এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন : ফিরে পেতে চাই হারানো গৌরব

নিখিল রঞ্জন দাশ

আজকাল এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে গেলেই একটা নষ্টালজিয়ায় মনটা ছেয়ে যায়,ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই দিনগুলোতে যখন হাঁটিহাঁটি পা পা করে এই কংক্রীট ঘেরা চত্ত্বরে পা রেখেছিলাম।

১৯৫৪-৫৫ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারি এই মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জম্ম লগ্ন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তৎকালীন পাকিস্তান সফর, শুরুটা চট্টগ্রাম থেকে পূর্বপাকিস্তান একাদশের সাথে তিনদিনের ম্যাচ দিয়ে।বয় স্কাউট হিসেবে মাঠে প্রবেশাধিকার ও বল বয়ের দায়িত্ব পালন, মাঠের সাথে সেই সখ্যতা আজও ছাড়তে পারিনি।

তারপর পদ্মা-মেঘনার জল অনেক দূর গড়িয়েছে, একদিন আবিষ্কার করলাম নিজেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে, এদেশের আপামর জনসাধারণের মনের মনিকোঠায় যে খেলাটি চিরজাগরুপ তা হলো ফুটবল তাই শৈশবে বাতাবী লেবুর,পদচারণা একদিন পরিচিতি লাভ করে স্টেডিয়ামের কংক্রিটঘেরা সমূহ চত্ত্বরে।

তবে কেন জানি মনে হয় পাঠকের মৃত্যুর মত আমারও ক্রীড়া প্রেমটায় ভাটা পড়েছে, কারণটা বহুমুখী। এমন একদিন ছিলো চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদ ইউসুফ চৌধুরী, শর্মিলা রায়,অরুণ চাকমা,মোশাররফ হোসেন শামীম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের এ্যাথলেটিক্সর পরিচিত নাম। স্বাধীনতা উত্তরকালে ফুটবলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ফিরে এলেও আরজু, ম্যাকওয়া,আবু তাহের পুতুলের মতন খেলোয়াড় আমরা খুঁজে পাইনি। পরবর্তীতে দীলিপ বড়ুয়া,সুনীল কৃষ্ণ দে এবং এফ আই কামাল,আশীষ ভদ্র জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেও নতুন প্রজন্ম কেউ আর এগিয়ে আসছে না। ক্রিকেটে মিনজাজুল আবেদিন নান্নু,আকরাম খান,তামীম ইকবাল খান,জাহেদ রাজ্জাক মাসুম এর পর আমরা আবার শাহাদাত হোসেন দিপুকে পেলাম। এ্যাথলেটিক্সে চট্টগ্রাম হারিয়ে গেছে। ব্যাডমিন্টিনে অজিত দত্ত,ললিত দত্তের উত্তরসূরী নেই।চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে কেন এই দৈনতা।চট্টগ্রামের মাননীয় জেলা প্রশাসক এবং সিজেকেএস এর সভাপতি সাম্প্রতিক খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। সিজেকেএস এর নেতৃত্বে নতুন কমিটিও  তার এই প্রশংসনীয় উদ্দ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।কথায় আছে ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। আমার খেলার জায়গা যদি না থাকলো তাহলে খেলোয়াড় তৈরি হবে কীভাবে। এক সময় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের মাঠে টিনের ঘেরা দিয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ হতো। আমরা সেই যুগ থেকে অনেক এগিয়ে গেছি। এম.এ.আজিজ ছাড়াও চট্টগ্রামে আরও স্টেডিয়াম ও খেলার মাঠ রয়েছে যার সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বিভাগীয় ক্রিড়া সংস্থার অধীনে সাগরিকায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের পাশে নতুন নির্মিত ইনডোর মাঠকে যদি আমরা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামে বিকেএসপির মাথা রয়েছে যার সদব্যবহার করা নিশ্চিত প্রয়োজন।

আমরা যদি ঢাকার দিকে তাকায় তাহলে বিকেএসপির মত একটা বিশাল স্থাপনা ও সুযোগ সুবিধা দেখতে পাই। মিরপুর,ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম,কমলাপুর, ফতুল্লার মত সুবিধা সমূহ রয়েছে এবং তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে, তেমনি অন্যান্য খেলাধুলাও সমান তালে এগিয়ে রয়েছে। বাষ্কেটবল,ভলিবল,ব্যাডমিন্টন ও অন্যান্য খেলাধুলার জন্য রয়েছে ইনডোর স্টেডিয়াম। চট্টগ্রামের জিমনেসিয়াম ও বাস্কেটবল কোর্ট মানসম্মত নয়। আমাদের আরো একটি ঘাটতি হলো উন্নতমানের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষনের অভাব,যার জন্য চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কোন ক্রীড়াবিদ বেরিয়ে আসছে না। সংগঠনের দায়িত্বে থাকা যারা রয়েছেন তারাও এই অভাবগুলো বুঝতে পারেন, তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা না হলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমার কী নেই সেইটা কথা না আমার যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারছি কিনা সেইটাই বড় কথা। এটা সত্য যে ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের একটা পরিচিতি এনে দিয়েছে, তবে আজ চট্টগ্রাম যেন পিছিয়ে যাচ্ছে সব খেলাতেই এইটাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যারা বর্তমানে ক্রীড়াসংগঠক হিসেবে নিজেদের নিবেদিত করেছেন তাদের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা আবারও চট্টগ্রামকে তার আগের গৌরব ফিরিয়ে দেবে।

 

নিখিল রঞ্জন দাশ, ধারাভাষ্যকার, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন

অ্যান কারসন : পুরাণ পেরিয়ে মানুষের কাছে

শাহেদ কায়েস ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অধ্যয়ন ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা

 ‘সাড়ে ৭ বছরে ১৪ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি’

আন্দরকিল্লা ডেক্স : গত সাড়ে ৭ বছরে সারাদেশে ১৪ হাজারের অধিক বই উপহার দিয়েছে চাঁদপুরের সুপরিচিত প্রতিষ্ঠিত সংগঠন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। বিগত পুরো অক্টোবর মাস

কবীর-লালন ভাবসঙ্গীত উৎসবে ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন : ভাঙা ডালের কোষ থেকে জেগে ওঠে সবুজ-সজিব পত্র-পল্লব

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেছেন, তুমুল ঝড়-ঝঞ্ঝায় সবুজ প্রান্তরে সকল বৃক্ষরাজি ধ্বংস হলেও কয়েকটি ডালপালা পড়ে থাকে। ঐ ডালপালাগুলোর মধ্য

যোগেন চৌধুরী : শূন্যতার মর্মবেদ

মইনুদ্দীন খালেদ দুঃসহ অভিজ্ঞতায় অস্তিত্বের প্রদাহে বদলে যায় মানুষের নিত্য-চেনা অবয়ব। ক্ষুরধার একটা অপয়া মুহূর্তের রিরংসায় মানুষ কি অতর্কিতে হয়ে যায় তার আপনজনের হন্তারক! পচনশীল

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির (পূর্ব প্রকাশিতের পর) মামা, আমরাতো তিন দিন আগের থেকেই ওরে খুঁজতেছিলাম। পুলিশ আধা ঘন্টা হইলো ওর লাশ দিয়া গেছে। কইলো পরশুদিন রাইতে