এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩০- আজ: বুধবার-২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

এখন সময়:সন্ধ্যা ৬:৩০- আজ: বুধবার
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-গ্রীষ্মকাল

চশমার চোখ, আবার চেন্নাই

শোয়ায়েব মুহামদ

চেন্নাই আন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে মনে হলো, চেন্নাই আজ বেশ রঙিন| এয়ারপোর্টে নেমেই দেখি, ইংরেজিতে লেখা, শুভ পঙ্গল, শুভ মকর সংক্রান্তি|

গতকাল সোনার বাংলায় রওনা দিয়েছিলাম ঢাকার দিকে| সোনার বাংলা ট্রেন ছাড়ে বিকেল পাঁচটায়| ঢাকায় পৌঁছাই রাতে| ঢাকায় থাকবার অ্যাপার্টমেন্ট আবাসিক হোটেলের মতো ভাড়া দিচ্ছে এখন| সে রকম একটা অ্যাপার্টমেন্টে রাতে উঠি| বেলা ১০.৪৫-এ প্লেন হলেও সকাল সাড়ে ৭টার ভেতরে ঢুকতে হবে| ভোরে উঠেই ভাড়া করা ক্যাব নিয়ে এয়ারপোর্টে যাই| ঢাকা শহর সবে জাগতে শুরু করেছে| আন্তর্জাতিক গেট দিয়ে ঢুকবার মুখে ল¤^া লাইন| ট্রলি যোগাড় করে লাগেজ উঠিয়ে লাইনে দাঁড়াই| সাড়ে সাতটায় বোডিং পাস শেষ হয়|

ইমিগ্রেশনে ঢোকবার আগে দেখি নুরনবী দাঁড়িয়ে আছে ব্যাংকক যাবার বোডিং পাসের লাইনে| প্রায় ২/৩ বছর পর নবীর সাথে দেখা হলো| বিশ্ববিদ্যালয়ে একসাথে পড়েছি, শাহজালাল হলে থেকেছি| মতাদর্শে পার্থক্য থাকলেও তা কখনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্বে চিড় ধরায়নি, বরং বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার মুহূর্তে ˆবরী সময়ে সে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে| হাত মেলালাম| কথা বেশি হলো না| তার বোডিং আর আমার ইমিগ্রেশনের তাড়া|

 

পেটে খিদে ছিল| ইমিগ্রেশন শেষ করে স্যান্ডুইচ আর কফি খেলাম| নানা দেশের এয়ারহোস্টেস, পাইলটরা উঠছে-নামছে| নানারকম তাদের গায়ের রং, পোশাক| পরিপাটি বেশভূষা দৃষ্টি কাড়ছিল| তাদের দেখতে দেখতে প্লেন ওড়ার সময় হয়ে যায়|

চেন্নাই যখন নামি তখন দুপুর| প্লেন দুপুরের খাবার দিয়েছে, ফ্রায়েড রাইস, চিকেন আর সবজি| এয়ারপোর্টে নেমে মনে হলো কোনো উৎসব চলছে| মনে পড়ল, আরে! এটা তো মকর সংক্রান্তির সময়| তবে পঙ্গল উৎসব চলছে? তামিলনাড়ুর বড় উৎসব এটি| তিন দিন বন্ধ থাকে|

আটো ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করি, তোমাদের পঙ্গল কখন| সে বলে, চলছে| আজ দ্বিতীয় দিন|

রাস্তায় সাজ পোশাক পরা নারীরা ঘুরছে| বাইকের পেছনে, শপিং মলের সামনে, ফুটপাতে| বেশ সাজগোছ| গাড়ির সামনে এক মহিলা বাইক চালাচ্ছে, বোরকা পরা| তার পেছনে বেশ খোলামেলা পোশাকের মহিলা বসে আছে|

হোটেলে ঢোকবার আগে দেখি, এক মহিলা ফুল বিক্রি করছে| জেসমিন নাম| হলুদ চন্দ্রমল্লিকা দেখে বলি, কেনা যাবে? সে বলে, এ ভগবানের ফুল|

 

পুরনো জায়গায় এলে এক ধরনের স্মৃতিকাতরতা কাজ করে| সকালে বের হই শংকর নেত্রালয়ের উদ্দেশ্যে| সবজিপট্টির রাস্তাগুলো আগের চেয়ে ভালো হয়েছে| নতুন করে কার্পেটিং হয়েছে| নতুন বেকারির দোকান বসেছে| আগে ভেতরের দিকে ছোট একটা বেকারি দোকান ছিল| চানাচুর, চিপস, বিস্কুট বিক্রি করলেও ভালো পাউরুটি পাওয়া যেত না| এখন বেশ সুন্দর প্যাকিংয়ের পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে|

নবীন চন্দ্র সেন তাঁর জীবনীতে বলেছেন, সে সময় অনেক শিক্ষিত ছেলের খ্রিস্টান হওয়ার কারণ ছিল পাউরুটি খাওয়ার লোভ|

সবজিপট্টিতে অনেক বাঙালি থাকে| এখানে ভালো কলা পাওয়া যায়| ভালো কলা আর ভালো পাউরুটি একসাথে পেলে সকালে নাস্তার আর চিন্তা কি| রুমেই নাস্তা সেরে নেয়া যায়|

আমরা নাস্তা সারি শংকরের ক্যান্টিনে| দোসা, ইডলি, পুরি, পঙ্গাল পাওয়া যায়| সেলফ সার্ভিস| সব খাবারের মানই ভালো, তবে চা বেশি ভালো| শংকরে ভারতের নানা জায়গা থেকে লোক আসে| মধ্যপ্রদেশ, কাশ্মীর, রাজস্থান থেকে শুরু করে বাঙালি| বাঙালি তো ডালভাত| একই নিয়মে আমরা ফয়’স লেক চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলেছি, কিন্তু পেশাদারত্বে তাদের কাছাকাছি আসতে পারিনি| আমাদের প্রবণতা হচ্ছে প্রতিষ্ঠান একটু বড় হলে নানা দলাদলি, কর্তৃত্বপরায়ণতা, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াস শুরু হয়|

আগে থেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা ছিল| টাকা জমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকি| ডাক্তারের সেক্রেটারি হাসিমুুখে বলে দিয়েছে, ˆবঠে স্যার| বোলায়ে|

আমার পাশেরজন বাংলায় কথা বলছে| টোনে বোঝা যাচ্ছে পূর্ব বাংলার| জিজ্ঞেস করি, কোন জেলার? আমার নিজের জেলা চট্টগ্রামের না, এটা নিশ্চিত|

ভদ্রমহিলা কাছে এসে বলে, আমরা শিলিগুড়ির| আমার আত্মীয় এসেছে গোপালগঞ্জ থেকে| ঢাকার মাতুয়াইলে চাকরি করে|

২৮/৩০ বছর বয়স হবে মহিলার| চেন্নাইয়ে চকরি করে| বলে, কলকাতার আশেপাশে ছাড়া সারা বাংলায় আপনি যে টোনের কথা বলছেন তা কিন্তু নেই|

আরো কথা বলার ইচ্ছে ছিল| ডাক্তারের ডাক আসে| তারা সেদিকে দৌড়ায়|

আমার পাশে এসে এক বয়স্ক ভদ্রমহিলা বসেন| সাথে ¯^ামী| জিজ্ঞেস করি, কোথা থেকে এসছেন?

