গেল মেয়েটি মুখে আরামের শব্দ করছে শুনে। বসুন্ধরার এদিকে লোকজনের চলাচল কম। নিরিবিলি পেলেই যুবক মেয়েটিকে চুমু খাচ্ছে।

রুস্তমের শরীর ঝিমঝিম করতে থাকে। এম ব্লকের দশ নম্বর রোডে মাথায় বেখেয়ালে একটা গর্তে পড়ে রিকশাটা তীব্র ঝাঁকুনি খেল। মেয়েটি আওয়াজ করল, ‘আউ!’ ডিশ সেলিম রিকশার হুড নামিয়ে দিয়ে চেঁচাল, ‘কিরে দেইখা চালাস না।’

রুস্তম কিছু জবাব দিল না। বুঝল, মেয়েটি মাথার তালুতে রিকশার হুডে ঠোকা খেয়েছে। জিজ্ঞেস করল, ‘এম ব্লকে কই নামবেন? আইছি তো-’

ডিশ সেলিম চোখের কালো চশমাটা খুলে এদিক সেদিক কী যেন দেখল। তারপর বলল, ‘সোজা যা। স্টেডিয়াম পার হ।’ বলে রুস্তমের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে মেয়েটিকে বলল, ‘আজ খুব মজা হবে রুবিনা ‘

রুবিনার হাসির শব্দ ছাপিয়ে পাঙ্কুর মোবাইল বাজল। কানে ধরেই সে আগের মতই খেঁকিয়ে উঠল, ‘আইতাছি। এতো তাড়া ক্যান। অপেক্ষা কর। সঙ্গে মাল আছে।’

তো এরপর রুস্তম ওদের নিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছে। বসুন্ধরার বিশাল সাম্রাজ্য পার হতে গিয়ে সে নিজেও অবাক। ভয়ও পাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে সে! এখন শীতকালের শেষ দিক। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ। না গরম না ঠা-া। ঝিরঝিরে বাতাসটা আরামের। ঘামের বা কষ্টের না। রুস্তমের পেটে খিদের টান ছাড়া আর কোনো খারাপ লাগছে না। তবুও ভাবনা হচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে ওরা? এদিকটায় প্লট করা আছে কিন্তু বাড়ি নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে দুই একটা বাড়ি উঠছে মাত্র। কাজ চলছে। রুস্তমের শরীর যেন আর চলে না! সে থেমে গিয়ে অনুনয় করে, ‘স্যার আমারে ছাইড়া দেন। এদিকে তো কোন বাড়ি ঘর নাই?’

ডিশ সেলিম অদূরে একটা খালি জমির নামাতে টিনের ছাপড়া আর তার পাশেই ছ’তলা একটা আন্ডার কন্সট্রাকশন বিল্ডিং দেখিয়ে বলল, ‘ঐ খানে গিয়া থামা।’

রুস্তম ভীতু নয়। গাঁও গেরামের মানুষ। কিন্তু আশপাশ নিরিবিলি দেখে তার মনে ভয়ের শিহরণ জাগল। অবশেষে যেখানে সে থামল সেখানে কঙ্কালের মতো উঠতি ওই বিল্ডিংটা ছাড়া আর কোনো বাড়ি-ঘর নেই। রুস্তম না ভেবে পারল না, এই দুটি ছেলে মেয়ে ওখানে কেন যাচ্ছে? পাঙ্কু ছেলেটির ফোনের কথায় সে বুঝেছে, ওখানে আরও কেউ তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে!

রুস্তম রিকশা থামতেই ওরা লাফিয়ে নেমে বিল্ডিংয়ের ভেতরের দিকে প্রায় দৌড়ে গেল। যাওয়ার সময় পাঙ্কু তাকে ভাড়া দিয়ে বিদায় করল না। বলল, ‘এইখানে থাক। তোরে আবার নিয়া যামু। তহন ভাড়া দিমু।’

ফিরিয়ে কিছু বলার সুযোগ পেল না রুস্তম। হাত ধরাধরি করে দুজন দ্রুত উধাও হলো বিল্ডংয়ের পেটে।

 

রিকশায় বসে অপেক্ষা করতে করতে রুস্তমের ঝিমুনির ভাব এসেছিল।

হঠাৎ গুলির শব্দে চমকে ধড়ফড়িয়ে সে রিকশা থেকে নেমে গুলির উৎস বোঝার চেষ্টা করল। এই সময় বিল্ডিংয়েরে ভিতরে আর একটা গুলির শব্দ হল। আশেপাশে থাকা কবুতর শালিক যাবতীয় পাখি আতঙ্কে আকাশে উড়াল দিল। রুস্তম কী করবে ভেবে না পেয়ে বোকার মত বিল্ডিংয়ের মুখে দৌড়ে গেল। সিঁড়ির মুখে পৌঁছতে না পৌঁছতেই

 

সে দেখল, একই বয়সের দুটি ছেলে পাঙ্কুকে পাঁজাকোলা করে এদিকে নিয়ে আসছে। ওর বুকের দিকে রক্তে সয়লাব। মনে হয়, বেঁচে নেই। একশ গজ দূরত্বে পাঙ্কুর সঙ্গে আসা কিশোরী মেয়েটি চিৎ হয়ে পড়ে আছে মাটিতে। ঐদিকে আরও দুটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে কাছাকাছি। ওদের একজনের হাতে পিস্তল। রুস্তমকে দেখে পিস্তল হাতে ছেলেটি ধীর পায়ে এগিয়ে এল। তার মাথায় চুল নেই। কামানো। চোখে কালো চশমা। থুতনিতে অল্প দাড়ি। পোশাকে অন্যদের তুলনায় সুবেশধারী। সে পাঙ্কুকে বহনকারী ছেলে দুটোকে হুকুম দিল, ‘জংলায় ফালাইয়া দে।’

রুস্তমের দিকে আঙুল তুলে পিস্তলধারীর পাশে থাকা ছেলেটি বলল, ‘দিদার ভাই, হে তো আমাগোরে দেইখা ফেলছে।’

বিস্ময়ে হা হয়ে গেছে রুস্তমের মুখ! নামটা সে শুনেছে! বুকের ভেতর শুকিয়ে থাকা কলজেটা দপ্ দপ্ করে লাফাতে শুরু করেছে। ও কি তার হারিয়ে যাওয়া ছেলে দিদার! বাপজান!

চিৎকার দিয়ে ডাকতে যাওয়ার মুহূর্তে রুস্তম দেখল, কথিত দিদার নামের যুবকটি তার বুক বরাবর রিভলবার তাক করেছে। ওর বিস্ফারিত চোখে পলক পড়ে না। অপেক্ষায় থাকে একটি প্রাণঘাতী শব্দের।

 

আনোয়ারুল হক : কথাসাহিত্যিক ও গবেষক, কুমিল্লা

হাসনাত আবদুল হাই: নবতিতম জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলম খোরশেদ তাঁর কথা প্রথম শুনি স্বয়ং পিতৃদেবের মুখে। একই এলাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ দুজনেই, তদুপরি লতায় পাতায় কীরকম যেন আত্মীয়ও। এই নিয়ে একধরনের চাপা গর্বও

ডা. চন্দন দাশ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ

শোয়েব নাঈম চন্দন দা’ (ডা. চন্দন দাশ) অভূতপূর্ব মানসিক অনুরণনে আমার মধ্যে বহু বছর আগেই বসন্তের এক রেশ রেখে গেছেন। তাঁর বসন্তের এই রেশ ছিল

তেজোদীপ্ত তোফায়েল আহমেদ বোধশূন্যতায় তুমি শোকসভা

কামরুল হাসান বাদল   বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে একাত্তর একবারই এসেছিল, সে একাত্তর গৌরবের, সে একাত্তর অহংকারের। সে একাত্তর আর কখনও বাঙালির জীবনে আসবে না।

পান্থজনের কথা

সুমন বনিক মহেড়া জমিদার বাড়ির নামটি অনেক আগেই জানা ছিল, কিন্তু দেখা হয়নি। ইতিহাসের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এর মানিকরতœ উদঘাটন করা ঊর্মিলা (আমার স্ত্রী)’র স্বভাবজাত

পরিশেষে সেই তুমি

সৈয়দ মনজুর কবির এমনিতেই সরু গলি, কি বুঝে ফায়ার ব্রিগেড এর মাঝারি সাইজের পেট মোটা ওয়াটার ওয়াগনটা ঢ়–কলো তা দামালের বোধগম্য হচ্ছে না। অফিসের গাড়ি