সন্ধ্যা ছোঁয়া
শত টুকরো রাত জাগা বৃষ্টির ফলা
কান ঘেঁষে সে প্রিয় গানের রেশ
ঘন কালো মেঘে কেন জেগে ছিলে রাত
হাজার লক্ষ কোটি রাত
বেদনার সব রঙে এই রকমটাই নামে ঘন বৃষ্টি ।
ধুয়ে নিয়ে যায় আলমিরা বদ্ধ সব সূতি শাড়ির রঙ
অস্থির অপেক্ষার গাঢ় ডালিম দানা
মুছে যায় কপোলের সন্ধ্যা ছোঁয়া আদর ক্ষত
বৃষ্টি ভালো লেগেছিল বলে
আগোছালো বেণী
দরবেশ কবির বর্ষার গান করলো স্নান
তুমি ধুয়ে দিলে পুরনো অভিমান
পথ খুলে গেল
লগ্ন বয়ে গেল বৃষ্টিতে
নগরীর অলিতে গলিতে বানে প্রাণে ভাঙচুর
কোথাও দেখছি না মুড়ি চানাচুর।
আগেকার মত
আগের মত কেউ থাকেনা থাকা হয় নাগো
তোমার হস্তাক্ষর দেখতে খাতার পৃষ্ঠা চুরি করে এনেছিলাম
সেটি মলিন হতে হতে
পকেটে থাকা শার্ট ধু’তে গিয়ে
পিষে গেছিল
সে অকৃতিম চুরিবস্তু।
আগের মত থাকতে গিয়ে সন্ধ্যার ট্রেন ফেল প্রতিদিন প্রতিদিন
আঙুল কচলাতে কচলাতে
ষোল’র কিশোর পড়ি কোন স্কুলে
তাঁতের শাড়ি আটকে ছিল হুকোর ভাঙা নলে
আগের মত থাকতে গিয়ে মেহেদী ঝরা চাটগাঁর রাত রামগড়ের নদের উপর হলো বেহাত
ওই বেটা মরে গেছে যার সেলুনে
মানজা মেরেছি রোদ গনগনে দিনে
তুমি কি আছো আগের সেই রূপোলী এক বিকেল
পাঞ্জাবি লেন হয়ে ট্রেন ছুটে যায় আজো
শুনি না আগের মত হুইসেল।
তাড়ানো
ঘোর অবকাশে চোখ
রাঙাচ্ছে বৃদ্ধালয়
মেয়ে যখন ভার্সিটি যায়
বাঁচতে ইচ্ছা হয়।
বয়স এখন ভুল ভালাইয়া
চশমা ছাড়া অন্ধ
রাঙিয়ে দেবার যে স্কুল
সেটিও এখন বন্ধ
কারা যেন নিভিয়ে
দিচ্ছে আলো
ধাক্কা মেরে
দিয়ে যাচ্ছে গালও
এই গ্রহে তো
আসবো না আর
হচ্ছেটা কি
তাড়িয়ে দেবার।
সমিল হাইকু
চাবি
ঝিমধরা রোদে
উড়োচ্ছো শাড়ি উল্টো
চাবি ছাড়াই খুলে
ব্যাঙ্কের ভল্টও।
কিঞ্চিত
বিলোলে যেন পাই
আমিও কিঞ্চিত ছিটে
চোখলাল সোঁদা হাওয়ায়
বিজিয়ে দিতে ভিটে
অচেনা
সাগরের ঢেউয়ে
কতোইনা ফেনা
নিজেকেই নিজে
যায়না চেনা




