এখন সময়:বিকাল ৩:১১- আজ: শনিবার-৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:বিকাল ৩:১১- আজ: শনিবার
৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

রক্তদান

হোসেইন আজিজ

বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, যেন কিছু একটা ঘটতে চলেছে আজ। সব টেলিভিশন চ্যানেল আর সামাজিক মাধ্যমে বারবার ভেসে আসছে এক জরুরি বার্তা “তাৎক্ষণিক ও-পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন। জীবন-মরণ সমস্যায় একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।”

 

বার্তাটি যখন অনিকের চোখে পড়ে, তখনও সে জানত না— তার রক্ত শুধু এক মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন বাঁচাবে না, উন্মোচিত করবে এক নীরব সত্যের দ্বার।

 

অনিক, এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। বহুবার রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে সে। এবারও দ্বিধাহীন।

ছুটে গিয়েছে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে।

সেখানে পৌঁছে দেখে, ভেতরে অদ্ভুত এক ব্যস্ততা। রোগীটি আর কেউ নয় দেশের খ্যাতিমান ধনকুবের, হায়দার সাহেব।

 

দুই পাউন্ড রক্তের দরকার, তৎক্ষণাৎ।

নার্স একবার চোখ বুলিয়ে নেয় তাকে। না কোনো কাগজে স্বাক্ষর, না কোনো প্রশ্ন।

অনিককে শুইয়ে দেওয়া হয় বেডে। তার শিরা ধরে ধীরে ধীরে রক্ত চলে যায় অন্য এক শরীরে যার হৃদপিণ্ড তখন শল্যচিকিৎসকদের হাতে খোলা পড়ে আছে।

 

 

 

অপারেশন সফল হয়।

করিডোর জুড়ে উল্লাস, আত্মীয়দের চোখে জল, মুখে বিজয়ের হাসি।

তবে অনিক?

সে এক কোণে, প্লাস্টিকের এক চেয়ারে নিস্তেজ হয়ে বসে থাকে।

তার কাঁধে কেউ রাখে না একটি কৃতজ্ঞতার হাত। কেউ জিজ্ঞেস করে না,

“কেমন আছো তুমি?”

না কোনো মৌসুমি ফল, না একফোঁটা জল শুধু নিঃসঙ্গতা।

একসময় বিলাসবহুল একটি গাড়ি গেট পেরিয়ে বেরিয়ে যায়।

হায়দার সাহেবের স্ত্রী আর সন্তান জানালার কাচ নামায় না। অনিক উঠে দাঁড়ায়, তাকে বাড়ি যেতে হবে। তার পদতলে ঠান্ডা মেঝে— মনে হয়, বর্ষার জলে নিজেই ধুয়ে যাচ্ছে সে।

পিছন ফিরে দেয়ালে চোখ পড়ে। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

“রক্তদান শুধু দায়িত্ব নয়, এক অদৃশ্য বন্ধন।”

সে একটু হেসে ফেলে। সেই হাসি না বিদ্রুপ, না বেদনা

এক বিষণ্ন, ভিজে সন্ধ্যার মতো নিঃশব্দ হাসি।

 

 

হোসেইন আজিজ, কবি

বাংলাদেশের জন্ম ও বঙ্গবন্ধু: কিছু অনুমান, কিছু প্রশ্ন কিছু অনস্বীকার্য সত্য

আবু মকসুদ   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বাংলাদেশ চাওয়া’ বা ‘স্বাধীনতা চাওয়া’ নিয়ে কখনোই কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু ইতিহাসকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার

মাহরাং বালুচ বেলুচিস্থানের শেখ মুজিব!

ফজলুল বারী   বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ডা: মাহরাং বালুচ আজ বঙ্গবন্ধুর মতোই পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিনী। মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন

গল্পটি রুনা আখতারকে নিয়ে

রুনা আখতার আমাদের কারখানায় অপারেটর থেকে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। পদোন্নতি একটি নিয়মিত বিষয়— অনেকেরই হয়। কিন্তু রুনার গল্পটি আলাদা।   এই পদোন্নতি তাকে এতটাই

আন্দরকিল্লা : আলোকিত জীবনের রূপরেখা

ধীমান বড়ুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের আন্তরিকতায় আপনার নিয়মিত প্রকাশনাগুলো আমার হাতে পৌঁছে যায়, আর আমি প্রতিবারই নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ পাঠক হিসেবে আবিষ্কার করি।

বিশ বছর পর বাংলায় ফিরছেন তসলিমা

রোখসানা ইয়াসমিন মণি সাহিত্যের ইতিহাসে বহু লেখকই সময়ের স্রোতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মান কেবল লেখার জন্য। তসলিমা নাসরিন সেই ধারারই এক সাহসী