এখন সময়:- আজ: ---

এখন সময়:- আজ:
--

নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করা জরুরী (আগস্ট ২০২৩)

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্যাজেডি যে আকস্মিক কোন ঘটনা নয় তা ইতোমধ্যে নানা গবেষণা এবং লেখা-লেখিতে স্পষ্ট হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের যাতে কোন বিচার না হয় সেজন্য ৮৩ দিনের খন্দকার মোশতাক সরকার জারি করেন পৃথিবীর ইতিহাসে কুখ্যাত ও নিন্দনীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। সরকারি গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয় বঙ্গবন্ধুর নাম। গোটা দেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালনা করার নানা পরিকল্পনা করে তৎকালীন খুিী চক্র। অবশেষে বঙ্গন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন সাধারণ আদালতে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের ৩৫ বছর পর উচ্চ আদালত ২০১০ সালে ৫ খুনির মৃত্যুদ- কার্যকর করে। ২০২২ সালে ভারতে লুকিয়ে থাকা আরো একজনকে দেশে এনে মৃত্যুদ- কার্যকর করলেও সাজাপ্রাপ্ত আরো কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে।
নৃশংস এই হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে গভীর ষড়যন্ত্রের কথা। খুনিচক্র ছাড়াও নেপথ্যের বিভিন্ন ঘটনায় সুবিধাভোগী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী, বঙ্গবন্ধু সরকারের তথ্য ও বেতার মন্ত্রী তাহের উদ্দীন ঠাকুর, কুমিল্লা বার্ড এর ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চাষী প্রমূখ।
১৯৭৪ সালের মে মাসে ভারত সফরে গেলে বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। একইভাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ট্রোও বঙ্গবন্ধুকে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা আমলে নেননি। ফলে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ঘাতকের বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর বুক।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল ফারুক বিদেশি সাংবাদিকদের বলেছেন ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ জিয়াকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ ১৯৭৯ সালের ১৫ আগস্ট লন্ডনের গার্ডিয়ানে ‘মুজিব হত্যার আড়ালে লুকায়িত নেপথ্য’ প্রতিবেদনে লিখেছিলেন মোশতাক গং এক বছরের বেশী সময় ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করে। যুক্তরাষ্ট্র আগেই তা জানত। ঘটনার অন্তত: ৬ মাস আগে থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছিল।
মোট কথা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- তাৎক্ষনিক কোন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে খুনিচক্র। এখন খুনি চিহ্নিত হলেও এর নেপথ্য কুশীলবরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন,‘যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকা-ের পর ওয়ারেন কমিশন হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- নিয়েও কমিশন হওয়া উচিত। কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কারা কারা জড়িত ছিল তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হবে। এই জন্য গঠন করতে হবে বিশেষ কমিশন। প্রশ্ন উঠতে পারে নেপথ্যকারীদের অনেকেই এখন পরপারে চলে গেছেন। বিচার হবে কিভাবে? এর উত্তর সোজা, বিচারের চেয়েও জরুরী নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিত করা। আমরা মনে করি জাতির জন্য এটা বিশেষ জরুরী। এবারের শোক দিবসে এ বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। আশাকরি সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্যে কাদের কাদের ইন্ধন ছিল তা চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করবে। এই কমিশনই বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্যে কুশীলবদের চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানিয়ে দেবে কারা কারা ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের নেপথ্য খুনি।

‘কল্লোল যুগের পরে’ অগ্রগতি’র কথা

ইসরাইল খান এই রচনাটির শিরোনাম হতে পারে—‘ত্রিশের দশকের সাহিত্যান্দোলন ও সাপ্তাহিক অগ্রগতি (১৯৩৫-৩৯)’। কিন্ত তার দরকার নেই । ‘অগ্রগতির কাহিনী’ নামে গল্পটা বলি—। ঊনিশ শতকে

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান’র আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

তরুণ লেখক আতিকুর রহমান আতিক’র লেখা আরবে মুসাফির গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর পিটস্টপ হল রুমে আবির প্রকাশন-এর নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ নুরুল আবসার’র

অপূর্ণতার ভেতর পূর্ণ এক সৃজনযাত্রা : কামরুল হাসান বাদল

এজাজ ইউসুফী কোনো লেখককে মূল্যায়ন করা সহজ নয়, বিশেষত যখন তার সৃজনী কাজের বিস্তার একক কোনো সাহিত্যধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ,

উদীচী’র সুর-আলেখ্য ‘একতারা ও রবীন্দ্র – বীণা’র অনুরণন

অনিন্দিতা অনি   অন্ধকার মঞ্চ। শিল্পীবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন, সঙ্গে তালবাদকেরা। হঠাৎ মঞ্চের মাঝখানে গোল হয়ে নেমে এলো এক আলোকরশ্মি। দুহাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন এক

চক্র

সৈয়দ মনজুর কবির   দরজায় অনবরত হাত চাপড়ানোর ধুপ ধুপ শব্দে সিহাবের সকালের মজার ঘুমটা যায় ভেঙে। মেজাজটা যায় বিগড়ে। এভাবে দরজায় শব্দ তো কারো