বলেন, কাশ্মীর থেকে| শ্রীনগর|

আমি উনার দিকে আবার তাকাই| বলি, আমি বাংলাদেশ থেকে| নিজেদের ভেতর কেমন যেন আত্মীয়তা বোধ করি| তিনি বলেন, কাশ্মীর সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে?

আমি বলি, ফারুক আবদুল্লা| তিনি দুই আঙুল দেখান| বাংলাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন| রাজনৈতিক হালচালের খোঁজ নেন|

আমি বলি, ভালো চলছে| নতুন সরকার এসেছে| সামনে নির্বাচন|

মহিলা পুলিশে চাকরি করেন| মেহেজাবিন নাম| গ্লুকোমা চিকিৎসার জন্য এসেছেন| বলি, আমরা তো কাশ্মীর যেতে চাই| তিনি ফোন না¤^ার দেন| বলেন, আসবেন অবশ্যই|

দুপুরে আবার শংকরের ক্যান্টিনে ঢুকি| কাড রাইচ, লেমন রাইচ, ভেজ বিরানি, সাম্ভার রাইচ, ভেজিটেবল ফ্রায়েড রাইচ আর সাউথ ইন্ডিয়ান মিল| চনা মসলা আর বিগ সাইজের পুরিও আছে, সাথে পিঁয়াজ বা টমেটোর সালাদ|

আমরা ভেজিটেবল ফ্রায়েড রাইচ আর সাউথ ইন্ডিয়ান মিল নিই| সাউথ ইন্ডিয়ান মিলে ভাতের সাথে আচার, টক দই, সবজি থাকে|

অ্যাপলো ওমেনসের ছোট সুপারশপটি আগের মতোই আছে| মুসলিম শপ| সফেদ দাড়ির মালিকের নাম কুতুব উদ্দিন| আশেপাশের বাসিন্দা অ্যাপলো শংকরে চিকিৎসা করতে আসা লোকজন এখানে নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে| আমরাও কদিনের হোটেলের সংসারের টুকিটাকি কিনি| সামনের চা-বিস্কুটের দোকানটিও আছে আগের মতো| ওখানে চা খাই, নারকেল বিস্কুট খাই|

সামনে গেলে দেখি নতুন একটা মম’র দোকান হয়েছে, প্রিয়াংকা মম| জিজ্ঞেস করি, মম পাওয়া যায়?

সে বলে, দু রকম মম পাওয়া যায়, চিকেন আর সবজি মম| চাউমিনও পাওয়া যায়| হিন্দি বেশ থেমে থেমে বলছিল| আমার মতোই হিন্দিতে আনাড়ি| জিজ্ঞেস করলাম, আপকা ঘর কাহা?

সে বলে, নেপাল| এ নেপালি মম| তার নাম সুভাষ| নেপালের পর্বত নামক জায়গায় বাড়ি| সপ্তাহখানেক হয়েছে এখানে এসেছে| আমরা সবজি মম অর্ডার করি| বিকেলের দিকে বের হই চেন্নাই বইমেলার দিকে| ১ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত বইমেলা চলবে| নন্দরামে, ওয়াইএমসিএ মাঠে বইমেলা চলছে| আবার কালিভানা আরনগমে চলছে তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বইমেলা|

অটোতে প্রথম যাই নন্দরামে| ৪৯তম বইমেলা চলছে| বইমেলায় ঢুকতে ছোট ফুডকোডে| দোসা, বার্মিস নুডলস, সিদ্ধ ছোলা, সাউস ইন্ডিয়ান মিল বিক্রি হচ্ছে| আছে আচারের দোকান, ঝালমুড়ির দোকান| তবে ফুডকোডে বেশি ভিড় নেই|

ফুডকোড পেরিয়ে মূল মেলায় ঢুকি| চারদিকে ছাউনি দেওয়া মেলা প্রাঙ্গণ| টানা দোকান| ধূলোবালি, বাতাস, বৃষ্টি ঢোকার উপায় নেই| ফ্লোরে কাঠ ও কার্পেট| তামিল বইয়ের দোকান যেমন আছে তেমনি ইংরেজি বইয়ের দোকান| পেঙ্গুইন, রূপা সব ব্র্যান্ডের বইয়ের দোকান আছে| ক্রেতাও প্রচুর| কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা, মা-বাবাসহ বাচ্চারা ঘোরছে| ইসলামি ফাউন্ডেশন, ইসকন, বিবেকানন্দ আশ্রমের বইয়ের দোকানও দেখলাম| তুলনা দেওয়া ঠিক না, তবে একুশে বইমেলা থেকে গোছানো মনে হলো| বইমেলার উল্টো দিকে বড় মুসলিম কবরস্থান|

বইমেলা থেকে বেরিয়ে এবার যাত্রা করি আন্তর্জাতিক বইমেলার দিকে, কালিভানো আরনগমের দিকে| আমরা যখন যাই তখন মেলা প্রায় শেষ| স্টলের বই গোছাচ্ছে| আমরা মেলার স্টল, সেমিনারের জায়গা ঘুরে দেখি|

ঢোকবার মুখেই দেখা হয় বাতিঘরের দীপংকরদার সাথে| আন্তর্জাতিক বইমেলায় সেমিনারে এসেছিলেন তিনি| এখন যাচ্ছেন ঐরমমরহনড়ঃযধস নামের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো চেন্নাইয়ের বইয়ের দোকানে| ওখানের ম্যানেজার মুরারি উনার বন্ধু| আরনগম থেকে হেঁটে দশ-পনের মিনিট লাগে যেতে| দীপংকরদাকে এই বিদেশ বিভুইয়ে দেখে ভালো লাগল| কুশল বিনিময়ের পরে আমরা মেলায় ঢুকি| উনি ঐরমমরহনড়ঃযধস-এর দিকে রওনা দেন| বললেন, আপনিও একবার ঘুরে যেতে পারেন|

