এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

ভানু পুরকায়স্থ-এর গুচ্ছ কবিতা

নিঃসীম দরিয়ার জলে

 

এখন গভীর রাত

তুমিও কি জেগে আছ সংঘমিত্রা !

তুমিও কি গভীর মনযোগ দিয়ে পড়ছ রাত্রির ভাষা

না কি তোমার প্রিয় –

ভিক্টর হুগো- লিও টলস্টয়ে লীন হয়ে আছ?

যদি তা না হয়

যদি অখন্ড অবসর নিয়ে ঘুমের অপেক্ষায় থাকো

তাহলে এই দুরতিক্রম্য রাত্রের তটস্থলে ঠেকে যাওয়া

অনাদি অনন্ত কালের নির্ঘুম আমাকে

একটু শুনাও-

ললিত রাগিণী ভরা গালিবের গহীন গজল

গোলাম আলী -মেহেদী হাসান

চৌরাশিয়ার বাঁশির মোহিত ইমন

অথবা বেহাগ টপ্পার আত্মা বিদীর্ণকরা খেয়াল ঠুমরী

কেনোনা

জীবনের অগণিত লাশের ভারে ভারাক্রান্ত আমি

ভাসতে ভাসতে প্রবহমান সময়ের স্রোতে

এখানে;

এই বন্ধুহীন পোড়া দেশের বাঁকে এসে ঠেকে গেছি

বেওয়ারিশ লাশ ;

 

তোমার সুরের সংস্রবে

থিতু এই লাশটাকে স্রোতমুখী করে দাও প্রিয়

সুরের স্রোতে ভেসে মিশে যেতে চাই

নিঃসীম দরিয়ার জলে…..

 

 

 

 

ভালোই করেছ তুমি

 

ভালোই করেছ তুমি

তা না হলে সাড়ম্বরে সাজতাম বরণ বাসর

ব্যানার ফেস্টুনে ভরে যেতো তাহলে

কাঙ্গালের ঘর

অন্তরের নগরে উড়তো বর্ণিল কেতন

উষর মরুর বুকে খেলে যেতো এক পশলা ঝড়

মনের আকাশে উড়তো পাপিয়া চাতক

ঝরা বন ভরে যেতো পল্লবে পল্লবে

বসতো প্রজাপতি নব কিশলয়ে;

 

ভালোই করেছ তুমি

 

তা না হলে আনন্দে ভরে যেতো কাঙ্গালের ঘর।

 

 

 

বুকে তার  বিদায়ের গান

 

আমার আকাশ ভরা গভীর গোধূলি

এখানে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে আছে সব প্রতিবেশ

সুনসান নীরবতা নিথর সময়

এমন সন্ধ্যায় তুমি কী চাও বল্লরী !

তোমাকে দেবার সাধ যদিওবা আছে

তবুও তো বেলা নাই আঁধার আকাশে

মনের গহনে শুধু –

নিঃশব্দ ফল্গুধারা হয়ে ক্লান্তপ্রাণ

অসীমের অভিসারে ব্যস্ত মাতোয়ারা

বুকে তার বিদায়ের গান ;

ও বল্লরী, বুকে তার বিদায়ের গান।

 

 

শব্দই পরম তপঃ

 

অতোটা ঐশ্বর্য দিয়ে কী কাজ আমার

শব্দের ভিক্ষুক আমি শব্দ পেলে পরে

অপার আনন্দ নিয়ে ফিরি আপনায়

এরচে বৈভব আর দেখিনা কোথাও

জীবনের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।

যেদিন ছেড়েছি ঘর শব্দ সন্নিধানে

সেদিন হতেই আর ফিরিনিতো ঘরে

শব্দও দেয়নি যেতে অন্যকোনোখানে

সে আমার দ্রোণাচার্য

আমিও রয়েছি পড়ে একলব্য হয়ে

জীবনের নদীটার পারে ;

শব্দই পরম তপঃ

শব্দ পরাৎপর

শব্দের মাঝেই খুঁজি আমার ঈশ্বর।

 

 

কে তুমি এখানে

 

আমি তো কুড়াচ্ছি যত ঝরা ফুল দল

ভারাতুর বেদনার রাশি

বালু খুঁড়ে ফল্গুধারা জল

কে তুমি এখানে

অজস্র আনন্দ ভরা পৃথিবীকে ফেলে

আঁচলে কুড়াতে চাও –

বেদনার বিষে নীল স্খলিত পল্লব ;

তুমিও কি হারিয়েছ কোনো শুক পাখি

অসীম স্বপ্নতে আঁকা মানিক রতন

না হলে এখানে কেনো

উন্মাদ পাগল হয়ে খোঁজে খোঁজে ফেরো

অনুরূপ অবিকল আমার মতন।

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো