এখন সময়:সকাল ১১:৩৫- আজ: শনিবার-৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:সকাল ১১:৩৫- আজ: শনিবার
৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন : ফিরে পেতে চাই হারানো গৌরব

নিখিল রঞ্জন দাশ

আজকাল এম.এ.আজিজ স্টেডিয়ামে গেলেই একটা নষ্টালজিয়ায় মনটা ছেয়ে যায়,ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই দিনগুলোতে যখন হাঁটিহাঁটি পা পা করে এই কংক্রীট ঘেরা চত্ত্বরে পা রেখেছিলাম।

১৯৫৪-৫৫ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারি এই মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জম্ম লগ্ন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তৎকালীন পাকিস্তান সফর, শুরুটা চট্টগ্রাম থেকে পূর্বপাকিস্তান একাদশের সাথে তিনদিনের ম্যাচ দিয়ে।বয় স্কাউট হিসেবে মাঠে প্রবেশাধিকার ও বল বয়ের দায়িত্ব পালন, মাঠের সাথে সেই সখ্যতা আজও ছাড়তে পারিনি।

তারপর পদ্মা-মেঘনার জল অনেক দূর গড়িয়েছে, একদিন আবিষ্কার করলাম নিজেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে, এদেশের আপামর জনসাধারণের মনের মনিকোঠায় যে খেলাটি চিরজাগরুপ তা হলো ফুটবল তাই শৈশবে বাতাবী লেবুর,পদচারণা একদিন পরিচিতি লাভ করে স্টেডিয়ামের কংক্রিটঘেরা সমূহ চত্ত্বরে।

তবে কেন জানি মনে হয় পাঠকের মৃত্যুর মত আমারও ক্রীড়া প্রেমটায় ভাটা পড়েছে, কারণটা বহুমুখী। এমন একদিন ছিলো চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদ ইউসুফ চৌধুরী, শর্মিলা রায়,অরুণ চাকমা,মোশাররফ হোসেন শামীম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের এ্যাথলেটিক্সর পরিচিত নাম। স্বাধীনতা উত্তরকালে ফুটবলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ফিরে এলেও আরজু, ম্যাকওয়া,আবু তাহের পুতুলের মতন খেলোয়াড় আমরা খুঁজে পাইনি। পরবর্তীতে দীলিপ বড়ুয়া,সুনীল কৃষ্ণ দে এবং এফ আই কামাল,আশীষ ভদ্র জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেও নতুন প্রজন্ম কেউ আর এগিয়ে আসছে না। ক্রিকেটে মিনজাজুল আবেদিন নান্নু,আকরাম খান,তামীম ইকবাল খান,জাহেদ রাজ্জাক মাসুম এর পর আমরা আবার শাহাদাত হোসেন দিপুকে পেলাম। এ্যাথলেটিক্সে চট্টগ্রাম হারিয়ে গেছে। ব্যাডমিন্টিনে অজিত দত্ত,ললিত দত্তের উত্তরসূরী নেই।চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে কেন এই দৈনতা।চট্টগ্রামের মাননীয় জেলা প্রশাসক এবং সিজেকেএস এর সভাপতি সাম্প্রতিক খেলার মাঠগুলো পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সত্যিই প্রশংসনীয়। সিজেকেএস এর নেতৃত্বে নতুন কমিটিও  তার এই প্রশংসনীয় উদ্দ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।কথায় আছে ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। আমার খেলার জায়গা যদি না থাকলো তাহলে খেলোয়াড় তৈরি হবে কীভাবে। এক সময় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের মাঠে টিনের ঘেরা দিয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ হতো। আমরা সেই যুগ থেকে অনেক এগিয়ে গেছি। এম.এ.আজিজ ছাড়াও চট্টগ্রামে আরও স্টেডিয়াম ও খেলার মাঠ রয়েছে যার সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বিভাগীয় ক্রিড়া সংস্থার অধীনে সাগরিকায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের পাশে নতুন নির্মিত ইনডোর মাঠকে যদি আমরা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামে বিকেএসপির মাথা রয়েছে যার সদব্যবহার করা নিশ্চিত প্রয়োজন।

আমরা যদি ঢাকার দিকে তাকায় তাহলে বিকেএসপির মত একটা বিশাল স্থাপনা ও সুযোগ সুবিধা দেখতে পাই। মিরপুর,ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম,কমলাপুর, ফতুল্লার মত সুবিধা সমূহ রয়েছে এবং তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে, তেমনি অন্যান্য খেলাধুলাও সমান তালে এগিয়ে রয়েছে। বাষ্কেটবল,ভলিবল,ব্যাডমিন্টন ও অন্যান্য খেলাধুলার জন্য রয়েছে ইনডোর স্টেডিয়াম। চট্টগ্রামের জিমনেসিয়াম ও বাস্কেটবল কোর্ট মানসম্মত নয়। আমাদের আরো একটি ঘাটতি হলো উন্নতমানের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষনের অভাব,যার জন্য চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কোন ক্রীড়াবিদ বেরিয়ে আসছে না। সংগঠনের দায়িত্বে থাকা যারা রয়েছেন তারাও এই অভাবগুলো বুঝতে পারেন, তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা না হলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আমার কী নেই সেইটা কথা না আমার যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারছি কিনা সেইটাই বড় কথা। এটা সত্য যে ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের একটা পরিচিতি এনে দিয়েছে, তবে আজ চট্টগ্রাম যেন পিছিয়ে যাচ্ছে সব খেলাতেই এইটাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস যারা বর্তমানে ক্রীড়াসংগঠক হিসেবে নিজেদের নিবেদিত করেছেন তাদের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা আবারও চট্টগ্রামকে তার আগের গৌরব ফিরিয়ে দেবে।

 

নিখিল রঞ্জন দাশ, ধারাভাষ্যকার, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন

বাংলাদেশের জন্ম ও বঙ্গবন্ধু: কিছু অনুমান, কিছু প্রশ্ন কিছু অনস্বীকার্য সত্য

আবু মকসুদ   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বাংলাদেশ চাওয়া’ বা ‘স্বাধীনতা চাওয়া’ নিয়ে কখনোই কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু ইতিহাসকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার

মাহরাং বালুচ বেলুচিস্থানের শেখ মুজিব!

ফজলুল বারী   বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ডা: মাহরাং বালুচ আজ বঙ্গবন্ধুর মতোই পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিনী। মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন

গল্পটি রুনা আখতারকে নিয়ে

রুনা আখতার আমাদের কারখানায় অপারেটর থেকে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। পদোন্নতি একটি নিয়মিত বিষয়— অনেকেরই হয়। কিন্তু রুনার গল্পটি আলাদা।   এই পদোন্নতি তাকে এতটাই

আন্দরকিল্লা : আলোকিত জীবনের রূপরেখা

ধীমান বড়ুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের আন্তরিকতায় আপনার নিয়মিত প্রকাশনাগুলো আমার হাতে পৌঁছে যায়, আর আমি প্রতিবারই নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ পাঠক হিসেবে আবিষ্কার করি।

বিশ বছর পর বাংলায় ফিরছেন তসলিমা

রোখসানা ইয়াসমিন মণি সাহিত্যের ইতিহাসে বহু লেখকই সময়ের স্রোতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মান কেবল লেখার জন্য। তসলিমা নাসরিন সেই ধারারই এক সাহসী