ভাঙা মেলা দেখে আমরা রওনা হই বার্মা বাজারের দিকে| চেন্নাই বিচ রেল স্টেশনের পাশে বার্মা বাজার| ষাটের দশকে বার্মা থেকে সর্ব¯^ান্ত হয়ে ফিরে আসা তামিলদের এখানে পুনর্বাসন করা হয়| তারা এখানে ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে তোলে| ইলেকট্রনিক, মোবাইলের কাভার—এ রকম পণ্য| আর গড়ে উঠে খাবারের দোকান| বার্মিজ চাউমিন, স্যুপ পাওয়া যায় এখানকার খাবার দোকানগুলোতে| রোববার হওয়ায় সব মার্কেট ছিল বন্ধ| খাবারের দোকান কিছু কিছু খোলা| আমরা একটা দোকানে ঢুকি, চা-বিস্কুট আর মিল্ক সেক খাই| বিপরীত দিকের ফুটপাতে বার্মিজ চাউমিন আর স্যুপ বিক্রি হচ্ছিল|

হসপিটালের কাজ আজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়| তখনো বিকাল ঘনিয়ে আসেনি| হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আজ যাবার ইচ্ছে আছে চেন্নাইয়ের বিখ্যাত বইয়ের দোকান ঐরমমরহনড়ঃযধস-এর দিকে| মাউন্ট রোডে| অটোঅলাকে জিজ্ঞেস করি, ঐরমমরহনড়ঃযধস চেনে কিনা| সে বলে চেনে| আমি খানিকটা আশ্চর্য হই| ঐরমমরহনড়ঃযধস প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বইয়ের দোকান| অটোঅলা নাম বলা মাত্রই চিনল| আমি বললাম, তুমি বলা মাত্র বইয়ের দোকানটা চিনলে, আমি খুশি হলাম খুব|

সে হাসে| বলে, তোমার চোখের চশমার দাম কত?

আমি বলি, ৫০০০ রুপির মতো হবে তোমার দেশে| প্রগ্রেসিভ পাওয়ার| বানাতে দাম নিয়েছে|

সে বলে, আমার বউ চোখের ডাক্তার, অপথালমোলজিস্ট| চোখের দোকান আছে| যাত্রাপথে গলিতে ঢুকিয়ে সে আমাদের চোখের দোকান দেখায়| বউ তখন দোকানে কাজ করছিল| আমরা তার সাথে পরিচিত হই|

¯^ামী অটো চালায় আর বউ অপথালমোলজিস্ট| আমাদের দেশের বাস্তবতায় খানিকটা অবাকই হই আমরা|

সে আমাদের বইয়ের দোকানের সামনে নামিয়ে দেয়| পুরনো ভবন| দোতলা| সবই ইংরেজি বই| স্টেশনারি কিছু জিনিস আছে| আমরা ঘুরে ঘুরে দেখি| মনে হয় ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটছি|

 

আজ যাওয়ার প্ল্যান পন্ডিচেরীতে| এটি মূলত ভারতের একখানি ফ্রান্স| পন্ডিচেরী ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ফরাসি শাসন ছিল| ১৯৬২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ভারতের কাছে স্থানান্তরিত হয়| ১৬৭৪ সালে এখানে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঘাঁটি স্থাপন করে|

সকাল থেকে বৃষ্টি| হোটেলের সামনের রাস্তায় পানি জমে আছে| গাড়িকে হোটেলের সামনে আসতে বললাম| নাস্তা না করেই রওনা দিলাম| সকাল সাতটা তখন| চেন্নাই থেকে পন্ডিচেরী যেতে লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টার মতো| দূরত্ব ১৫৫ মাইল|

ড্রাইভারের নাম নগেন| নগেন ঘোষ| বলল, ইস্ট কোস্ট রোড ধরে যাবে| তাকে বললাম, জায়গামতো দাঁড়িয়ে ব্রেকফাস্ট করাতে| গাড়ি চলছে, বৃষ্টি বাড়ছে| সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, রাস্তা ফাঁকা| অনেকদূর চলার পর একটা রিসোর্টে এসে গাড়ি দাঁড়ায়| রিসোর্টের সামনে ক্যান্টিন| প্লেন দোসা, সাম্ভার আর চায়ের অর্ডার দিই| খিদাও লেগেছে বেশ| কিছুক্ষণ পর খাওয়া নিয়ে আসে| সবার আগে দেয় চা| চায়ে চুমুক দিয়ে মন ভালো হয়ে যায়| সারা ভারতে যাইনি| যতখানি গিয়েছি চা-টা বেশ ভালো, দারুণ|

নাস্তা খেয়ে একটু ওয়াশরুমে যাই| তারপর আবার চলতে শুরু করি| প্রশস্ত রাস্তা| গাড়ির জটলা নেই| কিছুদূর পর পর সমুদ্র চোখে পড়ে, রিসোর্ট চোখে পড়ে| তবে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের মতো ঘন ঘন সমুদ্রের লাগোয়া না| হঠাৎ হঠাৎ দুয়েকটা রিসোর্ট| রাস্তার দুপাশে লোকবসতি, বাজার-হাট নেই বললেই চলে|

রাস্তায় জ্যাম শুরু হয়| পাইলটকে জিজ্ঞেস করি, কী বিষয়?

সে বলে, মহাবলিপুরামের আগে একটা জনসভা হচ্ছে| পাইলট কিছু ইংরেজি, কিছু হিন্দি পারে| সে জনসভায় সাদা শার্ট, সাদা প্যান্ট, লাল মাফলার পরা লোক যাচ্ছে| অনেক নারীকেও দেখলাম|

জনসভার আশপাশ পেরোনোর পর রাস্তা আবার ফাঁকা| পথে নদী পড়ে| বেশ বড় নদী| হাওরের মতো জলাভূমি দেখা যায়| সেখানে সারস, বক বসে আছে| পণ্ডিচেরী ঢোকবার আগে আগে দেখা মেলে

 

লবণমাঠের| রাস্তার পাশে লবণের স্তূপ করা আছে| পণ্ডিচেরী পৌঁছতে দুপুর হয়ে আসে|

আমরা নামি অংংঁসঢ়ঃরড়হ ঈযঁৎপয-এর সামনে| রোববার| তখন প্রার্থনা চলছে| আমরা ঘুরেফিরে চার্চ দেখি, ছবি তুলি| বর্তমান স্থাপনাটি ১৮৪১ সালের দিকে নির্মাণ শুরু হয় এবং ১৮৫১ সালে শেষ হয়| চার্চটি ফরাসি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত| নগেন বলে, পণ্ডিচেরীর সবচেয়ে বড়| রোমান ক্যাথলিক চার্চ এটি| পাইলট জানায়, অরবিন্দ আশ্রম আর মন্দির খুলবে ২টার পর| আমরা রওনা দেই বিচের দিকে|

সমুদ্রের তীরে পাথর ফেলানো| কালো পাথর| কোথাও কোথাও বেলেভূমিতে নামার জায়গা আছে| পুরোটাই বালি-কাদা মেশানো না| আমরা বালিতে নেমে পানিতে পা ভেজাই| বড় বড় ঢেউ আসছে| বৃষ্টি খানিক থেমেছে| বিচ থেকে ফেরার পথে পাঞ্জাবি ধাবায় খানা খাই| মুরগি মসালা, সবজি মসালা আর নান| নান মানে আমাদের রুটি|

খেয়ে যাই অরবিন্দ আশ্রমের দিকে| অরবিন্দ আশ্রম ফরাসি কলোনির ভেতরে| আশ্রমের আগে গাড়ি নামিয়ে দেয়| বলে, আশ্রম আর বিচ ঘুরে চারটার মধ্যে চলে আসবেন| বৃষ্টি বাড়ছে|

গাড়ি থেকে নেমে আশ্রমের দিকে রওনা হই| চপ্পল খুলে আশ্রমে ঢোকার লাইনে দাঁড়াই| বেশ কয়েকজন ফরেইনারও লাইনে আছে| ঢোকবার আগে মোবাইল অফ করে ঢুকতে হবে| আমরা খালি পায়ে আশ্রমে ঢুকি| সর্বত্র নীরবতা| অরবিন্দ আর শ্রীমার সমাধি ফুলে ঢাকা| আশ্রম অনেকটা রবীন্দ্রনাথের শাহজাদপুর কুঠিবাড়ির মতো|

আশ্রম দেখে বাইরে এলে বৃষ্টি আরো বাড়ে| অরবিন্দ আশ্রমের সাব-পোস্ট অফিসের চালার নিচে দাঁড়াই| আশেপাশে সব ফরাসিদের ঘরবাড়ি| বিচে যেতে হলে বৃষ্টিতে পুরো ভিজে যাব| বেশ কিছু রিকশা আছে দাঁড়ানো| রিকশার ডিজাইন একটু অন্যরকম| কিন্তু রিকশা বিচে যেতে রাজি হয় না| বলে, রাস্তা ধরে সামনে গেলে বিচ| আমরা ১৫০ রুপি দিয়ে ওয়ানটাইম রেইনকোট কিনে সামনে হাঁটতে থাকি| কিছুদূর গেলেই সমুদ্র পড়ে|

আগে দেখা বিচের মতো এখানেও কাল পাথর ফেলা আছে| রক বিচ বলে| নিচে বালিতে নামার উপায় নেই| তবে উপরের রাস্তাটি খুব সুন্দর করে করা| হাঁটলে মনে হয় ইউরোপের কোনো সমুদ্রতীরে হাঁটছি| আমরা রেইনকোট পরে সমুদ্রতীরে কিছুক্ষণ বসি, হাঁটি| ঢেউ বেশ উত্তাল| বৃষ্টি বাড়ছে| গান্ধীর দাঁড়ানো স্টাচুর পাশে কোনো জনসভার আয়োজন চলছে| আমরা সমুদ্রতীরের দোকানে কফি আর ক্রসো খেয়ে ফেরার পথ ধরি|

ফিরবার পথে এসে দাঁড়াই  অৎঁষসরমঁ সধহধশঁষধ ারহধুধমধৎ  ফবাধংঃযধহস মন্দিরে| গনেশ মন্দির এটি| মন্দিরের দোকানের সামনে লাল আর সবুজ পদ্ম বিক্রি হচ্ছে| নারকেল, দুর্বা ঘাস বিক্রি হচ্ছে| লাল শাড়ি পরে অনেক মহিলা ভক্ত মন্দিরের সামনে বসে আছে| ফরাসিরা আসার আগে ১৬শ শতাব্দীতে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়| পদ্ম কাদায় জন্মায়, কিন্তু নিজে থাকে শুভ্র, পবিত্র| পদ্ম, বিশেষ করে লাল পদ্ম পূজায় নিবেদন করে ভক্ত শুদ্ধ থাকতে চায় জীবনে|

আমাদের গাড়ি আসে| ফরাসি কলোনির রাস্তা ধরে বৃষ্টির ভেতর গাড়ি এগোতে থাকে| রাস্তায় কখনো নারকেল বাগান, তালগাছের সারি, নুনা ঝাউয়ের বড় গাছ| পথে এক জায়গায় গ্রামীণ  হাটের মতো পড়ে| চেন্নাই শহরের কাছাকাছি এসে জ্যামে পড়ি| রাস্তায় পানি জমে আছে| রাত প্রায় সাড়ে আটটার সময় সবজিপট্টির মুখে নামি| তখনো বৃষ্টি| নেমে অন্নপূর্ণা হোটেলে গরম বেগুনভাজি দিয়ে ভাত খাই| হোটেলের দিকে যেতে দেখি রাস্তায় পানি জমে আছে| সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে চেন্নাইয়ে যেন বাংলাদেশের বর্ষা দেখছি|

সকালে রওনা হই টিকেট কাটতে| লক্সমি ট্রাভেলকে গতকাল করমমন্ডল এক্সপ্রেসের টু টায়ার এসির টিকিট কাটার টাকা দেওয়া হয়েছে| ৮টায় যাই প্রিমিয়ার তৎকাল কাটতে| লক্সমি ট্রাভেল অটোচালক রাঘু রাজনকে সাথে দিয়েছিল| সে ফরম পূরণ করায়, সাইন নেয়| তারপর বলে ৯.৫৫-এর সময় প্রিমিয়ার তৎকালের সামনে দাঁড়াতে| ৯.৫৫-তে কাউন্টারের সামনে ফরম নিয়ে দাঁড়াই| কিছুক্ষণ পরে টিকিট পাই| মনটা নিশ্চিন্তিতে ভরে ওঠে| প্রফুল্ল মনে ১১টা নাগাদ হোটেলে ফিরি|

আজ খাব সংগীতা হোটেলে| চেন্নাইয়ের বিখ্যাত ভেজ হোটেল| গতকাল খেয়েছিলাম সারাভান স্টোরের ক্যান্টিনে| নানারকম ভাত—কাড রাইচ, লেমন রাইচ, সাম্ভার রাইচ, পঙ্গল রাইচ যেমন আছে তেমনি আছে নানারকম চাট, চানা মসলা দিয়ে বড় লুচি| দাম বেশ সস্তা| সারা দক্ষিণ ভারতে খাবার মেনু কাছাকাছি, ¯^াদও প্রায় একই|| সেই ইডলি দোসা, তিন রকমের চাটনি, সা¤^ার বড়া| দুপুরে প্লেইন দোসা খাই সংগীতায়| গ্রিমস রোডের মুখেই হোটেলটির একটা শাখা আছে|

খেয়ে যাই এক্সপ্রেস অ্যাভিনিউতে, চেন্নাইয়ের সুপার মার্কেট| নানারকম ব্র্যান্ড, নন-ব্র্যান্ড পণ্যের শপ আছে এখানে| এবারের মতো ঘোরাঘুরির সমাপ্তি| দুটো ব্যাগ কিনি| সন্ধ্যার আগে ফেরত আসি হোটেলে| ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিতে হবে, ব্যাগ গোছাতে হবে|

 

ভোর ৫.৩০-এ ট্রেনের জন্য বেরোই| রেলওয়ে স্টেশন সেন্ট্রাল নামক জায়গায়, জায়গাটা গ্রিমস রোড থেকে দূরে নয়| ফজরের আজানের আগেই গলির মুখে অটোঅলারা আসতে থাকে| বেরিয়ে দেখি তিন-চারটে অটো দাঁড়ানো| দুটো অটো নিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা দিই| চেন্নাই রেল স্টেশন ব্রিটিশ স্থাপত্যের পুরনো স্টেশন| স্টেশনে নেমে কুলি নিই| টানা গাড়িতে কুলি লাগেজ আর আমাদের পথ দেখিয়ে

 

 

নিয়ে আসে করমমন্ডল এক্সপ্রেসের বগির কাছে| বগিকে ওরা বলে ডাব্বা| আমাদের টু টায়ারের এসি বগি| চার সিটে একেকটা খোপ| ৭টায় ট্রেন ছাড়ে|

আমাদের পাশে বসে এজাজ বলে ডায়মন্ড হারবারের এক ছেলে| এমব্রয়ডারির কাজ করে| নিজে দোকান দিয়েছে কর্নাটকের ম্যাঙ্গালোরে| কাজ শিখেছে মেটিয়াবুরুজে| মোবাইল থেকে কাজের নমুনা দেখায় সে আমাদের| তিন-চার মাস পর বাড়িতে আসে| দুই ভাই মিলে ব্যবসা করে| মু¤^াই ছিল, ব্যাঙ্গালোর ছিল লেবার হিসেবে| পরে ম্যাঙ্গোলোরে সুবিধা হওয়ায় দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে|

সে বলে, লেবার হিসেবে আগে গিয়ে বুঝতে হয়, লোক চিনতে হয়| এখন বাড়ি আসছে| রোজার ভেতর যাবে| বাবা আগে এমব্রয়ডারির কাজ করত, এখন চাষবাস করে|

লোকজন পর্দা টেনে শোয়ার আয়োজন করছে| এজাজও শোয়ার আয়োজন করে| এ ট্রেনে থাকতে হবে আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত| আমরা পাউরুটি-কলা খাই, সকালের নাস্তা| ভোরে উঠেছি| নাস্তা খেয়ে ঘুমোতে চেষ্টা করি| উঠি ১১টার দিকে| ট্রেন চলছে| মাঠের পর মাঠ, ক্ষেত, ধানের চাষ| কোথাও খিল জমি চোখে পড়ছে| কোথাও-বা নোনা ঝাউ, আগাছা| আর মাঠের মাঝে মাঝে তালগাছ| ট্রেন স্টেশনে থামে, কখনো ৫, কখনো ২ মিনিটের জন্য| প্রায় বিশ মিনিট থামে বিশাখাপত্তমে| এখানে নামি| কলা-পাউরুটি কিনি সকালে নাস্তার জন্য| ঘুরে ফিরে স্টেশন দেখি| খালি বোতলে খাবার জল নিই, ঘি পুটারিকুলু বলে একটা খাবার নিই| বক্সের ভেতর অনেকটা রোলের মতো দেখতে| দেখতে মনে হয় প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো| আদতে ভাতের মাড় দিয়ে সে আবরণ বানানো| বাচ্চাদের খেতে ভালো লাগে| ভেতরে বাদাম, চিনি ও ঘি| বিশাখাপত্তমের পর ভাত খেয়ে শোয়ার আয়োজন করি| আস্তে আস্তে বগির লাইট নিভতে থাকে|

সকালে উঠতে উঠতে ৮টার মতো বাজে| মুখ ধুয়ে নাস্তা সারি| এজাজও তার সিটের পর্দা সরিয়ে বসেছে| বলে, গতবার ট্রেনে তোমাদের বরিশালের এক লোকের সাথে আলাপ হয়েছিল| বাবাকে নিয়ে ভেলোর যাচ্ছিল| ইদানীং ফোন করলে আর পাওয়া যায় না|

লোকজনের মধ্যে ধীরে ধীরে নামবার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে| এজাজকে জিজ্ঞেস করি, আপনাদের এখানে ভোট কখন? সে বলে, আগামী এপ্রিলে|

কে জিতবে? বিজেপি আসবে?

এজাজ বলে, মমতার সাথে বিজেপির একটা সমঝোতা আছে| মমতাই আবার আসবে|

সে আমাকে বাংলাদেশের কথা জিজ্ঞেস করে| আমি বলি, সামনে ভোট| ভোট হলে বোঝা যাবে কার কেমন জনপ্রিয়তা আছে|

সে আমাকে কলকাতার রাস্তায় একটু সাবধানে চলতে বলে| যদিও পরে আমি সে রকম কিছু টের পাইনি|

ট্রেন খড়&গপুর, সাতরাগাছি থামে| অনেকেই সাতরাগাছি নামে| হাওড়া আসতে আসতে ১টা বাজে| হাওড়া থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা মার্কুইজ স্ট্রিট| হোটেল ওরিয়েন্টে উঠি| গোসল সেরে খেতে নামি| ওরিয়েন্টের নিচেই দাওয়াত হোটেল| দাওয়াত হোটেলে মুরগি, সবজি, ডাল দিয়ে ভাত খাই| এবার হোটেলে গিয়ে ঘুমাব| রাতের দিকে হয়তো একবার ঘুরতে যাব নিউ মার্কেটের দিকে|

সাতটার দিকে এলিসনের ফোনে ঘুম ভাঙে| এলিসন পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির পানছড়ির ছেলে| চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে| গল্পকার ˆসয়দ মনজুর মোর্শেদ ভাই বিলাইছড়ি যাওয়ার পথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন| চেন্নাই থেকে কলকাতা আসব আগেই জানিয়ে ছিলাম| পাশেই পার্ক স্ট্রিটে এশিয়াটিক সোসাইটিতে একটা ওয়ার্কশপ করছে এলিসন| এলিসন বলে, সে দাওয়াত হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে| আমি নিচে নামি| এলিসনকে নিয়ে চা, এগরোল খাই| তার কাছ থেকে পরামর্শ নিই কলকাতা ঘোরার ব্যাপারে| ঠিক করি, আগামীকাল বড়বাজার, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি আর জাকারিয়া স্ট্রিট ঘুরব|

চা খেয়ে আমরা একসাথে রওনা দেই নিউ মার্কেটের দিকে| এলিসন চাকমা এক্সপ্লানেড মেট্রোস্টেশন থেকে যাবে যাদবপুর| নিউ মার্কেটের ফুটপাতে নানারকম পসরা সাজিয়ে দোকানিরা বসে আছে| কী নেই সেখানে! অধিকাংশ দোকানিই উর্দুভাষি মুসলমান| আর আছে নানা দেশের পর্যটক| নিউ মার্কেটের ভেতর এক দোকানে সাদা চামড়ার নারী একজন নেলপালিশ দেখছে| সে বলে, তিনি অস্ট্রেলিয়ার অভিনেত্রী| একজন দম্পতি দাওয়াত হোটেলে রুমালি রুটি বানানোর কড়াই দেখিয়ে বলে সে রকম রুটি দিতে| দেশ জিজ্ঞেস করলে বলে, তাইওয়ান|

সকালে টেক্সি ক্যাবে রওনা দিই বড়বাজারের দিকে| বড়বাজার পাইকারি বাজার| দুই মা, আমার আর বউয়ের, শাড়ি কিনব|

সকালে উঠে নাস্তা খেয়েছি নবাব হোটেলে, নানরুটি, নলা আর গরুর কলিজা| কলিজা রান্নাটা বেশ ভালো| মার্কুইজ রোডের পাশে কলিন্স রোড পুরোটাই উর্দুভাষী মুসলমানদের পাড়া| গরুর মাংস বেশ সস্তা, কেজি ৩০০ রুপি| ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে শিককাবাব, পরোটা| পরোটা ১৫ রুপি, শিককাবাব ১০ রুপি|

বড়বাজারে ব্যাগের গলির মুখে অটোওয়ালা নামিয়ে দেয়| দুপাশেই ব্যাগের দোকান| আমরা খুঁজছি শাড়ির দোকান| ছোট অপরিসর রাস্তা, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, টেরীবাজারের মতো| শাড়ি দোকানের কোনো চিহ্নও খুঁজে না পেয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করি, দাদা শাড়ির দোকানগুলো কোন দিকে? তিনি বললেন, বড়বাজার থানার

 

আশেপাশে দেখবেন অনেক শাড়ির দোকান| হাঁটতে হাঁটতে বড়বাজার থানার সামনে এসে পৌঁছি| দেখি থানার সামনে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে| তাকে জিজ্ঞেস করি, বড়বাজার শাড়ির দোকান কোন দিকে? বলে, গলির মুখে গেলেই পাবেন|

গলির মুখে গিয়ে সামান্য হাঁটলেই দেখি একজন লোক জিজ্ঞেস করে, শাড়ির দোকানে যাবেন? কাতান, কাঞ্চিভরম, বেনারসি সব শাড়ি আছে| কম দামে পাবেন| পছন্দ না হলে কেনা লাগবে না| আসুন দেখেন|

আমরা তার সাথে হেঁটে দোতলা একটা দোকানে আসি| মোটামুটি বড় দোকান| পেছনে গোডাউন| কিন্তু শাড়ি আমাদের পছন্দ হয় না| নেমে আসলে দেখি একই লোক নিচে দাঁড়িয়ে আছে| জিজ্ঞেস করে, পছন্দ হয়নি? আমরা বলি, কাতান শাড়ি খুঁজছি| সে বলে, চলেন মিলনে| ওখানে ভালো কাতান শাড়ি আছে| আমরা মিলন শাাড়িঘরে এসে শাড়ি দেখি| রাস্তার দুপাশে শাড়ি-পাঞ্জাবির দোকান| এখানে নানা ডিজাইনের শাড়ি আছে| কিন্তু পছন্দমতো কাতান শাড়ি মেলানো যায় না| তারাই আবার পাঠায় আরেকটু ভেতরে খাজানা নামক দোকানে| সেখানে নানারকম কাতান বা কাতান জাতীয় শাড়ি দেখতে থাকি| পছন্দও হতে থাকে| আমাদের যে শাড়ি দেখায় সে বিহারি| বলে, বাংলাদেশের ˆসয়দপুরে তার কারিগর আছে| দোকান আছে| শাড়ি কিনে আমরা বের হই| গুগলে লোকেশন ম্যাপ অন করি| এবার আমরা যাব জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি| গুগল রাস্তা দেখিয়ে বলে হেঁটে গেলে ১৫ মিনিটের মতো লাগবে| আমরা হাঁটতে থাকি| পথে আচারের দোকান, লাড্ডু, মিহিদানার দোকান পড়ে| একসাথে বেশকটা দোকান| গলি পেরিয়ে রবীন্দ্র সারণীতে উঠি| গুগলে দেখানো ম্যাপের সাথে পথের লোকজন থেকেও পথ বাতলে নেই| রাস্তায় ট্রাকে রাজস্থানী মাটির তাবা বিক্রি হচ্ছে| কিছুদূর গেলে রাস্তায় সাইনবোর্ড চোখে পড়ে, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি| শরীরে কেমন শিহরণ হয়| এ বাড়ি রবীন্দ্রনাথের! ঢুকতে গেটে টিকিট কাউন্টার| আমরা চারজনের টিকিট কাটি| ছবি তুলতে চাইলে আলাদা টিকিট| একতলার উপওে পুরোটা মিউজিয়াম| মিউজিয়ামে ছবি তোলা বারণ| আমরা নিচে সিঁড়িতে, উদ্যানে ছবি তুলি| তারপর জুতা খুলে উপরে উঠি| ঠাকুরবাড়ির ˆবঠকঘর, রান্নাঘর, আতুরঘর, নানা কক্ষ ঘুরে ঘুরে দেখি| বাংলাদেশের রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলো পতিসর, শাহজাদপুর, কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ি আগেই দেখা হয়েছে| আজ দেখছি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি| এ বাড়ির আভিজাত্য, বিভায় মুগ্ধ হচ্ছি| পুরো বাড়ি দেখতে দেখতে প্রায় দুটো বাজে|

