এখন সময়:বিকাল ৪:০৫- আজ: শনিবার-৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

এখন সময়:বিকাল ৪:০৫- আজ: শনিবার
৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ-বর্ষাকাল

নিখোঁজ ছায়া

ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ

তিন বছর পর দেশে ফিরল হিমেল। লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় নেমেই প্রথম যাকে ফোন করেছিল সে আদিল। কিন্তু নম্বরটি নিষ্ক্রিয়। বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া নেই। হিমেল ভেবেছিল হয়তো সিম বদলে গেছে। পরেরদিন বিকেলেই সে গুলশানে আদিলদের পুরনো বাসায় গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাড়ির ফটক বন্ধ। পরিচিত দারোয়ান নেই। নতুন এক রুক্ষ কণ্ঠ জানায়,

“এই বাসা তো দুই বছর ধরে খালি। পরিবারটা কোথায় গেছে, কেউ জানে না।” হিমেল স্তব্ধ হয়ে যায়। আদিল ছিল তার ছায়ার মতো। প্রতিদিন কথা হতো। তারা প্রতিজ্ঞা করেছিল, দূর থেকেও একে-অন্যের খোঁজ রাখবে। তাহলে এখন? রাতে পুরনো ফেসবুক ইনবক্স, ইমেইল, সব ঘেঁটে হিমেল পায় এক অদ্ভুত এনক্রিপ্টেড ফাইল। সেন্ডার নাম GhostShadow| পাসওয়ার্ড চাইছে। বহু চেষ্টা শেষে একটা পুরনো কোড দিয়ে খুলতে সক্ষম হয় সে। ভিতরে শুধু এক লাইনঃ

“If I disappear, youll knwo where to find meÑwhere the shadwo never returned.”

 

হিমেল বুঝে ফেলে, এটা সেই পুরনো মিলের কথা। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তারা দুজন সেখানে গিয়েছিল এক শহুরে অভিযানে। সে রাতে তারা দৌড়াতে দৌড়াতে বেরিয়ে এসেছিল, কিন্তু আদিল বলেছিল, “আমার ছায়া যেন ভিতরে রয়ে গেছে।”

রাত ৩টা।

হিমেল সেই ভাঙা মিলের সামনে দাঁড়িয়ে। বাতাসে অদ্ভুত গন্ধ। কাঁচ ভাঙা, দেয়ালে গ্রাফিতি, ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। হঠাৎ কিচিরমিচির শব্দ… ছায়ার মতো কিছু নড়ছে। হিমেল পেছনে ঘোরে, আর ঠিক তখনই শুনতে পায় সেই কণ্ঠ,

“তুই… তুই তো আসবি বলিসনি!”

অন্ধকারের মধ্যে উঠে দাঁড়ায় একজন। মুখ সাদা হয়ে আছে, চোখ লালচে। ধুলো আর ক্লান্তিতে তার চেহারা চিনতে কষ্ট হয়,কিন্তু সে আদিল।

 

“আদিল! তুই কোথায় ছিলি এতদিন?”

“চুপ! তোকে এখানে আসতে মানা করেছিলাম। তারা ট্র্যাক করছে আমাদের।”

“কারা?”

“এক চক্র… যারা কিশোরদের হ্যাকার বানিয়ে ব্যবহার করে। আমি ছিলাম তাদের টার্গেট। আমি একদিন তাদের অপারেশন ধরে ফেলি। তথ্য সংগ্রহ করি। ফাঁস করার আগেই বুঝে ফেলে তারা।”

“আর তোর পরিবার?”

“তাদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। সালমান ভাই… যে একসময় আমাদের অভিভাবক ছিলেন, সে আসলে তাদের একজন ছিল।” হিমেল তখনই সিদ্ধান্ত নেয় আদিলকে বাঁচাতে হবে, তথ্য ফাঁস করতেই হবে।

আচমকা মিলের ছাদে আলো পড়ে। ড্রোনের শব্দ, আর মুখোশধারী কয়েকজন লোক রশি বেয়ে নামছে। একজনের হাতে লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস।

“তারা জানে আমরা এখানে,” ফিসফিস করে আদিল।

হিমেল আদিলকে গ্যারেজের দিকে ঠেলে দেয়, আর নিজে বিপরীত দিকে গিয়ে কাঁচের বোতল ছুঁড়ে মারে। শব্দ শুনে মুখোশধারীরা বিভ্রান্ত হয়।

আদিল গ্যারেজে পায় একটি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, যাতে আছে চক্রটির হেডকোয়ার্টার, সদস্যদের নাম, ফান্ডিং সোর্স সব তথ্য। তখনই দরজার পাশে কণ্ঠ ভেসে আসে

“তোমরা ভাবছ পালিয়ে যেতে পারবে?”

এক মুখোশধারী এগিয়ে আসে, হিমেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। বাতাসে চাপে পড়ে মুখোশ খুলে যায়।

 

 

সালমান ভাই!

“আমি ছিলাম আদিলের ছায়া হয়ে। সব সময়। ও ভাবত আমাকে ফাঁকি দিতে পারবে?”

হিমেল ধাক্কা দিয়ে তার হাত থেকে অস্ত্র ফেলে দেয়। আর ঠিক তখনই দূরে পুলিশের সাইরেন বেজে ওঠে।

“তুই কি ফোন করেছিলি?”

আদিল মাথা নাড়ে, “তুই আসার আগে থেকেই ট্র্যাক সিস্টেম অন করেছিলাম। ব্যাকআপ দরকার ছিল।”

পুলিশের বিশেষ ইউনিট ঢুকে পড়ে। সালমানসহ পুরো চক্র গ্রেপ্তার হয়।

ভোর ৫টা।

হিমেল আর আদিল হাঁটছে মিল থেকে বেরিয়ে। মাথার ওপর ভাঙা ছাদ, পেছনে পুলিশের গাড়ির আলো।

“তুই না থাকলে কি যে হতো?” আদিল কাঁপা গলায় বলে।”ছায়া হারালেও বন্ধুত্ব হারাতে নেই।” হিমেল হেসে বলল। আদিল থেমে বলে,

“আসলে তোকে আমি শুধু বন্ধু ভাবিনি। তোকে আমি ছায়া ভেবেছি যে নিঃশব্দে সঙ্গে থেকেছে, রক্ষা করেছে, ঝুঁকি নিয়েছে।” হিমেল আকাশের দিকে তাকায়। সকাল হয়েছে। ছায়া নেই।

কিন্তু তারা জানে, “ছায়া হারালেও সাহস থাকতে হয়, ফিরে আসার।”

 

ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ, গল্পকার

বাংলাদেশের জন্ম ও বঙ্গবন্ধু: কিছু অনুমান, কিছু প্রশ্ন কিছু অনস্বীকার্য সত্য

আবু মকসুদ   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বাংলাদেশ চাওয়া’ বা ‘স্বাধীনতা চাওয়া’ নিয়ে কখনোই কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু ইতিহাসকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টার

মাহরাং বালুচ বেলুচিস্থানের শেখ মুজিব!

ফজলুল বারী   বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেত্রী ডা: মাহরাং বালুচ আজ বঙ্গবন্ধুর মতোই পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিনী। মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দণ্ডিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন

গল্পটি রুনা আখতারকে নিয়ে

রুনা আখতার আমাদের কারখানায় অপারেটর থেকে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেয়েছে। পদোন্নতি একটি নিয়মিত বিষয়— অনেকেরই হয়। কিন্তু রুনার গল্পটি আলাদা।   এই পদোন্নতি তাকে এতটাই

আন্দরকিল্লা : আলোকিত জীবনের রূপরেখা

ধীমান বড়ুয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের আন্তরিকতায় আপনার নিয়মিত প্রকাশনাগুলো আমার হাতে পৌঁছে যায়, আর আমি প্রতিবারই নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ ও মুগ্ধ পাঠক হিসেবে আবিষ্কার করি।

বিশ বছর পর বাংলায় ফিরছেন তসলিমা

রোখসানা ইয়াসমিন মণি সাহিত্যের ইতিহাসে বহু লেখকই সময়ের স্রোতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মান কেবল লেখার জন্য। তসলিমা নাসরিন সেই ধারারই এক সাহসী