নিচে নেমে ভাবি জাকারিয়া স্ট্রিটের বো¤^াই হোটেলে খাব| এলিসন চাকমা বলেছে এ হোটেলে খেতে| জোড়াসাঁকো থেকে রবীন্দ্রনাথ সারণী ধরে হেঁটে গেলে ১৫ মিনিটের মতো লাগবে| আমরা হাঁটতে শুরু করি| কিছুদূর গেলে নাখোদা মসজিদের মিনার চোখে পড়ে| আমরা হাঁটতে থাকি| জাকারিয়া স্ট্রিটের মুখে এসে ফুটপাতের দোকানে জিজ্ঞেস করি, বো¤^াই হোটেল কোথায়? লোকজন সামনে দেখিয়ে দেয়| আমার বাবা নব্বই দশকে যখন দিল্লি এইমসে চিকিৎসার জন্য যেত এখানে আমানিয়া হোটেলে থাকত| তখন থেকেই জাকারিয়া স্ট্রিট দেখার ইচ্ছে মনের ভেতর| সে সময় প্রায় বাংলাদেশি এ জায়গাটায় থাকত| একটু ভেতরে গেলেই আমরা বো¤^াই হোটেল পাই| চট্টগ্রামের চকবাজারের সবুজ হোটেলের আয়তনের হোটেল, একতলা| তবে ভিড় বেশ| আমরা সাদা ভাত, ডাল-গোস্ত আর রুটি-সবজি অর্ডার করি| খেতে খেতে বুঝতে পারি কেন হোটেলের নাম ছড়িয়েছে| রান্না বেশ মজা| খেয়ে একটা ক্যাব ধরি| অনেক হেঁটেছি, হোটেলে গিয়ে এবার ঘুমাব|

ঘুম থেকে উঠতে উঠতে প্রায় সন্ধ্যা| উঠে কলিন্স রোড ধরে মাথায় রাফি আহমেদ কিদওয়াই রোডে রাবড়ি খেতে যাই| দোকানটি দুধের| লোকজন তরল দুধ কিনছে| আরো আছে টক ও মিষ্টি দধি, ফিরনি, রাবড়ি| আমরা রাবড়ি নিই প্রথমে| দেশে কখনো রাবড়ি খাইনি| বেশ মজা পাই| তারপর খাই মিষ্টি দই| পথে গরুর মাংস, মুরগির মাংস, খাসির মাংসের দোকান পড়ে| ফেরার পথে দেখি রাস্তার পাশে দোকানে গরম গরুর মাংসের শিককাবাব বানাচ্ছে| সেই শিককাবাব পরোটার ভেতর সস, পেঁয়াজসহ রোল বানিয়ে খাচ্ছে| দেখে আগ্রহ হয়, আমরাও খাই| তারপর যাই নিউ মার্কেটর দিকে| ঘুরেফিরে এসে কস্তুরি হোটেলে খাব চিন্তা করি|

 

ˆসকত দে, কবি ও কথাকার ফোন করে বলে রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়কে ফোন দিতে| রজতদা কবি ও কথাসাহিত্যিক| উপন্যাস ‘একপা দুইপা তিনপা’ পড়ে আমি খুবই মুগ্ধ হয়েছিলাম| কলকাতা ৪৯তম আন্তজাতিক বইমেলা চলছে করুণাময়ীর মাঠে| আমি ফোন করে পরিচয় দিলে বলেন, কাল দুপুর নাগাদ পার্ক স্ট্রিটে অফিসে দেখা করতে| মার্কুইজ স্ট্রিট থেকে পার্ক স্ট্রিট হাঁটা পথ, ৬/৭ মিনিট লাগে| আমি কথা দিই ১২টা নাগাদ উনার অফিসের নিচে থাকব|

পরদিন গরুর নালা আর নানরুটি দিয়ে সকালের নাস্তা খাই| একটু সকালেই বের হই| তাড়াতাড়ি না গেলে নলা পাওয়া যায় না| ভিসা জটিলতার কারণে কলকাতায় এখন বাংলাদেশি খুব কম| নিউ মার্কেট এলাকার থাকার ও খাবার হোটেলগুলোতে চাপ কম| আমরা আরাম করে খাই| অন্যান্যবার যে হুড়োহুড়ি, ভিড় ছিল, এবার তা নেই| খেয়ে গোসল করে বের হই রজতেন্দ্রদার সাথে দেখা করতে| গোগল ম্যাপ ভরসা| আমি ফ্রি স্কুল রোড পেরিয়ে পার্ক স্ট্রিট হয়ে লরোটা স্কুলের সামনে আসি| একজনকে জিজ্ঞেস করি, ইনকাম ট্যাক্স ভবন কোনটা? দেখানো পথে হেঁটে ভবনের নিচে এসে ফোন করলে রজতদা

 

 

নেমে আসেন| হাতে বইয়ের ব্যাগ| হাতে হাত মিলাতেই জিজ্ঞেস করেন, কী খাব? চা-বিস্কুট নাকি ফিশ ফ্রাই?

আমি বলি, চা-বিস্কুট|

রজতদা বললেন, ফিশ ফ্রাইটা ভালো|

উনার কথায় মনে হলো, ফিশ ফ্রাই খেলে খুশি হবেন| আমি বললাম, আপনার যা ভালো লাগে তা খাওয়ান|

রজতদা ফিশ ফ্রাইয়ের দোকানে নিয়ে গেলেন| ছোট নিরিবিলি দোকান| ফিশ ফ্রাই ফরমায়েশ করলেন| বললাম, আমি আপনার উপন্যাস পড়েছি| খুবই ভালো লেগেছে|

দাদা বললেন, এটা দিনাজপুরের একজন গম্ভীরা শিল্পীর জীবনের ওপর লেখা| আমার সব লেখাই বাস্তবতার আঁচে|

তিনি আমাকে রান্নার গল্প শোনালেন| বললেন, বাবা না থাকায় ছোটবেলা থেকেই বাজার করতেন তিনি| আর সেসব থেকেই লিখেছিলেন রোববারের বাজার|

আমি শুনছি| ফিশ ফ্রাই এসে গেছে| বললেন, কাসুন্দি দিয়ে খান| খাওয়া শুরু করলাম| দারুণ ¯^াদ|

দাদা বলছেন, যেমন কেউ বলল, জলের গ্লাস নিয়ে লিখতে| আমি আগে দেখি জলের গ্লাস নিয়ে আগে কে কী লিখেছে| তারপর তাদের থেকে ¯^তন্ত্রভাবে লিখতে চেষ্টা করি|

আমি খাচ্ছি, গল্প করছি| ˆসকতের কথা জিজ্ঞেস করলেন| ˆসকতের কবিতার কথা বললেন| গদ্যের কথা বললেন|

আমি বললাম, আজ বিকালে বইমেলায় যাব| কথা প্রসঙ্গে বললাম, রাজর্ষি দাশ ভৌমিক আর চট্টগ্রাম নিয়ে তার উপন্যাস ‘পাইয়া ফিরিঙ্গি ডর’-এর কথা|

রজতদা বললেন, রাজর্ষি কলকাতায় আছে| আজ বইমেলায় থাকবে| ফোন দিলেন লেখককে| বললেন, বিকেলে আমি যাব|

ফিশ ফ্রাই খেয়ে চা খেতে গেলাম| রজতদা কখনো বাংলাদেশ বা চট্টগ্রাম যাননি| উনাকে আমন্ত্রণ জানালাম| বললেন, আগামীবার গেলে যাতে দেখা করি| আসার আগে নিজের কবিতার বই উপহার দিলেন আর ˆসকতের জন্য অনেকগুলো বই দিলেন|

রজতদা অফিসে উঠবেন| আমি বিদায় নিয়ে মার্কুইজ স্ট্রিটের দিকে হাঁটা শুরু করলাম| হোটেল রুমে এসে খানিক বিশ্রাম নিয়ে, নামাজ পড়ে খেতে বের হই| খেয়ে বের হলাম বইমেলার দিকে| প্রথমে ভেবেছিলাম মেট্রোরেলে যাব, পরে টেক্সি ক্যাব নিলাম| দুপুর—কেমন যেন আলস্য চেপে বসেছে| ভাবলাম, একটু আয়েশ করে চারপাশ দেখে-শুনে যাই|

মার্কুইজ স্ট্রিট থেকে করুণাময়ী বেশ দূর আছে| পৌঁছতে প্রায় ৩০/৪০ মিনিট সময় লাগে| মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেই বইমেলার গেট| কলকাতা বইমেলায় এবার প্রথম| মেলায় ঢুকে স্টল ন¤^র দেখে হাঁটতে থাকি| ˆসকতের কিছু বইয়ের ফরমায়েশ আছে, সেগুলো কিনতে হবে| নানারকম স্টল| রাজনৈতিক দলগুলোর স্টল, ইসকন, পশ্চিমবঙ্গের উর্দুভাষী মুসলমানদের বইয়ের স্টল, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের স্টল, শিখদের স্টল আর বড় প্রকাশনী দেজ, আনন্দবাজার, অনুষ্টুপ এদের তো আছেই| আর আছে লিটল ম্যাগাজিনের জন্য বেশ গুছানো প্রাঙ্গণ| টেবিলের উপর নানা সময়ে প্রকাশিত লিটলম্যাগ নিয়ে বাংলাভাষী নানা প্রান্ত থেকে এসেছে| আমি জানুয়ারি সংখ্যা জারি বোবা যুদ্ধ কিনি| টেবিলের ওপারে একজন সুদর্শন বয়স্ক লোক বসে আছে| নাম, ফোন ন¤^র নেয়| আমি বলি, বাংলাদেশ থেকে এসেছি|

তিনি বললেন, আমাকে লালা নামে চেনে| প্রচেতা ঘোষ লালা|

আমি বললাম, আপনার পত্রিকা আমি পড়ি| চট্টগ্রামে বাতিঘরে পাই| দুই সম্পাদকের একজন তিনি|

তিনি হাসলেন| বললেন, আপনি যখন পত্রিকা চাইলেন নতুন পাঠক মনে হয়নি| কিন্তু আগে কখনো দেখিনি তাই ন¤^র চাইলাম| আমরা ছবি তুললাম|

 

লিটলম্যাগ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসলাম ˆবভাসিকের স্টলের সামনে| রাজর্ষি দাশ ভৌমিকের এখানে থাকার কথা| স্টল দেখে বেরুনোর মুখে তিনি ডাক দিলেন| সামনাসামনি দেখা না হলেও ফেইসবুকে চেহারা দেখে চিনেছেন| আমিও চিনলাম| স্পেনিশ ভাষার অনুবাদক ও কবি শুভ্র বন্দোপাধ্যায়ের সাথে আড্ডা মারছিলেন| কাছে গিয়ে হাত মেলালাম| রাজর্ষি থাকেন বেঙ্গালুরুতে, মেলা উপলক্ষে কলকাতা এসেছেন| গল্প হলো খানিক| মেয়ে আইসক্রিম খেয়ে আকাশ দেখে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছে| বইমেলায় তাই ওদের আসা হয়নি, হোটেলে আছে| আমার ভেতরও হোটেলে ফেরার তাড়া| রাজর্ষির সদ্য প্রকাশিত উপন্যাসটা কিনলাম| তারপর হাত মিলিয়ে বললাম, এবারের মতো আসি দাদা|

আরেকটু ঘুরে মেলার সামনের মেট্রোরেলের স্টেশন থেকে এক্সপ্লানেডের টিকিট কাটলাম| পনের মিনিটের মতো লাগল এক্সপ্লানেড আসতে| এক্সপ্লানেডের পাশেই টিপু সুলতান মসজিদ| নেমে হাঁটা শুরু করলাম মার্কুইজ স্ট্রিটের দিকে| গুগল ম্যাপ বলছে হাঁটলে ১৫ মিনিটের মতো লাগতে পারে|

সন্ধ্যাটা আজ আশেপাশে ঘুরেফিরে কাটাই| কাল ১১.৩০টায় বাস| ১১টায় কাউন্টারে চলে আসতে হবে| আমরা কস্তুরি হোটেলের পাশের দোকানে চা খাই| বেশ ¯^াদ চায়ের| নিউ মার্কেটের ফুটপাতে ঘুরি| নানারকমের মানুষ দেখি| ভাবি, মানুষ দেখাটাই আসলে জীবন|

 

 

শোয়ায়েব মুহামদ, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক

বাঙালির বর্ষবরণ—কবিতায়-গানে

সুমন বনিক দিনপঞ্জিকায় প্রতিটি মাসের পাতা জুড়ে ৩০/৩১ টি সংখ্যা থাকে| সংখ্যাগুলো একএকটি তারিখ বা দিনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে| আমরা সেই তারিখমতো আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাই

আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা দিলেন লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ

গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদ-এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলনে আন্দরকিল্লা সাহিত্য পত্রিকাকে সম্মাননা প্রদান করেন| আন্দরকিল্লা সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল আবসার এই সম্মাননা

লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : গত ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা সাহিত্য সংসদের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন ২০২৬ উপজেলা  পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়| সাহিত্য সংসদের

সুখ কিনতে কত লাগবে

সাফিয়া নুর মোকাররমা “সুখ কিনতে কত লাগবে?”—প্রশ্নটি শুনতে সরল, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে মানুষের গভীরতম আর্তি| আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই ভাবি, সুখ যেন